যদি বউ সাজো ঠাসসসস ঠাসসসস

image_pdf

যদি বউ সাজো গো আরো সুন্দর লাগবে গো।
–ঠাসসসস ঠাসসসস
–বেয়াদব ছেলে,,,
রাস্তায় মেয়ে দেখলেই টিজ করতে ইচ্ছে হয় না।(অপরিচিতা)
কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে ফুল ভলিউম দিয়ে গান টা শুনছিলাম আর রাস্তার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হাটছিলাম আর আস্তে আস্তে গান টা গাচ্ছিলাম। বুঝলাম না মেয়েটা থাপ্পড় মারলো কেনো। আর আমি আবার কখন মেয়েটা কে টিজ করলাম।
–ও হ্যালো আমি আবার আপনাকে কখন টিজ করলাম।(আমি)
–কখন টিজ করলেন মানে।

এই মাত্রই তো আমাকে দেখে গান করলেন।(মেয়েটি)
–ও হ্যালো নিজেকে আয়নায় দেখেছেন কখনো???? যেই না মোর চেহেরা নাম রাখছে পেয়ারা!!😜😜😜
আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নাই ত
তাই আপনার মতো পেত্নী কে দেখে গান করব।
আমার মাথা এখনো ঠিক আছে বুঝছেন।
আমি তো গান শুনছিলাম। (আমি)
–এই আপনি আমাকে কি বলেন আমি পেত্নী।
ঘুশি মেরে নাক ফাটিয়ে দিব ভুত একটা।
আর মিথ্যা কথা ভালোই বলতে পারেন।
আমাকে দেখে গান গাচ্ছেন আর এখন বলছেন গান শুনছিলেন মিথ্যুক একটা। (মেয়েটি)
–বিশ্বাস না হলে নিজেই শুনুন।
ইয়ার ফোন টা মেয়েটির দিকে এগিয়ে দিলাম।(আমি)
মেয়েটি ইয়ার ফোন কানে লাগিয়ে চুপ হয়ে গেলো। কোন কথা না বলে চলে যেতে লাগল।পিছন থেকে আমি বললাম–
— এই যে শুনুন থাপ্পড় টা তোলা থাকলো সুজোগ পেলে সুদে আসলে দিয়ে দিবো।(আমি)
মেয়েটি আমার দিকে ভেঙচি কেটে চলে গেলো।
এখন মেয়েটা বর্ণনা দেই।
মেয়েটি মোটেও পেত্নীর মত না!!
খুবই সুন্দর একটা মেয়ে।
দেখেই ক্রাশ খাবার মতো।
হিজাব পরে ছিলো তাই চুলের বর্ণনা দিতে পারছি না।তবে ভাই চোখ দেখে যে কেউ ক্রাশ খাবে শিয়র। আমিও বাদ পরিনি।
ঝগরার মধ্যে ছিলাম তো তাই বলতে পারি নি।তাছাড়া এলাকায় নতুন এসেছি।
বাবার বদলীর কারনে এখনে আসা।
এখন আমার সর্ম্পকে বলি,
আমি আপনাদের ফেসবুক ফ্রেন্ড হৃদয়।
আমি একজন MBBS.
আরে ভাই পড়ার দিক দিয়ে না।
মা বাবার বেকার সন্তান।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এখন চাকরির জন্য ঘুরছি।বেশ কয়েকটা ইন্টার্ভিউ দিয়েছি এখনো কোনো খবর পাইনি।
তাই সারা দিন গান শুনি আর ঘুরে বেড়াই।
আমার বাবা একজন সরকারি কর্মকতা।
আর মা গৃহিণী।
আর একজন আছে বদের হাড্ডি আমার কলিজার টুকরা একমাত্র বোন।
পরিবারে আমি মা কে ভয় পায় বেশি আর বাবা তো আমার বন্ধুর মত।
সব কথা শেয়ার করি।
এই নিয়েই আমাদের সুখের সংসার।
অনেক পরিচয় দিলাম এবার গল্পে আসি।
যেখানে যাচ্ছিলাম সেখানে না গিয়ে বাসায় ফিরে যাই।আজ দিন টায় খারাপ যাচ্ছে।
বোনের সাথে ঝগরা করে বাসা থেকে বের হয়ছি আর এখন রাস্তায় ঝগরা করলাম।
কার মুখ দেখে যে উঠছি আজ।
না আজ ত আমি নিজের মুখ দেখেই ঘুম থেকে উঠছি 😜😜😜
তাহলে এমন যাচ্ছে কেন।
আপনাদের সাথে কথা বলতে বলতে বাসায় আসলাম।
কলিং বেল বাজালাম–
–কে???(মা)
–মা আমি দরজা খুলো।(আমি)
–তোর বাড়িতে জায়গা নাই।
তুই বাহিরেই থাক।(বোন)
–ঐ পুচকি তোরে কিন্তু আমি মাইরা ফেলামু।তারাতারি দরজা খোল।(আমি)
–হা হা হা হা মাইরা ফেলা দেখি কত পারিস।
আছিস তো বাড়ির বাহিরে।(বোন)
–মা দরজা খুলতে বলো ওকে না হলে কিন্তু ভালো হবে না।(আমি)
–খুলতে পারি এক শর্তে?? (বোন)
–কি শর্ত শুনি। (আমি)
–আমাকে ৫০ টাকা দিতে হবে।
তাহলে খুলবো না দিলে খুলবো না।(বোন)
–আচ্ছা দিবো খোল এখন।(আমি)
–উঁহু হবে না।দরজার নিচ দিয়ে টাকা আগে দে তারপর খুলবো। (বোন)
কি আর করার ভাই জানেন ত ফাদে পরলে চামচিকাতেও লাথি মারে।
একে টাকে ভিতরে ঢুকে দিলাম।
ও টাকা নিয়ে দরজা খুলে দিয়ে দৌড়ে ওর রুমে চলে গেলো। আমি আমার রুমে চলে আসলাম।রুমে বসে ফেসবুকে গল্প পরছি।
গল্প পরতে আমার খুব ভালো লাগে আর মাঝে মাঝে ২-১ গল্প লিখি আর কি।
ত গল্প পড়ছিলাম তখনি তাজমিনা এসে বলল,
(তাজমিনা আমার বোনের নাম)
–ভাইয়া আম্মু তোকে ডাকছে।(তাজমিনা)
–আচ্ছা যা আসছি আমি।(আমি)
–না এখনি ডাকছে তারাতারি আয়।(তাজমিনা)
রুম থেকে বাহিরে গেলাম ড্রইং রুমের দিকে।বাড়িতে মনে হয় কে যেনো আসছে।
মাথা নিচু করেই গেলাম।
গিয়ে মাকে বললাম,
–মা আমাকে ডাকছো??(আমি)
–হুম এই তোর আন্টি পাশের বাড়িতে থাকে।(মা)
–আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
কেমন আছেন??(আমি)
–ওয়ালাইকুম আসসালাম।
ভালো আছি বাবা তুমি কেমন আছো? (আন্টি)
–জি আন্টি ভালো আছি।
তখনো মাথা নিচু করে ছিলাম (আমি)
–দেখ দেখে কিছু শেখ।
বড় দের কি ভাবে সন্মান করতে হয় দেখে শেখ।(আন্টি)
দেখি কাকে শিখতে বলছে আন্টি।
মাথা টা তুলেই আমি পুরা ৪২০ ভোল্ট ঝাটকা খাইলাম।
আরে এ তো ঐ পেত্নী টা।
আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো। আমি আবার কি করলাম।
মনে হচ্ছে গিলে খাবে।
–আ__আ__আপনি আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছেন কেনো???
আমার ভয় করছে।(আমি)
–এই নুসরাত হচ্ছে টা কি।
কি করছিস ছেলে টা কে??(আন্টি)
(বাহহ নাম টা ত ভালোই নুসরাত।
চেহারার সাথে মিল আছে বটে।)
–আমি আবার কি করলাম আম্মু।(নুসরাত)
–কি করলি মানে।
এই ভাবে ওর দিকে তাকাচ্ছিস কেন???(আন্টি)
–কই কি ভাবে তাকাচ্ছি।
দুর ভাল লাগে না।
আমি গেলাম।(নুসরাত)
বলে রাগ করে চলে গেলো নুসরাত।
তারপর আন্টির সাথে কিছুক্ষন কথা বলে আমি রুমে চলে আসলাম।
বসে বসে গেমস খেলছিলাম তখনি তাজমিনা আসলো —
–এই ভাইয়া ফোন দে।(তাজমিনা)
–কেনো???(আমি)
–গেমস খেলবো দে।(তাজমিনা)
–দিবো না যা ভাগ।(আমি)
–দে বলছি না হলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে।(তাজমিনা)
–কি খারাপ হবে শুনি।(আমি)
–দারা দেখাচ্ছি।
বলে হাত থেকে ফোন টা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
–তাজমিনা ফোন দে।
না হলে কিন্তু ভালো হবে না।(আমি)
–………
–তাজমিনা ফোনটা বলছি।(আমি)
–দিব না যা ভাগ এখন আমি গেমস খেলবো। আর এখন যদি ডিস্টার্ব দিস তাহলে আরও দেরি করব।(তাজমিনা)
–লক্ষি বোন আমার দে ফোনটা।(আমি)
–বলছি না দিবো না তো দিবো না।(তাজমিনা)
–তুই এত্ত প্যারা দিস কেন বলতো।(আমি)
–কি!!
আমি প্যারা দেই যা তুই আজ ফোনই পাবি না।(তাজমিনা)
–এই না না প্লিজ লক্ষি বোন এমন করিস না।
প্লিজ ফোনটা দে।(আমি)
–না দিব না।
দুর এর জন্য শান্তি তে একটু ফোনটাও চালাতে পারব না।ফোন না থাকলে কি ভালো লাগে।
দুর ছাই বাড়িতেই থাকব না।
বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে আসলাম।
মাথা নিচু করে হাটছিলাম এমন সময় কে যেনো পিছন থেকে ডাকলো —
–এই যে মিস্টার এই দিকে শুনো।(নুসরাত)
–জি আমাকে বলছেন???(আমি)
–এই খানে তো আর কাউ কে দেখছি না।
আপনি কি কাউকে দেখছেন???(নুসরাত)
–না তো।(আমি)
–তাহলে আপনাকেই ডাকছি।
এই দিকে শুনুন।(নুসরাত)
–জি বলুন।(আমি)
–বাড়িতে এত্য ভদ্র হয়ে থাকেন কেনো হুম।আপনার জন্য আমাকে বকা খাইতে হলো।(নুসরাত)
–আমি আবার কি করলাম।(আমি)
–কি করলেন মানে!!
আপনার জন্য আমাকে আম্মু বকা দিছে।(নুসরাত)
–এই শুনেন বেশি কথা বললে আন্টি কে বলে দিবো যে আপনক আমাকে থাপ্পড় মারছিলেন হুম।(আমি)
–আ__আ__আ_মি তো ইচ্ছে করে মারিনি।
ভুলে মেরেছি।(নুসরাত)
— ভুলে মারেন আর যেনেই মারেন মারছেন তো।আমি তো আন্টি কে বলেই দিব।(আমি)
–এখানে আম্মু কে বলার কি আছে??
আমরাই তো ঝামেলা মেটাতে পারি।(নুসরাত)
–না তা বললে তো হবে না।
আমি তো আন্টি কে বলেই দিবো। (আমি)
–হুম জান জান বলেন।
তারপর দেখেন কি হাল করি আপনার।(নুসরাত)
–ভয় দেখচ্ছেন?(আমি)
–ধরে নিন তাই।(নুসরাত)
–কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি না।(আমি)
–হুম জান জান বলেন।
দেরি করছেন কেনো এখনি যায়ে বলেন।(নুসরাত)
–হুম ঠিক আছে আমি গেলাম আপনাদের বাসায়।
বলে ওদের বাসার দিকে গেলাম গিয়ে কলিং বেল বাজালাম…..
পিছনে দেখি নুসরাতও আসছে।
আমার সাথে নুসরাতও দাড়ালো।
একটু পর আন্টি দরজা খুলে দিলেন —
–আসসালামু আলাইকুম আন্টি। (আমি)
–ওয়ালাইকুম আসালাম বাবা তুমি!!
আসো ভিতরে আসো। (আন্টি)
–আর বলিয়েন না আন্টি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম আর নুসরাত আমাকে……
কথা টা বলতে না বলতেই নুসরাত আমার মুখ চেপে ধরল।
–নুসরাত কি করছিস ছার ওকে।(আন্টি)
নুসরাত ছেরে দিলো।
–হ্যা বাবা বলো নুসরাত কি করছে তোমাকে। (আন্টি)
–না আন্টি কিছু করে নাই।
আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম।
আমাকে দেখে জোর করে আপনাদের বাসায় নিয়ে আসলো। (আমি)
–ওওহহহ তাই বলো।
আমি ভাবলাম তোমার সাথে ফাজলামি করছে নাকি??(আন্টি)
–না না আন্টি। ও তো খুব ভালো মেয়ে।(আমি)
এই দিকে নুসরাত আমার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।
–আচ্ছা বাবা তুমি বসো।
আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসি।(আন্টি)
আন্টি নাস্তা আনতে চলে গেলো।
–এই যে মিস্টার মিথ্যা কথা বললেন কেনো হুম।(নুসরাত)
–কই মিথ্যা কথা বললাম।(আমি)
–মিথ্যা কথা বলেন নাই মানে।
আমি কি আপনাকে জোর করে এখনে আনছি।(নুসরাত)
–না। (আমি)
–তাহলে মিথ্যা কথা বললেন কেনো হুম???(নুসরাত)
–বারে কই আমাকে ধন্যবাদ দিবেন তা না আমাকে মিথ্যুক বানিয়ে দিচ্ছেন।(আমি)
–ওরে আসছে ধন্যবাদ নিতে।
আমি আপনাকে বলছি মিথ্যা কথা বলতে।(নুসরাত)
–তাহলে আমার মুখ চেপে ধরছিলেন কেনো হুম।আমি তো সত্যি টা বলতে যাচ্ছিলাম। (আমি)
–হয়ছে থাক আর বলতে হয়ে না।
এখন নাস্তা করে ফুটেন তো।(নুসরাত)
–তাড়িয়ে দিচ্ছেন।(আমি)
–যদি বলি তাই।(নুসরাত)
–আর আমি যদি না যাই।(আমি)
–সে দিনের থাপ্পড়ের কথা ভুলে গেছেন??(নুসরাত)
–কি ভুলে গেছে রে নুসরাত।(আন্টি)
–কি,,,,কি,,,,কিছু না আম্মু।(নুসরাত)
–না কিছু তো একটা বলছিস।(আন্টি)
–না আন্টি তেমন কিছু না।
আসলে আমি আপনাদের বাড়ি আসার রাস্তা টা ভুলে গেছি তাই বলছিলাম আর কি।(আমি)
–ওওওও এই কথা তুমি চিন্তা করোনা নুসরাত তোমাকে দিয়ে আসবে।(আন্টি)
–আচ্ছা আন্টি। (আমি)
–হুম বাবা এখন নাস্তা কর।(আন্টি)
নাস্তা শেষ করে আন্টির সাথে কিছুক্ষন গল্প করার পর আন্টিকে বললাম–
–আচ্ছা আন্টি আজ উঠি।(আমি)
–আচ্ছা বাবা আসিও আবার।
নুসরাত যা তো হৃদয়কে ওদের বাড়িতে দিয়ে আয়।(আন্টি)
–আচ্ছা আম্মু।(নুসরাত)
তারপর দু’জনাই বের হলাম।
কেউ কোন কথা বলছি না।
একটু পর নুসরাত বলল–
–আপনি এত খারাপ কেনো??? (নুসরাত)
–কেনো কি করলাম আমি??(আমি)
–কি করেন নাই তাই বলেন??
আপনি কি বাড়ির রাস্তা চিনেন না???(নুসরাত)
–হুম চিনি তো।(আমি)
–তাহলে আম্মু কে বললেন কেনো রাস্তা ভুলে গেছেন।(নুসরাত)
–হুম না বললে তো আপনার গালে থাপ্পড় পরতো।আর আপনাকে ওখনে থাপ্পড়ের কথা বলতে কে বলছে হুম।
এখন যদি আমি আপনার গালে থাপ্পড় মারি হুম কেমন হবে বলেন তো।(আমি)
–হুম মারেন।
গাল এগিয়ে দিয়ে বলল নুসরাত।
আমি কি করব বুঝতে পারছি না এত সুন্দর গালে থাপ্পড় মারলে গাল টা নষ্ট হয়ে যাবে!!
তাই নুসরাতের গালে চুমু একটা দিয়ে দিলাম সেই এক দৌড়। 🏃🏃🏃
এই দিকে নুসরাত তো রেগে আগুন–
–ঐ হৃদয়ের বাচ্চা।
দাড়া তোকে আজ আমি শেষ করে দিব।(নুসরাত)
–ধরতে পারলে তো। (আমি)
–ঐ দাড়া বলতেছি।(নুসরাত)
–আমাকে কি পাগলে কামরাইছে যে মার খাবার জন্য দারাবো।(আমি)
দৌড়ে বাড়িতে এসে রুম লক করে শুয়ে আছি।একটু পর নুসরাত ও আসলো।
–আন্টি তাজমিনা কই??(নুসরাত)
–ওর ঘরে আছে মা যাও।(মা)
–আচ্ছা আন্টি। (নুসরাত)
নুসরাত তাজমিনার রুমে গেলো।
আর আমি আমার রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে দেখছি।একটু পর আবার বের হয়ে গেলো।
যাক বাবা বাচা গেলো।
যাই তাজমিনার কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে আসি।
–তাজমিনা ফোনটা দে।(আমি)
–হুম নে।(তাজমিনা)
–এই শোন। (আমি)
–কি??(তাজমিনা)
–নুসরাত তোকে কি বলে গেলো রে।(আমি)
–কিছু না তো।(তাজমিনা)
–আচ্ছা ঠিক আছে।(আমি)
তারপর রুমে চলে আসলাম।
অনেকক্ষন থেকে ফেসবুকে ঢুকা হয় নি একটু ঢুকি।ফেসবুকে গল্প পড়ছিলাম।
গল্প টা সুন্দর ছিলো।
পুরু মন টা গল্পের ভিতরে দিয়ে দিছি।
এর মধ্যে কে যেনো ফোন দিলো।
মেজাজ টা সেই গরম হয়ে গেলো বিরক্তি হয়ে ফোনটা ধরলাম–
–হ্যালো কে বলছেন???(আমি)
–ঐ লুচু তোরে খালি আমি সামনে পায়।(মেয়ে)
–ও হ্যালো বলা নাই কয়া নাই আপনি আমাকে লুচু বলছে কেনো হুম??
কি লুচ্চামি করছি আমি??(আমি)
–কি লুচ্চামি করছেন মনে নাই।
একটু আগে কাকে চুমু দিছেন হুম।
যদি আপনাকে সামনে পাইই,
তাহলে আপনার খবর করব।
(এইবার বুঝতে পারলাম মেয়েটা কে।
আপনারাও তো বুঝতে পারছেন যে মেয়েটা নুসরাত)
–আ,,আ,,আপনি… (আমি)
–জি আমি।(নুসরাত)
–আপনি আমার নাম্বার কই পাইলেন।(আমি)
–কই পায়ছি সেটা বড় কথা নয়।
বড় কথা হলো আপনাকে আমি ছারব না।(নুসরাত)
–ইয়ে মানে এই বারের মত ক্ষমা করে দিন।
আর জিবনেও এমন হবে না।(আমি)
–ক্ষমা কিসের ক্ষমা।
আপনাকে আমি ক্ষমা করব না।(নুসরাত)
–প্লিজ এই বারের মত ক্ষমা করেন আপনি যা বলবেন তাই করবো।(আমি)
–সত্যি তো আমি যা বলবো তাই করবেন??(নুসরাত)
–হুম সত্যি।(আমি)
–আমাকে আইসক্রিম খাওয়াতে হবে।(নুসরাত)
–আচ্ছা খাওয়াবো। (আমি)
–ওকে আজ সন্ধ্যার সময় আমি ফোন দিবো। (নুসরাত)
–ওকে।(আমি)
যাক বাবা বাচা গেলো।
আইসক্রিম আর কয়টা খাবে।
যাই গল্প টা শেষ করি।
আবার গল্প পড়ায় মনোযোগ দিলাম।
একটা গল্প শেষ করে আর একটা গল্প পরা শুরু করলাম এই ভাবে ৪-৫ টা গল্প পড়লাম।
সন্ধ্যার দিকে নুসরাত ফোন করল–
–হ্যালো কে বলছেন??(আমি)
–বাহহ এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন।
ও বুঝেছি আইসক্রিম খাওয়ানোর ভয়ে এখন চিনছেন না তাই না।(নুসরাত)
–ও আপনি।(আমি)
–হুম আমি।
এখন তারাতারি আমাদের বাসায় আসেন।(নুসরাত)
–আচ্ছা আসতেছি।(আমি)
রেডি হয়ে নুসরাত দের বাসায় গেলাম দরজার সমনে দাড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম আন্টি দরজা খুলে দিয়ে বললেন-
–ও হৃদয় তুমি আসো বাবা ভিতরে আসো।(আন্টি)
তারপর ভিতরে গিয়ে বসলাম।
–আন্টি নুসরাত কোথায়।(আমি)
–তুমি না কি আইসক্রিম খাওয়াতে চাইছো তাই তোমার সাথে যাবার জন্য রেডি হচ্ছে।(আন্টি)
–(আমি খাওয়াতে চাইছি না জোর করে খাচ্ছে মনে মনে বললাম।)
হুমম আন্টি খাওয়াতে চাইছি।(আমি)
–আচ্ছা বাবা তুমি বসো আমি নুসরাত কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।(আন্টি)
আন্টি চলে গেলো নুসরাত এর রুমে।
আমি বসে আছি একটু পর নুসরাত বের হলো নুসরাত কে দেখে তো আমি পুরাই হা হয়ে গেছি।নিল শাড়ি পরছে দেখতে অসাধারণ লাগছে।আমি তো একসাথে দু’বস্তা ক্রাশ খাইলাম।
এক পলকে নুসরাত এর দিকে তাকিয়ে আছি।ঘোর কাটলো নুসরাত এর ডাকে–
–ও হ্যালো এমন করে কি দেখেন।(নুসরাত)
–পরি..(আমি)
–কি???(নুসরাত)
–কিছু না।।
এহ একদম ভালো লাগছে না,
একবারে পেত্নীর মত লাগছে।(আমি)
–হুম আমি যানি আমাকে কিসের মত লাগছে আপনাকে বলতে হবে না।
এখন চলেন।(নুসরাত)
–হুমম চলেন।(আমি)
তারপর আমি আর নুসরাত বের হয়ে গেলাম।দু’জনায় পাশা পাশি হাটছি।
কিছুক্ষন ঘুরলাম তারপর আইসক্রিমের দোকানে গেলাম।
–মামা একটা আইসক্রিম দেন তো।(আমি)
–এখনে খাবেন না নিয়ে যাবেন।(দোকানদার)
–এখানেই খাবো মামা দেন।(নুসরাত)
–এই নেন (দোকানদার)
কিছুক্ষন পর নুসরাত বলল,
মামা আর একটা দেন।
দোকানদার আবার দিয়ে গেলো।
কিছুক্ষন পর আবার বলল মামা আর একটা দেন। দোকানদার আবার দিয়ে গেলো এই ভাবে ১০ টা আইসক্রিম খেয়ে শেষ করল।
তারপর নুসরাত বলল–
–হুম শেষ খাওয়া আমার।(নুসরাত)
–আচ্ছা আপনি দাড়ান আমি বিলটা দিয়ে আসি।।(আমি)
বিল দিতে যায়ে দোকানদার বলল–
–মামা মামীকে আপনার সাথে বেশ মানিয়েছে।(দোকানদার)
–ধন্যবাদ মামা।(আমি)
বিল দিয়ে আমি আর নুসরাত যাচ্ছিলাম–
–একটা রিক্সা নেন।(নুসরাত)
একটা রিক্সা নিয়ে দু’জন রিক্সায় উঠে বসলাম।রিক্সা চলছে তার গতিতে আমাদের কারো মুখে কথা নাই।
একটু পর নুসরাত বলল–
–দোকানদার কি বলল তখন??(নুসরাত)
–কই কিছু না তো।(আমি)
–আমি কিন্তু সব শুনছি।(নুসরাত)
–(এই রে কেস খেয়ে গেলাম)
কি শুনছেন??(আমি)
–কিছু না বলে মুচকি হাসি দিলো।
আর আমি তার হাসি দেখে আবার এক বস্তা ক্রাশ খেলাম।
কিছুক্ষন পর নুসরাত দের বাসার সামনে আসলাম।
–আচ্ছা আসি তহলে।(নুসরাত)
–আর একটু থাকলে হয় না।(অস্পষ্ট ভাবে)
–কি??(নুসরাত)
–কিছু না আসেন।(আমি)
–আচ্ছা বাই।আর শুনেন আমাকে আপনি করে বলার দরকার নাই তুমি করে বলবেন।(নুসরাত)
–হুম বলবো যদি আপনিও বলেন।(আমি)
–আচ্ছা সাবধানে বাসায় যাও।(নুসরাত)
–তুমি আগে যাও।
তারপর আমি যাচ্ছি। (আমি)
তারপর নুসরাত ওর বাসায় চলে গেলো আর আমি আমার বাসায় চলে আসলাম।
এই ভাবে শুরু হয়েছিলো আমাদের বন্ধুত্বটা। ঝগড়া, মান অভিমান সবই চলত আমাদের মাঝে তবে ঝগড়া টায় বেশি হয়।
এই সবের মধ্যে আমি কখন যে নুসরাত কে ভালোবেসে ফেলেছি নিজেও জানিনা।
ওকে কিছু বলতেও পারছি না।
ভয় করে যদি আর কথা না বলে।
আর না বলেও থাকতে পারছি না।
কয়েকদিন থেকে ভালো মত খেতেও পারছি না।সব সময় অন্যমনষ্ক হয়ে থাকি।
বিষয় টা বাবা ধরতে পারে —
–কি রে হৃদয় কি হয়ছে তোর??(বাবা)
–কিছু না বাবা।(আমি)
–কিছু না হলে তুই এমন থাকিস না।
কি হয়ছে খুলে বল আমাকে দেখি সমাধান করতে পারি কি না।(বাবা)
তারপর বাবা কে সব খুলে বললাম।
বাবা বললেন–
–আমার মনে হয় নুসরাতও তোকে ভালোবেসে কিন্তু বলতে পারছে না।
তুই নুসরাত কে তোর মনের কথা বলে দে।(বাবা)
–না বাবা যদি ও ভালো না বাসে।
পরে যদি আমার সাথে কথা না বলে।
ওর সাথে কথা না বললে আমি মরেই যাব বাবা।(আমি)
–তুই কিছু চিন্তা করিস না দেখি কি করা যায়।(বাবা)
–হুম।।
নুসরাতকে আমার চাই বাবা।
তুমি কিছু একটা কর।(আমি)
–এক কাজ কর তুই আজ রাতেই কিছু দিনের জন্য তোর নানু বাড়ি থেকে ঘুরে আয়।
ফোন বন্ধ করে রাখবি।
ফেসবুক বন্ধ রাখবি।(বাবা)
–বাবা এই সব করে কি হবে।(আমি)
–উহুম এই সব করেই সব হবে।
তুই জাস্ট দেখে যা।
ভুলেও ফোন ফেসবুক অন করবি না।(বাবা)
–আচ্ছা বাবা।(আমি)
বাবার কথা মতো রাতেই নানু বাড়ি চলে আসলাম।ফেসবুক ডিএক্টিভ করে ফোন বন্ধ করে রাখলাম। দু’দিন পার হয়ে গেলো নুসরাত এর সাথে কনো কথা হয়নি।
ওর সাথে কথা বলার জন্য মন টা ছটফট করছে।এই দিকে বাবার কথাও ফেলতে পারছি না।ফোনও অন করতে পারছি না।
নানুর ফোন দিয়ে বাবা কে ফোন দিলাম–
–হ্যালো বাবা।(আমি)
–হুম বল।(বাবা)
–বাবা আমি থাকতে পারছি না।
একবার ফোন দিবো নুসরাত কে।(আমি)
–এই না না ভুলেও ঐ কাজ করবি না।
তোর কাজ হয়ে যাচ্ছে।
আর কিছু দিন পর তুই চলে আসিস।
আর ভুলেও ফোন অন করবি না।(বাবা)
–আচ্ছা বাবা ফোন অন করব না।(আমি)
বাবার সাথে কথা বলে বসে আছি আর নুসরাত এর কথা ভাবছি।
সত্যিই ওর সাথে কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না।
খুব কষ্ট হচ্ছে।
দেখতে দেখতে দশ দিন হয়ে গেলো এই দশ দিন যে আমার কি ভাবে কাটছে আমি কিছুই বলতে পারি না।তারপর নানু বাড়ি থেকে বাড়িতে চলে আসলাম।নুসরাত কে দেখার জন্য মন টা বেকুল হয়ে আছে।যেতে চাইলাম কিন্তু বাবা যেতে দিলো না।একটু পর দেখি নুসরাত নিজেই চলে আসছে–
–এই তাজমিনা তোর ভাই আসছে??(নুসরাত)
–হুমম আসছে ওর রুমে আছে।(তাজমিনা)
নুসরাত দৌড়ে আমার রুমে আসলো।
আমি তখন শুয়ে আছি।
এসেই দরজা লাগিয়ে দিয়ে দিলো–
–ঠাসসসস ঠাসসসসস
ঐ কুত্তা এত দিন কই ছিলি???
তোর ফোন বন্ধ কেন??
ফেসবুক ডিএক্টিভ করছিস কেন??(নুসরাত)
–আরে এত্য প্রশ্ন একবারে করলে উত্তর দিব কি ভাবে।আর কই যাই না যাই তোমার কি।(আমি)
–আমার কি মানে আমার অনেক কিছু।
আমি তোমাকে ভালো………(নুসরাত)
–কি ভালোবাস??(আমি)
–হুম অনেক বাসি।(নুসরাত)
–তাহলে বলোনি কেনো। (আমি)
–আগে বাসতাম নাকি।
তুমি চলে যাবার পর তোমাকে মিস করতে শুরু করলাম।তোমার সাথে কথা বলতে পারছিলাম না খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
মনে হচ্ছিলো কিছু একটা নেই আমার মাঝে।তারপর বুঝতে পারলাম তোমাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি।
এই দশটা দিন তোমার বাড়িতে এসে তোমার খবর শুনে গেছি।তোমাকে ফোন দিছি অনেক বার কিন্তু বার বার ফোন বন্ধ পাইছি।(নুসরাত)
–আমি ও কষ্ট পাইছি।
তোমাকে আমি অনেক আগে থেকেই ভালোবেসে ফেলেছি কিন্তু ভয়ে বলতে পারিনি যদি তুমি কথা বলা বন্ধ করে দাও।
তুমি আমাকে ভালোবাস কি না তা জানার জন্যই এই সব করা।(আমি)
–তুমি খুব খারাপ।
একবার তো বলতে পারতা।(নুসরাত)
–এখন তো বলছি।
নুসরাত এর দু’টি হাত ধরে বললাম বিয়ে করবে আমাকে।(আমি)
–হুম করব।
বলে আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না করছে।
–এই পাগলী কান্না কর কেনো। (আমি)
–আর কখনো ছেরে যাবে না তো।(নুসরাত)
–না রে পাগলী যাবনা কখনো।
বলে আমিও জরিয়ে ধরলাম।
কিছুক্ষন পর নুসরাত আমাকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
তখন দুজনই চুপ।
তাই আমি বললাম,
–আচ্ছা নুসরাত তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো ত???
–ঐ তুমি এই কথা বলো কেনো??
–আচ্ছা বলোনা।
–হুম তোমাকে আমি আমার জিবনের চেয়েও বেশী ভালবাসি।
–তার প্রমাণ কি???
–কি প্রমাণ চাও বলো??
–হুমম,,,
শুনেছি কিস করলে নাকি দুজন দুজনকে মিস করে!!
তাই ইমরান হাশমির মতো তুমি আমার ঠোঠে একটা পাপ্পী দাও।।
–ওমা!!
আমার বুজি লজ্জা করেনা।
— তো কি করলে তোমার লজ্জা যাবে??
–তুমি তোমার চোখ বন্ধ করো।
–আমি চোখ বন্ধ করার সাথে সাথেই নুসরাত আমাকে জড়িয়ে ধরে আমাদের চারটি ঠোঁঠ এক করে দিলো!!
আহ কি মজা😜😜😜
এভাবেই শুরু হলো আমাদের দুজনের ভালবাসা।।।

Please Rate This Post
[Total: 1 Average: 4]

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *