তামিমের একটি মেসেজেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছেন স্ত্রী আয়েশা

image_pdf

তামিমের একটি মেসেজেই – আজ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডে যখন জুমার সময় তখন বাংলাদেশের মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অন্যদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লান্তি কাটাতে হয়তো একটু বেশিই বিছানায় ছিলেন।

কিন্তু ভয়ানক এক ঘটনায় সবার নিদ্রাই যে গেছে উড়ে। ঠিক এমনটাই হয়েছে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের স্ত্রী আয়েশা ইকবাল খানের ক্ষেত্রেও।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সিনিয়র খেলোয়াড় তামিম। তাছাড়া ধর্মপ্রাণও। এ জন্য মাঠে খেলা তার পাশের মসজিদে হামলার খবর শুনে ভীষণ মুষড়ে গিয়েছিলেন আয়েশা। জানেন তামিম নামাজ আদায় করতে যাবেনই। গিয়েছেনও। তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছেন তামিমের মেসেজ পেয়েই।

এদিকে ফেসবুক প্রোফাইলে স্ট্যাটাস দিয়ে তাই সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তামিমের স্ত্রী, ‘ধন্যবাদ সব মেসেজের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ্ তামিম ভালো আছে। দয়া করে সবাই তার জন্য প্রার্থনা করবেন।’

এদিকে আজ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় হচকচিয়েই ঘুম থেকে উঠেছেন আয়েশা। তামিমের মেসেজ পেয়েই ধরে প্রাণ যেন ফিরে পেয়েছেন। ভয়ানক সে পরিস্থিতির কথা নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে জানিয়েছেন আয়েশা, তিনি বলেন, ‘ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের ভয়ানক সংবাদ শুনে ঘুম থেকে উঠেছি। যা খুবই বিধ্বংসী। আমার প্রাণ প্রায় বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য। আল্লাহ তাদের পরিবারকে এ শোক সইবার শক্তি দিন।’

এদিকে আজ শুক্রবার হওয়ায় স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। কিন্তু মসজিদে ঢুকতে গেলে রক্তাক্ত এক মহিলা তাদের নিষেধ করেন। ক্রিকেটারদের আর কিছু বুঝার বাকি ছিলো না। খুব দ্রুতই জায়গা ছাড়েন তামিমরা।

এ সময় সামরিক বাহিনীর পোশাক পড়ে এসে এক ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে আল নূর মসজিদে মুসল্লিদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এ হামলায় ২ জন বাংলাদেশিসহ ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন। বাংলাদেশি দুজন হলেন কৃষিবিদ ড. সামাদ ও হোসনে আরা সরিফ।

পরিচয় পাওয়া গেছে সেই পথচারী নারীর, যার কথায় মসজিদে ঢুকেননি তামিমরা

বড় ধরনের বিপদ থেকে অল্পের জন্য রেহাই পেয়েছে দেশের ক্রিকেট। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ দল শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের আল নূর মসজিদে যাচ্ছিলেন। তখনই ঐ মসজিদে অতর্কিত বন্দুক হামলা চালানো হয়।

টিম হোটেল থেকে বাসে করে মসজিদের পাশে যাওয়ার পর বাস থেকে নেমে মসজিদের দিকে হাঁটছিলেন তামিম ইকবাল, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। তাঁদের সাথে ছিলেন আরেক ক্রিকেটার সৌম্য সরকার, ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন ও কম্পিউটার অ্যান্যালিস্ট শ্রীনিবাস এবং কয়েকজন সাংবাদিক।

মসজিদের কাছে পৌঁছাতেই তামিমদের হামলার ব্যাপারে অবহিত করেন এক পথচারী। মূলত তিনিই তামিমদের বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করতে সহায়তা করেন। কেননা তার এই নির্দেশনা না পেলে মসজিদের কাছাকাছি থাকা তামিমরা মসজিদের ভেতরেই প্রবেশ করে ফেলতেন!

যে পথচারী নারী তামিমদের বন্দুক হামলার কথা উল্লেখপূর্বক মসজিদে ঢুকতে বারণ করেছিলেন তিনি ওইখানের স্থানীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে একাধিক গণমাধ্যমের সংবাদে। সতর্কবার্তা পেয়ে তামিম-মিরাজরা ঘুরে যান এবং টিম বাসে করে টিম হোটেলে ফিরে আসেন।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের সময় অনুযায়ী দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। প্রথমে ৬ মুসল্লির মৃত্যুর কথা বলা হলেও সেই সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৭ ছাড়িয়েছে। হামলার সময় একাধিক অস্ত্রধারী সক্রিয় ছিল। তাদের মধ্যে একজন হামলার সময় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছিল, যে বীভৎস ভিডিও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। একজন অস্ত্রধারীকে আটকও করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালেই স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও সফরকারী বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। ঐ ম্যাচের জন্যই টাইগাররা সেখানে অবস্থান করছিলেন। তবে ভয়ানক এই হামলার পর ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট বাতিল করা হয়েছে, যে সিদ্ধান্ত এসেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ মতের ভিত্তিতে।

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী এই সন্ত্রাসী কে?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ মুসল্লিকে হত্যা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নুর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এই যুবক।-খবর মেইল অনলাইনের।ক্ষুদেব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী। শুক্রবার জমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এরমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *