ওই ওঠ ওঠ

image_pdf

ওই ওঠ ওঠ কোচিং এ যাবি ওঠ…
সকাল সকাল আইছে বিরক্ত করতে মুটকি টা…
মারিয়া মানে আবার আপুর ডাকে ঘুমটা ভাঙল, আজকে না
প্রতিদিনই একই কাজ করে একদিন শান্তি নাই…

`
ঘুম থেইকা উইঠা যেই ব্রাশ করতে যামু ঠিক ওইসময় মনে পরল আজ
তো শুক্রবার.. পুরা মাথা গরম হইয়্যা গেছে…
– ওইতত তুই জানস না আজকে শুক্রবার, ডাক দিলি ক্যা? (আমি)
-.. … ( জিহ্বায় কামড় দিয়া উঠল ঠিকিই তো)
– ওই কথা কস না কেন..?
– আরে ভাই প্রতিদিন ডাকতে ডাকতে অভ্যাস হইছে তো তাই,
আর এত্ত ঘুমাইতে নাই ৬ ঘন্টাই এনাফ…
– চুপ আর জ্ঞান দিতে হইব না..
`
২.
এই তো গেলো আমার বোনের কাহিনী এখন আসি মেইন
কাহিনীতে…
`
সকাল সকাল উঠিয়া কলেজ এ গেলাম..
যাইয়্যা দেহি সব মামুরা আড্ডা দিতাছে ভিতরে, যাই হোক
আমিও যোগ দিলাম..
কিচ্ছুক্ষণ পর সাদিয়ার আগমন..
আহা আমার বান্ধবী কিন্তু গোপন কথা আমি ওরে ভালোবাইসা
ফেলছি…
`
প্রেমে পইরা আজকাল অনেক দুষ্টামি কমাইছি..
আগে সপ্তাহে ১দিন হইলেও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাইয়্যা
নালিশ শুনতে হইত আর এখন মাসেও একবার যাইতে হয়না..
`
প্রায় ৩মাস ঘুরছি ওর পিছনে, প্রথম ভালোবাসা ঠিক টের
পাইছিলাম যখন আমার প্রচণ্ড অসুস্থতার মধ্যেও ওকে দেখার
জন্য কলেজে গেছিলাম, সবচেয়ে বেশী ওর কথা মনে পড়া, সব
কিছু এলোমেলো হওয়া ঠিক পাগলের মত… যেটা শুধু প্রেমে
পরলেই হয়…
`
– ইয়ে মানে একটু শুনবা (আমি)
– বলো ঢং করার কি আছে (সাদিয়া)
– না মানে কিছুনা…
ভয়ে কিছু বলতেই পারিনা, সত্য বলতে সব ভুইলা যাই.. আমি
জানি সাদিয়া জানে যে আমি ওকে ভালোবাসি.. যাই হোক
পরে বলবনি..
`
কিছুদিন পর…..
না আর থাকতে পারছি ইদানীং সাদিয়াও আমাকে একটু বেশীই
গুরুত্ব দিচ্ছে, আমার বলে দেওয়াটাই ঠিক হবে…
তাই ওকে বলেই দিলাম, আর সাথে সাথে আমাকে হ্যা বলে
দিছে…
বিরাট খুশি হইছি হিহিহি…
`
এইতো রিলেশনের এক মাস খুব ভালই চলছিল , ও আমাকে কোনো
মেয়ের সাথে কথা বলতে দিত না আর কথা বলতে দেখলেই হইছে
রাগে ফুইলা থাকত.. দিন রাত কথা চলত ফেসবুকে আইসা শুধু ওর
সাথেই কথা বলতাম.. সাথে রোমান্টিক গল্প পড়তাম..
`
যাই হোক এইদিকে বন্ধুবান্ধব বলে সাদিয়া কেমন জানি ওদের
সাথে ভাব নেয়, আগে ওর কোনো দামই ছিলোনা কলেজে আর
এখন এত্ত ভাব…
`
এইসব কথায় আমি কান দিতাম না কারণ কেওই পারবে না
ভালোবাসার মানুষের নামে খারাপ শুনতে যতক্ষণ না সে
দেখছে ওটা…
`
– হ্যালো ইরফান (সাদিয়া)
– কেহ? (মারিয়া)
– ইয়ে মানে আপু ইরফান কে একটু দিতে পারবেন?
– ও তো ছাদে গেছে ওয়েট ডেকে দিচ্ছি..
`
– হ্যালো (আমি)
– হুম শুনো আমি ব্রেকাপ চাই (সাদিয়া)
– হাহা! কি বলো এইটা তো দেখি পুরো ফেসবুকের গল্প গুলার মত
হয়ে গেলো..
– এইসব ফালতু কথা বাদ দেও, তোমার সাথে রিলেশন রাখব না
ব্যাস.
– কি দোষ করছি আমি?
– সব দোষ আমার যে তোমার মত ক্ষেত চরিত্রওয়ালার সাথে
রিলেশন করছি…
– তারপর..? (২টা লাইন বুক চিরে দেয় আমার)
– তারপর আর চেহারা দেখতে চাইনা তোমার.. (টু টু টু)
`
কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পরল। এইসব কি হল বুঝলাম না ১মাস
গেল আর আগে না বলে এখন এত্ত সহজে বইলা ফেল্ল এইসব…
`
আমারো মাঝ খান দিয়ে সহেন্দ হইছে, মেয়েটা হাইফাই এ
আসক্ত…
`
আমার কিচ্ছু করার নেই, মন চাইছিলো কলেজের সবার সামনে
থাপ্পড় মারতে কিন্তু এইটুক ও পারব না। এই কয়েকদিনেই খুব আপন
করে নিছে ওকে, ঘৃনা করাটা এত্ত সহজ হতে পারেনা, কিন্তু
স্রতি গুলো আরো বেশী কস্টে দেবে আমায়…
`
কয়েকদিন কলেক কোচিং সব বন্ধ রাখলাম..
মারিয়া ঠিকিই এসব আচ করতে পেরেছে, তাই আমাকে বলল কি
হইছে রে ভাই..
– কিচ্ছুনা..
– আমাকেই বলবিনা বাহ.. এত্তটা পর আমি..
– ওই কুত্তি এমনেও জানস আমি কত্ত ইমোশনাল এর উপর এইসব কস
ক্যা..
– আচ্ছা সরি এবার বল…
ওই যে সাদিয়া, ও আমারে বলছে ব্রেকাপ আমি নাকী ক্ষ্যাত,
এইসবের কোনো মানে হয়..?
– কিহ, ওইটারে কালকেই কলেজ এ যাইয়্যা থাপ্পড় দিয়া আসমু..
– আমিও ভাবতাছিলাম এইটা কিন্তু তুই কিছু করিস না…
`
রাতের বেলা…
সিফিন আপুর (খালাত বোন) ফোন..
– কিরে ভাই কি হইছে?
– কই কি হইছে!
– লুকাস ক্যা, মারিয়া সব বলছে আমারে শুন থাপ্পড় মারার
দরকার নাই, আর শুনলাম তুই নাকী বলছছ ওরে আরো শাস্তি
দিবি..
– হুম দিমুনা মানে অবশ্যই দিমু..
– নাহ! এইসব করলে তোর আর ওই মেয়ের মধ্যে কোনো পাথ্যর্ক
থাকবে না… ওই মেয়ে নিজের পাপের শাস্তি নিজেই পাবে তুই
ধৈয ধর আর পড়ালেখায় মন দে…
– হুম তাই তো ওকে…
`
(কলেজের সেই সবচেয়ে ফাজিল ছেলেটা বন্ধমহল মাতিয়ে
রাখত আজ সে কবি টাইপের হয়ে গেছে.. তার ফেসবুকের পোষ্ট
গুলো দেখেই বুঝা যায়..)
`
এইসব রিলেশনের কথা গুলো ভুলানোর জন্য ফেসবুকে সময় দিতে
লাগলাম টুকটাক কবিতা মাথায় আসত ওগুলা লিখে পোষ্ট
দিতাম…
ধীরে ধীরে গল্প লেখা শুরু করলাম..
এই সুবাদে অনেকের সাথে পরিচিয় হলো..
তাছাড়া প্রশংসা ও পাচ্ছি তাই দিনগুলো ভালই যাচ্ছিল..
কয়েক মাসেই বেশ ভালো লিখা শুরু করলাম, নাম ও ছরাতে লাগল
কলেজের সবাই বেশ মুগ্ধ তা তাদের কথা শুনেই বুঝা যায়…
`
সাদিয়ার কানে এইসব যাচ্ছে .
– কিরে ইরফান তো দিন দিন পপুলার হয়ে যাচ্ছে (নিধি)
– তো আমার কিহ.. হাহ চার পাঁচজন চিনলেই হয় নাকি বাদ দে
ফালতু…
`
সাদিয়াও ফেসবুকে ঢুকে অনেকদিন পর আর ঢুকেই সেই নামটি
‘Md Irfan Robo’ এইটি আনব্লক করে..
তারপর ওর লেখা গল্প গুলো পরতে থাকে, নিজের অজান্তেই ও
ওর গল্পের প্রেমে পরে যায়, ওর সাথে কথা বলতে চাইলেও
পারেনা…
`
৩.
আজ নুসরাত আপু ফোন দিল( ফেসবুকে পরিচর পরে বাস্তব)
– কিরে ভালো আছিস..?
– হ্যা আপু, তুমি?
– আমি সবসময়ই থাকি, আচ্ছা শুন তোর জন্য সু:সংবাদ আছে!
– কি?
– এক ডাইরেক্টর তোর লেখা গুলো পছন্দ করছে, তোর সাথে কাজ
করতে চায়..
– কি বলো আপু তাই নাকি,
– হ্যা রে ভাই, তুই কাল এই ঠিকানায় চলে আসিস…
`
হ্যা ওই ডাইরেক্টরের সাথে মিলে কয়েকটা নাটকের গল্প লিখে
দেই, বেশ ভালোই চলছিলো..
দিন দিন মানুষের ভালোবাসা পেতে থাকি..
`
`
আজ ১৩ম রোজা…
ধানমন্ডি লেকের গোল চত্বরে পথচারী শিশুদের ইফতার করার
আয়োজন করেছে নুসরাত আপু আমিও ছিলাম সেখানে..
`
আয়োজন শেষে গাড়িয়ে উঠব ঠিক এমন সময় সাদিয়া হাজির…
– শুনো?
– কিছু বলবেন? (জানি কি বলবে)
– আগের সব ভুলে নতু……..
থাক আর বলা লাগবে না, আমার মত ক্ষ্যাতের সাথে কথা বললে
আপনার মান সম্মান কমে যাবে.. টাটা….
`
`
হাহাহা আজ আমি সফল হ্যা আমি সফল আজ, তোমার মিথ্যে
ভালোবাসাই আজ আমাকে এখানে এনেছে… একটা হাল্কা
সালুট দিয়ে গাড়িতে বসে পরলাম….
`
`( সবসময় একই সময় চলেনা, দিন সবারই আসে, ভাগ্য সকলেরই
বদলায়, কোনো মানুষকে ছোট করে দেখতে নেই, কিছু ধাক্কা
উপরে উঠার রাস্তা দেখায়)

Be the first to reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *