image_pdf

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

আজ রাত্রে বালিশ ফেলে দাও, মাথা রাখো পরস্পরের বাহুতে, শোনো দূরে সমুদ্রের স্বর, আর ঝাউবনে স্বপ্নের মতো নিস্বন, ঘুমিয়ে পোড়ো না, কথা ব’লেও নষ্ট কোরো না এই রাত্রি- শুধু অনুভব করো অস্তিত্ব। কেন না কথাগুলোকে বড়ো নিষ্ঠুরভাবে চটকানো হ’য়ে গেছে, কোনো উক্তি নির্মল নয় আর, […]

কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি – মাহবুব উল আলম চৌধুরী

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায় ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য। যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য আলাওলের ঐতিহ্য কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও কবিতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে পলাশপুরের মকবুল আহমদের […]

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি – মহাদেব সাহা

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি কতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি গীতিকবিতার, কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান, বনে বনে ঘুরে আহরণ করেছি পাখির শিস্ উদ্ভিদের কাছে নিয়েছি শব্দের পাঠ; তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি সংগ্রহ করেছি আমি ভোরের শিশির, তোমাকে লেখার […]

স্মৃতি – মহাদেব সাহা

সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে যেন এক স্রোতস্বিনী নদীর সুবাস, ভালোবাসা সে যেন হৃদয়ে শুধু ঘুরে ঘুরে কথা কয়, চোখের ভিতর হতে সুগভীর চোখের ভিতরে, সে আসে প্রতিদিন জানালায় ভোরের রোদের মতো বাহুলগ্ন আমার প্রেমিকা; সে আসে প্রত্যহ এই আলোকিত উজ্জ্বল শহরে, ইতিহাস আরো […]

চোখ – মল্লিকা সেনগুপ্ত

কিছুতেই বোঝে না সে ভালবাসা শিয়রে এসেছে বিছানার পাশে রাখা ছোট্ট সাদা আলো ভালবাসা সন্তর্পণে সেখানে এসেছে | আঁচল উড়তে দেখে যুবকটি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উড়ে আসা ঘোড়া দেখে— গবেষণাগারে ফেলে এসেছে সে আতস চশমা আকুলতা স্পর্শ করে তাকে তবু সে চেনে না চোখ, যে নয়নে […]

গোলাপ ফোটাবো – হুমায়ুন আজাদ

ওষ্ঠ বাড়িয়ে দাও গোলাপ ফোটাবো, বঙ্কিম গ্রীবা মেলো ঝরনা ছোটাবো। যুগল পাহাড়ে পাবো অমৃতের স্বাদ, জ্ব’লে যাবে দুই ঠোঁটে একজোড়া চাঁদ। সুন্দরীর নৌকো ঢুকাবো বঙ্গোপসাগরে, অতলে ডুববো উত্তাল আশ্বিনের ঝড়ে। শিউলির বোঁটা থেকে চুষে নেবো রস, এখনো আমার প্রিয় আঠারো বয়স। তোমার পুষ্পের কলি মধুমদগন্ধময়, […]

আমাদের মা – হুমায়ুন আজাদ

আমাদের মাকে আমরা বলতাম তুমি, বাবাকে আপনি। আমাদের মা গরিব প্রজার মত দাঁড়াতো বাবার সামনে, কথা বলতে গিয়ে কখনোই কথা শেষ ক’রে উঠতে পারতোনা। আমাদের মাকে বাবার সামনে এমন তুচ্ছ দেখাতো যে মাকে আপনি বলার কথা আমাদের কোনোদিন মনেই হয়নি। আমাদের মা আমাদের থেকে বড় […]

ব্যাধিকে রূপান্তরিত করছি মুক্তোয় – হুমায়ুন আজাদ

একপাশে শূন্যতার খোলা, অন্যপাশে মৃত্যুর ঢাকনা, প’ড়ে আছে কালো জলে নিরর্থক ঝিনুক। অন্ধ ঝিনুকের মধ্যে অনিচ্ছায় ঢুকে গেছি রক্তমাংসময় আপাদমস্তক বন্দী ব্যাধিবীজ। তাৎপর্য নেই কোন দিকে- না জলে না দেয়ালে-তাৎপর্যহীন অভ্যন্তরে ক্রমশ উঠছি বেড়ে শোণিতপ্লাবিত ব্যাধি। কখনো হল্লা ক’রে হাঙ্গরকুমীরসহ ঠেলে আসে হলদে পুঁজ, ছুটে […]

সমালোচক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে। কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে! সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে, বুঝেছিলি? – বল্‌ মা, সত্যি করে। এমন লেখায় তবে বল্‌ দেখি কী হবে।। তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি তেমন কেন লেখেন নাকো উনি। ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্‌খনো […]

সোজাসুজি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হৃদয়-পানে হৃদয় টানে, নয়ন-পানে নয়ন ছোটে- দুটি প্রাণীর কাহিনীটা এইটুকু বৈ নয়কো মোটে। শুক্লসন্ধ্যা চৈত্রমাসে হেনার গন্ধ হাওয়ায় ভাসে, আমার বাঁশি লুটায় ভূমে, তোমার কোলে ফুলের পুঁজি- তোমার আমার এই-যে প্রণয় নিতান্তই এ সোজাসুজি।। বসন্তীরঙ বসনখানি নেশার মতো চক্ষে ধরে, তোমার গাঁথা যূথীর মালা স্তুতির […]

মৃত্যুর পরে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজিকে হয়েছে শান্তি , জীবনের ভুলভ্রান্তি সব গেছে চুকে । রাত্রিদিন ধুক্‌ধুক্‌ তরঙ্গিত দুঃখসুখ থামিয়াছে বুকে । যত কিছু ভালোমন্দ যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব কিছু আর নাই । বলো শান্তি , বলো শান্তি , দেহ-সাথে সব ক্লান্তি হয়ে যাক ছাই । গুঞ্জরি করুক তান ধীরে ধীরে […]

প্রতীক্ষা – রফিক আজাদ

এমন অনেক দিন গেছে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থেকেছি, হেমন্তে পাতা-ঝরার শব্দ শুনবো ব’লে নিঃশব্দে অপেক্ষা করেছি বনভূমিতে- কোনো বন্ধুর জন্যে কিংবা অন্য অনেকের জন্যে হয়তো বা ভবিষ্যতেও অপেক্ষা করবো… এমন অনেক দিনই তো গেছে কারো অপেক্ষায় বাড়ি ব’সে আছি- হয়তো কেউ বলেছিলো, “অপেক্ষা ক’রো […]

এবং লখিন্দর! – বিষ্ণু দে

হৃদয় তোমাকে পেয়েছি, স্রোতস্বিনী ! তুমি থেকে থেকে উত্তাল হয়ে ছোটো, কখনো জোয়ারে আকণ্ঠ বেয়ে ওঠো তোমার সে-রূপ বেহুলার মতো চিনি। তোমার উৎসে স্মৃতি করে যাওয়া আসা মনে-মনে চলি চঞ্চল অভিযানে, সাহচর্যেই চলি, নয় অভিমানে, আমার কথায় তোমারই তো পাওয়া ভাষা। রক্তের স্রোতে জানি তুমি […]

যদি আমি ঝরে যাই একদিন – জীবনানন্দ দাশ

যদি আমি ঝরে যাই একদিন কার্তিকের নীল কুয়াশায়; যখন ঝরিছে ধান বাংলার ক্ষেতে-ক্ষেতে ম্লান চোখ বুজে, যখন চড়াই পাখি কাঁঠালীচাপাঁর নীড়ে ঠোঁট আছে গুজে, যখন হলুদ পাতা মিশিতেছে খয়েরি পাতায়, যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়, শামুক গুগলিগুলো পড়ে আছে শ্যাওলার মলিন […]

কথোপকথন-২ – পুর্ণেন্দু পত্রী

এতো দেরী করলে কেন? সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি। – কি করবো বলুন ম্যাডাম? টিউশনি শেষ করে বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। আমার জন্যে তো আর গেইটের বাইরে মার্সিডিজ দাঁড়িয়ে থাকে না যে ড্রাইভারের কুর্নিশ নিতে নিতে হুট করে ঢুকে পড়বো। তাই ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, […]