নিউসেপটিন আর

image_pdf

গল্পের নাম শুনে অবাক লাগছে হয়তো।অবাক হওয়ার ই কথা। তবে এর পিছনের কাহিনী জানার পর বুঝবেন,কেন এর নাম ” Neoceptin R”.
আমি আশরাফ খান।বর্তমানে মাস্টার্স করছি।পাশাপাশি

একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছি। সবার জন্য চাকরিটা আজকাল সোনার হরিণের মতো হয়ে গেছে।
.

ক্যাম্পাস এ আজ অনেক দিন পর বন্ধু-বান্ধবিদের সাথে মাঠের এক কোণে বসে আড্ডা দিচ্ছি। বন্ধুদের মধ্যে আমি,অজয়,সুমন,শুভ,রুদ্র,মাসুম আর বান্ধবিদের মধ্যে আয়েশা,চুমকি,নিরু। নিরুটা আজো বড্ড ছেলেমানুষি করে।ওর একটা পিচ্চি বাবু আছে।হাঁটতে শিখেছে।তাই সাথে করে ক্যাম্পাস এ নিয়ে এসেছে। চুমকির বাবু পৃথিবীতে আসার পথে।আয়েশার বাবু স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবার। আর আমরা ছেলেরা বাবা হওয়া তো দূরের কথা এখনো কারো বর ও হতে পারিনাই।
.
গত তিন বছর আগে আজকের এই জায়গায় বসে হারামীগুলার অপেক্ষায় বসে ছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে কে একটা মাথায় চাঁটি মেরে কিরে হাবলু বলে ধাক্কা দিয়ে পাশে বসলো।
পিছন ফিরে দেখি একটা মেয়ে। মেয়েটাকে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বল্লো-
_Sorry Sorry, আমি ভাবছিলাম আমার Friend. কিছু মনে করবেন না Please!!
-(ইচ্ছে করছিলো মাইয়্যার গালে দুটো চড় মারতে।দেখেই বুঝতে পারছি মেয়েটা আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট।)
.
মেয়েটা একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।আমিও রাগ ভুলে ওর হাসি আর লম্বা চুলের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আচ্ছা মেয়েরা কি জানেনা, ওদের লম্বা চুল গুলো কোন কোন ছেলের দুর্বলতার কারণ হতে পারে?
.
নিরুর ছেলেটা চিপস্ খাচ্ছে।আর নিরুকে আম্মু আম্মু বলে ডাকছে। একটু পর নিরু আমাকে ডেকে বলে-
_ভাইটু আশু, বাবু করবে হিশু।
যা না ভাই,ওর পিছু পিছু!!
_পাজিল মাইয়্যা।
.
সবার সামনে নিরুটা আমাকে এভাবে বলায় প্রেসটিজে লাগলো। একটু পরে বুকে ব্যাথা অনুভুত হলো,আর পেটেও যেন কেমন একটা করলো। সম্ভবত গ্যাস্ট্রিক হয়েছে।তাই ক্যাম্পাস এর কাকুকে পাঠিয়ে ‘নিউসেপটিন আর’ আনিয়ে খেলাম।
.
সেই কেশবতী কন্যার নাম হচ্ছে সাবরিনা। ওর সাথে আস্তে আস্তে আমার সখ্যতা গড়ে উঠে সেদিনের ঘটনার পর। আমি কেশবতীকে সাবু বলে ডাকতাম। আর ও আমাকে ডাকতো আশরাফ ভাই বলে।কারণ ও আমার জুনিয়র।
.
ওর হাতের সাথে প্রথম যেদিন আমার স্পর্শ লাগে,সেদিন আমার মাঝে এক অদভুত অনুভুতি হয়। গা শিরশির করে হাতের লোম কুপ গুলো ফুলে ফুলে উঠে। সামনে আমার পরীক্ষা, এর মধ্যে যদি এভাবে জ্বর আসে তো সর্বনাশ। তাই তাড়াতাড়ি নাপা খেয়ে নিলাম।
.
ধীরে ধীরে অনুভব করলাম,আমি কেশবতীর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছি।এর জন্য কেন ঔষুধ খায় তা আমার জানা ছিলো না। তাই আর ঔষুধ খাওয়া হলো না।
.
সাবু যদি ওর কোন বন্ধু/ক্লাশমিটের সাথে কথা বলতো,আমার তখন পেটের মধ্যে কেমন করে উঠতো।আর বুকে ব্যাথা হতো।রুদ্রকে জানালাম ব্যাপারটা। রুদ্র হেসে হেসে বলে কিনা-
_ শালা,তোর গ্যাস্ট্রিক হইছে। নিউসেপটিন খা,ঠিক হয়ে যাবে।
.
একদিন ক্যাম্পাস এ আসার জন্য বের হয়েছি।কিন্তু ধর্মঘটের কারণে গাড়ি পাচ্ছিলাম তাই হাঁটা ধরলাম।
.
সিনেমার হিরোদের মতো কোথথেকে সাবু এলো রিক্সা নিয়ে। দ’একবার বলার পর খুশিতে মনে লাড্ডু ফুটার কারণে ওর পাশে বসলাম।
.
কোন মেয়ের সাথে এমন পাশাপাশি প্রথম বসলাম। ওর প্রতি এক অদ্ভুদ চোম্বকিয় আকর্ষন অনুভুত হলো। নিজেকে মনে মনে সান্তনা দিলাম,” ওরে আশরাফ,ওমন টা করতে নেই বাপ। নিজেরে কন্ট্রোল কর)
.
কেশবতীর কালো চুল গুলোথেকে এক মাতাল করা গ্রাণ এসে আমার নাকের চারপাশে নিমন্ত্রণ পত্র চেয়ে ভেসে বেড়াতে লাগলো।
.
আচ্ছা,মেয়ে গুলা এমন কেন?ওদের চুলের গ্রাণে এমন মাতাল করে কেন?
আর শ্যাম্পু কোম্পানি গুলো কে ওবলি হারি,তোরা এমন শ্যাম্পু তৈরি করিস কেন?বেচেলর ছেলে গুলার প্রতি কি তোদের একটু ও মায়া হয়না??
.
দেখতে দেখতে আমার মাস্টার্স শেষ হলো। কেশবতীর জন্য পাত্র খুঁজতেছে শুনেছি।খুশিতে আটখানা হয়ে রুদ্রকে বল্লাম,কেশবতীর বাড়িতে আমার বিয়ের প্রাথমিক প্রস্তাব পাঠাতে।
রুদ্র প্রস্তাব পাঠাতে গিয়ে উল্টো যে খবর আনলো,তাতে বুকে ব্যাথায় নিউসেপটিনের খোঁজ নিতে হলো আরো একবার।
.
আমার আপন ফুফাতো ভাইয়ের সাথে কেশবতীর বিয়ে ঠিক হইছে।এই দিন টাও দেখতে হলো!!
.
আমার কপাল এতো টাও মন্দ নয় সেটা সেইদিনই বুঝলাম,যেদিন আমার ফুফাতো ভাইটা তার প্রেমিকা মানে লাইলিকে নিয়ে পালালো। আর আমার রাস্তা পরিষ্কার করে দিলো।
.
আমারও কপাল বটে কৈ মাছের মতো, এতো নিউসেপটিন খাওয়ার অবশেষে কেশবতীকে পেলাম।
.
বিয়ের আসরে কাজী বল্লো
_বাবা আশরাফ বলো কবুল….
(আমার খুশিতে গ্যাস্ট্রিক দেখা দিলো।) তাই কাজীকে বল্লাম-
_হুজুর, আগে আমাকে একটা নিউসেপটিন আর দিন প্লিজ।।
.
আমার কথা শুনে সবাই অট্টোহাসি দিলো। আর রুদ্র ব

Please Rate This Post
[Total: 6 Average: 3.7]

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *