আমি আর সে

image_pdf

ব্রিজের ধারে বসে আছি।
এটা একটা ছোটখাট ব্রিজ।এখানে গাড়িঘোড়া যাতায়াত নেই।
শুধু বিকেলটা উপভোগ করার জন্য মানুষ এখানে আসে।
তো আমিও এখানে আসছি বিকেলটা উপভোগ করার জন্য।
.

কিছুক্ষন বাদে সে আসল।
সে,যে হল আমাদের এলাকার মেয়ে।আমার বাসার দুইটা বাসা পরে তাদের বাসা,আমার ক্লাসমেট।আমাদের এলাকার মেয়েরা স্বভাবতই ভদ্র,নম্র আর বিভিন্ন গুনের অধিকারী হয়।
না জানি কোন অশুভ দিনে সে জন্মেছিল।
ছেলেদের মত ড্রেস পড়বে,চুলটা স্টাইল করবে।
একটু ভাব-সাব নিয়ে হাটবে,এমন ভাবে তার জীবন চলছিল।
.
সে এসে আমার পাশে বসে পড়ল,
-তো,অর্ক,কেমন আছিস?
-যদি বলি ভাল নেই?
-এত কথার প্যাচ লাগিয়ে কি পাস?
-যদি বলি মজা পায়?
-একটু ভাল করে কথা বল নাহলে,
-কি করবি?মারবি?খুন করবি?থাপ্পড় দিবি?আমি তো এমনিতেই মরা,আমাকে আর কি মারবি?
-মরা মানে?
-সেদিন তুই না আকিফাকে বলছিস যে আমি নাকি তাকে হেইট করি,তার সাথে অসভ্যতা করতে চাই এইসব।
-হুমম,বলেছি তো,তাতে কি হয়েছে?
-আরে কি হয়েছে মানে?আমার প্রতি আকিফার যে ভালবাসা ছিল সেটা ঘৃণায় পরিনত হয়েছে,আর রেযা সেটার সুযোগ বুঝে তাকে তার প্রেমের ফাদে ফেলেছে।
-তাতে,তো তোরই লাভ হয়েছে নাকি?
-লাভ না,বিরাট বড় লস।
-লস মানে?আমি না তোকে……
-কেন,থেমে গেলি কেন?বল,কুত্তি আমার ভালবাসা তোর দুচোখে বিষ ঢেলে দেয়।
-ওই,কুত্তি বলিস কোন সাহসে?
-নাহলে কি বলব?ডায়নি? হিংসুক?অন্যর ভালবাসা সহ্য হয় না?
সে টার পরিচয়— ইভা আহমেদ।বাবা মায়ের দ্বিতীয় সন্তান।
প্রথম সন্তান মানে তার বড় ভাই একজন সফল নেতা।
তাইতো তার এত বড় বড় সাহস জোটে।
তার বড় ভাই তাকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালবাসে।
আর এজন্য সবাই তার ভাইয়ের থেকে তাকে বেশি ভয় পায়।
.
সে তো ক্লাসের কারো সাথেই মিশে না,
আমার ভাগ্যটাই খারাপ।
একদিন তাকে কয়েকশ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলাম,সে সাহায্যের বিনিময়ে আমাকে তার বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে দিল।
পরীক্ষার সময়ও সিটটা আমার পাশে অথবা পিছনে নিয়ে গিয়ে আমার থেকে দেখে লেখবে।
আমি ফার্স্ট হলে সে হবে সেকেন্ড।
আর ভুলেও কোনো মেয়ের দিকে তাকালে নয় আমাকে গালি দিবে নয়ত সেই মেয়েটিকে থাপ্পড় দিবে।
তাই ভুলেও কোনো মেয়ে আমার দিকে আর আমি কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে সাহস পায়না।
.
-ওই,অর্ক?কোথায় ডুবে গেলি?
-তোর সাথে আমার কেমনে পরিচয় হয়েছিল সেটা জানার চেষ্টা করছি।
-চল,এবার।একসাথে যাব।
-(চল কুত্তি)চল।
.
বিকেল গরিয়ে রাত হবার উপক্রম।
এ সময় বেশিরভাগ কাপল কে এখানে দেখা যায়।আমরাও আসার সময় তাদের দেখছিলাম।
তারা দুজনে হাতটা ধরে আছে আর মুচকি হেসে কথা বলছে সেগুলা আমরা দেখছিলাম আর হাসছিলাম।
হঠাত ইভা আমার হাত ধরে ফেলল,
-ওই,পাগল হলি নাকি?
-না তো,কেন?
-তাহলে হাত ধরছিস কেন?
-আমার ইচ্ছা,ধরব।
-ছাড়।
একপ্রকার জোর করে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে তার হাতে দাগ কেটে গেল।
সে চুপচাপ হয়ে গেল,হাটাটাও বন্ধ করে দিল।
চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা অশ্রু বের করে দিল।
আমি আর কি করব,
টিস্যু বের করে তার চোখ মুছে দিয়ে তার সামনে থেকে চলে এলাম।
আমার ব্যাক করে তার সামনে গেলাম।
তার গালে একটা কিস করে আর হাতের যেখানে কেটে গেছে সেখানে একটা কিস করে তাড়াতাড়ি চলে এলাম।
.
পিছনে তাকিয়ে দেখি সে হাসছে,তবে মুচকি মুচকি।
.
বাসায় পৌছে গেলাম আমি।
আম্মু দরজা খুলে দিল।
-আর কত দিন ওই মেয়েটার সাথে মিশবি?
-কেন আম্মু,সে তো শুধু একটা মেয়ে,কোনো ডাইন বা পেত্নি তো নয়।
-একদিন আমার কথা মনে তুলবি।
-আচ্ছা,আচ্ছা।এবার কিছু খেতে দাও।খিদা লাগছে।
-হাতমুখ ধুয়ে নে,আর টেবিলে আয়।
.
হাতমুখ ধুয়ে নিজের চেহারার দিকে একবার তাকালাম।
নিজেকে কেমন যেন,অদ্ভুত মনে হল।
আমি যেন আমার নিজের শক্তি ফিরে পেয়েছি।
আম্মুর ডাকে বাস্তবে ফিরলাম আর খেতে বসলাম।
.
-আব্বু কোথায়?
-পাত্রি খুজতে গেছে।
-কি?এই বয়সে বিয়ে?
-কি বললি?(চামচটা দিয়ে আমাকে মারার শুরু করার আগেই কলিংবেল বেজে উঠল)
-দেখ,আব্বু মনে হয় সতীন নিয়ে এসেছে।
-থাপ্পড় খাবি কিন্তু।
.
আম্মু দরজা খুলে দিল আর আব্বু হতাশার মত বাড়ি ফিরল।
-কি হয়েছে আব্বু?
-ওই ইভার ভাই আছে না?
-হ্যা,কি হয়েছে?
-আমি বিয়ের জন্য সবকিছু রেডি করেই ছিলাম হঠাত করে প্রবেশ করল আর বলল বিয়ে হবে না।তারপর ভয় পাইয়ে দিয়ে তাদেরকেও চুপ করে দিল।এখানে থাকাটা আমাদের জন্য মুশকিল হয়ে গিয়েছে।এখান থেকে চলে যাওয়ায় ভাল হবে।
-কিন্তু আব্বু আমার তো পরীক্ষা বাকি আছে?
-এজন্যই তো যেতে চাচ্ছি না,তোর পরীক্ষাটা দিয়ে দে,তারপর এই বাড়িটা বিক্রি করে চলে যাব সবাই।
-হুমম।
.
ঘুম আসছে না,চোখ বন্ধ করলে কেমন জানি ইভার কথা মনে পড়ে।তার মুচকি হাসিটা যেন আমাকে আজ তার প্রতি মুগ্ধ হতে বাধ্য করেছে।
সে যেন এক অপরুপ অপ্সরী,আমাকে তার প্রতি বিমোহিত হওয়ার জন্য ডাকছে।
এগুল ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম।
.
সকালে ঘুম থেকে উঠে ভার্সিটি গিয়ে রুমে বসে থাকলাম।
সব মেয়েরা এসেছে কিন্তু ইভা এখনো আসেনি।আর একটা ছেলেকেও দেখছি না।
খুব লজ্জা পাচ্ছি।আর মেয়েরা ভয় পাচ্ছে।
কিছুক্ষন বাদে ইভার আবির্ভাব,
-ওই অর্ক?এতগুলা মেয়েদের মাঝে কি করিস?
-কিছু করছি না তো?
-বুঝি বুঝি,সব বুঝি।আর এই মেয়েগুলাও না কত শেয়ানা।সব জানা আছে।
-আচ্ছা,বস।
-হুমম।
.
ইভা আবারো বলতে শুরু করল,
-জানিস,কালকে রাতে না আমার ঘুম -জানিস,কালকে রাতে না আমার ঘুম হয়নি।
-ওহহ,তা কোন মহাশয়ের কথা ভাবছিলা যে ঘুম হয়নি?
-তোর কথা?
-কার?
-কিছুনা,আর কালকে আমার গালে কিস করলি কেন?
-আমার ইচ্ছা তাই।
-তোর ইচ্ছা?হুম্মম?তোর ইচ্ছা?
-নাহলে কি?
-জানিস কত ব্যথা পেয়েছি?এই দেখ ফুলে গিয়েছে।
-আচ্ছা,সরি।আমি তাহলে মাফ চাচ্ছি ব্যস।
-ব্যস?শেষ?সেটা না,আজকে একটু ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে থাকিস।
-আচ্ছা।
.
ক্লাস শেষ হল।
সবাই চলে যেতে লাগল।
আমিও চুপচাপ বসে পড়লাম।
কিছুক্ষন বাদে সে আসল।
-অর্ক?
-হুমম,বল।
-কালকে রাতে তোর কথা ভাবছিলাম।
-কিইই?ওহহ কেন?
-আসলে,তুই যেভাবে গালে কিস করলি আমি না ঘুমাতে পারিনি।শুধু তোর কথা মনে পড়ছিল।
-তাই বুঝি?
-হুমম,আর শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নিলাম জানিস?
-কি?
-আমি তোকে ভালবাসি।আমি তোকে বিয়ে করতে চাই।
-হাহাহাহাহাহ-হাহাহাহাহাহাহা।হাসালি?
-(চোখটা কান্নার ভাব করে)কেন?আমি তো সত্যটাই বললাম।
-তুই নিজের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিস?তোকে মেয়ের মত না,একদম ছেলের মত লাগে?আমি কেন?কোনো ছেলেই তোকে বিয়ে করতে চাইবে না,আর বলছে আমাকে বিয়ে করতে চায়।আগে তোর ড্রেস বদলা,স্বভাব বদলে ফেল।তখন আমি কেন,সব ছেলে তোকে বিয়ে করতে চাইবে।আসছে আমারে বিয়ে করতে।জানিস?তোর ভাইয়ের কারনে আব্বুকে কত অপমানিত হতে হয়?আব্বুর এ কষ্ট আমি দুচোখে দেখতে পারিনা।আমি যদি মরেও যাই তবুও তোকে বিয়ে করব না।
.
সে কাদতে লাগল।চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল।
ফোন করল,
-হ্যালো ভাইয়া?(কেদে কেদে)
-কি হয়েছে ইভা?
-তাড়াতাড়ি একটু ক্যাম্পাসে এস।বাই।(কেদে কেদে)
.
আমিও চলে না গিয়ে সেখানে থাকলাম।
কিছুক্ষন বাদে তার ভাই আসল।
সেখানে ইভার পাশে বসে গেল।
-ইভা বোন আমার কি হয়েছে?বলবি তো?
-ভাইয়া, অর্ক?
-অর্ক?কি হয়েছে?অর্ক তোকে মেরেছে?ওই অর্করে ধর।
.
আমাকে ধরে ফেলল।
-কি করেছে,অর্ক?বল ইভা।
-সে নাকি আমাকে ভালবাসে না।আমাকে নাকি বিয়ে করবে না।আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে।(কেদে কেদে)
-কি,এত বড় সাহস।মার বেটাকে।
.
লাঠি যা নিয়ে এসেছিল সেগুলো দিয়ে মারতে লাগল।
আমিও চোখ বুঝে সহ্য করতে লাগলাম।
কয়েক মিনিট বাদে,
-ভাইয়া অর্ককে আর মেরো না,প্লিজ ভাইয়া।
-ওই,তোরা এবার থাম।
.
-অর্ক?কথা বল।
-ইভা,আমাকে মেরে ফেল,তবুও আমি তোকে ভালবাসতে পারব না,সরি।(কথা গুলা বলেই মাথা ঘুরতে লাগল)
.
চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে,
ডাক্তার এসে বলল,
-অর্ক,তোমার হাতে পায়ে সব ঠিক আছে,তবে হাটার সময় আর লেখার সময় খুব কষ্ট হবে।
-আব্বু,আম্মু কোথায়?
-তারা বাইরে আছে,নার্স,একটু ডেকে নিয়ে এসো তো।
.
আব্বু আম্মু আসল।ডাক্তার বের হয়ে চলে গেল।
-কত করে বলেছিলাম মেয়েটির সাথে মিছিস না,এখন দেখ কি করল।
-আম্মু,আমাকে মাফ করে দিয়ো,আমি আর তার সাথে মিশব না,আব্বু,আমরা এখান থেকে চলে যাব।আজই ব্যবস্থা কর।
-আচ্ছা,বাবা।
.
এই শহর থেকে চলে এলাম।
এখন নানা বাড়ি আছি।
মানে আরেকটা শহরে।
নতুন জায়গা নতুন পরিবেশ।
সব মিলিয়ে এক মজার আবেশ।
এইখানকার ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে আবার পড়াশোনা চলতে লাগল।
.
-আজ আমাদের মাঝে আরেক নতুন অতিথি এসেছে।
-স্যার কে?(সবাই)
-ইভা,আস তো।
ইভা নামটা শুনে সেদিকে তাকালাম।হুমম,আমাদের আগের এলাকার ইভা।
তবে এখন বদলে গিয়েছে।
আমার পাশের যে ছেলেটা ছিল সেটা বলতে লাগল,
-দেখ,দোস্ত,তোর ভাবি আসছে আমাদের দিকে।
-হুমম।
ইভা দেখেশুনে আমার পাশেই বসল।
আমি আমার দোস্তকে বলে তার জায়গায় চলে এলাম আর সে আমার জায়গায়।
ইভাও তাকে বলে মধ্যে চলে এল আর আমার পাশে আর তার পাশে বসে পড়ল।
-অর্ক?
-কি?
-ভাল আছ?
-হুমম।
-তো,কেমন চলছে দিনকাল?
-ভাল।
.
ক্লাস শেষে আমার দোস্তটা বলতে শুরু করল,
-তুই ওকে চিনিস?
-হুমম।
-কিভাবে?
-অনেক লম্বা কাহিনি,বলে শেষ করা যাবেনা।আচ্ছা তাহলে আমি যাই।
.
বাড়ি ফিরে এলাম।
রুমে গিয়ে একটু শার্টটা খুললাম।
হুমম,এখনো তাজা আছে চিহ্নগুলো।
.
পরেরদিন,
-অর্ক?আমাকে কেমন লাগছে?
-সুন্দর।
.
চোখে কাজল লাগিয়ে,কপালে টিপ দিয়ে,চুলে বেনি করে কোনো মেয়ে যদি তোমাকে বলে আমাকে কেমন লাগছে?তাহলে তাকে শুধু সুন্দর বলাটা তার সৌন্দর্য্যের অপমান।
.
বাড়ি গিয়ে দরজা খুলে দিল ইভা।
কিন্তু সে এখানে কি করছে।
-ইভা,তুমি এখানে কি করছ?
-কেন,এটা তো আমারও বাড়ি।
-অর্ক,বাবা।ইভা আজ থেকে আমাদের সাথে থাকবে।
-আমাদের সাথে মানে?
-হ্যা,আমাদের সাথেই তো।
-আম্মু,তুমি কি ভুলে গিয়েছ?
-সেটা অনেক পুরনো,এবার নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।
.
ইভা নিশ্চয় আব্বু আম্মুকে ভয় লাগিয়েছে।
বিকালে আবারো বের হলাম।
সেও আমার পিছে পিছে এসে পড়ল।
-অর্ক,এখন কি তোমার মনের মত হতে পেরেছি?
-না।
-কেন?তোমার কথা মত মেয়েদের মত শাড়ি,থ্রি পিস,চুড়ি,কপালে টিপ,চোখে কাজল লাগিয়েছি তো।
-তবে এখনো আমি তোমাকে ভালবাসতে পারব না।
-কেন?
শার্টটা খুলে দেখালাম।
সে আমার পিছনে গিয়ে চোখ দিয়ে পানি ফেলতে লাগল,আর আমার ক্ষতগুলো ধরে দিতে লাগল,
-এই চিহ্নগুলো আমি মারা গেলেও যাবে না।পারবে কি?আমার শরীরে এই চিহ্নগুল মুছে দিতে?
-আই এম সরি,আমি সেদিন রাগের বশে ভাইয়াকে থামাতে পারিনি।
-আই এম সরি?এটা বললেই শেষ?
-আচ্ছা,তুমি আমাকে থাপ্পড় মার,আমাকেও মার তোমার মত,তবে শোধ হবে।
-তোমাকে মেরে কি নিজেকে কাপুরুষ ঘোষিত করব।একজন মেয়েকে মেরে কি?এখন জেলে দিতে চাও।
-না,অর্ক,প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও,আমি বদলে গিয়েছি,আমি, আমি আর আগের ইভা নেই।আমি বদলে গিয়েছি।
-কুকুরের লেজ যেমন সোজা হয়না তেমনি কারো স্বভাব এত তাড়াতাড়ি বদলায় না।
-আচ্ছা,তুমি কি চাও?
-আমি কি চাই?যদি বলি নিজের জীবন,যেটা তুমি কেড়ে নিয়েছ।আব্বুর মান সম্মান?
-(কিছু না বলে জরিয়ে ধরল)
-ছাড় আমাকে,ছাড়।
.
পরেরদিন,
-ইভা,তুমি চলে যাও আমার সামনে থেকে,আর জীবনেও আসবে না।
-আচ্ছা।(চোখ দিয়ে পানি ফেলতে লাগল)
.
ইভা রিক্সা নিয়ে চলে যেতে লাগল আর আমি তার রুমে গেলাম।
একটা কাগজের মত কিছু ভাজ করা,সেটা ওল্টাতে লাগলাম,
অর্ক,
আমি জানি তুমি এটা পড়ছ,তবে আমি এখন তোমার সাথে নেই।আমি তোমাকে যত কষ্ট দিয়েছি সব শুধু নিজের স্বার্থে,তোমাকে পাওয়ার জন্য কি না করেছি।কিন্তু আমি যে এত নিচ,তোমাকে পাওয়ার জন্য যে তোমাকেও কষ্ট দিলাম সেটা দেখিনি।আর হ্যা,মনে আছে?একদিন তোমার পেট ব্যথা হয়ে পড়ে গিয়েছিলে,সেদিন ডাক্তার আমাকে ডেকে বলল যে তোমার একটা কিডনি নষ্ট।আমি নিজের কিডনি দিয়ে তোমার শরীরে দিলাম।তবে তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।আমাকে পারলে মাফ করে দিও,
ইতি তোমার,
সরি তোমার না,
শুধু ইভা।
.
আম্মুও আমার পাশে এসে কাদতে লাগল।
আমি দৌড়ে গিয়ে নিচে নেমে গেলাম।
বাইকটা রেডি করে তাড়াতাড়ি যেতে লাগলাম।
ট্রেন স্টেশনে পৌছে গিয়ে দেখলাম লাস্ট ট্রেনটাও চলে যাচ্ছে।
দৌড়ে গিয়ে ধরতে গেলাম।কিন্তু ধরতে পারলাম না,
.
হতাশ হয়ে বেঞ্চ এ বসে পড়লাম।
একটা নরম হাত আমার কাধে পড়ল,
সেও কাদতে লাগল আর আমিও কাদতে লাগলাম,
-আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছিলে?
-হুমম,না।
-এত স্বার্থপর?
-না,শুধু তোমাকে ভালবাসি।
-বিয়ে করবে আমায়?(পকেট থেকে রিংটা বের করলাম)উইল ইউ ম্যারি মি?
-ইয়েশ আই উইল।
সে হেসে হেসে কাদতে লাগল আর আমাকে কানে কানে বলল,
আই লাভ ইউ।

Be the first to reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *