image_pdfimage_print

দুঃখ করো না, বাঁচো – নির্মলেন্দু গুণ

Nirmolendu Gun

দুঃখকে স্বীকার করো না, –সর্বনাশ হয়ে যাবে ।
দুঃখ করো না, বাঁচো, প্রাণ ভরে বাঁচো ।
বাঁচার আনন্দে বাঁচো । বাঁচো, বাঁচো এবং বাঁচো ।
জানি মাঝে-মাঝেই তোমার দিকে হাত বাড়ায় দুঃখ,
তার কালো লোমশ হাত প্রায়ই তোমার বুক ভেদ করে
চলে যেতে চায়, তা যাক, তোমার বক্ষ যদি দুঃখের
নখরাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়; যদি গলগল করে রক্ত ঝরে,
তবু দুঃখের হাতকে তুমি প্রশ্রয় দিও না মুহূর্তের তরে ।
তার সাথে করমর্দন করো না, তাকে প্রত্যাখান করো । […]

Please Rate This Post
[Total: 6 Average: 3]
Continue Reading

রেখে দিয়ো – মহাদেব সাহা

Mahadev Saha

এখানে তোমাদের এই অশ্রুহীন চোখ,
কয়েক লাইন বিদ্যা মুখস্থ করা গম্ভীর মুখ
আর মলাট চিবানো দাঁত দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত;
আমি তাই হাত বাড়িয়ে আছি তাদের দিকে
যারা ডোবা বিল আর পুকুরে পদ্মফুল ফোটায়,
বাংলা সন-তারিখ দিয়ে চিঠি লেখে;
আমি তোমাদের দিকেই তাকিয়ে আছি, যদি পার
একগুচ্ছ তৃণ আর একফোঁটা অশ্রু
আমার জন্য রেখে দিয়ো;
আমি তার গন্ধে মৃত্যুলোক থেকে জেগে উঠতে পারি। […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি – মহাদেব সাহা

Mahadev Saha

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি
কতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি
গীতিকবিতার,
কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল
কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান, […]

Please Rate This Post
[Total: 1 Average: 5]
Continue Reading

আমার কবিতার জন্যে – মহাদেব সাহা

Mahadev Saha

আমি কবিতা লিখবো বলে এই আকাশ
পরেছে নক্ষত্রমালা,
পরেছে রঙধনু-পাড় শাড়ি, অপরূপ চন্দ্রহার
নদীর গহনা পরে আছে গ্রামগুলি,
শুধু আমি কবিতা লিখবো তাই এই প্রকৃতি
পরেছে পুষ্পশোভা,
কানে পরেছে ফুলের দুল, হাতে ঝিনুকের চুড়ি।
মন হুহু-করা এমন উদাস বাতাস, এমন
স্নিগ্ধ বৃষ্টিধারা […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

নীরার পাশে তিনটি ছায়া – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

Sunil Gangopadhyay

নীরা এবং নীরার পাশে তিনটি ছায়া
আমি ধনুকে তীর জুড়েছি, ছায়া তবুও এত বেহায়া
পাশ ছাড়ে না
এবার ছিলা সমুদ্যত, হানবো তীর ঝড়ের মতো–
নীরা দু’হাত তুলে বললো, ‘মা নিষাদ! […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে – হুমায়ুন আজাদ

আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে
আমার খাদ্যে ছিলো অন্যদের আঙুলের দাগ,
আমার পানীয়তে ছিলো অন্যদের জীবাণু,
আমার নিশ্বাসে ছিলো অন্যদের ব্যাপক দূষণ।
আমি জন্মেছিলাম, আমি বেড়ে উঠেছিলাম,
আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে।
আমি দাঁড়াতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো,
আমি হাঁটতে শিখেছিলাম অন্যদের মতো,
[…]

Please Rate This Post
[Total: 1 Average: 2]
Continue Reading

আমার অশ্রু – হুমায়ুন আজাদ

আমার অশ্রু এবং কষ্টরাশি থেকে ফুটে উঠে ফুল থরে থরে অফুরান, এবং আমার দীর্ঘশ্বাসে বিকশিত হয় নাইটিংগেলের গান। বালিকা, আমাকে যদি তুমি ভালোবাসো, তোমার জন্য সে ফুল আনবো আমি— এবং এখানে তোমার দ্বারের কাছে নাইটিংগেলেরা গান গাবে দিবাযামি ।

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

ফুল ফুটুক না ফুটুক – সুভাষ মুখোপাধ্যায়

Subhash Mukhopadhy

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত। […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

নিমন্ত্রণ – জসীম উদ্দিন

Jasim Uddin

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, […]

Please Rate This Post
[Total: 1 Average: 2]
Continue Reading

হিং টিং ছট্ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Rabindranath Tagore

স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ —
অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ।
শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাদঁরে
উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে —
একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড় ,
চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড় ।
সহসা মিলালো তারা , এল এক বেদে,
‘পাখি উড়ে গেছে ‘ ব‘লে মরে কেঁদে কেঁদে। […]

Please Rate This Post
[Total: 3 Average: 2.7]
Continue Reading

পুরাতন ভৃত্য – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Rabindranath Tagore
ভূতের মতন চেহারা যেমন র্নিবোধ অতি ঘোর— যা- কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্ট বেটাই চোর।” উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে। যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে। বড় প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীত্কার করি ‘কেষ্টা’— যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা। তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে; একখানা দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা করে আনে। যেখানে সেখানে দিবসে দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধা; মহাকলরবে গালি দেই যবে `”পাজি হতভাগা গাধা”— দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সে হাসে, দেখে জ্বলে যায় পিত্ত। তবু মায়া তার ত্যাগ করা ভার— বড়ো পুরাতন ভৃত্য।

ঘরের কর্ত্রী রুক্ষ মূর্তি বলে, “আর পারি নাকো,
রহিল তোমার এ ঘর-দুয়ার, কেষ্টারে লয়ে থাকো।
না মানে শাসন বসন বাসন অশন আসন যত
কেথায় কী গেল, শুধু টাকাগুগুলো যেতেছ জলের মত।
গেলে সে বাজার সারা দিন আর দেখা পাওয়া তার ভার—
করিলে চেষ্টা কেষ্টা ছাড়া কি ভৃত্য মেলে না আর!”
শুনে মহা রেগে ছুটে যাই বেগে, আনি তার টিকি ধরে;
বলি তারে, “পাজি, বের হ তুই আজই, দূর করে দিনু তোরে।
ধীরে চলে যায়, ভাবি গেল দায়; পরদিন উঠে দেখি,
হুঁকাটি বাড়ায়ে, রয়েছে দাঁড়ায়ে বেটা বুদ্ধির ঢেঁকি—
প্রসন্ন মুখ, নাহি কোন দুখ, অতি অকাতর চিত্ত!
ছাড়লে না ছাড়ে, কী কিরব তারে— মোর পুরাতন ভৃত্য!
সে বছরে ফাঁকা পেনু কিছু টাকা করিয়া দালালিগির।
করিলাম মন শ্রী বিন্দাবন বারেক আসিব ফিরি।
পরিবার তায় সাথে যেতে চায়, বুঝায়ে বলিনু তারে—
পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য, নহিলে যে খরচ বাড়ে।
লয়ে রশারশি করি কষাকষি পোটলাপুঁটলি বাঁধি
বলয় বাজায়ে বাক্স সাজায়ে গৃহিণী কিহল কাঁদি,
“পরদেশে গিয়ে কেষ্টারে নিয়ে কষ্ট অনেক পাবে।”
আমি কহিলাম, “আরে রাম রাম! নিবারণ সাথে যাবে।”
রেলগাড়ি ধায়; হেরিলাম হায় নামিয়া বধর্মানে—
কৃষ্ণ কানত, অতি প্রশান্ত তামাক সাজিয়া আনে!
র্স্পধা তাহার হেনমতে আর কত বা সহিব নিত্য
যত তারে দুষি তবু হনু খুশি, হেরি পুরাতন ভৃত্য!
নামিনু শ্রীধামে— দক্ষিনে বামে পিছনে সমুখে যত
লাগিল পান্ডা,নিমেষে প্রাণটা করিল কুন্ঠাগত।
জন-ছয় সাতে মিলি এক-সাথে পরম বন্ধুভাবে
করিলাম বাসা; মনেহল আশা আরামে দিবস যাবে।
কোথা ব্রজবালা কোথা বনমালা,কোথা বনমালী হরি!
কোথা ছা হন্ত, চিরবসন্ত! আমি বসন্তে মরি।
বন্ধু যে যত স্বপ্নের মতো বাসা ছেড়ে দিল ভঙ্গ
আমি একা ঘরে ব্যাধি-খরশরে ভরিল সকল অঙ্গ
ডাকি নিশিদিন সকরুণ ক্ষীণ,”কেষ্টা আয় রে কাছে।
এতদিনে শেষে আসিয়া বিদেশে প্রাণ বুঝি নাহি বাঁচে।”
হেরি তার মুখ ভুরে ওঠে বুক, সে যেন পরম বিত্ত—
নিশিদিন ধরে দাঁড়ায়ে শিয়রে, মোর পুরাতন ভৃত্য।
মুখে দেয় জল, শুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত;
দাঁড়ায়ে নিঝুম চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত।
বলে বার বার,”কর্তা তোমার কোন ভয়নাই,শুন—
যাবে দেশে ফিরে মাঠাকুরানীরে দেখিতে পাইবে পুন।”
লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম; তাহারে ধরিল জ্বরে;
নিল সে আমার কাল ব্যাধিভার আপনার দেহ-পরে।
হয়ে জ্ঞানহীন কাটিল দু দিন, বন্ধ হইল নাড়ী;
এতবার তারে, গেনু ছাড়াবারে, এতদিনে গেল ছাড়ি।
বহুদিন পরে আপনার ঘরে, ফিরিনু সারিয়া তীর্থ;
আজ সাথে নেই চিরসাথি সেই, মোর পুরাতন ভৃত্য

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

তোমার কথা ভেবে – রফিক আজাদ

Rafiq Azad

তোমার কথা ভেবে রক্তে ঢেউ ওঠে—
তোমাকে সর্বদা ভাবতে ভালো লাগে,
আমার পথজুড়ে তোমারই আনাগোনা—
তোমাকে মনে এলে রক্তে আজও ওঠে
তুমুল তোলপাড় হূদয়ে সর্বদা… […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

এবং লখিন্দর! – বিষ্ণু দে

Bishnu Dey

হৃদয় তোমাকে পেয়েছি, স্রোতস্বিনী !
তুমি থেকে থেকে উত্তাল হয়ে ছোটো,
কখনো জোয়ারে আকণ্ঠ বেয়ে ওঠো
তোমার সে-রূপ বেহুলার মতো চিনি।
তোমার উৎসে স্মৃতি করে যাওয়া আসা
মনে-মনে চলি চঞ্চল অভিযানে,
সাহচর্যেই চলি, নয় অভিমানে,
আমার কথায় তোমারই তো পাওয়া ভাষা। […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

কথোপকথন-৬ – পূর্ণেন্দু পত্রী

Purnendu Patri

কালকে এলে না, আজ চলে গেল দিন
এখন মেঘলা, বৃষ্টি অনতি দূরে !
ভয়াল বৃষ্টি, কলকাতা ডুবে যাবে ।
এখনো কি তুমি খুঁজছো নেলপলিশ ? […]

Please Rate This Post
[Total: 0 Average: 0]
Continue Reading

ওটা কিছু নয় – নির্মলেন্দু গুণ

Nirmolendu Gun

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?
একটু দাঁড়াও আমি তৈরী হয়ে নিই ।
এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছো আমার অস্তিত্ব ? পাচ্ছো না ?
তেমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার । ওটা নয়, ওটা চুল ।
এই হলো আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো,–না, না, না,
-ওটা নয়, ওটা কন্ঠনালী, গরলবিশ্বাসী এক শিল্পীর
মাটির ভাস্কর্য, ওটা অগ্নি নয়, অই আমি–আমার যৌবন । […]

Please Rate This Post
[Total: 1 Average: 3]
Continue Reading
1 2 3 5