কাঞ্চনজংঘার দেশেঃ গোয়েচালা ট্রেক পরিচিতি

image_pdf

গোয়েচালা ট্রেক হলো ভারতের সিক্কিম প্রদেশের একটি জনপ্রিয় হাই এল্টিচিউড ট্রেক। এই ট্রেকটি সিক্কিমের পুরোনো রাজধানী ইয়ুকসাম থেকে শুরু হয়ে গোয়েচালা পাস এ গিয়ে শেষ হয় ( যদিও এখন ভিউ পয়েন্ট- ১ এর বেশি এগিয়ে যাবার পার্মিশন নেই)। এটি কোনো সার্কিট ট্রেক নয়। তাই আবার ইয়ুকসামেই ফিরতে হয়। সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৫,৬০০ ফুট (গোয়েচালা ভিউ পয়েন্ট -১)।

এই ট্রেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর মাউন্ট পান্দিমকে দেখা যায় একে বারে সামনে থেকে। জংরি টপ আর গোয়েচালা ভিঊ পয়েন্ট থেকে সূর্যোদয় দেখা সব মানুষের ভাগ্যে জোটে না। সে এক অমায়িক দৃশ্য। আমার মত আবেগী হলে চোখে জল ও চিক চিক করতে পারে কারো কারো। এ ছাড়াও মাউন্ট তেনজিন খা, সামিতি লেক, সুবিশাল সাব- এল্পাইন ফরেস্টের হাজার প্রজাতির গাছ, অসাধারণ সুন্দর মেডো, গ্লেসিয়ারের জলে তৈরি হওয়া পাহাড়ী নদী ত আছেই। ভাগ্য ভালো থাকলে জংগলে রেড পান্ডা অথবা হিমালয়ান ব্লাক বিয়ারের দেখা পেয়ে যেতে পারেন ( যদিও শেষ জন্তুটার দেখা পেলে সৌভাগ্যের থেকে দুর্ভাগ্য বেশি পোহাতে হতে পারে)। তাছাড়াও হাজার প্রজাতির পাখির কিচির মিচির আপনাকে প্রানবন্ত রাখবে সারা ট্রেকে।
ট্রেকটি পুরোপুরি শেষ করতে সময় লাগে ৮ দিন। সর্বত্তম সময়ঃ উইন্টার (মার্চ- এপ্রিল) – বরফ আর বরফ, মনশুন (জুন-আগস্ট) রডোডেন্ড্রন ফুলের সমাহার, পোস্ট মনশুন (অক্টোবর- নভেম্বর) অসাধারণ ভিউ আর পরিস্কার নীল আকাশ। অক্টোবর- নভেম্বরেই আকাশ সবচেয়ে পরিস্কার থাকে। তাই এটিই বেস্ট সময় ট্রেক করার আর সাথে ভিউ উপভোগ করার।
ট্রেকের ডিফিকাল্টি লেভেল হল মডারেট টু ডিফিকাল্ট। সোজা বাংলায় বলতে গেলে, যদি ট্রেক এনজয় করতে চান তাহলে ভালো রকমের ফিট হতে হবে আপনাকে। আর যদি প্রিপারেশন ছাড়া যান, তাহলে মনে রাখবেন, কাঁদিয়ে ছাড়বে আপনাকে। কোন রকম টেকনিক্যাল ক্লাইম্বিং নেই। আর কোনো বয়স সীমা নেই এই ট্রেকের। আমি ৭০ বছরের বুড়ো থেকে ৮-৯ বছরের বাচ্চাকেও দেখেছি ট্রেক করতে। রাস্তা মোটেও বিপদজনক না। বান্দরবানের তুলনায় অনেক কম রিস্কি। তবে প্রায় ১০০ কি.মি. হাই এল্টিচিউডে আট দিন ট্রেক। তাই সবাই ট্রেকটি শেষ করতে পারেন না। কিন্তু যতটুকু পান তারা, তাও মোটেই কম নয়। ৮ দিন পুরো নেটওয়ার্ক এর বাইরে, প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার একটি অনন্য সুযোগ এই গোয়েচালা ট্রেক। তবে সবচেয়ে বড় পাওয়া হল কাঞ্চনজঙ্ঘা আর মাউন্ট পান্দিম। পান্দিম ট্রেকের ৩য় দিন থেকে সারাক্ষণ আপনার পাশে পাশে থাকবে, মাঝে মাঝে কাঞ্চনজঙ্ঘাও উঁকি দেবে। আরেকটি মজার বিষয় হল এই ট্রেকের বৈচিত্র‍্যময়তা। প্রথম ২ দিন লক্ষ বছরের পুরোনো সাব-এল্পাইন ফরেস্ট, তার পরের দিন অসাধারণ সুন্দর মেডো। তার পরের দিন পাহাড়ি নদীর পাশ দিয়ে ট্রেক। অবশেষে কাঞ্চনজঙ্ঘা ম্যাসিফ এবং মাউন্ট পান্দিম। আপনার মনের ভেতরে এই ট্রেকের স্মৃতি আজীবনের মত যায়গা করে নিতে বাধ্য। সেই সাথে নেবে আপনার শরীরের চুড়ান্ত পরীক্ষা।
আমরা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর ৬ জন শখের পাহাড়প্রেমী ২০১৯ এর অক্টোবরে গেছিলাম স্বপ্নের সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা ছুয়ে দেখতে। সে নিয়েই এই গল্প। পর্ব আকারে বলব সেই গল্প। আজ সেই গল্পের পরিচিতি পর্ব ছিল।
সিকিম একটি অত্যন্ত পরিস্কার শহর। তাই যারা ঘুরতে যাবেন তাদের প্রতি আবেদন থাকবে জায়গাটিকে পরিস্কার রাখতে সহায়তা করবেন।
চরিত্র পরিচিতিঃ
বর্ণনাকারীঃ সাদমান (বাংলাদেশী)
অন্যান্য ৫ বাংলাদেশীঃ আসিফ, মিশু, আরাফাত, সাকিব, মুবারক।
ভারতীয়ঃ অর্ণব দা, মাম্পি বউদি, সুভজিত দা, সৌরভ দা ( ওরফে ভগবান দা), সাগ্নিক দা, সায়ান দা, অনুশ্রী দি, রঞ্জন দা আর অমিত ( সকলেই বাংগালী)
ট্রেক লিডারঃ জয় দা, সৈকত দা।
গাইড ও কুকঃ চন্দ্রসিং, আগাম সিং লিম্বো, আনমল রাজ, কৈলাস, চন্দ্র হান

Be the first to reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *