জামাই আদর

image_pdf

কাঁথা, কোল বালিস, আর কম্বল বর্তমানে এই আমার সম্বল।
আরো একটা সম্বল ছিল, এখন কাছে নেই। সেটা হলো “বউ” রাগ করে বাপের বাড়ি গেছে……
পাঁচদিন হল বউ নাই, এই শীতে কী বউ ছাড়া থাকা যায়??? যদিও শীত প্রই শেষ…..

মাস ছয়েক হল বিয়ে করছি, পারিবারিক ভাবেই “রুপা”র সাথে আমার বিয়ে হয়। রোমান্টিক না বলে ছাত্র অবস্থাই কোন প্রেম করতে পারি নি তাই বাবা মায়ের উপর ভরসা রাখলাম। আর বাবা-মায়েরও তো ইচ্ছা হত তাঁদের পছন্দ মত পুত্র বধু ঘরে আনবে……
বিয়ের পরে দুজনে মিলে নিজেদের মতন করে সংসার সাজিয়েছি। ভালই চলছিল আমাদের খুনশুটির সংসার…..
মান অভিমান, আর মিষ্টি ভালবাসা……..
আর কী চাই……
আমি রাশেদ, প্রাইভেট কম্পানিতে ম্যানেজার পদে আছি। এই জন্য আমরা শহরে থাকি আর আব্বু আম্মু আর বোনটা গ্রামের বাড়ি থাকে। অনেক দিন হল বউ বাপের বাড়ি যাবে বলে মাথা নষ্ট করে ফেলছে।
আরে চাকরি করি পরের চাইলেই কি চলে যাওয়া যায়, অন্য দিকে বসও বলছে এই প্রজেক্ট টা শেষ না হলে কোন ভাবেন ছুটি পাওয়া যাবে না।
আমি পরছি চিপাই, বাড়ি বউ অফিসে বস। বস নিজে যখন শ্বশুর বাড়ি যায় তখন, সে মনে করে তাঁর ছাড়া আর কারো মনে হয় শ্বশুর বাড়ি নেই।
আজ এর একটা ব্যাবস্তা করতেই হবে, হয় ছুটি দিবে না হলেই চাকরিই ছেড়ে দিব। প্রজেক্টের কথা বলে বিয়েতে মাত্র ৪দিনের ছুটি দিয়েছিল। আর ছুটি দেয়ার নাম নেই।
সোজা বসের রুমে নক করলাম।
—আসসালামুআলাইকুম, আসব স্যার।
—ওয়ালাইকুমআসসালাম, হুম আসেন…… (ফাইলে মুখ গুজেই)
—ভাল আছেন স্যার??
—আরে রাশেদ বস, হুম আমি ভাল আছি, তোমার কি খবর???
—আমার আর ভাল থাকা, সেটা আর হচ্ছে কই???
—কেন তোমার আবার কী হল???
—প্রজেক্টের কথা বলে বিয়ের সময় ছুটি দিলেন না, তারপরো এত করে বললাম কোন ছুটি দিলেন না, শীত চলে যাচ্ছে শ্বশুর বাড়ি পিঠা খেতেযেতে বলছে তাও যেতে পারছি না, কারন আপনি ছুটি দিচ্ছেন না।
নতুন শ্বশুর বাড়ি, নতুন জমায়, প্রথম শীত, না গেলে বউতো রাগ করবেই…..
আপনি তো কদিন আগেই ঘুরে এলেন, আপনি কী আমাদের কষ্ট টা বুঝেন…..
নিজেকেই নিয়ে আছেন…..
আর এই নিয়ে তো বউয়ের সাথে তুমুল ঝগরা, তাই বউ বাপের বাড়ি গেছে কিছু দিন হল। এখন বলেন এত কিছুর পরেও ভাল থাকি কি করে????

—হুম, এত কিছু হয়ে গেছে??? আর তুমি আজ বলছ….

—তাহলে আর বলছি কি??? সেদিনও তো বললাম, আপনিই প্রজেক্টের কথা বলে এরিয়ে গেলেন…..
—কিন্তু প্রজেক্টের শেষ না হলে ছুটি দিই কিভাবে??? একটা কাজ করো দুদিনের ছুটি আমি ম্যানেজ করে দিচ্ছি তুমি শ্বশুর বাড়ি থেকে ঘুরে আস।
—হবে না স্যার, নতুন শ্বশুর বাড়ি এভাবে যাওয়া যাবে না। এক সপ্তা ছুটি লাগবে আমার।
—এত দিন কিভাবে সম্ভব???? আর প্রজেক্টের চলছে এখন মাঝপথে……
—অনেক প্রজেক্টে সম্পুর্ন করে দিয়েছি, এবার আমার ছুটি চাই, না হলে আজই আমি চাকরিটাই ছেড়ে দিব দিব। আমার কাছে আপন মানুষগুলোর খুশি সবার আগে। এখন আপনি ভাবেন কি করবেন। আমি ছুটি পর্যন্ত আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করব।
আসছি স্যার।
কিছুই করার নাই, এখন একটা রিজাইন লেটার লিখতে হবে। আমার বিশ্বাস হয়না স্যার এত দিনের ছুটি দিবেন। এর আগে খুব কম মানুষই এতটা ছুটি পাইছে যতটা আমি চেয়েছি……
অফিস ছুটির আর ১০ মিনিট আছে, স্যারের কোন খোজ নেই, এবার মনে হয় রিজাই দিতেই হল।
কেবিন থেকে বেরতে যাব তখনই স্যার ঢুকলেন আমার কেবিনে।
—শোন তোমাকে যে এক সপ্তার ছুটি দিলাম তা কাওকে বলবে না, বলবে অসুস্থ থাকার জন্য আসনি।
স্যারের কথাটা শুনে হাসি চলে এলো, কোন মতে আটকে রেখে বললাম
—কি বলেন না স্যার মিথ্যা বলতে যাব কোন দুঃখে???
—এছাড়া আর উপাই নেই, আর সবাইতো ধরে ধরে জিগেস করবে না, আচ্ছা ভাল থেকো….
বলেই স্যার চলে গেলেন,
মনের আনন্দে শালীকাকে ফোন দিলাম। বউ ফোন ধরছে না, যাবার পর থেকেই।
—হ্যালো দুলাভাই বলেন।
—তোমার আপু কোথাই???
—আপু ঘরে, আপনি কি করেন লোকে শ্বশুর বাড়ি পরে থাকে আর আপনি অসতেই চান না।
—তোমার আপুকে বল আমি আসছি।
—সত্যি??? (সেই লেভেলের খুশি)
—হুম…. এখন রাখছি, এসে কথা হবে….
বলেই ফোন রেখে দিলাম, বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে খাওয়াদাওয়া করলাম, সকালে রান্না করছিলাম তাই খেলাম। কয়েকটা জামাকাপড় নিয়ে রওনা হলাম।
পথে বউয়ের পছন্দের চকলেট, আইসক্রীম নিলাম। সাথে শালীকার জন্যও গীফ্ট নিলাম…….
নতুন শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছি, কিছু ফল ও মিষ্টি নিলাম…..
সন্ধার আগেই পৌছে গেলাম। বেল দিতেই শালী এসে দরজা খুলে দিল।
শালীকে তাঁর জন্য আনা গিফ্টটা দিয়ে বউয়ের ঘরের দিকে গেলাম, তাঁর আগে শ্বশুর-শ্বরির সাথে কথা বললাম। বউয়ের ঘরে গিয়ে দেখি বউ নেই ঘরে।
চকলেট ও আইক্রিমের ব্যাগটা খাটে রেখে শালীকে ডাকলাম
—জি দুলাভাই বলেন।
—তোমার গিফ্ট পছন্দ হয়ছে???
—হুম খুব। আপু ছাদে আছে।
—এই সন্ধ বেলাই ছাদে???
আর কথা না বাড়িয়ে ছাদে গেলাম, বউ পশ্চিম দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।
সামনে ডুবন্ত রক্তিম সূর্য, পেছন থেকে বউকে একটা ছায়ার মতন লাগছে…..
কাছে গিয়ে কাশি দিলাম।
—-এখানে কেন আসছেন যান অফিসেই থাকুন।
—আরে বউ রাগ কর কেন??? বউয়ের থেকে অফিস বড় হল??? আর অফিসে কী বউ আছে নাকি যে অফিসে যাব……
—না তা হবে কেন, তাই যদি না হত তাহলে এত ঝগরা করা লাগত না। আমাকে একা আসতে হত না…..
—কি যে বল না, বলেই পেছন থেকে জরিয়ে ধরলাম।
এক ধাক্কায় ছাড়িয়ে নিল নিজেকে, হন হনিয়ে নিচে চলে গেলো। বোঝা যাচ্ছে বেশ রেগে আছে বউ আমার, সহজে এই রাগ যাবে না। বেশ কসরত করতে হবে…..
আমিও নিচে চলে এলাম। ঘরে ঢুকতেই দেখি শালা শালী এসে ভরে গেছে।
আমার শ্বশুররা সব ভাই একই পরিবারে থাকে তাই ডজন খানিক শালা শালীও আছে আমার। এতখন হয়ত পড়ছিল, যেই শুনছে দুলাভাই আসছে সেই পড়া শেষ।
ব্যাগ থেকে ক্যাডবেরি গুলো বের করে দিলাম, এবার শুরু গল্প।

কি সারাদিন কি করছে, স্কুলে কার সাথে ঝগরা করছে, কাকে ম্যাডাম কান ধরে দাঁড় করাই রাখছিল।
ইত্যাদি ইত্যাদি বলছে আর ক্যাডবেরি খাচ্ছে।
কিছুখন পরে রুমু (আপন শালির নাম) পিঠা নিয়ে ঘরে ঢুকল।
—আরে এত তারাতারি পিঠা পেলে কোথায়, তাও গরম গরম???
—আরে দুলাভাই আপনি ফোন করার পর মাকে বলতে চাচিদের নিয়ে পিঠা বানাতে লেগে গেছে।
তাইতো বলি আজ চাচিদের সাথে দেখা হল না কেন??? অন্য দিন আসার সাথে সাথে সবাই ঘিরে ধরে…..
—বাহ তুমি তো বেশ কাজের, তোমার আপু গেলো কই???
—সাতটা না পাঁচটা না এই পরিবারের একমাত্র জামায় আপনি। বিয়ের পর এই দ্বিতীয়বার আসলেন, জামায় আদর না হলে হয়??? আপুও রান্না ঘরেই আছে।
—রাগ কি কমছে???
—মনে তো হয় না।
—শালীর সাথে কথা বলিছি আর. সবাই মিলে পিঠা খাচ্ছি….
রাতে খাবার টেবিলে চাচা শ্বশুর চাচী শ্বাশুরির সবার সাথে কথা হল। খাওয়া শেষ করে এসে রুমে বসে আছি পিচ্চিদের সাথে গল্প করছি। বউয়ের আসার কোন খোজ নেই।
শালীকা এসে আরো বড় দুঃসংবাদ দিল বউ শালির ঘরে ঘুমাবে।
তাই আমিও শালীর সাথে একটা প্ল্যান করে নিলাম।
প্ল্যান মতন রাতে শালীকে কল দিলাম, সে বেরহয়ে আসল রুম থেকে। আমি বউয়ের কাছে শালির রুমে আর শালী বউয়ের রুমে ঘুমাতে গেল।
আমি যেয়ে পাশে শুয়ে পরলাম, কিছুকন পরে বউ শালীকে ভেবে আমাকে জরিয়ে ধরল। আহ কত দিন পরে বউ আমায় জরিয়ে ধরল…..
আমি আমি চুপ করে আছি জরিয়ে ধরছি না দেখে বউ বলে উঠল
—কী এখন কী হল বেশ তো শালী দুলাভাই প্ল্যান করে ঘর পাল্টা পাল্টি করলেন।
এই যা বউ কী করে জানল??? শালীকি বলে দিল।
যাই হোক বউয়ের তো রাগ ভাঙছে এতেই খুশি…..
তাই আমিও জরিয়ে ধরলাম।
—আচ্ছা তুমি জানলে কি করে আমরা প্ল্যান করেছিলাম???
—ঘুমানোর পর রুমু কখনই বাইরে যাই না। আর ওর ফোন স্যাইল্যান্ট থাকলেও আমি টের পেয়েছিলাম, কথা শুনেই শিউর হলাম।
—এত বুদ্ধি আমার বউয়ের।
—আর পাম দিতে হবে না, কালকেই তো আবার যাওয়ার জন্য বলবেন।
—আরে না এবার এক সপ্তা জামায় আদর খাব তারপর যাব।
—সত্যি???
—হুম, এক সপ্তা ছুটি।
—আমার আইসক্রীম কই?????
—আমি কী করে বলব, এনে তো তোমার ঘরেই রাখছিলাম।
—ফ্রিজে রেখে দিয়েছি যাও নিয়ে আস….
—আমি?? এত রাতে, নতুন জামায় ফ্রিজ থেকে আইসক্রীম আনতে গেলে কেও দেখলে কী ভাববে?????
—ভাববে পেটুক জামায়, এক খেয়েও পেট ভরেনি, আবার ফ্রিজ থেকে চুরি করে খাচ্ছে…..
বলেই হাঁসতে লাগল “রুপা” অন্ধকারে দেখতে না পেলেও এই হাঁসিতে যে আমাকে কুপকাত করার শক্তি আছে তা না বলে দিলেও চলে…….
যেই বিছানা থেকে নামতে যাব ওকে ছেড়ে, অমনি বলল
—তুমি বস আমি আনছি, তবে আমাকে খাইয়ে দিতে হবে কিন্তু…..
আমি কিছু না বলে ওর কপালে একটা “চুমু” একে দিলাম, প্রতিউত্তরে ও আমার ঠোটে ওর দু “ঠোট” একত্রিত করে দিল……
এর পর আমাকে ছেড়ে আইসক্রীম আনতে চলে গেলো…..
ফিরে এসে…
—এই চলো ছাদে যাব, দোলনাই বসে আমাকে খাইয়ে দিবে…..
—এত শীতে ছাদে???? আবার আইসক্রীম খাবে????
এই শীতে আইসক্রীমে যে তুমি কী মজা পাও, আমার তো ঠান্ডার ভয়ে আইসক্রীমের ধারে কাছেও ঘেসতে মন চাই না…… তোমার জন্যই ঘেসতে হয়….
কী আর করা যেতেই হবে, তেমন কুয়াশা নেই, আকাশটা বেশ পরিষ্টার, পূর্ন জোস্না না হলেও চাঁদ মামা অনেকটা আলো ছড়াচ্ছে…….
দুজনে গিয়ে দোলনাই বসলাম, পাশাপাশি বসে আছি, “রুপা” একটা চাদর নিয়ে এসেছে, সেটাই দুজনের গায়ে জরিয়ে নিলাম।
—কউ দিন আইসক্রীম….. (এই মেয়েটা কখন আপনি আর কখন যে তুমি বলে আল্লাহই জানে)
—হুম দিচ্ছি তে……
আমি চামচে করে তুলে দিচ্ছি আর ও খাচ্ছে….
এত্ত শীতে যে কী করে আইসক্রীম খাই আল্লাহ জানে….
—আচ্ছা তোমার যদি ঠান্ডা লাগে……
—আমার ঠান্ডা লাগবে না, কারন আমার অভ্যাস আছে, আর লাগলে আপনি তে আছেনই……
আইসক্রীম শেষ হলোই আমার ঘারে মাথে দিল, দুজনেই সামনের দিকে তাকিয়ে আছি…….
কিছুখন গল্প করার পর আর “রুপা”র শাড়া পাচ্ছি না, তাকিয়ে দেখি ঘুমিয়ে গেছে…….
ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে, অচেনা এক মায়াই জরিয়ে গেলাম, যে মায়ে আমি আজীবন আটকে থাকতে চাই, চাইনা এই মায়া কখনো কাটুক।
এজন্যই হয়ত কবি বলেছিলেন “ঘুমন্ত অবস্থাই মেয়েরা সবচেয়ে সুন্দর”
চাঁদের আলোই ওর মুখটা আবছা দেখা যাচ্ছে, তবুও অনেক মায়াবতি দেখাচ্ছে ওকে, মুখের উপর চুলগুলো সৌন্দর্যটা বাড়িয়ে দিচ্ছে হাজার গুন…..
ঠোট গুলো কত সতেজ…… মন চাচ্ছে আরেকটিবার ওর ঠোটে নিজেকে ডুবিয়ে দেই….
বেশ রাত হয়েছে তাই নিচে যেতে হবে….
“রুপার” ঘুম না ভাঙ্গিয়ে আলতো করে কোলে তুলে নিজাম…….
কোলে নিতেই ঘুমের ঘোরে “রুপা” আমার গলা জড়িয়ে ধরল তাঁর দু হাত দিয়ে…..
ধীরে ধীরে নেমে এলাম সিঁড়ী বেয়ে…..
কোন মতে বন্ধ করে “রুপাকে” বুকের উপর নিয়েই ঘুমিয়ে পরলাম……..
কখন যে ঘুমিয়ে গেদরজাটাছি নিজেও জানি না….

সকালে ঘুম ভাঙতে দেখি বউ শীতের জন্য গুটি শুটি হয়ে আমার বুকের মাঝে ঘুমিয়ে আছে, কিছু চুল মুখের উপর ছড়িয়ে রয়েছে এলোমেলো হয়ে। বাইরে থেকে সকালের সূর্যের আলো এসে রুপার মুখের উপর পরছে।
তাতে ওর মায়বি মুখটা আরো মায়াবি হয়ে উঠছে। এলো মেলো চুল গুলো যেন আলো আধারির খেলাই মেতে উঠেছে……
কতদিন পরে ওকে আবার এরকম করে দেখলাম, সেই বিয়ের পরে কিছুদিন এভাবে দেখার ভাগ্য হয়ছিল।
তাঁর পর থেকে রুপাই আমার আগে উঠে পরে তাই আর দেখা হয়নি এরকম করে।
“রুপার” কপালে ছোট্ট করে ভালবাসা একে দিলাম, আমার স্পর্শ পেয়ে সে জেগে উঠল…..
এক ভাবে কিছুখন আমার দিকে তাকিয়ে রইল তাঁরপর আমাকেও ফিরিয়ে দিল ভালবাসার স্পর্শ……
একটু পরে দুজনেই বাইরে এলাম, শালীর সামনে পড়তেই শালী টিটকারি করে বলল…….
—কী দুলাভাই ঘুম হল রাতে????
—কেন ঘুন হবেনা কেন???? কালরাতে একটু বেশিই ভাল হয়ছে…….
—তাই??? তো যান, যান ফ্রেশ হয়ে আসেন। আর আমাকে কিন্তু ট্রিট দিতে হবে। প্ল্যানটাতে সাহায্য করলাম সে জন্য…..
—তা তো দিবই, কিন্তু তোমার বোনটা যে আমাদের প্ল্যানটা জেনে গেছে……
—কী ভাবে????
—আমার সাথে তোমার ফোনে কথা বলা শুনে ফেলছে সে…….
—ব্যাপার না, রাগতো করে নি….
—হুম…..
ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি টেবিল ভর্তি নানা রকমের পিঠা, খেজুর রসের পায়েশ, খেজুর রসে ভিজানো পিঠা। কত রকমের যে পিঠা।
একটা করে খাইলেও পেটে যাইগা হবে না।
মনে পড়ে গেলো মায়ের হাতে বানান পিঠার কথা। এর পর বাড়ি যাব, মায়ের হাতের পিঠা খেতে হবে।
অনেক দিন যেমন এখানে আসা হয়না তেমনি বাড়িতেও তো যাই না….. এই সুযোগে একটু ঘুরে আসি…… বউকে বলতে হবে কথাটা…..
তারপর কোন রকমে খেয়ে উঠলাম, খাওয়া টা মনে হয় একটু বেশিই হয়ে গেলো, শালিরা বলে দুলাভাই আমার তরফ থেকে এই টা, শালারা বলে আমার তরফ থেকে এইটা। চাচী শ্বাশুরিরা বলে আমার তরফ থেকে এইটা। এরকম করে খেতে খেতেই আমার অবস্থা বে সামাল।
এর পর ঘরে এসে রেষ্ট নিতে লাগলাম, দুপুর গড়িয়ে বিকাল হল। ছোট শালা- শালীরা সব স্কুল কলেজ থেকে ফিরল।
বিকালে সবাইকে নিয়ে বেরহলাম গ্রামটা ঘুরে দেখতে।
গ্রামের দিকে বিয়ের এই এক মজা, চারিদিকে নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতির সমারোহ। নদীর পাড় সহ অনেক জাইগাই ঘুরে সন্ধায় বাড়ি ফিরলাম।
রাতে খেয়ে বউয়ের সাথে বসে গল্প করছি এমন সময় বউকে বললাম
—আচ্ছা অনেক দিন পরে তো এখানে এলাম তাই না।
—হুম বিয়ের পর এই দ্বিতীয়বার।
—বাড়ি থেকে আসার পর তো বাড়িতেও যায়নি না আমারা???
—হুম, ঠিকই তো বলছে।
—তাহলে চল ছুটি টা ভাগ করে নিই, এখানে চার দিন আর ওখানে ৩দিন। মোট সাত দিন কি বল।
—ঠিক বলছেন, অনেক দিন হল মাকে দেখি না, শুধু ফোনে কথা বলেই খালাশ…….
কিছু না বলেই গিয়ে উঠব বাড়িতে…..
এরপর দুজনে ঘুমিয়ে গেলাম। পরের দিন সকালে বাজার হতে শ্বশুর ইয়া বড় শোল মাছ নিয়ে এলেন তাই দিয়ে দুপুরে খাওয়া হল। এই বাড়ি আসার পর থেকে যে পরিমান খাওয়া হচ্ছে তাতে ছোট খাট একটা হাতির বাচ্ছার সমান হতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না। জামার আদর বলে কথা…….
তাঁর উপর পাঁচ ভায়ের আমিই একমাত্র জামায় আপাতত……
শীতের পিঠার কথা আর কি বলব। প্রতি বেলা নতুন নতুন ধরনের পিঠা। বাপের জনমেও এত্ত পিঠা আমি খাই নি এক সাথে, এখানে এসে যা খেলাম…..
কত খাব আমি??? আমি যে পারিনা এরাও ছাড়ে না।
একেই বুঝি বলে জামায় আদর।
বউ বসে বসে এসব দেখে আর হাসে, আমিও মনে মনে বলি হাস মন খুলে হাস। আগে শ্বশুর বাড়ি যাও তখন তো আমি শুকিয়ে মরন আর তোমাকে সবাই মিলে এরকম অবস্থা করবে।
আসলে আমার এখানে আসলে যেমন হয় ঠিক তার বিপরীত ঘটে নিজের বাড়িতে, তখন সবাই “রুপাকে”নিয়ে পরে…..
বন্ধি ঘরে থেকে থেকে মেয়েটা আমার শুকিয়ে যাচ্ছে, দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে…….
ইত্যাদি ইত্যাদি বলবে আর মা চাচি আর বোন গুলো মিলে ওকে খাওয়াবে, এখন আমাকে যেমন করছে এই বাড়ির মানুষ গুলে……
আসলে ভালবাসার টানেই এসব করে…..
এই যে এক অদির্শ বন্ধন……
আমার বাড়িতে গেলে তখন কেও আর আমার খোজ করে না, আমি খেলাম কী না খেলাম, কোথায় আছি কী না, সে সময় আর কারো থাকেনা…….
অন্য দিকে আমি এই বাড়ি আসার পর থেকেই চলছে আদর যত্ন, আর খাওয়ার কথা কি বলব।
তিন দিন কোন রকমে পার করলাম, আর একটা দিন পার করলে বাঁচি,
সকাল থেকে খাওয়া দাওয়া দুপুরে ঘুম বিকালে ঘোরা। এসব ছেড়ে আর ওই ইট পাথরের শহড়ে মানুষ নামের রোবট গুলোর মাঝে যেতে মন বলছে না। কত সুন্দর সবাই মিলে মিশে আছে। আর শহড়ে একজন মরে গেলেও দেখার কেও নেই।
এই বাড়িতে আসার পর সবার ভালবাসা পেয়ে আর ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে না। এবার থেকে স্যার কে রিজাইনের ভয় দেখিয়ে হলেও এরকম ছুটি নিতেই হবে না হলে এসব কিছু মিস করতে হবে।
শ্বশুর বাড়ি চার দিন থেকে চাহিদার তুলনাই অনেক বেশি জামায় আদর খেয়ে বউকে নিয়ে এবার নিজের বাড়ির উদ্দশ্য সবার থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম।
তবে এখন থেকে সুযোগ পেলেই চলে আসব জামায় আদর খেতে, এই আদর মিস করা চলবেই না…..
একী মিস করার জিনিস রে ভাই….
জামায় আদর যে কত্ত মজা খালি আদর, ভালবাসা, আর খাওন

Be the first to reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *