image_pdf

তুমি ও কবিতা – মহাদেব সাহা

তোমার সাথে প্রতিটি কথাই কবিতা, প্রতিটি মুহুর্তেই উৎসব- তুমি যখন চলে যাও সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব আলো নিভে যায়, বইমেলা জনশূন্য হয়ে পড়ে, কবিতা লেখা ভুলে যাই। তোমার সান্নিধ্যের প্রতিটি মুহূর্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো মনোরম একেটি তুচ্ছ বাক্যালাপ অন্তহীন নদীর কল্লোল, তোমার একটুখানি হাসির অর্থ এককোটি […]

আশাগুলি – নির্মলেন্দু গুণ

জ্যা-মুক্ত হয়নি চিত্ত অধীর মিলনে কোনোদিন । পরশে খুলেছে দ্বার, বারবার কেটেছে অস্থির ঘুমে শূন্য চিরশয্যা তুমি-হীন । অপক্ব মৈথুনে বিবসনা শ্লীলতা ভাঙেনি শব্দ, আমাদের অবিমৃষ্য যুগল যৌবন অথচ জেগেছে কামে সুপ্তোত্থিতে, প্রিয়তমে মুখর মৃণালে, প্রিয় নামে । তোমাকে বেসেছি ভালো তীব্রতম বেদনার লাগি । […]

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি – মহাদেব সাহা

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি কতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি গীতিকবিতার, কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান, বনে বনে ঘুরে আহরণ করেছি পাখির শিস্ উদ্ভিদের কাছে নিয়েছি শব্দের পাঠ; তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি সংগ্রহ করেছি আমি ভোরের শিশির, তোমাকে লেখার […]

নিমন্ত্রণ – জসীম উদ্দিন

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি, মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়, তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, ছোট গাঁওখানি- ছোট […]

সমালোচক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে। কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে! সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে, বুঝেছিলি? – বল্‌ মা, সত্যি করে। এমন লেখায় তবে বল্‌ দেখি কী হবে।। তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি তেমন কেন লেখেন নাকো উনি। ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্‌খনো […]

নীলিমা – জীবনানন্দ দাশ

রৌদ্র ঝিল্‌মিল, উষার আকাশ, মধ্য নিশীথের নীল, অপার ঐশ্বর্যবেশে দেখা তুমি দাও বারে বারে নিঃসহায় নগরীর কারাগার-প্রাচীরের পারে! -উদ্বেলিছে হেথা গাঢ় ধূম্রের কুণ্ডলী, উগ্র চুল্লিবহ্নি হেথা অনিবার উঠিতেছে জ্বলি, আরক্ত কঙ্করগুলো মরুভূর তপ্তশ্বাস মাখা, মরীচিকা-ঢাকা! অগণন যাত্রিকের প্রাণ খুঁজে মরে অনিবার, পায় নাকো পথের সন্ধান; […]

লোকেন বোসের জার্নাল – জীবনানন্দ দাশ

সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি — এখনো কি ভালোবাসি? সেটা অবসরে ভাববার কথা, অবসর তবু নেই; তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে সুজাতাকে আমি ভালোবাসি কি না। পুরোনো চিঠির ফাইল কিছু আছে: সুজাতা লিখেছে আমার কাছে, বারো তেরো কুড়ি […]

স্বপ্নের হাত – জীবনানন্দ দাশ

পৃথিবীর বাধা — এই দেহের ব্যাঘাতে হৃদয়ে বেদনা জমে — স্বপনের হাতে আমি তাই আমারে তুলিয়া দিতে চাই। যেই সব ছায়া এসে পড়ে দিনের রাতের ঢেউয়ে — তাহাদের তরে জেগে আছে আমার জীবন; সব ছেড়ে আমাদের মন ধরা দিত যদি এই স্বপনের হাতে!   পৃথিবীর […]

হুলিয়া – নির্মলেন্দু গুণ (এক কথায় অসাধারণ)

আমি যখন বাড়িতে পৌঁছলুম তখন দুপুর, আমার চতুর্দিকে চিকচিক করছে রোদ, শোঁ শোঁ করছে হাওয়া। আমার শরীরের ছায়া ঘুরতে ঘুরতে ছায়াহীন একটি রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে৷ কেউ চিনতে পারেনি আমাকে, ট্রেনে সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে একজনের কাছ থেকে আগুন চেয়ে নিয়েছিলুম, একজন মহকুমা স্টেশনে উঠেই আমাকে জাপটে […]

এবারই প্রথম তুমি – নির্মলেন্দু গুণ

ভুলে যাও তুমি পূর্বেও ছিলে মনে করো এই বিশ্ব নিখিলে এবারই প্রথম তুমি। এর আগে তুমি কোথাও ছিলে না ছিলে না আকাশে, নদী জলে ঘাসে ছিলে না পাথরে ঝর্ণার পাশে। এবারই প্রথম তুমি। এর আগে তুমি কিছুতে ছিলে না। ফুলেও ছিলে না, ফলেও ছিলে না […]

মুখোমুখি – নির্মলেন্দু গুণ

তাড়াতে তাড়াতে তুমি কতদূর নেবে? এই তো আবার আমি ফিরে দাঁড়িয়েছি । জীবনের নশ্বর শরীর ছুঁয়ে যে বালক একদিন উত্তাল নদীর জলে ঝাঁপ দিয়েছিল, সাপের ফণায় তার কচি হাত রেখে যে বালক বলেছিল মনসাকে আমি না কখনো; তাড়াতে তাড়াতে সাপ কতদূর নেবে তাকে? এই তো […]

গতকাল একদিন – নির্মলেন্দু গুণ

গতকাল বড়ো ছেলেবেলা ছিল আমাদের চারিধারে, দেয়ালের মতো অনুভূতিমাখা মোম জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে আমারা দেখেছি শিখার ভিতরে মুখ । গতকাল ছিল জীবনের কিছু মরণের মতো সুখ । গতকাল বড়ো যৌবন ছিল শরীরে শরীর ঢালা, ফুলের বাগান ঢেকে রেখেছিল উদাসীন গাছপালা । আমরা দু’জনে মাটি খুঁড়ে-খুঁড়ে লুকিয়েছিলাম […]

স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর – নির্মলেন্দু গুণ

জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত বেরিয়ে এসেছো পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও। তোমার পরমায়ু বৃদ্ধি পাক আমার অস্তিত্বে, স্বপ্নে, প্রাত্যহিক বাহুর পেশীতে, জীবনের রাজপথে, মিছিলে মিছিলে; তুমি বেঁচে থাকো, তুমি দীর্ঘজীবী হও। তোমার হা-করা মুখে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অবধি হরতাল ছিল একদিন, ছিল […]

আগ্নেয়াস্ত্র – নির্মলেন্দু গুণ

পুলিশ স্টেশনে ভিড়,আগ্নেয়াস্ত্র জমা নিচ্ছে শহরের সন্দিগ্ধ সৈনিক।সামরিক নির্দেশে ভীত মানুষের শটগান,রাইফেল,পিস্তল এবং কার্তুজ,যেন দরগার স্বীকৃত মানত,টেবিলে ফুলের মতো মস্তানের হাত। আমি শুধু সামরিক আদেশ অমান্য করে হয়ে গেছি কোমল বিদ্রোহী,প্রকাশ্যে ফিরছি ঘরে অথচ আমার সঙ্গে হৃদয়ের মতো মারাত্তক একটি আগ্নেয়াস্ত্র,আমি জমা দেইনি। Views: 573

আকাশ ও মানুষ – নির্মলেন্দু গুণ

কবে থেকে আকাশ দাঁড়িয়ে আছে একা, তার বুক থেকে খসে পড়েছে কত তারা। বেঁচে থাকলে আরো কত তারাই খসবে, তা নিয়ে আকাশ কি দুঃখ করতে বসবে? না, বসবে না, আমি বলছি, লিখে নাও, আকাশকে তো মহান মানি এ-কারণেই। মনুষ্যবৎ হলে কি মানুষ তাকে মানতো? প্রিয়জন […]