image_pdf

নীল পাঞ্জাবীওয়ালা বাবুটা

একটা ছেলে যখন একটা মেয়েকে নক দেয়, প্রথম দুই একদিন মেয়েটি কিছু না বললেও কয়েকদিন যেতেই মেয়েটি ছেলেটির সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে দেবে, অপমান করবে, রাগ দেখাবে অথবা ছেলেটার কোনো কথার আর কোনো উত্তর দেবে না। একটা ভদ্র ছেলে কোনোভাবেই ঐ অপমান সহ্য করতে […]

পালিয়ে যাওয়া মেয়ের প্রতি বাবার চিঠি

পালিয়ে যাওয়া মেয়ের প্রতি বাবার চিঠিঃ মা’রে, শুরুটা কিভাবে করবো বুজে উঠতে পারছিলাম না। যেদিন তুই তোর মায়ের অস্তিত্ব ছেড়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলি সেদিন থেকে তোকে মা বলে ডাকতে শুরু করলাম। তোকে মা ডাকতে গিয়ে নিজের মা হারানোর ব্যাথা ভুলেই গিয়েছিলাম। তোর মাকেও কোনদিন মা ছাড়া […]

খেলাঘর – নির্মলেন্দু গুণ

শিশুরা খেলাঘর করে । তারা হাঁড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন নিয়ে বড়দের মতো সংসার সংসার খেলে । তারপর একসময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ঘুমভাঙ্গার পর শুরু হয় তাদের অন্যখেলা । এক্কা-দোক্কা, গোল্লাছুট কিংবা কানামাছি ভোঁ ভোঁ ! বড়োরাও খেলাঘর করে । তাদের বাসন-কোসনগুলো আকৃতিতে বড়ো, তাদের কামনা বাসনার […]

তুমি ও কবিতা – মহাদেব সাহা

তোমার সাথে প্রতিটি কথাই কবিতা, প্রতিটি মুহুর্তেই উৎসব- তুমি যখন চলে যাও সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব আলো নিভে যায়, বইমেলা জনশূন্য হয়ে পড়ে, কবিতা লেখা ভুলে যাই। তোমার সান্নিধ্যের প্রতিটি মুহূর্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো মনোরম একেটি তুচ্ছ বাক্যালাপ অন্তহীন নদীর কল্লোল, তোমার একটুখানি হাসির অর্থ এককোটি […]

বেঁচে আছি স্বপ্নমানুষ – মহাদেব সাহা

আমি হয়তো কোনোদিন কারো বুকে জাগাতে পারিনি ভালোবাসা, ঢালতে পারিনি কোনো বন্ধুত্বের শিকড়ের একটু জল- ফোটাতে পারিনি কারো একটিও আবেগের ফুল আমি তাই অন্যের বন্ধুকে চিরদিন বন্ধু বলেছি; আমার হয়তো কোনো প্রেমিকা ছিলো না, বন্ধু ছিলো না, ঘরবাড়ি, বংশপরিচয় কিচ্ছু ছিলো না, আমি ভাসমান শ্যাওলা […]

মগ্নজীবন – মহাদেব সাহা

এই এটুকু জীবন আমি দিওয়ানার মতো ঘুরেই কাটিয়ে দিতে পারি দিগ্‌ভ্রান্ত নাবিকের মতো অকূল সমুদ্রে পারি ভাসাতে জাহাজ; আমার সমগ্র সত্তা পারি আমি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দিতে কোনো সুফী আউলিয়ার মতো ধ্যানের আলোয়, ঝরা বকুলের মতো পথে পথে নিজেকে ছড়াতে পারি আমি ছেঁড়া কাগজের মতো […]

আশাগুলি – নির্মলেন্দু গুণ

জ্যা-মুক্ত হয়নি চিত্ত অধীর মিলনে কোনোদিন । পরশে খুলেছে দ্বার, বারবার কেটেছে অস্থির ঘুমে শূন্য চিরশয্যা তুমি-হীন । অপক্ব মৈথুনে বিবসনা শ্লীলতা ভাঙেনি শব্দ, আমাদের অবিমৃষ্য যুগল যৌবন অথচ জেগেছে কামে সুপ্তোত্থিতে, প্রিয়তমে মুখর মৃণালে, প্রিয় নামে । তোমাকে বেসেছি ভালো তীব্রতম বেদনার লাগি । […]

রসাল ও স্বর্ণলতিকা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রসাল কহিল উচ্চে স্বর্ণলতিকারে – শুন মোর কথা, ধনি, নিন্দ বিধাতারে। নিদারুণ তিনি অতি; নাহি দয়া তব প্রতি; তেঁই ক্ষুদ্র-কায়া করি সৃজিলা তোমারে। মলয় বহিলে, হায়, নতশিরা তুমি তায়, মধুকর- ভরে তুমি পড় লো ঢলিয়া; হিমাদ্রি সদৃশ আমি, বন-বৃক্ষ-কুল-স্বামী, মেঘলোকে উঠ শির আকাশ ভেদিয়া! দূরে […]

স্মৃতি – মহাদেব সাহা

সে আসে আমার কাছে ঘুরে ঘুরে যেন এক স্রোতস্বিনী নদীর সুবাস, ভালোবাসা সে যেন হৃদয়ে শুধু ঘুরে ঘুরে কথা কয়, চোখের ভিতর হতে সুগভীর চোখের ভিতরে, সে আসে প্রতিদিন জানালায় ভোরের রোদের মতো বাহুলগ্ন আমার প্রেমিকা; সে আসে প্রত্যহ এই আলোকিত উজ্জ্বল শহরে, ইতিহাস আরো […]

মেয়েদের অ আ ক খ – মল্লিকা সেনগুপ্ত

অনেক তো হল মানবিকতার ভাষ্য পৃথিবীটা তবু একচুলও এগোল না এবার তাহলে মানবিকতাই হোক একুশ শতকে স্বপ্ন দেখার চোখ স্বরবর্ণ অয় অজগর আসছে তেড়ে ছোট্ট মেয়ের স্বপ্ন ঘেরে আমার তোমার সবার চোখে ময়াল সাপের মতন ও কে ? ইঁদুর ছানা ভয়েই মরে ধর্ষিত সে ভীষণ […]

চোখ – মল্লিকা সেনগুপ্ত

কিছুতেই বোঝে না সে ভালবাসা শিয়রে এসেছে বিছানার পাশে রাখা ছোট্ট সাদা আলো ভালবাসা সন্তর্পণে সেখানে এসেছে | আঁচল উড়তে দেখে যুবকটি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উড়ে আসা ঘোড়া দেখে— গবেষণাগারে ফেলে এসেছে সে আতস চশমা আকুলতা স্পর্শ করে তাকে তবু সে চেনে না চোখ, যে নয়নে […]

আমি সম্ভবত খুব ছোট কিছুর জন্য – হুমায়ুন আজাদ

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো ছোট ঘাসফুলের জন্যে একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো দোয়েলের শিসের জন্যে শিশুর গালের একটি টোলের জন্যে […]

বাঙলা ভাষা – হুমায়ুন আজাদ

শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী- একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী। আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার। তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়- হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়। লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ […]

কবর – জসীম উদ্দিন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক। এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা, সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা! […]

অনন্ত প্রেম – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা, অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা, অসীম অতীতে চাহিতে […]