image_pdf

আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি – নির্মলেন্দু গুণ

সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি, রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি। আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি। শহিদ মিনার থেকে খসে-পড়া একটি রক্তাক্ত ইট গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ […]

বসন্তের একটি বাংলা উদ্ধৃতি – মহাদেব সাহা

চুনা-ওঠা দেয়ালের মতো প্রকৃতির এই খসখসে গালে আর কী রং মাখাবে চৈত্র, তোমার পকেটে ভাঁজ-করা শতবর্ষের শীতকাল, মাতাল হাওয়ায় যতই এই বার্ধক্য ঢেকে দিতে চাও তার মুখমণ্ডলে জমে আছে উত্তর গোলার্ধের অনন্ত বরফ তার শরীর ২৫ ডিগ্রি মাইনাস শীত রাত্রে; কেনা জ্যেত্স্না, গোলাপ আর সৌরভের […]

কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি – মাহবুব উল আলম চৌধুরী

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায় ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য। যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য আলাওলের ঐতিহ্য কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও কবিতার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে পলাশপুরের মকবুল আহমদের […]

আমার জীবন – মহাদেব সাহা

আমার জীবন আমি ছড়াতে ছড়াতে এসেছি এখানে, আমি কিছুই রাখিনি- কুড়াইনি তার একটিও ছেঁড়া পাতা, হাওয়ায় হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি শিমুল তুলোর মতো সব সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্মৃতি, আমি এই হারানো জীবন আর খুজি নাই সেই ফেলে আসা পথে; ছেঁড়া কাগজের মতো ছড়াতে ছড়াতে এসেছি আমাকে। পথে […]

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি – মহাদেব সাহা

তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি কতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি গীতিকবিতার, কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান, বনে বনে ঘুরে আহরণ করেছি পাখির শিস্ উদ্ভিদের কাছে নিয়েছি শব্দের পাঠ; তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি সংগ্রহ করেছি আমি ভোরের শিশির, তোমাকে লেখার […]

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া – মহাদেব সাহা

সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া, গোলাপের বিরুদ্ধে হুলিয়া, হৃদয়ের তর্জমা নিষিদ্ধ আর মননের সম্মুখে প্রাচীর বিবেক নিয়ত বন্দী, প্রেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা; এখানে এখন পাখি আর প্রজাপতি ধরে ধরে কারাগারে রাখে- সবাই লাঞ্ছিত করে স্বর্ণচাঁপাকে; সুপেয় নদীর জলে ঢেকে দেয় বিষ, আকাশকে করে উপহাস। আলোর বিরুদ্ধাচারী আঁধারের […]

চোখ – মল্লিকা সেনগুপ্ত

কিছুতেই বোঝে না সে ভালবাসা শিয়রে এসেছে বিছানার পাশে রাখা ছোট্ট সাদা আলো ভালবাসা সন্তর্পণে সেখানে এসেছে | আঁচল উড়তে দেখে যুবকটি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে উড়ে আসা ঘোড়া দেখে— গবেষণাগারে ফেলে এসেছে সে আতস চশমা আকুলতা স্পর্শ করে তাকে তবু সে চেনে না চোখ, যে নয়নে […]

নিমন্ত্রণ – জসীম উদ্দিন

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি, মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়, তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, ছোট গাঁওখানি- ছোট […]

যেতে নাহি দিব – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি ; বেলা দ্বিপ্রহর ; হেমন্তের রৌদ্র ক্রমে হতেছে প্রখর । জনশূন্য পল্লিপথে ধূলি উড়ে যায় মধ্যাহ্ন-বাতাসে ; স্নিগ্ধ অশত্থের ছায় ক্লান্ত বৃদ্ধা ভিখারিণী জীর্ণ বস্ত্র পাতি ঘুমায়ে পড়েছে ; যেন রৌদ্রময়ী রাতি ঝাঁ ঝাঁ করে চারি দিকে নিস্তব্ধ নিঃঝুম — শুধু মোর […]

অনন্ত প্রেম – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা, অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা, অসীম অতীতে চাহিতে […]

সোজাসুজি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হৃদয়-পানে হৃদয় টানে, নয়ন-পানে নয়ন ছোটে- দুটি প্রাণীর কাহিনীটা এইটুকু বৈ নয়কো মোটে। শুক্লসন্ধ্যা চৈত্রমাসে হেনার গন্ধ হাওয়ায় ভাসে, আমার বাঁশি লুটায় ভূমে, তোমার কোলে ফুলের পুঁজি- তোমার আমার এই-যে প্রণয় নিতান্তই এ সোজাসুজি।। বসন্তীরঙ বসনখানি নেশার মতো চক্ষে ধরে, তোমার গাঁথা যূথীর মালা স্তুতির […]

হিং টিং ছট্ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্বপ্ন দেখেছেন রাত্রে হবুচন্দ্র ভূপ — অর্থ তার ভাবি ভাবি গবুচন্দ্র চুপ। শিয়রে বসিয়ে যেন তিনটে বাদঁরে উকুন বাছিতেছিল পরম আদরে — একটু নড়িতে গেলে গালে মারে চড় , চোখে মুখে লাগে তার নখের আঁচড় । সহসা মিলালো তারা , এল এক বেদে, ‘পাখি উড়ে […]

আগমন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তখন রাত্রি আঁধার হল, সাঙ্গ হল কাজ – আমরা মনে ভেবেছিলেম, আসবে না কেউ আজ | মোদের গ্রামে দুয়ার যত রুদ্ধ হল রাতের মত, দু’এক জনে বলেছিল “আসবে মহারাজ! আমরা হেসে বলেছিলেম “আসবে না কেউ আজ!” দ্বারে যেন আঘাত হল শুনেছিলেম সবে, আমরা তখন বলেছিলেম […]

পুরাতন ভৃত্য – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূতের মতন চেহারা যেমন র্নিবোধ অতি ঘোর— যা- কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্ট বেটাই চোর।” উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে। যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে। বড় প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীত্কার করি ‘কেষ্টা’— যত করি তাড়া নাহি পাই […]

কাগজের নৌকা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছুটি হলে রোজ ভাসাই জলে কাগজ-নৌকাখানি। লিখে রাখি তাতে আপনার নাম, লিখি আমাদের বাড়ি কোন গ্রাম বড়ো বড়ো ক’রে মোটা অক্ষরে যতনে লাইন টানি। যদি সে নৌকা আর-কোনো দেশে আর-কারো হাতে পড়ে গিয়ে শেষে আমার লিখন পড়িয়া তখন বুঝিবে সে অনুমানি কার কাছ হতে ভেসে […]