নীল পাঞ্জাবীওয়ালা বাবুটা

একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে নক দেয়, প্রথম দুই একদিন মেয়েটি কিছু না বললেও কয়েকদিন যেতেই মেয়েটি ছেলেটির সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে দেবে, অপমান করবে, রাগ দেখাবে অথবা ছেলেটার কোনো কথার আর কোনো উত্তর দেবে না। একটা ভদ্র ছেলে কোনোভাবেই ঐ অপমান সহ্য করতে পারবে না। সে রাগে ঐ মেয়েকে আর জীবনেও নক দেবে না। কিন্তু একটা বাউলা ছেলে বলবে, মেয়েরা প্রথম প্রথম এমনই করে, কয়দিন গেলে ঠিক হয়ে যাবে। সে নিয়মিত নক করেই যাবে। প্রতিদিন নানান রকমের অভিনয় করে কথা বলবে। নানান ভাবে ভালোবাসার কথা বলবে। আর সেই অভিনয়গুলো মেয়েটির কাছে দারুণ লাগবে। মনে মনে বলবে এমন একটি ছেলেই তো চেয়েছিলাম জীবনে। টাকা পয়সা যোগ্যতা দিয়ে কি হবে যদি আমাকে ভালোই না বাসে। এরকম ভালোবাসাই আমি চেয়েছিলাম।

বন্ধু বান্ধবদের কাছে গর্ব করে বলবে জানিস সে অনেক কেয়ারিং, আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। সারাক্ষণ ফোন দেয়। ঐদিন একটা নীল পাঞ্জাবী পড়ে এসেছিল। কত যে ভালো লেগেছিল। আমিও একটি লাল সাড়ি পড়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছিল যেন দুজন আমরা স্বামী স্ত্রী। জানিস আমার জন্য কি সুন্দর একটি গিফট এনেছিল। আমিতো দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ঠিক যেন আমার পছন্দের জিনিসটা আমাকে এনে দিয়েছে। হ্যাঁ ঐ আমার জীবনের সব। অন্য কেউ কি আমার মন কি চায় তা বুঝতে পারে। আরও জানিস ঐদিন শয়তানি করে বলেছিলাম আমার ‘করিমের বিরিয়ানি’ খুব প্রিয়। কি অবাক কান্ড সন্ধ্যা বেলা দেখি হঠাৎ ফোন দিয়েছে। বলে, একটু নিচে আসো। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন, সে বলে আসোনা একটু, আসলেই বুঝতে পারবে। মোবাইলটা টেবিলে রেখে আব্বু-আম্মুর রুমে গেলাম দেখি আব্বু বাসায় আছে কিনা। দেখলাম আম্মু একা আব্বু বাইরে গেছে। আম্মুকে বললাম, আম্মু খুব খুধা লাগছে একটু নিচে যাই কিছু খেয়ে আসি। আম্মু বলল, ঠিক আছে যা, তাড়াতাড়ি আসিস। তোর আব্বু বাসায় এসে তোকে না দেখলে খুব রাগ করবে। ঠিক আছে আম্মু আমি এখনই চলে আসবো। ওয়াশরুমে গিয়ে কোনোরকম ড্রেস পাল্টিয়ে অনিকাকে নিয়ে নিচে গেলাম। দূরে থেকেই দেখি রহিমের হাতে একটি ব্যাগ। আরও সামনে গিয়ে আমিতো রীতিমতো অবাক। দেখি প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘করিমের বিরিয়ানি’। আনন্দে মনটি যেন একবারে ভরে উঠল। হ্যাঁ এমন বরই তো আমি চেয়েছিলাম। এ যেন আমার স্বপ্নের পুরুষ। নীল পাঞ্জাবীওয়ালা। এর মধ্যেই হঠাৎ মনে হচ্ছে আমি মনে হয় পাতায়া সুমুদ্র সৈকতে আছি রহিমের সাথে। রহিম সাগরের জল ছিটিয়ে দিচ্ছে আমার গায়ে আর আমিতো আনন্দে আত্মহারা। যেন স্বর্গে আছি। হঠাৎ রহিম বলল, এ কি তুমি ঐদিকে তাকিয়ে কি ভাবছ? আমি রহিমের দিকে তাকিয়ে চোখটি একটু বাঁকা করে বললাম, দাও দাও প্যাকেট দাও। বাহ! ব্যাগের মধ্যে ২ টি বিরিয়ানি। জিজ্ঞেস করলাম, দুটি কেন? রহিম অনিকার দিকে বাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, কেন? অনিকার জন্য একটা। অনিকার যেন খুশিতে নাই। অনিকাও মনে মনে বলছে আমার জন্য আল্লাহ যেন এমন একটা বর রাখে। কিরে অনিকা কি ভাবছিস মনে মনে। প্যাকেটা নে। আমি এবার রহিমের দিকে তাকিয়ে আবার বললাম ২ টা কেন? রহিম একটু বিরক্তিসুরে বলল’ বললাম তো আনিকার জন্য একটা। আমিও একটু বিরক্তসুরে বললাম, তোমারটা?

রহিমের মুখটি কেমন যেন একটু কালো দেখালো। কিন্তু তার মধ্যেই হেসে দিয়ে বলল, আমি একটু আগেই বাসা থেকে খেয়ে এসেছি। আমি বুঝে নিলাম ওর পকেটে হয়তো টাকা কম ছিল। টাকা নেই পকেটে তারপরেও একটি নয় দুটি বিরিয়ানি এনেছে। খুব মায়া হলো রহিমের জন্য। ভালোবাসায় যেন হৃদয়টি ভরে গেল। মন চেয়েছিল বিরিয়ানির প্যাকেটটি খুলে নিজের হাত দিয়ে একটু খাইয়ে দেই। কিন্তু বাসার নিচে দাঁড়িয়ে খাওয়াতে গেলে কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে। আম্মুতো ওর কথা জানে না তাই ওকে বাসায়ও আসতে বলতে পারলাম না। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। জীবনে মনে হয় কোনোদিন এত অসহায় লাগে নি। যেকোনো মুহুর্তে বাবা চলে আসতে পারে তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও রহিমকে বিদায় দিয়ে বাসায় ঢুকতে হলো। ফেরার সময় বারবার পিছনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম আমার বাবুটিও যেন যেতে চাচ্ছে না। তার চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। আসলে রহিমকে বাবু বলে ডাকার অন্য একটি কারণ আছে তা পরে বলবো। বাসায় ঢুকে বারান্দায় গিয়ে আবার বাইরের দিকে তাকালাম দেখলাম রহিম এমনভাবে হাটছে যেন ১০৫ ডিগ্রী জ্বরে আক্রান্ত কোনো যুবক হেঁটে যাচ্ছে। রহিমের চেহারা এখন আর তেমন বুঝা যাচ্ছে না। হেঁটে হেঁটে যেন রাস্তার সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে। তবে মাঝে মাঝেই আমাদের বাসার দিকে তাকায়। আমি আমার ডান হাতে একটু চুমু দিয়ে হাতটি রহিমের দিকে ছুড়ে দিলাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম হাতের উপর কয়েকফোটা জল। এরমধ্যেই আম্মু রুমে এসে বলল, তোর চোখে জল কেন? আমিতো থতমত খেয়ে গেলাম। সাথে সাথে ওড়না দিয়ে চোখের জল মুছে একটু হাচি দিয়ে বললাম, হাচি আসছিল আম্মু। কিন্তু বুকের মধ্যে কেমন যেন চিনচিন করছিল আমার বুবুটার জন্য।

পাঁচ ছয় মাস পরে প্রিয়তি তার সেই বান্ধবী সাগরীকাকে বলল, দোস্ত একটা কথা। কি কথা বল। তখন প্রিয়তির মুখে যেন মেঘ জমে আছে। সাগরীকা অবাক দৃষ্টিতে প্রিয়তির দিকে তাকিয়ে রইল আর মনে মনে বলল, যেই প্রিয়তির সাথে দেখা হলে রহিমের কথা বলে যেন হাসিতে মেতে উঠত আর আজ কি অসহায় তার চোখ, কি অসহায় তার মুখ।
সাগরীকা প্রিয়তিকে জিজ্ঞেস করলো, কি রে তোর মন খারাপ কেন? তোর চেহারার এমন অবস্থা কেন? সাগরীকাকে ধরে প্রিয়তি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। সাগরীকাও আর নিজের কান্না ধরে রাখতে পারলো না। এরপর সাগরীকা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের ওড়না দিয়ে প্রিয়তির চোখ মুখ মুছে দিয়ে বলল, কি হয়েছে বল। কিছু হয়নিরে সাগরীকা তবে অনেক কিছু হয়ে গেছে, আজ আর তোর সহায়তা ছাড়া আমার মুক্তি নেই। সাগরীকা বলল, তোর সেই বাবুটা কই? এই কথা যেন প্রয়তির বুকের মধ্যে তীরের মতো বিদ্ধ হলো। প্রিয়তির ঠোঁট কাঁপতেছিল। কিছু বলতে চায় কিন্তু আবার ফিরিয়ে নেয়। এরপর অনেক কষ্টে মুখ খুলল প্রিয়তি, তুই বুঝি আজ আমাকে কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছিস। এই কথা কেন বলছিস? এতদিন তো আমাদের একটু সময়ও দিতি না। ক্লাশ শেষ না হতেই বাবুকে নিয়ে বের হয়ে যেতি। আগেতো বাসায় গিয়েও অনেক ফোন দিতি। বলতে পারবি তিন চার মাসের মধ্যে ভুলেও একবার আমাকে ফোন দিয়েছিলি? সাগরীকার কথায় প্রিয়তির বুকটি যেন ঝাজড়া হয়ে রক্ত বের হতে লাগল। প্রিয়তি পেটের মধ্যে তিন চার মাসের ভ্রুনটিও যেন বের হয়ে যেতে চাচ্ছে।

মনে মনে বলছে, বের হয়ে যাক পেটের মধ্যে থেকে তাহলে সকল আপদ মুক্ত হতো। প্রিয়তির চোখে আবার ঝর্নার মতো জল দেখে সাগরীকা নিজের ভুল বুঝতে পেরে বলল, সরি দোস্ত আসলে আমি বুঝতে পারিনি তোর মনে এত কষ্ট। আমাকে ক্ষমা করে দিস। বল কি হয়েছে তোর, আমাকে সব খুলে বল।
প্রিয়তি কাপাকাপা কন্ঠে বলল, আমাকে একটি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবি? আমার খুব লজ্জা করছেরে সাগরীকা তুই আর আমাকে লজ্জা দিছ না। এই বলে প্রিয়তি তার সামান্য উঁচু হওয়া পেটটিতে হাত দিয়ে দেখালো। সাগরীকার আর কিছু বুঝতে বাকি রইল না। শুধু মনে মনে বলল, আহারে প্রিয়তির সেই আদরের বাবুটিও আজ বাবুর বাবা হতে চলছে।
এরপর সাগরীকা প্রিয়তিকে বলল, তোর সেই বাবুটিকেও ডাক একসাথে যাই ডাক্তারের কাছে।
প্রিয়তি একটি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল, তুই আর বাবু ডেকে আমাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিছ না। বাবু এখন আর বাবু নেই। আমাকে একটি বাবু দিয়ে সে চলে গেছে। সে এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। তাকে এখন বাবু ডাকলে অপমান করা হবে। এখন অন্য কেউ তাকে বাবু ডাকে না, বর বলে ডাকে। আর সে এত তাড়াতাড়ি বর না হলেও বাবু বাবু ডাকার মতো নারীর এখন কি তার অভাব আছে? আর তুই? আমি এখন আর আমার বুকের সন্তানকে নষ্ট করবো না। আমি এই বুকের সন্তানকে নিয়েই স্বপ্ন দেখবো। ওকেই আমি বাবু বাবু ডেকে জীবনটা পাড় করে দেবো। এটাই আমার সান্ত্বনা।

সাগরীকা প্রিয়তিকে অনেক বোঝালো তারপর প্রিয়তি রাজী হলো। কয়েকমাস পরে নিউজ পেপারে একটি হেডালাইন হলো, “রাস্তার উপর ব্যাগে মোড়ানো জীবন্ত শিশু”। খবরটি মুহূর্তের মধ্যেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেল। সেই নীল পাঞ্জাবীওয়ালাও খবরটি শেয়ার করে লিখলো, ‘কিয়ামত খুবই সামনে চলে আসছে’। তার এই স্ট্যাটাস দেখে প্রিয়তীর বান্ধবী হাহা রিএ্যাক্ট দিলো। কিন্তু নীল পাঞ্জাবীওয়ালা বাবুটি কিছুই বুঝতে পারলো না। আর প্রিয়তি তো তার সেই প্রিয় বাবুটির ব্লক লিস্টেই আছে। সাগরীকা প্রিয়তিকে নীল পাঞ্জাবীওয়ালার স্ট্যাটাস স্কীনসট দিয়ে দেখালো। প্রিয়তি স্কীনসট দেখে চোখে একফোটাও জলও আনলো না। শুধু তাকিয়ে রইল স্কীনসটের উপরে গোলাকার ছোট্ট একটি ছবির (প্রোফাইল পিকচার) উপর। এই সেই নীল পাঞ্জাবীপড়া ছবি যা দেখে সে বাবুকে বর ভেবে নিয়েছিল বুকের মাঝে। প্রিয়তিও তার প্রোফাইলে লাল শাড়ি পড়া ছবিটি দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।
০৩.২৫ এ এম
১৬-০৬-২০১৯
কাঁটাবন, ঢাকা




আমার জীবনে কেন এলে?

ভালো কাউকে বাসবো এটাই তো ভা্বতাম না।
কিভাবে তাকে এতটা ভালো লাগলো সেটাও ভাবনার বাইরে চলে গিয়েছিলো।
আমার জীবন জুরেই শুধু ছিলে তুমি আর তুমি।
পড়াশুনা বেশ চলছিল।ভদ্রতার জামা গায়ে দিয়ে ঘুরতাম আর বলতাম প্রেম ভালো লাগে না কোনদিন প্রেম করবো না।বন্ধুরা সারাক্ষন বলতো তুই কোনদিন প্রেমটেম করতে পারবি না কারণ তুইতো কোন মেয়ের সাথে কথাই বলতে পারিস না।তারপর থেকে মনে মনে ভালো সুন্দর একটা মেয়েকে খুজতাম।
যার চোখে চোখ রাখলে সব কিছু ভুলে যাব।
যার হাসিতে আমি মরে গিয়েও জীবন ফিরে পাব।
যার চুলের ঝাপটায় প্রজাপতি হার মানাবে। যার কথা শুনলে আমি হব পাগল।
এত কল্পনা জল্পনা কেবল কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পা দিয়েছি।

পকেট ফাকা নেই কোন টাকা।
তাই অসময়েই হয়ে গেলো সপ্নের রাজকন্যার সাথে দেখা।
প্রথম দিনেই করেছিলো দুষ্টুমি আর সে কি হাসি।

সামনে দিয়ে গেলো আর আসতে করে শুনিয়ে দিলো এতো তাকিয়ে থাকা ভালো নয় নজর লেগে যাবে।
ওরে বাবারে মেয়ে না আগুন প্রথম দিনেই বুঝে ফেলেছে তার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।
যখন বুঝেই ফেললো ভাবলাম আর লুকোচুরি করে তাকিয়ে লাভ কি ধরেই তো ফেললো আবার দেখা হলে ভালোবাসার দৃষ্টি দিয়ে তাকাবো। সেদিন কি আর ঘুমাতে পারলাম নাকি সারা রাত আয়নার সামনে থাকলাম।কেমন করে তার দিকে তাকালে আমাকে ভালো লাগবে।
পরের দিনেই বাজেট বেশি প্রেম হোক না হোক বন্ধুরা মিষ্টি খাওয়ার বেলায় আগেই থাকে।
কারন নিউজ যা দেবার নিশ্বার্থভাবে কলেজের বন্ধুরাই দেয়।
পরদিন সেন্ট বেগে করে নিয়ে মেয়েটাকে দেখে সেন্ট মেখে সামনে গিয়ে বললাম শোন তোমার নাম কি। প্রতিউত্তরে বললো পালকি।
আমি বললাম এজুগে আবার পালকি কারও নাম হয় নাকি।
বলার সাথে চোক রাঙালো প্রথম দিনেই।আমি ঢোকোর খেয়ে বললাম না মানে আমি সেটা বলতে চাইনি।
এজুগে এত সুন্দর নাম এখনও চলছে এটাই তো আনন্দের ব্যাপার তাই না।
এমন নামের কদর কজোন বুঝবে। ওরা ছিলো দুজোন তাই অনেক হাসছিলো।
আর আমি একা তাই একবার হাসি আর একবার কাশি।
অমনি আমি হয়ে গেলাম বোকা। মানে ওটা ওর আসল নাম না।
পরেরদিন ডাকলাম ্এই পালকি! বোকা একটা আমার নাম বিউটি।
হে সত্তিই তো তুমি বিউটি। আমাদের কলেজে একটাই বিউটি মেয়ে এসেছে সেটা তুমি।
এটাও ভুয়া নাম বন্ধুদের কাছে যানতে পারলাম তিনার নাম নাকি ছামান্তা খান।আমি বললাম ওর প্রেমে আমি হয়েছি খান খান।ওমনি আরেক বন্ধু তার বান্ধবি এর কাছে থেকে ছামান্তার নম্বর এনেছে আমাকে দিয়ে বললো তোর পকেট হবে এবার পুবে ছারখার।অনেক ভয়ে করলাম ফোন কিছু বললো না কারন সেও আমাকে পছন্দ করে ফেলেছে।
শুরু হলো আমার জীবনে প্রেমের অধ্যায়।
কথনও শ্বাসন, কখনও বারোন, কখনো রোমান্স, কখনও অভিমান আবার কথনও লুকোচুরি।আমার জীবনে এত সুখ প্রেমে ডুব না দিলে বুঝতাম না।
এক বছর রোমান্সে কেটে গেলো হঠাৎ একদিন শুনলাম তিন বছর আগেই একটা প্রেম করেছিলো তাও আবার দীর্ঘ দুই বছর।
ওদের ব্রেকাপ হওয়ার পর আবার এডযাষ্ট হয়েছে ওরা।
ওকে ওয়েটিং পেলে আমাকে হয়তো দুলাভাই, বোন, ভাইয়া ইত্যাদি ওযুহাত।
আগের মত মন খুলে কথাও বলে না।
ঘটনা সত্যতা প্রমান করে ফেললাম কিন্তু প্রেম করছে অন্য ছেলের সাথে।
সে অনেক ধনি, প্রতাব শালী, ব্যাবসায়ী।
তার সাথে ছামান্তার বিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্তু আমাকে না করতে পারেনি আবার বলতেও পারেনি সব খুলে আমি কষ্ট পাব বলে।
আমি সরাসরি বড়লোক ছেলেটির কাছে গিয়ে বললাম কি্ন্তু সে তাতেও রাজি।
অবশেষে জানতে পারলাম ছামান্তা সব বলেছে ্ এমনকি ছেলেটির সাছে ছামান্তার প্রেম হয়ে গেছে।
আমি রাগারাগি করলাম কিন্তু হিটে বিপরিত হল সে বললো সবিইতো জানলেন এখন আর আমাকে ডিস্ট্রাব করবেন না।
আমি বললাম ঠিক আছে আমি অার তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো না।
তবে তোমার জন্য আমার দোয়ার সারা জীবন খোলা।
ও বললো তার আর প্রয়োজন নেই। তার পর আমি মাঝে মাঝেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু ও ফোন কেটে দেয় কোন আননোন নম্বর ধরে না যানতো আমিই ফোন করবো।
কেটে গেছে একটা বছর একবার দেখেছিলাম শুধু বলেছিলাম কেমন আছো।
প্রতিউত্তরে ভালো আপনি আমি আর কোন কথা বলতে পারিনি কষ্টে দুরে গিয়ে কাদতে হয়েছে কেনো যানেন।
দুজনে একই রিকসায়। ভাবলাম কেন এসেছিলে আমার জীবনে।
আরও ছয় মাস কেটে গেছে শুনলাম ওদের বিয়ে হতেও পারে নাও হতে পারে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। আপনারাই বলুন আমি মেয়েদের কি স্বার্থপর বলবো না কি সব মেয়েই এক রকম না।
পারলে কমেন্ট করে আমাকে সান্তনা দিবেন।
আর যদি আপনার কোন গল্প দিতে চান তাহলে প্রথম দেয়া পোষ্টি অপেন করে একদম নিচে গিয়ে দেখুন কিভাবে দিবেন।




স্বার্থপর সেই মেয়েটা

প্রায় একটি বছর কেটে গেলো হঠাৎ সেদিন মেয়েটি আমাকে ফোন করে বলছে কেমন আছেন? ভেবেছিলাম সুদ্রাবে ভুলগুলো কিন্তু এ যে সে জাতি নয়, ভাংবে তবু মচকাবে না। আমি বুঝতে পারছিলাম না সত্যিই কি মারিয়া আমাকে ফোন করেছে। আমি বললাম ভালো আছি সোনা তুমি কেমন আছো। ও বললো ভালো আছি তা প্রেম ট্রেম কেমন চলছে জানতে পারি।

 

ভাবলাম আমার স্বার্থপর মেয়েটা মনে হয় আমার প্রেমের মর্মটা অবশেষে বুঝলো তাই আমার খোজ খবর নিচ্ছে। বললাম সোনারে আমাকে তো ভালোবাসলে না তবে হঠাৎ এই প্রশ্ন করছো যে। ওর লাইফ ইসটাইল কেমন পরিবর্তন করেছে তা জানিনা তবে আমার কথার মাঝে অন্য রকম রসগোল্লা ঢালতে সিখেছি বিরহের অবসরে। ও বললো না এমনিতেই অনেক দিন কোনো খোজ খবর তো নিলেন না তাই আমিই খোজ খবর নিলাম।আসোলে ও আমাকে কোনোদিন পাত্তাই দেয় নি তাই পুরোনো কথা না উঠিয়ে আমি বললাম সূর্যকে কখনই আরাল করে কেও রাস্তায় চলতে পারে না। তেমনি আমিও তোমাকে আড়াল করে চলতে পারি নাই। যে প্রেম জীবনের সূচনায় সে প্রেম যে ভোলাটা বড়ই দায়। আমাকে বলবে কি যে কেমন করে ভুলবো তোমায় সোনা পাখি। স্বার্থপর মেয়েটা এখন হারে হারে বুঝতে পারছে রাফি আর আগের রাফি নেই। রাফি এখন আর কথার কাঙ্গাল নেই। ও বললো আপনি তো অনেক সুন্দর করে কথা বলা সিখেছেন। আমি বললাম তাই নাকি রাজাকে তার মাথার মুকুট পরলে তাকে সুন্দর দেখায় তাহলে আমাকে কথার মুকুট পরিয়ে দাও না প্রিয়। ও এক ‍দিকে সোনা পাখি, প্রিয়, সোনারে কথাগুলো সুনে বিরক্ত অনুভুত হলেও এত সুন্দর করে ওর কোন বয়ফ্রেন্ড যে ওর সাথে কোনদিন কথা বলে নি সেটা নিশ্চিত ছিলাম। তাই ও কিছু না বলে শুনছিলো আর কথা বলছিলো। আমি বললাম তোমাকে নিয়ে আমার একটা আশা ছিলো বলবো। বলেন। এক বছর পর তোমার সাথে কথা বলছি তাই এটা রাখতে হবে। চেষ্টা করবো। আমি তোমাকে বাবু বলে ডাকবো। কেনো আমি কি আপনার জিএফ নাকি। প্লিজ আগের রুপটা দেখিও না রাজকুমারী। হেসে দিয়ে বললো এটা কিন্তু একটু বাড়াবাড়ী হচ্ছে। আমি বললাম আমার দুষ্টু বাবুটা দুষ্টুমি ছাড়া কিচ্ছু বুঝেনা।

আমিঃ বাবু কখনো সাতটি রং একসাথে দেখেছো?
মারিয়াঃ রং পেনছিল দিয়ে কত রং একেছি।
আ- মনের রং দেখেছো
মা- কিভাবে সেটা দেখা যায় নাকি
আ- যে নিস্বার্থ ভাবে ভালোবাসতে যানে সে একসাথে সাতটি রং দেখতে পায়।
মা- আপনি দেখেছেন তাহলে মনেহয় তাইনা?
আ- ময়ুর হয়ে কখনো নেচে দেখেছো?
মা- আমাকে আজগুবি কথা বলবেন নাতো বিরক্ত লাগছে।
আ- তাহলে সিগারেটের ধোয়ার কাওকে পুরতে দেখেছো?
মা- বললাম না ভালোমত কথা বললে বলেন নাহলে ফোন কেটে দিব। আপনি হয়ত যানেন না যে আমি আমার ছোট বোনকে এটা বোঝানোর জন্য ফোন করেছি।
আ- মানে কি?
মা- মানে ওর সন্দেহ ছিলো যে আমি আপনার সাথে প্রেম করি সেটা ভুল ধারনা ভাঙ্গালাম।
আ- ভালো তুমি সত্যি অনেক মজার মেয়ে। আমি তোমাকে সুধোসুধি ভুল বুঝতাম। তুমি সত্যি অনেক ভালো মেয়ে। আজকে আমি অনেক খুশি তোমার উপর সোনা।
মা- কি বলেন পাগল হয়ে গেলেন নাকি?
আ- আমার রুপ আমি বদলাই না।
মা- তাহলে আমি এমন কি করলাম যে আমাকে এত ভালো জানা হচ্ছে।
আ- ফুল গাছেই সুন্দর মানায়।
মা- আমি কিছু বুঝলাম না এত দিন না করলে বলতেন কষ্ট পেয়েছি আর আজ উলটা খুুশি হলেন।
আ- এর জন্য খুশি লাগছে যার সাথে প্রেম করেছো এতদিন সে একটা গাধা আর তুমি বড় গাধা। কারন তুমি প্রেমের মর্ম বুঝইনা। যে অন্যের প্রেমের মূল্য দিতে যানে না সে তো প্রেম বুঝেই না। তোমাকে এর জন্যই বাবু বলে ডেকেছি। ওরে আমার সোনা বাবুটা যে কবে বড় হবে।
স্বার্থপর মেয়েটা কিছুতেই আমাকে ঠকাতে পারছে না মানে আমাকে রাগাতে পারছে না। তাই সে রেগে মেগে বললো আমার সাথে প্রেম করবেন।
আ- তোমার সাথে প্রেম করবো মরতে।
অামি বুঝতে পারলাম আমাকে ঠকাতে চায়। তাই মেয়েদের নিয়ে খেলা করা জলন্ত আগুনের উপর দাড়াইয়া থাকা সমান।

অবশেষে মারিয়া ওর স্বার্থের বিনিময়ে উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য প্রেমের অভিনয় করতে গিয়ে আমার মিষ্টি কথার ফাকায় পরে গিয়েছে। একবার ভালোবাসার চাপে সব হারাতে হবে। এভাবে মারিয়া আমার জীবনে জীদ করে আসে আর এই রাগকে দমন করার কোউশল শিখে ওকে সত্যিকারের ভালোবাসতে শিখাতে পেরেছি। তাই এত কিছুর পর আমার প্রেম হওয়ার পর মারিয়াকে ভালোবেশে বলি স্বার্থপর মেয়ে। জানিনা আবার জানি কখন কোন ছলনার স্বিকার হতে হয়। অামি ওকে ওনেক ভালোবাসি তাই ওকে ওর মত থাকতে দিয়েছিলাম বলে অবসেষে আমার কাছেই ওকে ফিরে পেলাম।




রোমান্টিক বাংলা SMS

রোমান্টিক বাংলা SMS

কজন প্রেমিকের কাছে চন্দ্র হলো তার প্রেমিকার মুখ।আর জোছনা হলো প্রেমিকার দীর্ঘশ্বাস।


আমার ভালোবাসা সেদিন সার্থক হবে…যে দিন ভালোবাসার মানুষটি ১ফোটা চোখের জল ফেলে বলবে…আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।


প্রিয়জন যদি থাকে পাশে, মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ আমারি কাছে। ভালোবাসা বুঝি তখনি সত্যি হয় , যখন ভালোবাসার মানুষটি মনের মত হয়।
বুক ভরা ভালোবাসা আমি রেখেছি তোমার জন্য____তুমি যে আমার আমি যে তোমার____তুমি শুধু আমার জন্যে


মানুষের মাঝে আছে মন, মনের মাঝে প্রেম, প্রেমের মাঝে জীবন, জীবনের মাঝে আশা, আশার মাঝে ভালবাসা, আর সেই ভালোবাসার মাঝে শুধুই তুমি?


মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ভালবাসা,যার মধ্যে ভালোবাসা নেইতার কোনো দুর্বলতাও নেই, ভালোবাসার জন্য মানুষ সবকিছু ছেড়ে দেয়। আরসেই ভালোবাসা তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায় !!!


মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ভালবাসা,যার মধ্যে ভালোবাসা নেইতার কোনো দুর্বলতাও নেই, ভালোবাসার জন্য মানুষ সবকিছু ছেড়ে দেয়। আরসেই ভালোবাসা তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায় !!!

লাগবে যখন খুব একা,চাঁদ হয়ে দিবো দেখা ..মনটা যখন থাকবে খারাপ,স্বপ্নে গিয়ে করবো আলাপ ..কষ্ট যখন মন আকাশে,তাঁরা হয়ে জ্বলবো পাশে


যদি দেখা না হয় ভেবোনা দূরে আছি। যদি কথা না হয় ভেবোনা ভূলে গেছি। যদি না হাসি ভেবোনা অভিমান করেছি। যদি ফোন না করি ভেবোনা হারিয়ে গেছি। মনে রেখো তোমায় আমি ভালোবাসি।


ভালবাসার তালে তালে চলব দুজন এক সাথে। কাছে এসে পাসে বসে মন রাখ আমার মনে। শপ্ন দেখ্ব দুজন মিলে, ঘর কর ছি এক সাথে। আর কি লাগে প্রিথিবিতে??? বউ আনব ভালবেসে।


১০

তোর জন্য আনতে পারি আকাশ থেকে তারা, তুই বললে বাচতে পারি অক্সিজেন ছাড়া। পৃথিবী থেকে লুটাতে পারি বন্ধু তোরি পায়, এবার তুই বল, এভাবে আর কত মিথ্যা বলা যায়!!!

১১

তোমার মুখের হাসি টুকু লাগে আমার ভালো,তুমি আমার ভালবাসা বেঁচে থাকার আলো।রাজার যেমন রাজ্য আছে আমার আছ তুমি,তুমি ছাড়া আমার জীবন শূধু মরুভুমি।


১২

ফোন করতে পারিনা নাম্বার নাই বলে, খবর নিতে পারিনা সময় নাই বলে, দাওয়াত দিতে পারিনা বেশি খাও বলে, শুধু sms করি ভালবাসি বলে!


১৩

মিষ্টি চাঁদের মিষ্টি আলো,বাসি তোমায় অনেক ভালো.মিটি মিটি তারার মেলা,দেখবো তোমায় সারাবেলা. নিশিরাতে শান্ত ভুবন, চাইবো তোমায় সারাজীবন


১৪

নদীর পারে বসে আমি লিখছি কবিতা~ ~দুই নয়নে ভাসে শুধু তোমার ছবিটা~ ~মেঘলা আকাশ একলা আমি” একলা আমার মন~ ~ভাবছি কবে হবে তুমি আমার আপন জন~


১৫

বুকের কষ্ট চাপা দিয়ে” ঝরছে চোখের জল~ ~মনের মানুষ ভুলে গেছে” কাকে দিবো Call~ ~মেঘ হীন আকাশে” চাদের নেই আলো~ ~এই পৃথিবীতে আমি ছারা” সবাই আছে অনেক ভালো~

১৬

নদীর পারে বসে আমি লিখছি কবিতা~ ~দুই নয়নে ভাসে শুধু তোমার ছবিটা~ ~মেঘলা আকাশ একলা আমি” একলা আমার মন~ ~ভাবছি কবে হবে তুমি আমার আপন জন~


১৭

বুকের কষ্ট চাপা দিয়ে” ঝরছে চোখের জল~ ~মনের মানুষ ভুলে গেছে” কাকে দিবো Call~ ~মেঘ হীন আকাশে” চাদের নেই আলো~ ~এই পৃথিবীতে আমি ছারা” সবাই আছে অনেক ভালো~


১৮

হৃদয় জুড়ে আছ তুমি,সারা জীবন থেক.আমায় শুধু আপন করে,বুকের মাঝে রেখ.তোমায় ছেড়ে যাবনাতো,আমি খুব দূরে.ঝড় তোপান যতই আসুক,আমার জীবন জুড়ে


১৯

ফুলে ফুলে সাজিয়ে রেখেছি এই মন, তুমি আসলে দুজনে সাজাবো জীবন, চোখ ভরা স্বপ্ন বুক ভরা আশা, তুমি বন্ধু আসলে দেবো আমার সব ভালবাসা…


২০

এক পৃথিবীতে চেয়েছি তোমাকে, এক সাগর ভালবাসা রয়েছে এ বুকে , যদি কাছে আসতে দাও, যদি ভালবাসতে দাও, এক জনম নয় লক্ষ জনম ভালবাসব তোমাকে

২১

যদি চাদঁ হতাম সারা রাত পাহারা দিতাম!যদি জল হতাম-সারা দেহ ভিজিয়ে দিতাম।যদি বাতাস হতাম-তোমার কানে চুপি চুপি বলতাম-আমি তোমাকে ভালবাসি.


২২

টাপুর টুপুর বৃষ্টি লাগছে দারুন মিষ্টি, কী অপরুপ সৃষ্টি দেয় জুড়িয়ে দৃষ্টি, বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় তাজা ফুলের গন্ধয়ে, মনটা নাচে ছন্দে উতলা আনন্দে, জানু তোমার জন্য


২৩

আমার জীবনে কেউ নেই তুমি ছাড়া, আমার জীবনে কোনো স্বপ্ন নেই তুমি ছাড়া , আমার দুচোখ কিছু খোজেনা তোমায় ছাড়া, আমি কিছু ভাবতে পারিনা তোমায় ছাড়া , আমি কিছু লিখতে পারিনা তোমার নাম ছাড়া, আমি কিছু বুঝতে চাইনা তোমায় ছাড়া !


২৪

যদি বৃষ্টি হতাম…… তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে দিতাম। চোখে জমা বিষাদ টুকু এক নিমিষে ধুয়ে দিতাম। মেঘলা বরণ অঙ্গ জুড়ে তুমি আমায় জড়িয়ে নিতে,কষ্ট আর পারতো না তোমায় অকারণে কষ্ট দিতে..!


২৫

ভালবেসে এই মন, তোকে চায় সারাক্ষন। আছিস তুই মনের মাঝে, পাশে থাকিস সকাল সাঝেঁ। কি করে তোকে ভুলবে এই মন, তুই যে আমার জীবন।। তোকে অনেক ভালবাসি


২৬

আকাশ বলে তুমি নীল। বাতাস বলে তুমি বিল। নদী বলে তুমি সিমা হিন। চাঁদ বলে তুমি সুন্দর। ঘাস বলে তুমি সবুজ। ফুল বলে তুমি অবুজ। কিন্তু আমি বলি, “তুমি কেমন আছ?”


২৭

চোখে আছে কাজল কানে আছে দুল,ঠোট যেন রক্তে রাঙা ফুল,চোখ একটু ছোট মুখে মিষ্টি হাসি,এমন একজন মেয়েকে সত্যি আমি ভালোবাসি।


২৮

যদি চাদঁ হতাম সারা রাত পাহারা দিতাম!যদি জল হতাম-সারা দেহ ভিজিয়ে দিতাম।যদি বাতাস হতাম-তোমার কানে চুপি চুপি বলতাম-আমি তোমাকে ভালবাসি.


২৯

পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে ধনী। যার একটি সুন্দর মন আছে,, যার মনে নাই কোন অহংকার,, নাই কোন হিংসা। আছে শুধু অন্যের জন্য ভালোবাসা.


৩০

তোমায় সুয্য ভাবিনা যা অস্ত যাবে, তোমায় ফুল ভাবিনা যা ঝরে যাবে, তোমায় নদী ভাবিনা যা বয়ে যাবে, তোমায় সময় ভাবিনা যা চলে যাবে, তোমায় আমি আমার জান ভাবি যা চিরদিন রয়ে যাবে।এক বিন্দু ভালোবাসা দাও আমি সিন্দু হৃদয় দিব।


৩১

যদি চাদঁ হতাম সারা রাত পাহারা দিতাম!যদি জল হতাম-সারা দেহ ভিজিয়ে দিতাম।যদি বাতাস হতাম-তোমার কানে চুপি চুপি বলতাম-আমি তোমাকে ভালবাসি.


৩২

পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে ধনী। যার একটি সুন্দর মন আছে,, যার মনে নাই কোন অহংকার,, নাই কোন হিংসা। আছে শুধু অন্যের জন্য ভালোবাসা.

৩৩

তোমায় সুয্য ভাবিনা যা অস্ত যাবে, তোমায় ফুল ভাবিনা যা ঝরে যাবে, তোমায় নদী ভাবিনা যা বয়ে যাবে, তোমায় সময় ভাবিনা যা চলে যাবে, তোমায় আমি আমার জান ভাবি যা চিরদিন রয়ে যাবে।এক বিন্দু ভালোবাসা দাও আমি সিন্দু হৃদয় দিব।


৩৪

কী নিষ্ঠুর তুমি?কেমন তোমার মন?কীভাবে থাকতে পার ভূলে সারাক্ষন?মনে কী পরেনা একটুও আমায়


৩৫

যদি মন কাঁদে, আসব বর্ষা হয়ে।! যদি মন হাসে, আসব রোদ্দুর হয়ে। যদি মন ওড়ে, আসব পাখি হয়ে। যদি মন খোঁজে, আসব তোমার জান হয়ে!


৩৬

যদি এমন কাউকে পেতাম যে আমাকে অন্তর দিয়ে ভালবাসবে যার সব ভালবাসা আমায় গিরে থাকবে.তবে আমি এই পৃথিবীর বিনিময়েও তাকে হারিয়ে যেতে দিতাম না.


৩৭

পৃথিবীর সব কিছু মিথ্যা হলেও , ছেলেদের চোখের অশ্রু কখনো মিথ্যা নয় । কারন মেয়েরা খুব কষ্ট না পেলে , কথনো তাদের দামি অশ্রু ঝরায় না.


৩৮

বুঝবে একদিন তুমি , আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি । সেই দিন হইতো আমি হারিয়ে যাবো ঔ দুরে নিল আকাশে তারার মাঝে । বুঝবে একদিন তুমি , আমি তোমাকে কতটা মিচ করি সেইদিন হইতো আমি হারিয়ে যাবো ঔ মরুভুমির বালির মাঝে । বুঝবে একদিন তুমি , আমি তোমাকে ছাড়া কতটা একা একা থাকি সেই দিন হইতো আমি থাকবোনা এই পৃথিবীতে হারিয়ে যাবো ঔ মাটির ছোট্ট ছোট্ট কনাই…!


৩৯

মনের মাঝে আছি বলে করিস অবহেলা।আমি যখন হারিয়ে যাবো কাদবি সারাবেলা।তবু যদি হারিয়ে যায় তোর অজানতে।সৃতি গুলু যতনে রাখিস মনের সিমান্তে.


৪০

এক ফোঁটা শিশিরের কারনেও বন্যা হতে পারে যদি বাসাটা পিঁপড়ার হয়,তেমনি এক চিমটি ভালবাসা দিয়ে ও সুখ পাওয়া যায় যদি সেই ভালবাসা খাঁটি হয়…


৪১

মানুষের মাঝে আছে মন, মনের মাঝে প্রেম, প্রেমের মাঝে জীবন, জীবনের মাঝে আশা, আশার মাঝে ভালবাসা, আর সেই ভালোবাসার মাঝে শুধুই তুমি?


৪২

তোমার মুখের হাসি টুকু লাগে আমার ভালো,তুমি আমার ভালবাসা বেঁচে থাকার আলো।রাজার যেমন রাজ্য আছে আমার আছ তুমি,তুমি ছাড়া আমার জীবন শূধু মরুভুমি।


৪৩

যদি বৃষ্টি হতাম…… তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে দিতাম। চোখে জমা বিষাদ টুকু এক নিমিষে ধুয়ে দিতাম। মেঘলা বরণ অঙ্গ জুড়ে তুমি আমায় জড়িয়ে নিতে,কষ্ট আর পারতো না তোমায় অকারণে কষ্ট দিতে..!

৪৫

জীবনটা ধর সাগর, আর হৃদয় তার তীর। বন্ধু হলো সাগরের ঢেউ। তোমার সাগরে অনেক ঢেউ থাকতে পারে তবে ব্যাপার হল সবগুলো ঢেউ কি তীর স্পর্শ করতে পারে


৪৬

চাঁদ মেঘে লুকালো তোমাকে দেখে প্রিয়া____ রাত বুঝি ঘুমালোএসো না বুকে প্রিয়া____ ঝিরি ঝিরি হাওয়া শিরি শিরি ছোয়া____ঝড় উঠেছে এ মনে হায় এ মনে কেউ জানেনা


৪৭

ফুলের প্রয়োজন সূর্যের আলো, ভোরের প্রয়োজন শিশির, আর আমার প্রয়োজন তুমি, আমি তোমাকে ভালবাসি।


৪৮

মিষ্টি হেসে কথা বলে পাগল করে দিলে,তোমায় নিয়ে হারিয়ে যাব আকাশের নীলে,তোমার জন্য মনে আমার অফুরন্ত আশা। সারা জীবন পেতে চাই তোমার ভালবাসা।


৪৯

ফুলের প্রয়োজন সূর্যের আলো, ভোরের প্রয়োজন শিশির, আর আমার প্রয়োজন তুমি, আমি তোমাকে ভালবাসি।


৫০

মিষ্টি হেসে কথা বলে পাগল করে দিলে,তোমায় নিয়ে হারিয়ে যাব আকাশের নীলে,তোমার জন্য মনে আমার অফুরন্ত আশা। সারা জীবন পেতে চাই তোমার ভালবাসা।


৫১

জানিনা ভালোবাসার আলাদা আলাদা নিয়ম আছে কিনা, তবে আমি কোন নিয়মে তোমাকে ভাল বেসেছি তাও জানিনা, শুধু এইটুকু জানি আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি….


আমাদের সাথে ফেসবুকে যুক্ত হন।

আমাদের আরো এস এম ….

Bangla Happy Birthday SMS




যতীন্দ্র মোহন বাগচী – Jatindramohan Bagchi

কবি-পরিচিতি:

যতীন্দ্র মোহন বাগচীর জন্ম ১৮৭৮ সালের ২৭ নভেম্বর নদীয়া জেলার জামশেদপুরে। অবশ্য তার পৈতৃক নিবাস হুগলী জেলার বলাগড় গ্রামে। কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে ১৯০২ সালে তিনি বি.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। বিচারপতি সারদাচরণ মিত্রের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। নাটোরের মহারাজের প্রাইভেট সেক্রেটারি ও জমিদারির সুপারিটেনডেন্ট পদে এবং কর কোম্পানি ও এফ.এন. গুপ্ত কোম্পানিতে উচ্চ পদে কর্ম সম্পাদন করেন। ১৯০৯-১৯১৩ সাল পর্যন্ত ‘মানসী’ পত্রিকার সম্পাদক ও ১৯২১-১৯২২ সাল পর্যন্ত ‘যমুনা’ পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক পদ লাভ করেন।

তিনি ছিলেন ‘পূর্বাচল’ পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রানুসারী কবিদের মধ্যে অন্যতম এবং বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি। পলস্নীপ্রীতি তার কবি-মানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। গ্রাম-বাংলার শ্যামল-স্নিগ্ধ রূপ, পলস্নী-জীবনের সুখ-দুঃখ, ভাগ্যাহত ও নিপীড়িত নারীর প্রতি সমবেদনা তার কবিতায় আন্তরিকতার সঙ্গে সহজ সরল ভাষায় তাৎপর্যমন্ডিতভাবে প্রকাশিত।
তাঁর জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে “কাজলা দিদি” ও “অপরাজিতা” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-‘লেখা’ (১৯০৬), ‘রেখা’ (১৯১০), ‘অপরাজিতা’ (১৯১৫), ‘নাগকেশর’ (১৯১৭), ‘বন্ধুর দান’ (১৯১৮), ‘জাগরণী’ (১৯২২), ‘নীহারিকা’ (১৯২৭), ‘মহাভারতী’ (১৯৩৬) । এ ছাড়া রচনা করেছেন “পথের সাথী” নামক উপন্যাস এবং “রবীন্দ্রনাথ ও যুগসাহিত্য” (১৯৪৭) নামক স্মৃতিচিত্র |
১ ফেব্রুয়ারী ১৯৪৮ সালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।




Nirmolendu Gun

দুঃখ করো না, বাঁচো – নির্মলেন্দু গুণ

দুঃখকে স্বীকার করো না, –সর্বনাশ হয়ে যাবে ।
দুঃখ করো না, বাঁচো, প্রাণ ভরে বাঁচো ।
বাঁচার আনন্দে বাঁচো । বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো ।
জানি মাঝে-মাঝেই তোমার দিকে হাত বাড়ায় দুঃখ,
তার কালো লোমশ হাত প্রায়ই তোমার বুক ভেদ করে
চলে যেতে চায়, তা যাক, তোমার বক্ষ যদি দুঃখের
নখরাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়; যদি গলগল করে রক্ত ঝরে,
তবু দুঃখের হাতকে তুমি প্রশ্রয় দিও না মুহূর্তের তরে ।
তার সাথে করমর্দন করো না, তাকে প্রত্যাখান করো ।

অনুশোচনা হচ্ছে পাপ, দুঃখের এক নিপুণ ছদ্মবেশ ।
তোমাকে বাঁচাতে পারে আনন্দ । তুমি তার হাত ধরো,
তার হাত ধরে নাচো, গাও, বাঁচো, ফুর্তি করো ।
দুঃখকে স্বীকার করো না, মরে যাবে, ঠিক মরে যাবে ।

যদি মরতেই হয় আনন্দের হাত ধ’রে মরো ।
বলো, দুঃখ নয়, আনন্দের মধ্যেই আমার জন্ম,
আনন্দের মধ্যেই আমার মৃত্যু, আমার অবসান ।




Mahadev Saha

আমার জীবন – মহাদেব সাহা

আমার জীবন আমি ছড়াতে ছড়াতে
এসেছি এখানে,
আমি কিছুই রাখিনি-
কুড়াইনি তার একটিও ছেঁড়া পাতা,
হাওয়ায় হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি শিমুল তুলোর মতো
সব সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্মৃতি,
আমি এই হারানো জীবন আর খুজি নাই
সেই ফেলে আসা পথে;

ছেঁড়া কাগজের মতো ছড়াতে ছড়াতে এসেছি আমাকে।
পথে পড়ে থাকা ছিন্ন পাপড়ির মতো
হয়তো এখানো পড়ে আছে
আমার হাসি ও অশ্রু,
পড়ে আছে খেয়ালি রুমাল, পড়ে আছে
দুই এক ফোঁটা শীতের শিশির;
এখনো হয়তো শুকায়নি কোনো কোনো অশ্রুবিন্দুকণা,
বৃষ্টির ফোঁটা
চঞ্চল করুণ দৃষ্টি, পিছু ডাক,
হয়তো এখনো আছে সকালের মেঘভাঙা রোদে,
গাছের ছায়ায়
পদ্মাপকুরের স্থির কালো জলে,
হয়তো এখনো আছে হাঁসের নরম পায়ে
গচ্ছিত আমার সেই হারানো জীবন
সেই সুখ-দুঃখ
গোপন চোখের জল।
এখনো হয়তো পাওয়া যাবে মাটিতে
পায়ের চিহ্ন
সেসব কিছুই রাখিনি আমি
ফেলতে ফেলতে ছড়াতে ছড়াতে
এখানে এসেছি;
আমি এই জীবনকে ফ্রেমে বেঁধে রাখিনি কখনো
নিখুঁত ছবির মতো তাকে আগলে রাখা হয়নি
আমার,
আমার জীবন আমি এভাবে ছড়াতে ছড়াতে এসেছি।
আমার সঞ্চয় আজ কেবল কুয়াশা, কেবল ধূসর
মেঘ
কেবল শূন্যতা
আমি এই আমাকে ফ্রেমে বেঁধে সাজিয়ে রাখিনি,
ফুটতে ফুটতে ঝরতে ঝরতে আমি এই এখানে
এসেছি;
আমি তাই অম্লান অক্ষুণ্ন নেই, আমি ভাঙাচোরা
আমি ঝরা-পড়া, ঝরতে ঝরতে
পড়তে পড়তে
এতোটা দীর্ঘ পথ এভাবে এসেছি
আমি কিছুই রাখিনি ধরে কোনো মালা, কোনো ফুল,
কোনো অমলিন স্মৃতিচিহ্ন
কতো প্রিয় ফুল, কতো প্রিয় সঙ্গ, কতো উদাসীন
উদ্দাম দিন ও রাত্রি
সব মিলে হয়ে গেছে একটিই ভালোবাসার
মুখ,
অজস্র স্মৃতির ফুল হয়ে গেছে একটিই স্মৃতির গোলাপ
সব সাম মিলে হয়ে গেছে একটিই প্রিয়তম নাম;
আমার জীবন আমি ফেলতে ফেলতে ছড়াতে ছড়াতে
এখানে এসেছি।




Mahadev Saha

স্মৃতি – মহাদেব সাহা

সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে যেন এক
স্রোতস্বিনী নদীর সুবাস, ভালোবাসা সে যেন হৃদয়ে শুধু
ঘুরে ঘুরে কথা কয়, চোখের ভিতর হতে সুগভীর চোখের
ভিতরে, সে আসে প্রতিদিন জানালায় ভোরের রোদের মতো
বাহুলগ্ন আমার প্রেমিকা;

সে আসে প্রত্যহ এই আলোকিত উজ্জ্বল শহরে, ইতিহাস
আরো সব কিংবদন্তী কথা কয় আমার স্মৃতিতে, সে আসে
দূর থেকে মনে হয় শ্যামল ছায়ায় ভরা যেন এক
হরিণীর চোখ, অথবা রোদের সুরভিমাখা হেমন্তের শিশির সকাল
সে আসে আমার কাছে নুয়ে পড়ে আমলকী বন;
সে আসে আমার কাছে ভরে ওঠে বছরের শূন্য খামার
নদীতে সহসা ওড়ে মাছরঙ নায়ের বাদাম
ক্ষেতের দরাজ দেহ সিক্ত করে মেঘের মৈথুন,
সে আসে আমার কাছে
ফুটে ওঠে নিসর্গের নিবিড় কদম
সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে নদীর স্রোতের মতো
জলে-ভাসা ভেলা।




বাঙলা ভাষা – হুমায়ুন আজাদ

শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী-
একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।
আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার।
তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়-
হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়।
লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের
মুখোমুখি আমরা তুলে ধরি আমাদের উদ্ধত দর্পিত সৌন্দর্য:
আদিম ঝরনার মতো অজস্র ধারায় ফিনকি দেয়া টকটকে লাল রক্ত,
চাবুকের থাবায় সুর্যের টুকরোর মতো ছেঁড়া মাংস
আর আকাশের দিকে হাতুড়ির মতো উদ্যত মুষ্টি।

শাঁইশাঁই চাবুকে আমার মিশ্র মাংসপেশি পাথরের চেয়ে শক্ত হয়ে ওঠে
তুমি হয়ে ওঠো তপ্ত কাঞ্চনের চেয়েও সুন্দর।
সভ্যতার সমস্ত শিল্পকলার চেয়ে রহস্যময় তোমার দু-চোখ
যেখানে তাকাও সেখানেই ফুটে ওঠে কুমুদকহ্লার
হরিণের দ্রুত ধাবমান গতির চেয়ে সুন্দর ওই ভ্রূযুগল
তোমার পিঠে চাবুকের দাগ চুনির জড়োয়ার চেয়েও দামি আর রঙিন
তোমার দুই স্তন ঘিরে ঘাতকের কামড়ের দাগ মুক্তোমালার চেয়েও ঝলোমলো
তোমার ‘অ, আ’ –চিৎকার সমস্ত আর্যশ্লোকের চেয়েও পবিত্র অজর

তোমার দীর্ঘশ্বাসের নাম চন্ডীদাস
শতাব্দী কাঁপানো উল্লাসের নাম মধুসূদন
তোমার থরোথরো প্রেমের নাম রবীন্দ্রনাথ
বিজন অশ্রুবিন্দুর নাম জীবনানন্দ
তোমার বিদ্রোহের নাম নজরুল ইসলাম
শাঁইশাঁই চাবুকের আক্রোশে যখন তুমি আর আমি
আকাশের দিকে ছুঁড়ি আমাদের উদ্ধত সুন্দর বাহু, রক্তাক্ত আঙুল,
তখনি সৃষ্টি হয় নাচের নতুন মুদ্রা;
ফিনকি দেয়া লাল রক্ত সমস্ত শরীরে মেখে যখন আমরা গড়িয়ে পড়ি
ধূসর মাটিতে এবং আবার দাঁড়াই পৃথিবীর সমস্ত চাবুকের মুখোমুখি,
তখনি জন্ম নেয় অভাবিত সৌন্দর্যমন্ডিত বিশুদ্ধ নাচ;
এবং যখন শেকলের পর শেকল চুরমার ক’রে ঝনঝন ক’রে বেজে উঠি
আমরা দুজন, তখনি প্রথম জন্মে গভীর-ব্যাপক-শিল্পসম্মত ঐকতান-
আমাদের আদিগন্ত আর্তনাদ বিশশতকের দ্বিতীয়ার্ধের
একমাত্র গান।



Rafiq Azad

প্রতীক্ষা – রফিক আজাদ

এমন অনেক দিন গেছে
আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থেকেছি,
হেমন্তে পাতা-ঝরার শব্দ শুনবো ব’লে
নিঃশব্দে অপেক্ষা করেছি বনভূমিতে-
কোনো বন্ধুর জন্যে
কিংবা অন্য অনেকের জন্যে
হয়তো বা ভবিষ্যতেও অপেক্ষা করবো…
এমন অনেক দিনই তো গেছে
কারো অপেক্ষায় বাড়ি ব’সে আছি-
হয়তো কেউ বলেছিলো, “অপেক্ষা ক’রো
একসঙ্গে বেরুবো।”

এক শনিবার রাতে খুব ক্যাজুয়ালি
কোনো বন্ধু ঘোরের মধ্যে গোঙানির মতো
উচ্চারণ করেছিলো, “বাড়ি থেকো
ভোরবেলা তোমাকে তুলে নেবো।”
হয়তো বা ওর মনের মধ্যে ছিলো
চুনিয়া অথবা শ্রীপুর ফরেস্ট বাংলো;
-আমি অপেক্ষায় থেকেছি।

যুদ্ধের অনেক আগে
একবার আমার প্রিয়বন্ধু অলোক মিত্র
ঠাট্টা ক’রে বলেছিলো,
“জীবনে তো কিছুই দেখলি না
ন্যুব্জপীঠ পানশালা ছাড়া। চল, তোকে
দিনাজপুরে নিয়ে যাবো
কান্তজীর মন্দির ও রামসাগর দেখবি,
বিরাট গোলাকার চাঁদ মস্ত খোলা আকাশ দেখবি,
পলা ও আধিয়ারদের জীবন দেখবি,
গল্প-টল্প লেখার ব্যাপারে কিছু উপাদান
পেয়ে যেতেও পারিস,
তৈরী থাকিস- আমি আসবো”
-আমি অপেক্ষায় থেকেছি;

আমি বন্ধু, পরিচিত-জন, এমনকি- শত্রুর জন্যেও
অপেক্ষায় থেকেছি,
বন্ধুর মধুর হাসি আর শত্রুর ছুরির জন্যে
অপেক্ষায় থেকেছি-

কিন্তু তোমার জন্য আমি অপেক্ষায় থাকবো না,
-প্রতীক্ষা করবো।
‘প্রতীক্ষা’ শব্দটি আমি শুধু তোমারই জন্যে খুব যত্নে
বুকের তোরঙ্গে তুলে রাখলাম,
অভিধানে শব্দ-দু’টির তেমন কোনো
আলাদা মানে নেই-
কিন্তু আমরা দু’জন জানি
ঐ দুই শব্দের মধ্যে পার্থক্য অনেক,
‘অপেক্ষা’ একটি দরকারি শব্দ—
আটপৌরে, দ্যোতনাহীন, ব্যঞ্জনাবিহীন,
অনেকের প্রয়োজন মেটায়।
‘প্রতীক্ষা’ই আমাদের ব্যবহার্য সঠিক শব্দ,
ঊনমান অপর শব্দটি আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য,
আমরা কি একে অপরের জন্যে প্রতীক্ষা করবো না ?

আমি তোমার জন্যে পথপ্রান্তে অশ্বত্থের মতো
দাঁড়িয়ে থাকবো-
ঐ বৃক্ষ অনন্তকাল ধ’রে যোগ্য পথিকের
জন্যে প্রতীক্ষমান,
আমাকে তুমি প্রতীক্ষা করতে বোলো
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবো অনড় বিশ্বাসে,
দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে
আমার পায়ে শিকড় গজাবে…

আমার প্রতীক্ষা তবু ফুরোবে না…




Purnendu Patri

সেই গল্পটা – পূর্ণেন্দু পত্রী

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
শোনো।
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিলো মেঘকে
আর মেঘ কি ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা
সে তো আগেই শুনেছো।

সেদিন ছিলো পাহাড়টার জন্মদিন।
পাহাড় মেঘকে বললে
– আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে।
মেঘ পাহাড়কে বললে
– আজ তোমাকে স্নান করিয়ে দেবো চন্দন জলে।

ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে
পাহাড় ছিলো মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠলো ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাই এর ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
– ওঠ্‌ ছুঁড়ি! তোর বিয়ে ।

এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেলো ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিন ভুলতে পারলনা।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতে পারো
পাহাড়টার হাড়-পাঁজর,
ভিতরে থৈথৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।




Purnendu Patri

যে টেলিফোন আসার কথা – পুর্ণেন্দু পত্রী

যে টেলিফোন আসার কথা সে টেলিফোন আসেনি।
প্রতীক্ষাতে প্রতীক্ষাতে
সূর্য ডোবে রক্তপাতে
সব নিভিয়ে একলা আকাশ নিজের শূণ্য বিছানাতে।
একান্তে যার হাসির কথা হাসেনি।
যে টেলিফোন আসার কথা আসেনি।

অপেক্ষমান বুকের ভিতর কাঁসন ঘন্টা শাঁখের উলু
একশ বনেরবাতাস এস একটা গাছে হুলুস্থুলু
আজ বুঝি তার ইচ্ছে আছে
ডাকবে আলিঙ্গনের কাছে
দীঘির পড়ে হারিয়ে যেতে সাঁতার জলের মত্ত নাচে।
এখনো কি ডাকার সাজে সাজেনি?
যে টেলিফোন বাজার কথা বাজেনি।
তৃষ্ণা যেন জলের ফোঁটা বাড়তে বাড়তে বৃষ্টি বাদল
তৃষ্ণা যেন ধূপের কাঠি গন্ধে আঁকে সুখের আদল
খাঁ খাঁ মনের সবটা খালি
মরা নদীর চড়ার বালি
অথচ ঘর দুয়ার জুড়ে তৃষ্ণা বাজায় করতালি।
প্রতীক্ষা তাই প্রহরবিহীন
আজীবন ও সর্বজনীন
সরোবর তো সবার বুকেই, পদ্ম কেবল পর্দানশীল।
স্বপ্নকে দেয় সর্বশরীর, সমক্ষে সে ভাসে না।
যে টেলিফোন আসার কথা সচরাচর আসে না।




Rabindranath Tagore

দান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাঁকন-জোড়া এনে দিলেম যবে,
ভেবেছিলেম, হয়তো খুশি হবে।
তুলে তুমি নিলে হাতের ‘পরে,
ঘুরিয়ে তুমি দেখলে ক্ষণেক-তরে,
পরেছিলে হয়তো গিয়ে ঘরে –
হয়তো বা তা রেখেছিলে খুলে।
এলে যেদিন বিদায় নেবার রাতে
কাঁকনদুটি দেখি নাই তো হাতে,
হয়তো এলে ভুলে।।

দেয় যে জনা কী দশা পায় তাকে,
দেওয়ার কথা কেনই মনে রাখে!
পাকা যে ফল পড়ল মাটির টানে
শাখা আবার চায় কি তাহার পানে।
বাতাসেতে-উড়িয়ে-দেওয়া গানে
তারে কি আর স্মরণ করে পাখি?
দিতে যারা জানে এ সংসারে
এমন ক’রেই তারা দিতে পারে
কিছু না রয় বাকি।।

নিতে যারা জানে তারাই জানে,
বোঝে তারা মূল্যটি কোনখানে।
তারাই জানে, বুকের রত্নহারে
সেই মণিটি কজন দিতে পারে
হৃদয় দিতে দেখিতে হয় যারে –
যে পায় তারে সে পায় অবহেলে।
পাওয়ার মতন পাওয়া যারে কহে
সহজ ব’লেই সহজ তাহা নহে,
দৈবে তারে মেলে।।

ভাবি যখন ভেবে না পাই তবে
দেবার মতো কী আছে এই ভবে।
কোন্ খনিতে কোন্ ধনভান্ডারে,
সাগর-তলে কিম্বা সাগর-পারে,
যক্ষরাজের লক্ষমণির হারে
যা আছে তা কিছুই তো নয় প্রিয়ে!
তাই তো বলি যা-কিছু মোর দান
গ্রহণ করেই করবে মূল্যবান
আপন হৃদয় দিয়ে।।




Nirmolendu Gun

এপিটাফ – নির্মলেন্দু গুণ

করতল ভরা এই ম্লান রেখাগুলো তোমাদের জন্য
রেখে গেলাম। হাড়গুলো থেকে সার হবে,
সার থেকে জন্ম নেবে হাড়ের গোলাপ।
আমার যে ছেলেটির জম্ন হয় নি, তাকে দিও
এই দুর্বিনিত শীসের কলম।

যে শব্দটি আমি উচ্চারণ করতে পারলুম না—
তোমাদের প্রচণ্ড ঘৃণায়, সন্দেহে, তার আত্মা
রক্তাপ্লুত হয়েছে বারবার।
যে গান গাইতে পারি নি, তার সুর বেজেছে চৈতন্যে।
যে কবিতা লেখা হল না সে-ও ছিল
সংগঠিত সীসার ভিতরে।

এই কবর গুলো সাক্ষ দেবে, ভালবেসেছিলাম।




Nirmolendu Gun

স্ববিরোধী – নির্মলেন্দু গুণ

আমি জন্মেছিলাম এক বিষণ্ন বর্ষায়,
কিন্তু আমার প্রিয় ঋতু বসন্ত ।

আমি জন্মেছিলাম এক আষাঢ় সকালে,
কিন্তু ভালোবাসি চৈত্রের বিকেল ।

আমি জন্মেছিলাম দিনের শুরুতে,
কিন্তু ভালোবাসি নিঃশব্দ নির্জন নিশি ।

আমি জন্মেছিলাম ছায়াসুনিবিড় গ্রামে,
ভালোবাসি বৃক্ষহীন রৌদ্রদগ্ধ ঢাকা ।

জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,
এখন আমার সবকিছুতেই হাসি পায় ।

আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,
এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।