image_pdf

স্বার্থপর সেই মেয়েটা

প্রায় একটি বছর কেটে গেলো হঠাৎ সেদিন মেয়েটি আমাকে ফোন করে বলছে কেমন আছেন? ভেবেছিলাম সুদ্রাবে ভুলগুলো কিন্তু এ যে সে জাতি নয়, ভাংবে তবু মচকাবে না। আমি বুঝতে পারছিলাম না সত্যিই কি মারিয়া আমাকে ফোন করেছে। আমি বললাম ভালো আছি সোনা তুমি কেমন আছো। […]

অপ্রকাশিত ভালোবাসা

কোন এক বসন্তের প্রাণবন্ত সকাল। অনির্দিষ্টের মতো ছেলেটা একটা শপিং কমপ্লেক্সের ভিতর এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতে থাকে। একসময় তার চোখ পড়ে যায় একটা CD-স্টোরের কাউন্টারে দাঁড়ানো খুব সুন্দর একটা মেয়ের দিকে। মেয়ের হাসিটা ছিল অপূর্ব রকমের সুন্দর , ছেলেটা প্রথম দেখায় মেয়েটার প্রেমে পড়ে যায়। এটাই […]

ছোট গল্প: মধুর তুমি

বাংলাভাষার লেখিকাদের মধ্যে নজর কাড়তে শুরু করেছেন নন্দিতা আচার্য চক্রবর্তী। প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থে তাঁর লেখনীশক্তি প্রশংসা কুড়িয়েছে সমালোচকদেরও। এ বার তাঁর ছোট গল্প। নন্দিতা আচার্য চক্রবর্তী  সকালটা শুরু হল এই ভাবে। ডিং ডিং ডিং…। বেজেই চলেছে অ্যালার্ম। ঘরের ভেতর আধো অন্ধকার। হালকা আকাশি মশারি। সে […]

ছোট গল্প: প্রেমপিল 

ছোট গল্প: প্রেমপিল প্রায় এক দশক হল সাহিত্য চর্চার দুনিয়ায় পা রেখেছেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। অন্য লেখালিখির সঙ্গে যুক্ত হলেও গল্প লেখাতেই তাঁরা আগ্রহ অধিক। আজ ইন্দিরার ছোট গল্প। নিউরোএথিকস্‌ ল্যাবে জোরকদমে রিসার্চ চলছে। অনিমেষের ধ্যানজ্ঞান সবকিছু এখন এই প্রেম-পিল বা প্রেমের বড়ি বা ট্যাবলেট আবিষ্কারকে […]

দুঃখ করো না, বাঁচো – নির্মলেন্দু গুণ

দুঃখকে স্বীকার করো না, –সর্বনাশ হয়ে যাবে । দুঃখ করো না, বাঁচো, প্রাণ ভরে বাঁচো । বাঁচার আনন্দে বাঁচো । বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো । জানি মাঝে-মাঝেই তোমার দিকে হাত বাড়ায় দুঃখ, তার কালো লোমশ হাত প্রায়ই তোমার বুক ভেদ করে চলে যেতে চায়, তা […]

আগুন আগুন – ময়ুখ চৌধুরী

তোমাকে দেখবো বলে একবার কী কাণ্ডটাইনা করেছিলাম ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করে সমস্ত পাড়াটাকে চমকে দিয়ে তোলপাড় ক’রে সুখের গেরস্তালিতে ডুবে-যাওয়া লোকজনদের বড়শি-গাঁথা মাছের মতো বাইরে টেনে নিয়ে এলাম তুমিও এসে দাঁড়ালে রেলিঙে কোথায় আগুন? আমাকে পাগল ভেবে যে-যার নিজের ঘরে ফিরে গেলো । একমাত্র […]

আমার জীবন – মহাদেব সাহা

আমার জীবন আমি ছড়াতে ছড়াতে এসেছি এখানে, আমি কিছুই রাখিনি- কুড়াইনি তার একটিও ছেঁড়া পাতা, হাওয়ায় হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি শিমুল তুলোর মতো সব সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্মৃতি, আমি এই হারানো জীবন আর খুজি নাই সেই ফেলে আসা পথে; ছেঁড়া কাগজের মতো ছড়াতে ছড়াতে এসেছি আমাকে। পথে […]

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া – মহাদেব সাহা

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া, হৃদয়ের তর্জমা নিষিদ্ধ আর মননের সম্মুখে প্রাচীর বিবেক নিয়ত বন্দী, প্রেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা; এখানে এখন পাখি আর প্রজাপতি ধরে ধরে কারাগারে রাখে- সবাই লাঞ্ছিত করে স্বর্ণচাঁপাকে; সুপেয় নদীর জলে ঢেকে দেয় বিষ, আকাশকে করে উপহাস। আলোর বিরুদ্ধাচারী আঁধারের […]

আমাকে একটি কথা দাও – জীবনানন্দ দাশ

আমাকে একটি কথা দাও যা আকাশের মতো সহজ মহৎ বিশাল, গভীর; – সমস্ত ক্লান্ত হতাহত গৃহবলিভুকদের রক্তে মলিন ইতিহাসের অন্তর ধুয়ে চেনা হাতের মতন, আমি যাকে আবহমান কাল ভালোবেসে এসেছি সেই নারীর। সেই রাত্রির নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের মতো: সেই দিনের – আলোর অন্তহীন এঞ্জিন চঞ্চল […]

যদি ভালবাসা পাই – রফিক আজাদ

যদি ভালবাসা পাই আবার শুধরে নেব জীবনের ভুলগুলি যদি ভালবাসা পাই ব্যাপক দীর্ঘপথে তুলে নেব ঝোলাঝুলি যদি ভালবাসা পাই শীতের রাতের শেষে মখমল দিন পাব যদি ভালবাসা পাই পাহাড় ডিঙ্গাবো আর সমুদ্র সাঁতরাবো যদি ভালবাসা পাই আমার আকাশ হবে দ্রুত শরতের নীল যদি ভালবাসা পাই […]

উর্বশী – বিষ্ণু দে

আমি নহি পুরূরবা। হে উর্বশী, ক্ষনিকের মরালকায় ইন্দ্রিয়ের হর্ষে, জান গড়ে তুলি আমার ভুবন? এসো তুমি সে ভুবনে, কদম্বের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে। ক্ষণেক সেখানে থাকো, তোমার দেহের হায় অন্তহীন আমন্ত্রণবীথি ঘুরি যে সময় নেই- শুধু তুমি থাকো ক্ষণকাল, ক্ষণিকের আনন্দাঅলোয় অন্ধকার আকাশসভায় নগ্নতায় দীপ্ত তনু জ্বালিয়ে […]

যদি আমি ঝরে যাই একদিন – জীবনানন্দ দাশ

যদি আমি ঝরে যাই একদিন কার্তিকের নীল কুয়াশায়; যখন ঝরিছে ধান বাংলার ক্ষেতে-ক্ষেতে ম্লান চোখ বুজে, যখন চড়াই পাখি কাঁঠালীচাপাঁর নীড়ে ঠোঁট আছে গুজে, যখন হলুদ পাতা মিশিতেছে খয়েরি পাতায়, যখন পুকুরে হাঁস সোঁদা জলে শিশিরের গন্ধ শুধু পায়, শামুক গুগলিগুলো পড়ে আছে শ্যাওলার মলিন […]

নগ্ন নির্জন হাত – জীবনানন্দ দাশ

আবার আকাশে অন্ধকার ঘন হয়ে উঠেছে: আলোর রহস্যময়ী সহোদরার মতো এই অন্ধকার। যে আমাকে চিরদিন ভালোবেসেছে অথচ যার মুখ আমি কোনাদিন দেখিনি, সেই নারীর মতো ফাল্গুন আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠেছে। মনে হয় কোনো বিলুপ্ত নগরীর কথা সেই নগরীর এক ধুসর প্রাসাদের রূপ জাগে হৃদয়ে। […]

দান – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাঁকন-জোড়া এনে দিলেম যবে, ভেবেছিলেম, হয়তো খুশি হবে। তুলে তুমি নিলে হাতের ‘পরে, ঘুরিয়ে তুমি দেখলে ক্ষণেক-তরে, পরেছিলে হয়তো গিয়ে ঘরে – হয়তো বা তা রেখেছিলে খুলে। এলে যেদিন বিদায় নেবার রাতে কাঁকনদুটি দেখি নাই তো হাতে, হয়তো এলে ভুলে।। দেয় যে জনা কী দশা […]

হে স্তন্যদায়িনী – পুর্ণেন্দু পত্রী

তোমার দুধের মধ্যে এত জল কেন ? তোমার দুধের মধ্যে এত ঘন বিশৃঙ্খলা কেন ? রক্ত ঝরে না ভেজালে কোনো সুখ দরজা খোলে না । ময়ূরও নাচে না তাকে দু-নম্বরী সেলামী না দিলে । হাতুড়ির ঘায়ে না ফাটালে রাজার ভাঁড়ার থেকে এক মুঠু খুদ খেতে […]