image_pdf

নীল পাঞ্জাবীওয়ালা বাবুটা

একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে নক দেয়, প্রথম দুই একদিন মেয়েটি কিছু না বললেও কয়েকদিন যেতেই মেয়েটি ছেলেটির সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে দেবে, অপমান করবে, রাগ দেখাবে অথবা ছেলেটার কোনো কথার আর কোনো উত্তর দেবে না। একটা ভদ্র ছেলে কোনোভাবেই ঐ অপমান সহ্য করতে […]

আমার নীরবতা আমার ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

আমার হাতে কোনও শাবল ছিল না, বাটালিও নয়, তবু, এতদিন তিলে তিলে গড়ে তোলা দুর্গ এক দুপুরের বৃষ্টিতে কীভাবে ধুয়ে গেল! আর ওই বিশাল পাথুরে অবরোধ-ই যে আড়াল করে রেখেছিল হার্মাদের মত এক খ্যাপা নদী, এতকাল . তা আমি জানতেও পারিনি।   সেই অর্গলহীন সজল […]

যতীন্দ্র মোহন বাগচী – Jatindramohan Bagchi

কবি-পরিচিতি: যতীন্দ্র মোহন বাগচীর জন্ম ১৮৭৮ সালের ২৭ নভেম্বর নদীয়া জেলার জামশেদপুরে। অবশ্য তার পৈতৃক নিবাস হুগলী জেলার বলাগড় গ্রামে। কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে ১৯০২ সালে তিনি বি.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। বিচারপতি সারদাচরণ মিত্রের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। নাটোরের মহারাজের প্রাইভেট সেক্রেটারি ও […]

বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ – মহাদেব সাহা

আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে জাগাতে পারিনি ভালোবাসা, ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের শিকড়ের একটু জল- ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি; আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না, বন্ধু ছিলো না, ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না, আমি ভাসমান শ্যাওলা […]

নেই, থাকে না – ময়ুখ চৌধুরী

সূর্যকে ছোঁয়ার জন্যে একা চাঁদ ঘোরে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ অভিমানে অমাবস্যা হয়। চাঁদের আবেগে টান লাগে জলাশয়ে জলের ফেনায় ফণা তোলে নদী; সূর্য নামে তাতে। এমন নদীর তীরে কারো হাত ছিলো এই হাতে, এনে পড়ে প্রায় প্রতিরাতে। এখনও আগের মতো চাঁদ আছে, সূর্য আছে, […]

কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি – মাহবুব উল আলম চৌধুরী

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায় ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য। যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য আলাওলের ঐতিহ্য কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও কবিতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে পলাশপুরের মকবুল আহমদের […]

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি – মহাদেব সাহা

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি কতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি গীতিকবিতার, কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান, বনে বনে ঘুরে আহরণ করেছি পাখির শিস্ উদ্ভিদের কাছে নিয়েছি শব্দের পাঠ; তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি সংগ্রহ করেছি আমি ভোরের শিশির, তোমাকে লেখার […]

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া – মহাদেব সাহা

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া, হৃদয়ের তর্জমা নিষিদ্ধ আর মননের সম্মুখে প্রাচীর বিবেক নিয়ত বন্দী, প্রেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা; এখানে এখন পাখি আর প্রজাপতি ধরে ধরে কারাগারে রাখে- সবাই লাঞ্ছিত করে স্বর্ণচাঁপাকে; সুপেয় নদীর জলে ঢেকে দেয় বিষ, আকাশকে করে উপহাস। আলোর বিরুদ্ধাচারী আঁধারের […]

স্মৃতি – মহাদেব সাহা

সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে যেন এক স্রোতস্বিনী নদীর সুবাস, ভালোবাসা সে যেন হৃদয়ে শুধু ঘুরে ঘুরে কথা কয়, চোখের ভিতর হতে সুগভীর চোখের ভিতরে, সে আসে প্রতিদিন জানালায় ভোরের রোদের মতো বাহুলগ্ন আমার প্রেমিকা; সে আসে প্রত্যহ এই আলোকিত উজ্জ্বল শহরে, ইতিহাস আরো […]

মেয়েদের অ আ ক খ – মল্লিকা সেনগুপ্ত

অনেক তো হল মানবিকতার ভাষ্য পৃথিবীটা তবু একচুলও এগোল না এবার তাহলে মানবিকতাই হোক একুশ শতকে স্বপ্ন দেখার চোখ স্বরবর্ণ অয় অজগর আসছে তেড়ে ছোট্ট মেয়ের স্বপ্ন ঘেরে আমার তোমার সবার চোখে ময়াল সাপের মতন ও কে ? ইঁদুর ছানা ভয়েই মরে ধর্ষিত সে ভীষণ […]

ফুল ফুটুক না ফুটুক – সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। শান-বাঁধানো ফুটপাথে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে। ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে তারপর খুলে – মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে তারপর তুলে – যে দিনগুলো রাস্তা […]

নিমন্ত্রণ – জসীম উদ্দিন

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি, মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়, তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, ছোট গাঁওখানি- ছোট […]

অনন্ত প্রেম – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা, অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা, অসীম অতীতে চাহিতে […]

সমালোচক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে। কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে! সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে, বুঝেছিলি? – বল্‌ মা, সত্যি করে। এমন লেখায় তবে বল্‌ দেখি কী হবে।। তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি তেমন কেন লেখেন নাকো উনি। ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্‌খনো […]

মৃত্যুর পরে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজিকে হয়েছে শান্তি , জীবনের ভুলভ্রান্তি সব গেছে চুকে । রাত্রিদিন ধুক্‌ধুক্‌ তরঙ্গিত দুঃখসুখ থামিয়াছে বুকে । যত কিছু ভালোমন্দ যত কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব কিছু আর নাই । বলো শান্তি , বলো শান্তি , দেহ-সাথে সব ক্লান্তি হয়ে যাক ছাই । গুঞ্জরি করুক তান ধীরে ধীরে […]