করোনা বিড়ম্বনা – Bangla Story

Posted by

করোনা বিড়ম্বনা:

শামীমকে আজ অফিসে যেতেই হবে। গত এক সপ্তাহ ধরে নানা অজুহাতে এড়িয়ে গেছে। গতকাল বলেছিল, বস বাসার সামনে থেকে পুলিশ আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে এখন পাহারা বসিয়েছে, বের হলেই মাইর। আজ বস ফোন দিয়ে বলেছে, আমি রিকশা নিয়ে তোমার বাসার নীচে এসেছি, তুমি আসো দেখি তোমারে কে আটকায়। তা-ও শামীম একটা অজুহাত দেয়ার চেস্টা করছিল, বস হুংকার দিয়ে বলল, তুমি অফিস যাবা না কুইট করবা বলো? এরপর নামতেই হলো।
রিকশায় বসের পাশে শামীম বসা। বস গম্ভীর হয়ে আছে।এর মধ্যে ফোন বাজলো শামীমের, বস সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললো, ফোনের স্পীকার অন করে কথা বল, কোন চালাকি না। আচেনা নম্বরের ফোন। শামীম স্পিকার অন করল।
— হ্যালো, স্লামালাইকুম।

– হ্যালো আই ই ডিসি আর থেকে বলছি। রিয়াজ সাহেব আপনি গতকাল যে স্যাম্পল দিয়েছিলেন সেটা পজিটিভ। আপনি করোনায় আক্রান্ত, দয়া করে বাসায় থাকুন, কোথাও যাবেন না। আপনার সাথে আমাদের টিম যোগাযোগ করবে।
মুহুর্তে কয়েকটা ঘটনা ঘটে গেল। ‘আউ’ বলে বস রিকশা থেকে লাফিয়ে নেমে গেল। রিকশাওয়ালা কোনমতে রিকশা থামিয়ে দিল ভো দৌড়।
শামীম হতভম্ব।
বস দুর থেকে বলল, শামীম তোমার করোনা হইছে বলো নাই কেন? কাছে আসবা না খবরদার! তোমার চাকরি শেষ।
— স্যার কোথাও ভুল হইছে। চিন্তা করে দেখেন, আমার নাম রিয়াজ না তো।
বস একটু আশ্বস্ত হল। তবু সরু চোখে তাকাতে লাগল। –দুরে থাকো আর ওই নম্বরে কল দাও আবার।
কল দিতে হলো না। ওরাই আবার কল ব্যাক করলো। — হ্যালো ভাই সরি, রিয়াজ সাহেবকে ফোন দিতে গিয়ে একটা ডিজিট ভুলে আপনার কাছে কল চলে গিয়েছে।
বস হাফ ছেড়ে কাছে এসে দাড়াল। ওহ। চল।

কিন্তু রিকশাওয়ালা কই? সে রিকশা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আশপাশ শুনশান, কেউ কোথাও নেই। বস বললো, শামীম আজ একটা জরুরি ডিল আছে, তুমি যদি রিকশা চালিয়ে আমাকে নিয়ে যেতে পার তবে তোমাকে একটা স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট দেব।
— স্যরি বস। মানুষ দেখলে কি বলবে? আর আমি জীবনেও রিকশা চালাইনি।
— কেউ দেখার মতো নাই রাস্তায়, আর মুখে মাস্ক পরা, দেখলেও কেউ চিনবেনা। যাও চালাও, তুমি পারবে আমি জানি। বিলিভ মি ইউ আর এ ট্যালেন্ট গাই, বলে বস রিকশায় উঠে বসল।

শামীম খালি পায়ে রিকশা চালাচ্ছে, জামা প্যান্টে গ্রীজ আর কালি লেগে গেছে , জুতা খুলে রেখেছে বসের পায়ের কাছে । একটা গামছা বাধা ছিল হ্যান্ডেলে সেটা খুলে কোমড়ে বেধে নিয়েছে , কে বলবে সে রিকশাওয়ালা না?
রাপা প্লাজার কাছাকাছি এসে দম আটকে আসছিলো বলে সে মাস্কটা মুখ থেকে একটু নামিয়েছে এর মধ্যে একটা গাড়ি এসে ব্রেক করলো পাশে। গাড়ি থেকে শামীমের আগের অফিসের কলিগ সীমা নেমে এলো।
— ও মাই গড। শামীম ভাই না? চাকরি গেছে তাই শেষ পর্যন্ত রিকশা চালাচ্ছেন? কোন ব্যাপার না ভাই। আবার চাকরি পাবেন। আই এম ইম্প্রেসড ভাই। হোয়াট এ ডেডিকেশন।

…….করোনা বিড়ম্বনা…………………

— ইয়ে সীমা আসলে তুমি যা ভাবছো…
— বুঝছি ভাই, কাউকে বলব না, ইউ আর এ রিয়েল ফাইটার, একটা সেল্ফি হোক প্লিজ।
সীমা চট করে একটা সেল্ফি তুলে গাড়িতে উঠে চলে গেল।
শামীম আবার মাস্ক পরে বিরস বদনে রিকশা চালাতে লাগলো। মনে মনে বসের গুষ্টি উদ্ধার করছে। সীমা এই ছবি মেহেদী ভাইকে দেখালেই সে শেষ। মেহেদী ভাই অনলাইনে ছড়িয়ে দেবে, ব্যাটা মানুষকে পচিয়ে মজা পায়।
শুক্রাবাদের কাছে আসতে আবার একটা গাড়ি ব্রেক করলো সামনে। এক লোক নেমে শামীমের হাতে একটা ত্রানের ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে দাড়ালো, আরাক লোক ছবি তুলতে গিয়ে ধমক দিলো ওই রিকশাওয়ালা মুখের মাস্ক নামাও ছবি ভালো হবে।
— ইয়ে আমি আসলে….

ধুর, বলে পাশের লোকটা শামীমের মাস্ক টেনে নামিয়ে দিলো, তারা কয়েকটা ছবি তুলে ব্যাগ দিয়ে চলে গেল। ব্যাগে চাল, ডাল তেল।
রাসেল স্কয়ারে র‍্যাব রিকশা আটকালো। শামীমকে ডেকে বললো, কই যাস? বের হওয়া মানা জানিস না? পাঁচবার কান ধরে উঠবস কর।
শামীমের বস কি একটা বলার চেস্টা করছিল, এক অফিসার মেজাজ খারাপ করে দুই ঘা বসিয়ে দিল।

শামীম এখন খুশি মনে রিকশা চালাচ্ছে, দেশের বিচার ব্যাবস্থার উপর তার আস্থা চলে এসেছে। বস বিরস মুখে রিকশার উপর দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চাৎ দেশের যা অবস্থা আগামী কিছুদিন বসতে পারবে কি না সন্দেহ।

…….করোনা বিড়ম্বনা………

আমাদের আরো গল্প :

লজ্জাবতী বউ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *