ক্ষমা করে দিস

image_pdf

আকাশঃ কি রে জানু মন খারাপ কেন??

আখিঃ তুই আমাকে আর জানু ডাকবি না।

আকাশঃ ওহ এই জন্নই মন খারাপ করেছিস নাকি??

আখিঃ,,,,

আকাশঃ কি হয়ছে বলবি তো??
আখিঃ,,,

 

আকাশঃ এই আখি তুই এই ভাবে গোমরা মুখি করে থাকলে আমার একদম ভালো লাগে না,,

আখিঃ তুই এখান থেকে জাবি নাকি আমিই চলে জাবো???

আকাশঃ অকে আমিই যাচ্ছি,, কিন্তু বলতো তোর কি হয়ছে??

আখিঃকিছু হয়নি,,এবার এখান থেকে যা,,

আকাশঃ বলবি না আমাকে??

আখিঃ উফ বললাম তো আমার কিছু হয়নি,,।

আকাশঃঅকে অকে,, কি যে করি খুব problem এ আছি,, এ আখি যানিস একটা problem এ পরেছি।

আখিঃ কি,

আকাশঃ কাল রাতে fb তে এক লোক আমাকে মেসেজ করেছে,,

আখিঃ তো আমি কি করব,জা তো তুই বিরক্ত করিস না।

আকাশঃ আরে শোন না,,

আখিঃ কি??

আকাশঃ যে আমাকে মেসেজ করেছে তার নাম, মরহুম রানা,, আচ্চা কবর থেকে কি কেও ফেসবুক চালাই??

আখিঃ হা হা হা হা হা,,তুই না পারিস ও বটে,তোর জন্য একটু গোমরা মুখি হয়েও থাকতে পারি না।

আকাশঃ হি হি হি হি,,

আকাশের আর আখির বন্ধুত্ব অনেক দিনের,,তারা দুজনে একি ক্লাসে পড়ে,, আকাশ আখির মন খারাপ দেখলেই, এটা অটা বলে হাসায়ে মনটা ভলো করে দেই,, আকাশ আর আখির মাঝে মাঝে ঝগড়া ও লেগে জায় তোমুল ঝগড়া,, ২-৩ ঘন্টা দুজন চুপ কেও কারো সাথে কথা বলে না। কিন্তু আকাশ ইচ্ছা করেই আখিকে রাগিয়ে নিতো,, পরে আবার আকাশ এটা ওটা বাহানাতা করে আখির সাথে কথা বলতে জেতো,, কিন্তু আখি তো খুব রাগি আর অভিমানি,,একবার রেগে গেলে খুব সহজে কথা বলতে চাইতো না। আর আকাশ ও নির্লজ্জ আখির সাথে কথা বলার জন্নো পিচু লেগে থাকতো,,

আকাশঃ এই আখি তোর তোর মাথার পেছনে বিচ্ছু।

আখিঃ ওওঅঅঅঅ,,,,

আকাশঃ দাড়া দাড়া আমি ফেলে দিচ্ছি বিচ্ছু।

আখিঃ আওওও তারাতারি দে,,

আকাশঃ হা হা হা হা,,,

আখিঃ কি হলো,,,???

আকাশঃ বিচ্ছু তো নাইরে।

আখিঃ তারমানে তুই,,,,তোবে রে,,,,দাড়া দেখাচ্ছি মজা,,

আকাশঃ উফ,মারিস কেন?? লাগছে তো।

আখিঃ লাগবে ই তো এমন করলি কেনো?

আকাশঃ তুই আমার সাথে কথা বলছিলি না তাই,,এই পদ্ধতি বের করলাম,তুই তো জানিস তোর সাথে কথা না বলে থাকতে পারি না।

আখিঃ ঝগড়া করার সময় হুস থাকে না??

আকাশঃ হি হি হি,তোকে রাগাতে যে মজা লাগে,,

আখিঃতোর মজার গুস্টি কিলাই,, রে,, আমাকে রাগিয়ে মজা লোস হুম??

আকাশঃ উফ কাল গেলো কাল গেলো ছার ছার,,,

আখিঃ বল আর ঝগড়া করবি??

আকাশঃ না না,,,

আখিঃ, হা হা হা

good boy এই ভাবেই আকাশ আর আখির বন্ধুত্ব চলতে থাকে,,, কিন্তু আকাশ এই বন্ধুত্ব সম্পর্ক টাতেই সীমাবদ্ধ ছিলো না।আকাশের মন জুরে শুধু আখির অস্তিত্ব,, কিন্তু আখি তা যানেই না। আসলে আকাশের তেমন কনো বন্ধু বা বান্ধবি নাই,, কিন্তু আখির অনেক অনেক বন্ধু,, আকাশ ও তাদের মধ্যে একজন,কিন্তু তাদের থেকে আকাশ একটু আলাদা। আকাশ আখিকে খুব ভালবাসে, আখিকে অনেক ইংগিত করে বোঝানর চেষ্টা করে,,কিন্তু কোনো কাজ হয় নি।

আকাশঃ এই আখি আমি তোর বর,

আখিঃ কি? কি বললি???????

আকাশঃ না মানে তোর বর কিন্তু আমি ঠিক করে দিবো।

আখিঃ লাগবে না। আমি নিজেই ঠিক করবো।

আকাশঃ সত্যি??

আখিঃ কি মনে হয়???

আকাশঃ আচ্ছা আমাকে কেমন লাগে তোর???

আখিঃ জুকার জুকার,,হা হা হা।

আকাশঃ হি হি হি হি। একটা কথা কি জানিস,এই জুকারের মতো তোকে কেও ভালোবাস্তে পারবে না রে,

আখিঃ এহ এই আকাশ তোর মাথা ঠিক আছে তো???

আকাশঃ হি হি হি হি,,

আখিঃ কি হলো,তুই পাগল হয়ে গেলি নাকি???

আকাশঃআমি তো পাগলই,তোর পাগল।

আখিঃফালতু কথা বলিস না!

আকাশঃ সত্যি আমি ফালতু বলছি না।

আখিঃ ফালতু কথা রাখ।কথা হচ্ছে কাল কে আমার birthday,,কালকে সন্ধার পর পার্টি আছে,চলে আসিস।

আকাশঃহুম,

আখিঃbye.

আকাশ একরাস কষ্ট নিয়ে বাসায় ফিরতেই তার মা আকাশ কে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করেদিলো,আকাশ কিছুই বুঝতে পারছে না,,মা কান্না করছে কেন??? কান্না করবো তো আমি,আখি আমাকে বুঝে না কেন??
কিন্তু মা কেন? কান্না করতেছে,,

আকাশঃমা কি হয়েছে বলো?

মাঃতোকে হারাতে দিবো না।

আকাশঃ আচ্ছা মা আমি হারিয়ে যাবো কে বলেছে???

মাঃ ডাক্তার কি আযেবাজে কথা বলছে,,

আকাশঃকি যে বলো মা,,

মাঃ তুই আমাদের ছেড়ে কথাও জেতে পারবি না।

আকাশঃ মা,, আগে কান্না থামাও তো, মা আমি খুব ভালো আছি।

কিছু দিন আগে আকাশ খুব অসুস্থ হয়েছিল,,, কনো ওষুধে কিছুতেই কাজ হচ্ছিলো না,, ভালো ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করে আসেছে,,,, তারপর কিছু ওষুদ খেতে কিছু টা ভালো হয়েছিল, রিপোর্ট টা আকাসের মায়ের হাতে পাবার পর থেকেই কান্না করেই চলছে, কারন আকাশের ক্যানসার, বেশি দিন বাঁচবে না,,

এটা জানার পর আকাসের মায়ের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে,,আকাশ কে পেয়েছিলো ১০ বছর ধরে আল্লাহর কাছে কান্না করে চেয়ে চেয়ে,, তাও ছেলেটা হারিয়ে যাবে,, আকাশের বাবা তো বাকশক্তি হারিয়েই ফেলেছে প্রায়,, কিন্তু আকাশ এই বিষয়ে কিছুই জানে না ,, রাতে আখিকে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলো,,, সকাল থেকেই ভাবছে আখির birthday তে কি গিফট দেয়া জায়,,, সন্ধার পরে কিছু গিফট নিয়ে রওনা দিলো আখিদের বাসার দিকে,, বাসাই অনেক লোক, অনেক আয়োজন সবাই,খুব হাসাহাসি করতেছে,,, আখি আকাশ কে দেখে খুব খুসিই হলো,, আজ আখির মুখে খুব হাসি,, আকাশ একদিষ্টতে তাকিয়ে আছে,,, আর ভাবছে,,আজ আখির মন টা খুব ভালো এটা আকাশের সুযোগ,, প্রোপজ করার,,, আকাশের মনের মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে। আকাশ ভাবছে আজকেই প্রোপজ করবে,তাতে যা হবার হবে,,

আকাশঃ এই আখি,( ভয়ে)

আখিঃকি??

আকাশঃ I love u

আখিঃ তুই আসলেই পাগল হয়ে গেছিস

আকাশঃ হা আমি পাগল,,( চেচিয়ে)

আখিঃ আস্তে বল সবাই শুনছে তো,,

আকাশঃ আমি তোকে ভালোবাসি এটা সবাইকেই জানাতে চাই,,I love u akhi,(চেচিয়ে)

আখিঃএকটা থাপ্পড় দিয়ে চলেগেলো,

আকাশঃ খুব কষ্ট নিয়ে বাসা চলে আসে।,

হঠাৎ শুনতে পেলো, তার মা বাবা কি জেন বলে কান্না করতেছে,একটু ভালো করে শুনার জন্য এগিয়ে জাতেই জা শুনলো, আকাশ নিজেই ভাবছে আমি আর বেসিদিন বাঁঁচবো না??? ভাবতেই দুচোখ জলে ভরে জায়, আকাশ আজ বুঝতে পারলো কান্নার কারন,, আকাশ তবুও খুব হাসিখুসিতেই থাকে,,ভাবে যে ওর কিছুই হয়নি, পরের দিন কলেজে গিয়ে আখির মনটা ভালোই হাসা হাসি করতেছে,আকাস সারারাত কান্না করে চোখফুলিয়ে ফেলেছে,,আখি আকাশকে দেখে ডাকদিলো কিরে তোর এ কি অবস্থা,?? কি হয়েছে?? আর হুম সরি কালকের জন্য, দেখ আমি তোকে মারতে চাইনি কিন্তু খুব

আকাশঃ রাগ হয়ছিলো তায়তো হি হি হি হি,

আখিঃ হুম, হা হা হা হা,,আচ্ছা তোর চোখ ফুলেছে কেন?? কান্না করেছিস??

আকাশঃ সত্তিই আমার চোখ ফূলেছে???

আখিঃ হুম,খুব

আকাশঃ আর বলিস না কালকে চোখে কি জেন ঢুকেঁছিলো,, চোখ ডলেছিলাম তো তাই ফুলেছে,,

আখিঃoh,

আকাশঃ আচ্ছা বললি না তো আমার দেয়া গিফট কেমন?

আখিঃ সত্তিই তুলনা হয়না।,,,সব থেকে সেরা গিফট,,

আকাশঃ thanks

আখিঃwelcom

কিছু দিন এইভাবেই চলছিলো,, আখি কিছু পরিবর্তন দেখতে পেলো,আকাশ আর আগেত মত হাসে না,বেশি সময়, একা একাই বসে থাকে,,আর কেমন জানি সুকিয়ে জাচ্চে,চোখের নিচে কেমন জানি কালো দাগ পরে গেছে,, আখি ও খুব বিরক্ত হয়,আকাশ আর কেন আগের মতো ঝগড়া করে না??কেন আর আগেই মতো কথা বলে না? আখির ও ভালোলাগার একমাত্র কারন সেই আকাস ই ছিল,কিন্তু বুঝতে পারতো না,,এখন ঠিক বুঝতে পারে আকাশ তার মনে কতোখানি জাইগা জুরে আছেই। একদিন বলেই ফেললো কিরে আকাশ তুই এমন হয়ে যাচ্ছিস কেন??

আকাশঃ কেমন?

আখিঃ এইযে,, আমার সাথে আর আগের মত কথা বলিস না, আমার মন খারাপ থাকলে তুই আর ভালকরে দিস না, আমার সাথে আর ঝগড়া করিস না,, কিন্তু কেন??? এই কথা গুলো শুনে আকাশের দুচোখ জলে ভরে গেলো.

আখিঃএই আকাশ কি হলো তোর?? আকাশ চলে যাচ্ছে,,

আখিঃ এই আকাশ কি হইছে তোর?? বলে জা,, প্লিজ, আকাশ বাসায় চলে আসলো। আখি তার জীবনে এই প্রথম আকাশের চোখে জল দেখলো,,, আকাশ কান্না করতে পারে?? কিন্তু কি ভাবে? আখি ভাবছে এই ছেলে কে এতো বকা দিই, তাতে ও মন খারাপ তো দূরে থাক,ও কিছুই মনেই করে না।

কিন্তু আকাশের ভোখে জল দেখলাম আজ, কি হয়েছে ছেলেটার?? আখির মনে কেমন জানি অশান্তি লাগছে,, আকাশের কি হয়েছে,,আকাশ কে কল করে কিন্তু ফোন অফ,, পরের দিন আকাশ কলেজে আসি নি,,আকাশ কে না পেয়েই মন খারাপ করে চলে আসে আখি,, আকাশ কে আর বাসা থেকে বের হতে দেই না মা বাবা, সাড়া দিন বাসাতে আকাশের আর ভালো লাগে না,, এই দিকে আখির মনে অশান্তি, আকাশ কয়েকদিন কলেজে আসে না,আখিও খুব কষ্ট পেতে থাকে,,আকাশ কেমন? ফোন টাও অফ করে রাখছে,, এই ভাবে কিছু দিন কেটে গেলো,আখি আকাশের দেখা না পাওয়াতে প্রায় পাগলের মত অবস্থা,, আকাশের বাসার ঠিকানাও জানা নাই, আজ আখির পৃথিবীটা কেমন জানি অন্ধকার হয়ে আসছে? আখি নিজেও বুঝতে পারছে না, তার এমন কেনো লাগছে?? আখি ভাবছে আকাশের জন্য আমার এমন লাগছে কেন?? আমি কি আকাশ কে ভালবেসেফেলেছি??

এটা সেটা ভেবেই ঘুমিয়ে গেলো আখি, সকালে ঘুম ভাংলো কাকের ডাকে, রুমেই সামনে কৃষ্ণচুড়া গাছের ডালে একটা বড় কাক কেমন জানি অদ্ভুত ভাবে ডাকছে,, চারপাস টা কেমন জেন নিস্তব্ধ,, আখি কেমন জানি মনের মধ্য শূন্য বিরাজ করতেছে,, আখি খুব চিন্তা করতে থাকে,, আমার এমন কেন লাগছে?? কয়েকদিন ধরে এমন কেন ফিল করতেছি,,,নাকি আকাশের কিছু হয়েছে?? কথাটা ভাবতেই চোখের কোনে আপনা আপনিই জল চলে আসলো, আখি আর থাকতে পারলো না,,,আকাশের বাসার ঠিকানা যোগার করে,,, আকাশদের বাসায় গেলো,, বাসায় এতো লোকজন কেন??এটা আকাশের বাসা তো,,

আখিঃএইযে ভাই এইটা কি আকাশদের বাসা?? হুম।

আখিঃ এতো লোক কেন?? ভেতোরে গিয়ে দেখেন।

আখি ভেতোরে গিয়ে দেখলো সবাই নিস্তদ্ধ, আর একটু ভেতোরে জেতেই দেখলো কাফনে জরানো একটা লাস,, দেখেই আখি চমকে গেলো,,, কাছে গিয়ে কাফন টা মুখ থেকে সরাতেই আখি মাটিতে লুটে পরলো,, আখি আকাশ কে ধরে কান্না করে, এই আকাশ তোর কি হয়েছে,, দেখ আমি এসেছি,, দেখ তোর জানি এসেছে ,,, এই আকাশ তুই আমাকে ছেড়ে জেতে পারিস না, তুই আমাকে ভালবাসিস না,, তুই আমাকে ভালবাসলে এই ভাবে ছেরে জেতে পারতিস না। আমিও যে তোকে ভালবাসিরে,আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারব না।,

আকাশের মা আখিকে নিয়ে আকাশের রুমে নিয়ে গেলো,আকাশ একটা ডায়রি দিলো তাতে কিছু লিখা ছিলো, আমার প্রিয় আখি আমি তোকে এতো টাই ভালোবাসিছি যে তুই অন্ন ছেলেদের সাথে কথা বললেই আমার খুব কষ্ট হতো,তুই আমাকে বুঝতিস না কেন??আমার মতো করে তোকে কেও ভালোবাসতে পারবে না, জানিস আখি, আমি যদি জামতাম আমি বেসি দিন বাচবনা তাহলে তোকে আমার মনের কথা জানাতাম না,হি হি হি,কি করবো বল,খুব ছটফট করতেছিল মন টা, তাই বলেই দিলাম,, আর তোর জাবাব পেলাম মিষ্টি একটা থাপ্পড় হি হি হি,খুব মিষ্টি ছিল,,আর হুম তুই এই জুকার কে ক্ষমা করে দিস,আর শোন না না একদোম কান্না করবি না, তুই তো জানিস তুই মন খারাপ করলেই আমি কষ্ট পায়,, আর কান্না করলে তো আমি খুব খুব খুব কষ্ট পায়,,,

ভালভাবে লেখাপড়া করবি কেমন? আর ভালথাকিস, ইতি জুকার,, আখি সেদিন থেকে আর কারো সাথে কথা বলে না,আখিও নিস্তব্ধ হয়ে গেছে,, আখি এতো টাই কষ্ট পেয়েছে যে তার ব্রেইন অব্ধি পৌছে গেছে, মনের আবেগ অনুভুতি, সব শেষ হয়েগেছে, একটা অন্ধকার রুমের এক কোনে সবসময় বসে থাকে,আর মাঝে মাঝে আকাশ বলে কান্না করে,,,,আখির অপূর্ণ ভালবাসার জীবন এই ভাবেই চলতে থাকে

সমাপ্ত

Please Rate This Post
[Total: 16 Average: 3]

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *