অদ্ভুত স্বামী – পার্ট( ২ ) | Odvut Shami – Part( 2 )

image_pdf

জিহাদ : চুপপপপ
আমি : এটা আমি করতে পারি না হিহি । কথা বলে থাকি নাই বকবক করুম ই তাই
জিহাদ : তুই এমন কেন
আমি : এমনি বদলাবো না
জিহাদ : দুররররর

বলে হাত টা ছেড়ে দিল

আমি হাসতেছি আর ভাবছি এমনেই ওরে মানুষ করবো ।

বিকেলে
জিহাদ আসলো ।
আমি : কি খবর জামাই লেট কেন
জিহাদ : তোকে বলবো কেন
আমি : কজ আমি আপনার বউউউউ
জিহাদ : বউ আমি মানি না
আমি : ওয়াওওও তো আমি কি করবো । আমি তো মানি
জিহাদ : দুরররর
আমি : কিটক্যাট খাবেন
জিহাদ : মানে
আমি : এমা চকলেট খাবেন জিগাইলাম
জিহাদ : আমি কি বাচ্চা
আমি : ওহ ভালো আমি তো ভুলেই গেছি আপনি বুড়া আমিই খাই হিহি

জিহাদ : ( ভাবছে মায়া জড়ানো হাসি )
আমি : যাই গা আমি কিটক্যাট খাই একটু কার্টুন দেখতে দেখতে
জিহাদ : এ্যা
আমি : হ্যাঁ

যাই‌গা সরেন তো
জিহাদ : এই‌ মেয়ে কেমন রে আমি এতো আঘাত করি তাও‌ এতো দুষ্টু ।

হুহ আমার কি ?
জিহাদ দেখলো আনহা সত্যি ই কার্টুন দেখতেছে ৤আর হাসতেছে ।

এটা দেখে ও নিজেও হেসে ফেললো যদিও লুকিয়ে যা আনহা দেখে নি ।

কিছুদিন পর
জিহাদের ব্যবহারে পরিবর্তন লক্ষ্য না হলেও ও আজকাল হাসতে শিখেছে ।

বিকেলে দেয়ালের উপরের সেল্ফ টা গোছাতে টেবিলের উপর উঠলাম । এমন সময় জিহাদ আসলো।

জিহাদ : পিচ্চি মেয়ে আবার কাজ করতে উপরে উঠছে হুহ
আমি : পিচ্চি তো কি হইছে আমি পারবো ।
জিহাদ : ওরে বাবারে নিচে নেমে আয় । আমি করতেছি
আমি : আমিই করবো
জিহাদ : ওই মেয়ে আমার মুখের উপর কথা
আমি : এমা তাই তো আমি উপরে আপনার মুখের উপর
জিহাদ : হুরররর
আমি : এহে বকিয়েন না
জিহাদ : ওই নাম
আমি : আরেহ

আরেহ করতেই পা পিছলে গেলো আর পড়ে গেলাম

আম্মুউউউউউ
এমা আমার হাড্ডি ভাঙ্গে নি কেমনে ।
আমি : এমা আমাকে ধরছেন

জিহাদ তাকায় আছে আনহার দিকে হয়তো ওর মাঝে ডুবে গেছে
আমি : বাহ থেংকু অদ্ভুত স্বামী

জিহাদ আনহার কথা টা শুনে ওকে ছেড়ে দিল

আমি : মা গো ছাড়ার ই ছিলো তো ধরলেন কেন
জিহাদ : আমার কথা না শুনার মজা বুঝ
আমি : আপনাকে ছাড়বো না ওয়েট এন ওয়াচ আনহার স্টাইল
জিহাদ : হুররর

রাতে খাবার টেবিলে
জিহাদ : বাহ খাবার তো ভালোই রেঁধেছো মা
মামনি : আনহা রেঁধেছে
জিহাদ : ওহ

খাচ্ছে সবাই
জিহাদ : ( ঝাল লাগে কেন । নিশ্চই এই মেয়ে কিছু করছে )
আমি : ( হাসতেছি আর দিলাম চোখ মেরে )

আমিই মরিচের গুড়ো দিছি

জিহাদ : রাগী লুকে আনহার দিকে তাকিয়ে সব খেয়ে চলে গেল
আমি : (হায় কপাল কি যে হবে আমার সাথে আজ ভাবছি )

রুমে
আমি ঢুকতেই
আমার হাত ধরে পিছন দিকে নিয়ে গেলো
আমি : আম্মু গো হাত আবার গেছে আমার
জিহাদ : আমার সাথে মজা দেখাচ্ছি ঝাল কাকে বলে
আমি : হিহি সরি
জিহাদ : দাড়া তুইইইই

আমাকে রাখে গেল

আমি ভাবছি , আম্মু গো কি হবে এখন পালাবো নাকি ?

এই ভেবে যেই পালাতে যাবো ওয় চলে আসছে হাতে গ্লাসে কি শরবত । এ্যা ওয় তো শরবত খাওয়ানোর মানুষ না ।
জিহাদ : খা এবার মরিচের শরবত
আমি : ইইইই না সরি আর করবো না আমি মরিচ খেতে পারি না বেশি প্লিজ
জিহাদ : তুই খাবি এখনি
আমি : প্লিজ না

জিহাদ জোড় করে আমাকে ওই শরবত খাওয়ায় দিল ।

খাওয়া শেষে
আমি শেষ ঝালে
আমি কাশতে শুরু করলাম

জিহাদ : বুঝ মজা

আমি আর কিছু বলতে পারলাম না এতো পরিমাণ ঝাল লেগেছে যে
আমি লাল হয়ে গেলাম আর কাঁশতে কাঁশতে চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে আসলো । আমি জ্ঞান হারালাম ।

এদিকে জিহাদ : আনহা কথা বলছে না কেনো আমি কি বেশিই করে ফেললাম

আমার মাথা টা তার কোলে নিয়ে

জিহাদ : আনহা কথা বলো
ওই

আনহা
সরি বেশি করে ফেলছি

চোখ খুলো

জিহাদ আর কিছু না বলে আনহা কে কোলে করে হসপিতালে নিয়ে গেলো ।

ডাক্তার চেক আপ এর পর
ডাক্তার : কি এমন খেয়েছে
জিহাদ : মরিচ
ডাক্তার : মানে কি এতো পরিমাণ
জিহাদ : sorry doctor it’s my mistake
ডাক্তার : মিস্টেক যার ই হোক । উনার তো মনে হয় বেশি মরিচ খাওয়া তে রিয়েকশন করছে
জিহাদ : ডক্তর যে করে হোক ওকে সুস্থ করুন
ডাক্তার : আমি ওষুধ লিখে দিচ্ছি খাওয়াইয়েন আর উনার খেয়াল রাখবেন
জিহাদ : ওকে ডক্তর

বাড়িতে নিয়ে আসলো আমাকে আমি তখনো দূর্বল

মামনি : কি রে আনহার কি হয়েছে এমন অবস্থা হঠাৎ কিভাবে ?
জিহাদ : আসলে আমি রেগে গিয়ে ওকে অনেক পরিমাণ মরিচ খাইয়ে দিছি
মামনি : এই মেয়ে টা কি করছে তোকে এতো কেন রাগ
জিহাদ : না কিন্তু
মামনি : ও অনেক ভালো রে জিহাদ
জিহাদ : আচ্ছা সরি বললাম তো ভালো লাগছে না আমি গেলাম ওকে নিয়ে রুমে ।

রুমে

আমার কপালে হাত রেখে
জিহাদ : জ্বর আসলো নাকি মেয়েটার

হায়রে এই মেয়ে এতো দূর্বল । দুর দোষ তো আমারি । কেন যে এতো রাগ । কি আর করবো দেখি মেয়েটার খেয়াল রাখি ।

এসব ভাবছিল জিহাদ

সারারাত খেয়াল রাখলো

সকালে উঠছিলাম
জিহাদ : সরি
আমি : মাফ করবো না
জিহাদ : কর বলছি
আমি : এক শর্তে
জিহাদ : কি
আমি : আমাকে তুমি বলতে হবে
জিহাদ : ওকে
জিহাদ : শুয়ে থাকো
আমি : আপনি আমাকে তুমি বলছেন সূর্য কোন দিক উঠছে
জিহাদ : (এই‌ অবস্থায় ও‌ মজা করে এই মেয়ে ভাবছে ) ওই চুপ করে থাক ।
আমি : হুরর এখনো অসুস্থ তো আপনার জন্যই হইছি
জিহাদ : তো তোকে ঝাল দিতে কে বলছিলো জানিস না আমার রাগ বেশি
আমি : ফেলে দিছিলেন কেন
জিহাদ : আরও ফেলবো
আমি : কেন ফেলবেন
জিহাদ : তুই আমার বউ তাই
আমি : এমা মানলেন আমি আপনার বউ

জিহাদ আর কিছু না বলে বের হয়ে গেল রুম থেকে

কিছু সময় পর
জিহাদ আসলো
জিহাদ : খেয়ে নে
আমি : খাবো না‌
জিহাদ : খা
আমি : উহু এটা খেতে ভালো না
জিহাদ : খা

বলে খাইয়ে দিল

জিহাদ : সরি
আমি : মাফ করবো না
জিহাদ : কর বলছি
আমি : এক শর্তে
জিহাদ : কি
আমি : আমাকে তুমি বলতে হবে
জিহাদ : ওকে

দুইদিন পর রাত্রে
আমি আর ও বসে ছিলাম যদিও ও নিজের অফিসের কাজ করছিল ।

আমি অনেকটা সুস্থ এই দুইদিনে ।

এমন সময় বৃষ্টি আসলো

আমি : ওয়াও বৃষ্টি আমি গেলাম

জিহাদ কিছু সময় পর লক্ষ করলো
আর বলল : মেয়েটা গেলো কই

এদিক ওদিক দেখে

পুরো বাড়ি খুজে নাই আনহা

যাই তো ছাদে দেখি আছে কি না ?

ছাদে গিয়ে দেখলো আনহা বৃষ্টি ভিজছে
জিহাদ তাকিয়ে দেখছে আর ভাবছে দারুণ লাগছে মেয়ে টাকে । কিছু সময়ের জন্য জিহাদ আনহার মাঝে হারিয়ে গেলো ।
আনহা : ভিজবেন নাকি আসুন

জিহাদের ঘোর ভাঙলো

জিহাদ : চলে আসো
আমি : না আমি ভিজবো
জিহাদ : কেবল জ্বর সারলো
আমি : হুর কিছু হবে না
জিহাদ : আসবা না
আমি : না

জিহাদ আর কিছু না বলে আনহা কে কোলে নিয়ে আসছিল ।
পথে একটু কিল ঘুসি মারলাম ছাড়ানোর চেষ্টায়

চলবে…..

১নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-1
৩নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-3
৪নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-4
5নং ( শেষ ) পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-5

Be the first to reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *