image_pdf

শুনুন কমরেডস – অমিতাভ দাশগুপ্ত

সব সময় বিপ্লবের কথা না ব’লে যদি মাঝে মাঝে প্রেমের কথা বলি— .                  আমাকে ক্ষমা করবেন, কমরেডস। সব সময় ইস্তেহার না লিখে যদি মাঝে মাঝে কবিতা লিখতে চাই— .                 […]

ছোট গল্প: ক্রায়োনিকস

ভিন্ন মহাদেশ, ভিন্ন ধারায় শিক্ষা, গবেষণা ও পেশা, তবু বাংলা ভাষার প্রতি পরম প্রেম ও গল্পরচনার প্রতি তীব্র আকিঞ্চন তাঁকে জাগিয়ে রাখে সাহিত্যের সমুদ্রে। একযুগেরও বেশি সময় ধরে সারস্বতসাধনায় নিমগ্ন ইন্দ্রাণী দত্তের গল্প প্রকাশিত হল… মনা দত্ত পবিত্র এই ঘরটায় প্রায় ঘন্টা দেড়েক বসে আছে। শতদল মেসোর বাইরের ঘর একটা সোফার ওপর কালচে নীল তোয়ালে , তার ওপরে বসে আছে পবিত্র, পায়ের কাছে কচ্ছপ ছাপ জ্বলে জ্বলে যাচ্ছে-সামনের চেয়ারে শতদল মেসো। ঘরে দুটো মোড়া , একটা তক্তপোষ -তাতে মলিন চাদর;সন্ধ্যে সাতটা হবে-মশারি তোলা হয় নি এখনও।  ঘরের দেওয়াল নীলচে সবুজ , বড় ঘর।  একটাই টিউব জ্বলছে- মাকড়শার জাল আর কালো ঝুল টিউবের সর্বাঙ্গে-ঘরের সব কোণে আলো পৌঁছচ্ছে না। আধো অন্ধকারে দুটো রসোগোল্লা চামচ দিয়ে কেটে কেটে খাচ্ছিল পবিত্র। খুব ঠান্ডা রসগোল্লা-শতদল মেসো ফ্রিজ থেকে বের করে দিয়েছে। চামচে সামান্য আরশোলার গন্ধ। পবিত্র একবার শতদল মেসোর মুখের দিকে তাকালো। […]

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

আজ রাত্রে বালিশ ফেলে দাও, মাথা রাখো পরস্পরের বাহুতে, শোনো দূরে সমুদ্রের স্বর, আর ঝাউবনে স্বপ্নের মতো নিস্বন, ঘুমিয়ে পোড়ো না, কথা ব’লেও নষ্ট কোরো না এই রাত্রি- শুধু অনুভব করো অস্তিত্ব। কেন না কথাগুলোকে বড়ো নিষ্ঠুরভাবে চটকানো হ’য়ে গেছে, কোনো উক্তি নির্মল নয় আর, […]

খেলাঘর – নির্মলেন্দু গুণ

শিশুরা খেলাঘর করে । তারা হাঁড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন নিয়ে বড়দের মতো সংসার সংসার খেলে । তারপর একসময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ঘুমভাঙ্গার পর শুরু হয় তাদের অন্যখেলা । এক্কা-দোক্কা, গোল্লাছুট কিংবা কানামাছি ভোঁ ভোঁ ! বড়োরাও খেলাঘর করে । তাদের বাসন-কোসনগুলো আকৃতিতে বড়ো, তাদের কামনা বাসনার […]

ঘুম আর স্বপ্নের মহড়া – মহাদেব সাহা

কত দিন ঘুমের ভেতরে এই অনন্ত এস্রাজ, জলপরিদের ডানার কল্লোল বাতাসে উড়ছে তার উত্তাল সোনালি চুল, এই অস্থির স্বপ্নের মধ্যে হারিয়েছি সুখের শৈশব। আজ যতই খুলতে যাই ঘুমের তুড়িতে সেই নিঃশব্দ দরোজা অন্ধ প্রাচীর নেমে আসে সহস্র উলঙ্গ রাত্রি, উলঙ্গ আঁধার এইখানে আর কোনো শব্দ […]

রসাল ও স্বর্ণলতিকা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রসাল কহিল উচ্চে স্বর্ণলতিকারে – শুন মোর কথা, ধনি, নিন্দ বিধাতারে। নিদারুণ তিনি অতি; নাহি দয়া তব প্রতি; তেঁই ক্ষুদ্র-কায়া করি সৃজিলা তোমারে। মলয় বহিলে, হায়, নতশিরা তুমি তায়, মধুকর- ভরে তুমি পড় লো ঢলিয়া; হিমাদ্রি সদৃশ আমি, বন-বৃক্ষ-কুল-স্বামী, মেঘলোকে উঠ শির আকাশ ভেদিয়া! দূরে […]

আমার জীবন – মহাদেব সাহা

আমার জীবন আমি ছড়াতে ছড়াতে এসেছি এখানে, আমি কিছুই রাখিনি- কুড়াইনি তার একটিও ছেঁড়া পাতা, হাওয়ায় হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি শিমুল তুলোর মতো সব সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, স্মৃতি, আমি এই হারানো জীবন আর খুজি নাই সেই ফেলে আসা পথে; ছেঁড়া কাগজের মতো ছড়াতে ছড়াতে এসেছি আমাকে। পথে […]

লোকটা জানলই না – সুভাষ মুখোপাধ্যায়

বাঁ দিকের বুক পকেটটা সামলাতে সামলাতে হায়! হায় ! লোকটার ইহকাল পরকাল গেল ! অথচ আর একটু নীচে হাত দিলেই সে পেতো আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ, তার হৃদয় ! লোকটা জানলোই না ! তার কড়ি গাছে কড়ি হল। লক্ষ্মী এল রণ-পায়ে দেয়াল দিল পাহাড়া ছোটলোক হাওয়া […]

প্রতিদান – জসীমউদ্দীন

আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। যে মোরে করিল পথের বিবাগী; পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি; দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হয়েছে মোর; আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার […]

কবর – জসীম উদ্দিন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ, পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক। এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা, সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা! […]

সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। রাশি রাশি ভারা ভারা ধান-কাটা হল সারা, ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা– কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা॥ একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা— চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা। পরপারে দেখি আঁকা তরুছায়ামসী-মাখা গ্রামখানি মেঘে ঢাকা […]

যেতে নাহি দিব – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি ; বেলা দ্বিপ্রহর ; হেমন্তের রৌদ্র ক্রমে হতেছে প্রখর । জনশূন্য পল্লিপথে ধূলি উড়ে যায় মধ্যাহ্ন-বাতাসে ; স্নিগ্ধ অশত্থের ছায় ক্লান্ত বৃদ্ধা ভিখারিণী জীর্ণ বস্ত্র পাতি ঘুমায়ে পড়েছে ; যেন রৌদ্রময়ী রাতি ঝাঁ ঝাঁ করে চারি দিকে নিস্তব্ধ নিঃঝুম — শুধু মোর […]

যাবার দিন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যাবার দিনে এই কথাটি বলে যেন যাই – যা দেখেছি, যা পেয়েছি, তুলনা তার নাই। এই জ্যোতিসমুদ্র মাঝে       যে শতদল পদ্ম রাজে তারি মধু পান করেছি, ধন্য আমি তাই। যাবার দিনে এই কথাটি জানিয়ে যেন যাই।। বিশ্বরূপের খেলাঘরে কতই গেলেম খেলে, অপরূপকে দেখে […]

অনন্ত প্রেম – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শত বার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা, অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা, অসীম অতীতে চাহিতে […]

সমালোচক – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাবা নাকি বই লেখে সব নিজে। কিছুই বোঝা যায় না লেখেন কী যে! সেদিন পড়ে শোনাচ্ছিলেন তোরে, বুঝেছিলি? – বল্‌ মা, সত্যি করে। এমন লেখায় তবে বল্‌ দেখি কী হবে।। তোর মুখে মা, যেমন কথা শুনি তেমন কেন লেখেন নাকো উনি। ঠাকুরমা কি বাবাকে কক্‌খনো […]