আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস 2020

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, এই দিনে লক্ষ কোটি বাবা মা ভাই বোনদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই সোনার বাংলা ভাষা । এই দিনটির অপেক্ষায় আমরা কোটি মানুষ লক্ষ ফুল হাজার তোড়া নিয়ে জানাই তাদের শুভেচ্ছা । আমরা তাদের কখনো ভুলবো না ।

1

মুক্ত বাংলা যুক্ত করো,
সোনার বাংলা ধন্য করো,
মুক্ত বাংলা সবার আছে,
বাংলা ভাষা প্রানের ভাষা ।


2

বাংলাদেশের সোনার ছেলে, ভাষা শহীদের দল ।
জীবন দিয়ে এনে দেবো বাংলা ভাষার ফল ।
তাদের দানে আজকে আমরা স্বাধীন ভাবে বাংলা বলি ।
সেই সোনাদের ত্যাগের কথা কেমন করে ভুলি ।


3

রফিক, সালাম, বরকত আরো হাজার বীর সন্তান,
করলা ভাষার মান রক্ষা বিলিয়ে আপন প্রান,
যাদের রক্তে রাঙ্গানো একুশ ওরা যে মহান,
ধন্য আমার মাতৃ ভাষা ধন্য তাদের প্রান ।


4

ফেব্রুয়ারী ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার মাস,
বাংলা আমার মাতৃভাষা মেটাই মনে আঁশ ।


5

ভালোবাসার মাঝে কষ্ট আছে, ভালো থাকার মাঝে শান্তি আছে,
দূরে থাকার মাঝে টান আছে, মনে রাখার মাঝে সান্ত্বনা আছে,
তাই মনে রেখো… ২১… ফেব্রুয়ারী ।


6

যে ভাষার জন্য আমরা এতো হুন্নে ,
যে ভাষার জন্য এত রক্তপাত,
যে ভাষা আমাদের করেছে মহান,
সেই ভাষা শহীদ দের কে কি ভুলতে পারি … ?


7

মনে পড়ে ১৯৫২ এর কথা, মনে পড়ে একুশে ফেব্রুয়ারী এর কথা,
যখন হারিয়েছি আমার ভাইদের, দিয়েছি রক্ত ভাষার জন্য ।


8

ফেব্রুয়ারী আমার ভাইয়ের, ফেব্রুয়ারী আমার মায়ের,
একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি ???


9

রক্তে কেনা বাংলা আমার লক্ষ শহীদের দান,
তবুও কেনো বন্ধু তোমার বিদেশের প্রতি টান ?
সকাল বেলা পান্তা খেয়ে বৈশাখের ওই দিনে,
বিকেলে আবার উঠছো মেতে ইংলিশ হিন্দি গানে ।


10

একুশে ফেব্রয়ারি বাংলা এসএমএস ২০২০


11

প্রান টা জুড়িয়ে যায় – যখন শুনি গ্রাম বাংলার গান ।
কি মধুর বাংলা গানের শুর । মন ভরে যায়,
যখন প্রান খুলে কথা বলি মায়ের ভাষায় । গর্ভে বুকটা ভরে যায় ,
তাদের জন্য – যারা জীবন করেছে দান ভাষার জন্


12

Mukto bangla jugto koro ,
Sonar bangla dhonno korn,
Mukto bangla sobar ache .

Jukto kora moder asha, Bangla vasa praner vasa..


13

Bangladesh er sonar chele,
Vasa sohidder dol. Jibon diye ene dilo bangla vasar fol..
Tader dane ajke amra sadhin vabe bangla boli,
Sei sonader tag er kotha kemon kore vuli..

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা


14

Pranta Churiye Jay, Jokhon Shune
Gram Banglar Gan, Ki Modhur Bangla Ganer Sur,
Mon Vore Jay, Jokhon Pran Khule Kotha Boli Mayer Vashay.
Gorbe Bukta Vore Uthe, Tader Jonno Jara Jibon
Diyeche Dan Vashar Tore.


15

Rafiq / Salam / Borkot Aro Hajar
beer sontan.Rakhlo Vashar man,Bilie Hajar Apon Pran.
Jader Rokte Rangano Ekush Ora Je Omlan, Dhonno Amar Matrivasha
Dhonno Oder Pran..Jara Banglar Bir Sontan,Jibon Korese Dan.
Diyese Banglar Pran…

কিছু একুশের কবিতাঃ

কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প রুদ্র

মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ


তাঁর চোখ বাঁধা হলো।
বুটের প্রথম লাথি রক্তাক্ত করলো তার মুখ।
থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়া লালা-রক্তে একাকার হলো,
জিভ নাড়তেই দুটো ভাঙা দাঁত ঝরে পড়লো কংক্রিটে।
মা…..মাগো….. চেঁচিয়ে উঠলো সে।

পাঁচশো পঞ্চান্ন মার্কা আধ-খাওয়া একটা সিগারেট
প্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক।
পোড়া মাংসের উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো ঘরের বাতাসে।
জ্বলন্ত সিগারেটের স্পর্শ
তার দেহে টসটসে আঙুরের মতো ফোস্কা তুলতে লাগলো।

দ্বিতীয় লাথিতে ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে গেলো দেহ,
এবার সে চিৎকার করতে পারলো না।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা

তাকে চিৎ করা হলো।
পেটের ওপর উঠে এলো দু’জোড়া বুট, কালো ও কর্কশ।
কারণ সে তার পাকস্থলির কষ্টের কথা বলেছিলো,
বলেছিলো অনাহার ও ক্ষুধার কথা।

সে তার দেহের বস্ত্রহীনতার কথা বলেছিলো-
বুঝি সে-কারণে
ফর ফর করে টেনে ছিঁড়ে নেয়া হলো তার শার্ট।
প্যান্ট খোলা হলো। সে এখন বিবস্ত্র, বীভৎস।

তার দুটো হাত-
মুষ্টিবদ্ধ যে-হাত মিছিলে পতাকার মতো উড়েছে সক্রোধে,
যে-হাতে সে পোস্টার সেঁটেছে, বিলিয়েছে লিফলেট,
লোহার হাতুড়ি দিয়ে সেই হাত ভাঙা হলো।
সেই জীবন্ত হাত, জীবন্ত মানুষের হাত।

তার দশটি আঙুল-
যে-আঙুলে ছুঁয়েছে সে মার মুখ, ভায়ের শরীর,
প্রেয়সীর চিবুকের তিল।
যে-আঙুলে ছুঁয়েছে সে সাম্যমন্ত্রে দীক্ষিত সাথীর হাত,
স্বপ্নবান হাতিয়ার,
বাটখারা দিয়ে সে-আঙুল পেষা হলো।
সেই জীবন্ত আঙুল, মানুষের জীবন্ত উপমা।
লোহার সাঁড়াশি দিয়ে,
একটি একটি করে উপড়ে নেয়া হলো তার নির্দোষ নখগুলো।
কী চমৎকার লাল রক্তের রঙ।

সে এখন মৃত।
তার শরীর ঘিরে থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়ার মতো
ছড়িয়ে রয়েছে রক্ত, তাজা লাল রক্ত।

তার থ্যাতলানো একখানা হাত
পড়ে আছে এদেশের মানচিত্রের ওপর,
আর সে হাত থেকে ঝরে পড়ছে রক্তের দুর্বিনীত লাভা-


বারবার ফিরে আসে – শামসুর রাহমান

বার বার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে, ঘোরে হাতে হাতে,
মিছিলে পতাকা হয় বারবার রক্তাপ্লুত শার্ট।
বিষম দামাল দিনগুলি ফিরে আসে বারবার,
বারবার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম।

‘আবার আসবো ফিরে’ ব’লে সজীব কিশোর
শার্টের আস্তিন দ্রুত গোটাতে গোটাতে
শ্লোগানের নিভাঁজ উল্লাসে
বারবার মিশে যায় নতুন মিছিলে, ফেরে না যে আর।
একটি মায়ের চোখ থেকে
করুণ প্লাবন মুছে যেতে না যেতেই
আরেক মায়ের চোখ শ্রাবণের অঝোরে আকাশ হ’য়ে যায়।
একটি বধূর
সংসার উজাড়-করা হাহাকার থামতে না থামতেই, হায়,
আরেক বধূর বুক খাঁ-খাঁ গোরস্থান হ’য়ে যায়,
একটি পিতার হাত থেকে কবরের কাঁচা মাটি
ঝ’রে পড়তে না পড়তেই
আরেক পিতার বুক-শূন্য-করা গুলিবিদ্ধ সন্তানের লাশ
নেমে যায় নীরন্ধ্র কবরে।

বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
উনিশ শো উনসত্তরের
তরুণ চীৎকৃত রৌদ্রে যে-ছেলেটা খেলতো রাস্তায়,
বানাতো ধুলোর দুর্গ, খেতো লুটোপুটি নর্দমার ধারে
বিস্ময়ে দেখতো চেয়ে ট্রাক, জীপ,
রাইফেল, টিউনিক, বেয়োনেট, বুট, হেলমেট,
এখন সে টলমল পদভরে শরীক মিছিলে।
লাজনম্র যে মেয়েটি থাকতো আড়ালে সর্বক্ষণ,
যে ছিল অসূর্যস্পশ্যা, এখন সে ঝলসায় মিছিলে মিছিলে।
তাদের পায়ের নিচে করে জ্বলজ্বল নীল নকশা নব্য সভ্যতার।

বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে,
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হতাশাকে লাথি মেরে, ভয়কে বেদম লাঠি পেটা ক’রে
সবখানের শ্লোগানের ফুলকি ছড়াই।
বারবার আমাদের হাত হয় উদ্দাম নিশান,
বারবার ঝড়ক্ষুব্ধ পদ্মা হই আমরা সবাই।

আমাকেই হত্যা করে ওরা, বায়ান্নোর রৌদ্রময় পথে,
আমাকেই হত্যা করে ওরা
উনসত্তরের বিদ্রোহী প্রহরে,
একাত্তরে পুনরায় হত্যা করে ওরা আমাকেই
আমাকেই হত্যা করে ওরা
পথের কিনারে
এভন্যুর মোড়ে
মিছিলে, সভায়-
আমাকেই হত্যা করে, ওরা হত্যা করে বারবার।
তবে কি আমার
বাংলাদেশ শুধু এক সুবিশাল শহীদ মিনার হ’য়ে যাবে ?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা

একুশের কবিতা – আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

আমাদের আরও গল্প পড়ুনঃ

Happy new year sms 2020

আমাদের ভিডিও দেখুনঃ

সম্পর্ক সারাজীবন টিকিয়ে রাখতে চান?

Be the first to reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *