আমার মা আমার ভালবাসা

image_pdf

শাহরিয়ার সকালে নামাজ শেষ করেই বেরিয়ে পড়লো।কিছু খেতে একদমই ইচ্ছে করছিলো না।সিড়ি থেকে নামতেই পাশের বাড়ির শুভ্রার সাথে দেখা হলো।

– কি শাহরিয়ার ভাই , আর দেরী করতে পারছেন না বুঝি! প্রণয়ীনীর সাথে সাক্ষাতে চললেন!

শাহরিয়ার কোন উত্তর দিলো না।

– আরে!! রাগ করলেন নাকি!

শাহরিয়ার গাড়ি নিয়ে থামালো একটা ফুলের দোকানের সামনে।এক গুচ্ছ সাদা গোলাপ নিয়ে নিলো।আজ ঈদের দিন।তাই আর সবার মতো তার কাছেও এই দিনটির অনুভূতি বিশেষ , যদিও কারণটা ভিন্ন।সাত বছর আগে এই ঈদের দিনেই তার মা পৃথিবীর বুক থেকে চিরবিদায় নিয়েছিলেন।বছরের অন্য সব দিনগুলোতে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও , এই দিনটিতে শাহরিয়ার নিজেকে সংবরণ করতে পারে না।ছুটে যায় মায়ের কবরে।মা সাদা গোলাপ খুব ভালবাসতেন।তাই সাদা গোলাপ কিনতে কখনো ভুল হয় না তার।

মা আর ছেলের ছোট সংসারে সাবিনা আহমেদ ছিলেন সবসময়ই একা।যদিও, শিক্ষকতা পেশার কারণে তার একাকীত্ব কিছুটা কম ছিল।কিন্ত চোখের ছানি অপারেশনের সময় চাকরিটা ছাড়তে হয়েছে তাকে।তাছাড়া এখন বয়সের ভারে ক্লান্ত শরীরটা আগের মতন শক্তি জোগাতে পারে না।তাই বেলকনিতে রাখা বেতের চেয়ার আর ধোঁয়া ওঠা কফির মগ তার অলস বিকেলের সঙ্গী।ব্যস্ত নগরীর জীবনে মায়ের জন্য ছুটির দিনগুলোতেও সময় থাকতো না শাহরিয়ারের।কাজ শেষে কখন ছেলে আসবে, সেই অপেক্ষায় জেগে থাকতো মায়ের মায়াভরা নয়ন দুটি।দিনশেষে জমে থাকতো অনেক কথা।শাহরিয়ার বাড়ি ফিরতেই বলতেন,

– বাবা, আয় খেয়ে নে।অনেক রাত হয়েছে।

– মা তুমি কেন জেগে থাকো এত রাত পর্যন্ত? তাছাড়া ঘরের একটা চাবি আমার কাছে থাকে।এখন খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।আমার কিছু কাজ আছে, আমি পরে খেয়ে নেব।

তারপর ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থাকতো নিজের রুমে।মায়ের খুব কষ্ট হচ্ছিলো ছেলের ওমন অবজ্ঞায়! যদিও হৃদয়ের মাঝে যে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিলো তা সে বুঝতে দিলো না।এভাবেই হঠাৎ কোন একদিন এক বুক কষ্ট নিয়ে বিদায় নিলো মায়ার এই ভুবন থেকে।আজ শাহরিয়ারের ফেরার অপেক্ষায় আর কেউ পথ চেয়ে থাকে না।

প্রতিটি মুর্হূতে শাহরিয়ার স্মরণ করে তার স্নেহময়ী মায়ের কথা।শুনতে ইচ্ছে করে সেই আদর মাখা শাসনগুলো।মায়ের মতো সেও আজ হাজার মানুষের ভিড়ে একা ; শূন্যতার এই শহরে।

” মা ” ছোট্ট একটি শব্দ। এই ছোট্ট শব্দটির সাথে জড়িয়ে আছে সবচেয়ে বিশালতম অনুভূতি।এক বুক ভালবাসা আর স্নেহ নিয়ে সবসময় যে ছায়ার মতো আমাদের পাশে থাকেন ; সে শুধুই মা।মায়ের অকৃত্রিম মমতার সাথে আর কারো তুলনা হয় না।বতর্মান সময়ে আমরা সবসময় ব্যস্ত থাকি অথবা নিজেকে ব্যস্ত রাখি।এর মাঝে নিজের সবচেয়ে কাছের যে মানুষ -” মা “, তাকে নিয়ে ভাবি কতটা সময়! অথচ আমরা যখন সর্বপ্রথম পৃথিবীর সোনালী আলো দেখছি ; ঠিক তখন থেকেই আমাদের মায়ের সমগ্র জীবনটাই ছিলো আমাদের ঘিরে।প্রযুক্তি আমাদের জীবনে দিয়েছে আধুনিকতার ছোয়া।তবে কেড়ে নিয়েছে সময়গুলোকে।কখনো কি ভেবে দেখেছেন! তাই মায়ের জন্য কোন কিছু করতে কোন বিশেষ দিনের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না।কারণ, আপনার কিছু করবার প্রয়াসই হয়ত সেই দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে।না, মা দিবসের কারণে এই লেখাটা লিখছি না।বরং, এটি আপনার ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে লেখা।

তা না হলে, শাহরিয়ারের মতো আপনিও হারিয়ে ফেলবেন এই স্বর্গ-সুখটিকে।শুধু ভালবাসা নয়, সেই সাথে সঙ্গ দিন ভালবাসার এই মানুষটিকে।

সারা ভুবনের স্বর্গ – সুখ যেন

দেখিতে পায় মোর আঁখি,

যখন তোমার কোলেতে মাগো –

এলিয়ে মোর দেহটি রাখি।

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *