আসাদ চৌধুরী

আসাদ চৌধুরী
image_pdfimage_print

আসাদ চৌধুরী: বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক। তিনি মনোগ্রাহী টেলিভিশন উপস্থাপনা ও আবৃত্তির জন্য জনপ্রিয়। তাঁর জন্ম হয় ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া নামক স্থানে। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী এবং মাতার নাম সৈয়দা মাহমুদা বেগম। আসাদ চৌধুরীর স্ত্রীর নাম সাহানা বেগম। তিনি উলানিয়া হাই স্কুল থেকে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্সায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে। পরবর্তীকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগ থেকে বাংলা ১৯৬৩ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকে যাওয়ার পর কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে আসাদ চৌধুরীর চাকুরিজীবন শুরু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ অবধি শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীকালে ঢাকায় স্থিত হবার পর তিনি বিভিন্ন খবরের কাগজে সাংবদিকতা করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত তিনি ভয়েজ অব জার্মানীর বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকায় বাংলা একাডেমীতে দীর্ঘকাল চাকুরীর পর তিনি এর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ হল –
তবক দেওয়া পান (১৯৭৫); বিত্ত নাই বেসাত নাই (১৯৭৬); প্রশ্ন নেই উত্তরে পাহাড় (১৯৭৬); জলের মধ্যে লেখাজোখা (১৯৮২); যে পারে পারুক (১৯৮৩); মধ্য মাঠ থেকে (১৯৮৪); মেঘের জুলুম পাখির জুলুম (১৯৮৫); আমার কবিতা (১৯৮৫); ভালোবাসার কবিতা (১৯৮৫); প্রেমের কবিতা (১৯৮৫); দুঃখীরা গল্প করে (১৯৮৭); নদীও বিবস্ত্র হয় (১৯৯২); টান ভালোবাসার কবিতা (১৯৯৭); বাতাস যেমন পরিচিত (১৯৯৮); বৃন্তির সংবাদে আমি কেউ নই (১৯৯৮); কবিতা-সমগ্র (২০০২); কিছু ফল আমি নিভিয়ে দিয়েছি (২০০৩); ঘরে ফেরা সোজা নয় (২০০৬)।

প্রবন্ধ-গবেষণা –
কোন অলকার ফুল (১৯৮২)

শিশুসাহিত্য –
রাজার নতুন জামা (রূপান্তর, ১৯৭৯); রাজা বাদশার গল্প (১৯৮০); গ্রাম বাংলার গল্প (১৯৮০); ছোট্ট রাজপুত্র (অনুবাদ : ১৯৮২); গর্ব আমার অনেক কিছুর (১৯৯৬); ভিন দেশের মজার লোককাহিনী (১৯৯৯); তিন রসরাজের আড্ডা (১৯৯৯); কেশবতী রাজকন্যা (২০০০); গ্রাম বাংলা আরো গল্প (২০০০); তোমাদের প্রিয় চার শিল্পী (জীবনী, ২০০০); জন হেনরি (আমেরিকার লোককাহিনী, ২০০১); মিকালেঞ্জেনো (জীবনী, ২০০১); ছোটদের মজার গল্প (২০০১); সোনার খড়ম (২০০৬); মুচি-ভ’তের গল্প (২০০৬)। : সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু (১৯৮৩); রজনীকান্ত সেন (১৯৮৯); স্মৃতিসত্তায় যুগলবন্দী (২০০১)।

ইতিহাস –
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৩)।

অনুবাদ –
বাড়ির কাছে আরশিনগর : বাংলাদেশের উর্দু কবিতা (২০০০); প্যালেস্টাইন ও প্রতিবেশী দেশের প্রতিবাদী কবিতা (২০০৫)।

সম্পাদনা –
যাদের রক্তে মুক্ত এদেশ (১৯৯১ যুগ্মভাবে); ছয়টি রূপকথা (১৯৭৯)।

তাঁর পাওয়া পুরষ্কারগুলি হল –

পুরস্কার

  1. আবুল হাসান স্মৃতি পুরস্কার (১৯৭৫);
  2. অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২);
  3. বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৭);
  4. শম্ভুগঞ্জ এনায়েতপুরী স্বর্ণপদক (১৯৯৯);
  5. ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার,
  6. বরিশাল বিভাগীয় স্বর্ণপদক,
  7. অশ্বনী কুমার পদক (২০০১);
  8. জীবনানন্দ দাশ পদক;
  9. অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক;
  10. জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার (২০০৬)।

(তথ্যসূত্র : বাংলা উইকিপিডিয়া)

————————– ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত ——————————

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *