রোমান্টিক বাংলা SMS

রোমান্টিক বাংলা SMS

কজন প্রেমিকের কাছে চন্দ্র হলো তার প্রেমিকার মুখ।আর জোছনা হলো প্রেমিকার দীর্ঘশ্বাস।


আমার ভালোবাসা সেদিন সার্থক হবে…যে দিন ভালোবাসার মানুষটি ১ফোটা চোখের জল ফেলে বলবে…আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।


প্রিয়জন যদি থাকে পাশে, মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ আমারি কাছে। ভালোবাসা বুঝি তখনি সত্যি হয় , যখন ভালোবাসার মানুষটি মনের মত হয়।
বুক ভরা ভালোবাসা আমি রেখেছি তোমার জন্য____তুমি যে আমার আমি যে তোমার____তুমি শুধু আমার জন্যে


মানুষের মাঝে আছে মন, মনের মাঝে প্রেম, প্রেমের মাঝে জীবন, জীবনের মাঝে আশা, আশার মাঝে ভালবাসা, আর সেই ভালোবাসার মাঝে শুধুই তুমি?


মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ভালবাসা,যার মধ্যে ভালোবাসা নেইতার কোনো দুর্বলতাও নেই, ভালোবাসার জন্য মানুষ সবকিছু ছেড়ে দেয়। আরসেই ভালোবাসা তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায় !!!


মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ভালবাসা,যার মধ্যে ভালোবাসা নেইতার কোনো দুর্বলতাও নেই, ভালোবাসার জন্য মানুষ সবকিছু ছেড়ে দেয়। আরসেই ভালোবাসা তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায় !!!

লাগবে যখন খুব একা,চাঁদ হয়ে দিবো দেখা ..মনটা যখন থাকবে খারাপ,স্বপ্নে গিয়ে করবো আলাপ ..কষ্ট যখন মন আকাশে,তাঁরা হয়ে জ্বলবো পাশে


যদি দেখা না হয় ভেবোনা দূরে আছি। যদি কথা না হয় ভেবোনা ভূলে গেছি। যদি না হাসি ভেবোনা অভিমান করেছি। যদি ফোন না করি ভেবোনা হারিয়ে গেছি। মনে রেখো তোমায় আমি ভালোবাসি।


ভালবাসার তালে তালে চলব দুজন এক সাথে। কাছে এসে পাসে বসে মন রাখ আমার মনে। শপ্ন দেখ্ব দুজন মিলে, ঘর কর ছি এক সাথে। আর কি লাগে প্রিথিবিতে??? বউ আনব ভালবেসে।


১০

তোর জন্য আনতে পারি আকাশ থেকে তারা, তুই বললে বাচতে পারি অক্সিজেন ছাড়া। পৃথিবী থেকে লুটাতে পারি বন্ধু তোরি পায়, এবার তুই বল, এভাবে আর কত মিথ্যা বলা যায়!!!

১১

তোমার মুখের হাসি টুকু লাগে আমার ভালো,তুমি আমার ভালবাসা বেঁচে থাকার আলো।রাজার যেমন রাজ্য আছে আমার আছ তুমি,তুমি ছাড়া আমার জীবন শূধু মরুভুমি।


১২

ফোন করতে পারিনা নাম্বার নাই বলে, খবর নিতে পারিনা সময় নাই বলে, দাওয়াত দিতে পারিনা বেশি খাও বলে, শুধু sms করি ভালবাসি বলে!


১৩

মিষ্টি চাঁদের মিষ্টি আলো,বাসি তোমায় অনেক ভালো.মিটি মিটি তারার মেলা,দেখবো তোমায় সারাবেলা. নিশিরাতে শান্ত ভুবন, চাইবো তোমায় সারাজীবন


১৪

নদীর পারে বসে আমি লিখছি কবিতা~ ~দুই নয়নে ভাসে শুধু তোমার ছবিটা~ ~মেঘলা আকাশ একলা আমি” একলা আমার মন~ ~ভাবছি কবে হবে তুমি আমার আপন জন~


১৫

বুকের কষ্ট চাপা দিয়ে” ঝরছে চোখের জল~ ~মনের মানুষ ভুলে গেছে” কাকে দিবো Call~ ~মেঘ হীন আকাশে” চাদের নেই আলো~ ~এই পৃথিবীতে আমি ছারা” সবাই আছে অনেক ভালো~

১৬

নদীর পারে বসে আমি লিখছি কবিতা~ ~দুই নয়নে ভাসে শুধু তোমার ছবিটা~ ~মেঘলা আকাশ একলা আমি” একলা আমার মন~ ~ভাবছি কবে হবে তুমি আমার আপন জন~


১৭

বুকের কষ্ট চাপা দিয়ে” ঝরছে চোখের জল~ ~মনের মানুষ ভুলে গেছে” কাকে দিবো Call~ ~মেঘ হীন আকাশে” চাদের নেই আলো~ ~এই পৃথিবীতে আমি ছারা” সবাই আছে অনেক ভালো~


১৮

হৃদয় জুড়ে আছ তুমি,সারা জীবন থেক.আমায় শুধু আপন করে,বুকের মাঝে রেখ.তোমায় ছেড়ে যাবনাতো,আমি খুব দূরে.ঝড় তোপান যতই আসুক,আমার জীবন জুড়ে


১৯

ফুলে ফুলে সাজিয়ে রেখেছি এই মন, তুমি আসলে দুজনে সাজাবো জীবন, চোখ ভরা স্বপ্ন বুক ভরা আশা, তুমি বন্ধু আসলে দেবো আমার সব ভালবাসা…


২০

এক পৃথিবীতে চেয়েছি তোমাকে, এক সাগর ভালবাসা রয়েছে এ বুকে , যদি কাছে আসতে দাও, যদি ভালবাসতে দাও, এক জনম নয় লক্ষ জনম ভালবাসব তোমাকে

২১

যদি চাদঁ হতাম সারা রাত পাহারা দিতাম!যদি জল হতাম-সারা দেহ ভিজিয়ে দিতাম।যদি বাতাস হতাম-তোমার কানে চুপি চুপি বলতাম-আমি তোমাকে ভালবাসি.


২২

টাপুর টুপুর বৃষ্টি লাগছে দারুন মিষ্টি, কী অপরুপ সৃষ্টি দেয় জুড়িয়ে দৃষ্টি, বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় তাজা ফুলের গন্ধয়ে, মনটা নাচে ছন্দে উতলা আনন্দে, জানু তোমার জন্য


২৩

আমার জীবনে কেউ নেই তুমি ছাড়া, আমার জীবনে কোনো স্বপ্ন নেই তুমি ছাড়া , আমার দুচোখ কিছু খোজেনা তোমায় ছাড়া, আমি কিছু ভাবতে পারিনা তোমায় ছাড়া , আমি কিছু লিখতে পারিনা তোমার নাম ছাড়া, আমি কিছু বুঝতে চাইনা তোমায় ছাড়া !


২৪

যদি বৃষ্টি হতাম…… তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে দিতাম। চোখে জমা বিষাদ টুকু এক নিমিষে ধুয়ে দিতাম। মেঘলা বরণ অঙ্গ জুড়ে তুমি আমায় জড়িয়ে নিতে,কষ্ট আর পারতো না তোমায় অকারণে কষ্ট দিতে..!


২৫

ভালবেসে এই মন, তোকে চায় সারাক্ষন। আছিস তুই মনের মাঝে, পাশে থাকিস সকাল সাঝেঁ। কি করে তোকে ভুলবে এই মন, তুই যে আমার জীবন।। তোকে অনেক ভালবাসি


২৬

আকাশ বলে তুমি নীল। বাতাস বলে তুমি বিল। নদী বলে তুমি সিমা হিন। চাঁদ বলে তুমি সুন্দর। ঘাস বলে তুমি সবুজ। ফুল বলে তুমি অবুজ। কিন্তু আমি বলি, “তুমি কেমন আছ?”


২৭

চোখে আছে কাজল কানে আছে দুল,ঠোট যেন রক্তে রাঙা ফুল,চোখ একটু ছোট মুখে মিষ্টি হাসি,এমন একজন মেয়েকে সত্যি আমি ভালোবাসি।


২৮

যদি চাদঁ হতাম সারা রাত পাহারা দিতাম!যদি জল হতাম-সারা দেহ ভিজিয়ে দিতাম।যদি বাতাস হতাম-তোমার কানে চুপি চুপি বলতাম-আমি তোমাকে ভালবাসি.


২৯

পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে ধনী। যার একটি সুন্দর মন আছে,, যার মনে নাই কোন অহংকার,, নাই কোন হিংসা। আছে শুধু অন্যের জন্য ভালোবাসা.


৩০

তোমায় সুয্য ভাবিনা যা অস্ত যাবে, তোমায় ফুল ভাবিনা যা ঝরে যাবে, তোমায় নদী ভাবিনা যা বয়ে যাবে, তোমায় সময় ভাবিনা যা চলে যাবে, তোমায় আমি আমার জান ভাবি যা চিরদিন রয়ে যাবে।এক বিন্দু ভালোবাসা দাও আমি সিন্দু হৃদয় দিব।


৩১

যদি চাদঁ হতাম সারা রাত পাহারা দিতাম!যদি জল হতাম-সারা দেহ ভিজিয়ে দিতাম।যদি বাতাস হতাম-তোমার কানে চুপি চুপি বলতাম-আমি তোমাকে ভালবাসি.


৩২

পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে ধনী। যার একটি সুন্দর মন আছে,, যার মনে নাই কোন অহংকার,, নাই কোন হিংসা। আছে শুধু অন্যের জন্য ভালোবাসা.

৩৩

তোমায় সুয্য ভাবিনা যা অস্ত যাবে, তোমায় ফুল ভাবিনা যা ঝরে যাবে, তোমায় নদী ভাবিনা যা বয়ে যাবে, তোমায় সময় ভাবিনা যা চলে যাবে, তোমায় আমি আমার জান ভাবি যা চিরদিন রয়ে যাবে।এক বিন্দু ভালোবাসা দাও আমি সিন্দু হৃদয় দিব।


৩৪

কী নিষ্ঠুর তুমি?কেমন তোমার মন?কীভাবে থাকতে পার ভূলে সারাক্ষন?মনে কী পরেনা একটুও আমায়


৩৫

যদি মন কাঁদে, আসব বর্ষা হয়ে।! যদি মন হাসে, আসব রোদ্দুর হয়ে। যদি মন ওড়ে, আসব পাখি হয়ে। যদি মন খোঁজে, আসব তোমার জান হয়ে!


৩৬

যদি এমন কাউকে পেতাম যে আমাকে অন্তর দিয়ে ভালবাসবে যার সব ভালবাসা আমায় গিরে থাকবে.তবে আমি এই পৃথিবীর বিনিময়েও তাকে হারিয়ে যেতে দিতাম না.


৩৭

পৃথিবীর সব কিছু মিথ্যা হলেও , ছেলেদের চোখের অশ্রু কখনো মিথ্যা নয় । কারন মেয়েরা খুব কষ্ট না পেলে , কথনো তাদের দামি অশ্রু ঝরায় না.


৩৮

বুঝবে একদিন তুমি , আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি । সেই দিন হইতো আমি হারিয়ে যাবো ঔ দুরে নিল আকাশে তারার মাঝে । বুঝবে একদিন তুমি , আমি তোমাকে কতটা মিচ করি সেইদিন হইতো আমি হারিয়ে যাবো ঔ মরুভুমির বালির মাঝে । বুঝবে একদিন তুমি , আমি তোমাকে ছাড়া কতটা একা একা থাকি সেই দিন হইতো আমি থাকবোনা এই পৃথিবীতে হারিয়ে যাবো ঔ মাটির ছোট্ট ছোট্ট কনাই…!


৩৯

মনের মাঝে আছি বলে করিস অবহেলা।আমি যখন হারিয়ে যাবো কাদবি সারাবেলা।তবু যদি হারিয়ে যায় তোর অজানতে।সৃতি গুলু যতনে রাখিস মনের সিমান্তে.


৪০

এক ফোঁটা শিশিরের কারনেও বন্যা হতে পারে যদি বাসাটা পিঁপড়ার হয়,তেমনি এক চিমটি ভালবাসা দিয়ে ও সুখ পাওয়া যায় যদি সেই ভালবাসা খাঁটি হয়…


৪১

মানুষের মাঝে আছে মন, মনের মাঝে প্রেম, প্রেমের মাঝে জীবন, জীবনের মাঝে আশা, আশার মাঝে ভালবাসা, আর সেই ভালোবাসার মাঝে শুধুই তুমি?


৪২

তোমার মুখের হাসি টুকু লাগে আমার ভালো,তুমি আমার ভালবাসা বেঁচে থাকার আলো।রাজার যেমন রাজ্য আছে আমার আছ তুমি,তুমি ছাড়া আমার জীবন শূধু মরুভুমি।


৪৩

যদি বৃষ্টি হতাম…… তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে দিতাম। চোখে জমা বিষাদ টুকু এক নিমিষে ধুয়ে দিতাম। মেঘলা বরণ অঙ্গ জুড়ে তুমি আমায় জড়িয়ে নিতে,কষ্ট আর পারতো না তোমায় অকারণে কষ্ট দিতে..!

৪৫

জীবনটা ধর সাগর, আর হৃদয় তার তীর। বন্ধু হলো সাগরের ঢেউ। তোমার সাগরে অনেক ঢেউ থাকতে পারে তবে ব্যাপার হল সবগুলো ঢেউ কি তীর স্পর্শ করতে পারে


৪৬

চাঁদ মেঘে লুকালো তোমাকে দেখে প্রিয়া____ রাত বুঝি ঘুমালোএসো না বুকে প্রিয়া____ ঝিরি ঝিরি হাওয়া শিরি শিরি ছোয়া____ঝড় উঠেছে এ মনে হায় এ মনে কেউ জানেনা


৪৭

ফুলের প্রয়োজন সূর্যের আলো, ভোরের প্রয়োজন শিশির, আর আমার প্রয়োজন তুমি, আমি তোমাকে ভালবাসি।


৪৮

মিষ্টি হেসে কথা বলে পাগল করে দিলে,তোমায় নিয়ে হারিয়ে যাব আকাশের নীলে,তোমার জন্য মনে আমার অফুরন্ত আশা। সারা জীবন পেতে চাই তোমার ভালবাসা।


৪৯

ফুলের প্রয়োজন সূর্যের আলো, ভোরের প্রয়োজন শিশির, আর আমার প্রয়োজন তুমি, আমি তোমাকে ভালবাসি।


৫০

মিষ্টি হেসে কথা বলে পাগল করে দিলে,তোমায় নিয়ে হারিয়ে যাব আকাশের নীলে,তোমার জন্য মনে আমার অফুরন্ত আশা। সারা জীবন পেতে চাই তোমার ভালবাসা।


৫১

জানিনা ভালোবাসার আলাদা আলাদা নিয়ম আছে কিনা, তবে আমি কোন নিয়মে তোমাকে ভাল বেসেছি তাও জানিনা, শুধু এইটুকু জানি আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি….


আমাদের সাথে ফেসবুকে যুক্ত হন।

আমাদের আরো এস এম ….

Bangla Happy Birthday SMS




ছোট গল্প: গন্ধ

পেশায় ডাক্তার চন্দন ঘোষের নিবাস উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে। ইতিমধ্যেই তিনটি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে তাঁর, প্রকাশ পেতে চলেছে আরও দুটি। আজ চন্দনের গল্প।

গন্ধটা তাড়া করে বেড়াচ্ছে অঞ্জনকে। আর তাড়া করে বেড়াচ্ছে ছোট উজ্বল সুন্দর দুটো চোখ।  কোথাও স্বস্তিতে দুদন্ড বসতে দিচ্ছে না। পাশের ঘরটার বন্ধ দরজার দিকে তাকালেই কেমন যেন একটা ভয় চেপে বসছে ওকে। দরজা খুললেই ঝাঁপ দিয়ে ঢুকে পড়বে সেই তীব্র গন্ধটা। উগ্র, পচা, নরক থেকে উঠে আসা সেই গন্ধ যেন অঞ্জনের আত্মাকে পর্যন্ত নোংরা করে দিচ্ছে। কিন্তু কোথা থেকে আসছে ওই গন্ধটা? সব তো তন্নতন্ন করে খোঁজা হল!

ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল কদিন আগে। বাড়ির তিনতলায় অঞ্জনদের শোবার ঘরের পাশে একটা বড় ঘর। এই ঘরেরই লাগোয়া একচিলতে জায়গায় ছোট্ট একটা রান্নাঘর। এই রান্নাঘরটা স্পেশালি বানানো হয়েছিল ওর সেজপিসির জন্য। ভদ্রমহিলা ছিলেন অবিবাহিত। অঞ্জনকে মানুষ করার পেছনে ওনার একটা বড় অবদান আছে। তো অভিমানী, জেদি এই সেজপিসির শেষ জীবনের আশ্রয়স্থল ছিল এই ঘর। তার জন্যই এই রান্নাঘরের ব্যবস্থা হয়েছিল।

প্রায় দুই বছর শয্যাশায়ী থেকে তিনি এইঘরেই অবশেষে তিনি মারা যান। তার কিছুদিন পরে এই ঘরে থাকার ব্যবস্থা হয় আর এক অসুস্থ মহিলার। তিনি অঞ্জনের শাশুড়ি। তিনিও এই ঘরেই মারা যান। তারপর থেকে আর কেউ এইঘরে থাকে না।

তাও অনেকদিন হয়ে গেল। তবে রান্নাঘরটা অঞ্জনরা ব্যবহার করে। এই ঘরেই ওদের ফ্রিজ, মিডসেফ, বাসন-কোশন, মালবিকার গানের সরঞ্জাম সব থাকে। সব ঠিকঠাক শান্তিতেই কাটছিল।
ঝামেলা শুরু হল অক্টোবরের এক সন্ধ্যায়। মফস্বল এই শহরে সবে হালকা ঠান্ডার আমেজ শুরু হয়েছে।  রোববার সন্ধের দিকে ওই ঘরটায় কোনও একটা কাজে গেছিল মালবিকা। লাইট জ্বালাতেই হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে সে। অঞ্জন ছুটে এসে শোনে কাচের মিডসেফের পাশে এইমাত্র মালবিকা একটা প্রমাণ সাইজের ধেড়ে ইঁদুর দেখেছে। আলো জ্বালতেই ওটা স্টিলের আলমারিটার নিচে পালিয়েছে। বৌ-এর লাফালাফিতে বাধ্য হয়ে অঞ্জনকে গুঁড়ি মেরে খোঁজার চেষ্টা চালাতে হয়। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। হাল ছেড়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে চলে আসে ওরা। দুতিন দিন বাদে ওরা আবিস্কার করে ফ্রিজের পাশে ইদুরের মল ছড়িয়ে রয়েছে। অঞ্জন তাজ্জব হয়ে ভাবে এই তিনতলায় ইঁদুর আসছে কী করে! তাহলে কি পুবের বারান্দায়  ঝুঁকে পড়া মেহগনি গাছ বেয়েই আসছে ওটা। ভারী অবাক ব্যাপার তো! এরও কয়েকদিন বাদে টুকরো টুকরো করে কাটা কয়েকটা হ্যান্ডটাওয়েল পাওয়া গেল ঘর থেকে। নাঃ! বড় উৎপাত শুরু করেছে তো ধাড়িটা।

কিছু একটা করা দরকার। বাধ্য হয়ে বাজারচলতি র‍্যাটকিলার এনে আটার সঙ্গে মেখে ছড়ানো হল ঘরে। ওমা! কোথায় কী! বিষ তো বিষের মতই পড়ে রইল। স্পর্শ করেও দেখে নি বাছাধন।
নভেম্বরের গোড়ার দিকে নতুন চমক। সন্ধের দিকে ঘরে ঢুকে অঞ্জন দেখতে পেল মিডসেফে নিচের স্লাইডিং ডোর একটু ফাঁকা। আর কাচের ওপাশে একজোড়া ছোট ছোট চোখ জুলজুল করছে। অঞ্জনকে দেখে সে ঘাড় উঁচু করে। গোঁফ নাড়ায়। ল্যাজও তুড়ুক তুড়ুক করে নড়তে থাকে। কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। না, এ তো ধেড়ে নয়, সুন্দর উজ্জ্বল একটা নেংটি। স্লাইডিং ডোর সরালেই তো বাবাজীবন ফাঁদে। মালবিকাকে ডাকে ও।  

একটা ছোট টর্চ নিয়ে আলো ফেলে নেংটিটার দিকে। কী সুন্দর উজ্জ্বল দুটো চোখ। দুহাত সামনের দিকে জড়ো করে একমনে কী একটা কুরকুর করে খেয়ে চলেছে। তা হলে তো শুধু ধেড়ে নয়, এও রয়েছে। তবে কী গোটা একটা ইঁদুরের পাড়া নেমে এসেছে এই ঘরে? মালবিকা যথারীতি চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছে। কালই একটা কিছু বিহিত কর। না হলে আমি এবাড়িতে থাকবো না। কালই নাগেরবাজার চলে যাব।

মহা ফ্যাসাদে পড়েছে অঞ্জন। কী করে এখন! বিষ তো দেওয়া হয়েছিল। কাজ হয়নি। অগত্যা সমীরকে  ফোন করে। ও সব ব্যাপারে অনেক কিছু জানে। যদি কোনও আলোকপাত করতে পারে।

সমীর ফোনে যা বলল তার সারমর্ম হল, বাজারে একধরনের র‍্যাটকিলার পেস্ট এসেছে যাতে ইঁদুরগুলো আটকে যায়, তবে সেগুলো ছাড়িয়ে ফেলে দেওয়া বড় ঝক্কি। পুরোনো মাউসট্র্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া  নতুন একধরনের র‍্যাটকিলার বিস্কুটও পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো একেবারে অব্যর্থ। এগুলো খাবে এখানে আর লাশ পড়বে শ্মশানে। অর্থাৎ ঘরে খাবে আর বাইরে মরবে। যেটা তোমার খুশি কেনো। ছোটবাজারে অন্নপূর্ণা ভান্ডারে পাওয়া যাবে।

শনিবারের বারবেলায় অবশেষে ওই শেষ কিসিমের অর্থাৎ বিষ-বিস্কুটই কিনে আনল অঞ্জন। কোনও  ঝঞ্ঝাট নেই, খালি ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে রাখো। পরদিন সকালে উঠে দেখা গেল ওই চার পাঁচ টুকরো বিস্কুটের একটাও আর পড়ে নেই। মালবিকার মনে একটু স্বস্তি খেলে গেল। দু-তিনদিন আর কোনও উচ্চবাচ্য নেই।  অঞ্জন মালবিকা ক্রমেই মুষড়ে পড়ছে। তা হলে কি বিষও হজম করে নিল এরা?

খেলাটা বোঝা গেল মঙ্গলবার সকালে। ঘুম ভেঙ্গে সকালে চা বানাতে ওঘরে ঢুকতে গিয়ে আঁতকে কঁকিয়ে ওঠে মালবিকা। পায়ের কাছে একটা ছোট ইঁদুর পড়ে আছে। চিৎকার শুনে অঞ্জন দৌড়ে আসে। মরে নি বেচারা।

এখনও ধুকপুক করছে। নড়ার শক্তি নেই। একটা হাল্কা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আছে ঘরটায়। কিন্তু দুর্গন্ধ কেন? ওটা তো এখনও জ্যান্ত!  ঝুঁকে দেখে সেই উজ্জ্বল সুন্দর দুটো ছোটছোট চোখ! এ কি সেই নেংটিটা? একটু মনখারাপ হয়ে যায় অঞ্জনের। কিন্তু কী আর করা। ওটাকে তুলে একটা প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে পিছনের বাগানে ছুঁড়ে দেয় সে। এবার হয়ত একটু স্বস্তি পাওয়া যাবে।

কিন্তু সেদিন বিকেল থেকেই ঘরের মধ্যে সেই দুর্গন্ধটা যেন ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরেরদিন কাজের মাসি লক্ষীদি মিডসেফের তলা থেকে বার করল মাঝারি সাইজের একটা ইঁদুরের মৃতদেহ। ও-ই ওটাকে ফেলে দেবার ব্যবস্থা করল।

জায়গাটায় ফিনাইল ঢালা হল। কিন্তু মজার কথা দুর্গন্ধ কমল না। বরং ক্রমশ যেন বাড়ছে। খাটে, আলমারির গায়ে, পর্দায় সর্বত্র সেই গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে যেন। ঘরে ঢুকলে ভক করে সেই গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ে। গা গুলিয়ে ওঠে। বমি পায়

। মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। কী করে এই গন্ধের হাত থেকে যে রেহাই মিলবে কে জানে। তা হলে কি আরো ইঁদুরের দেহ রয়েছে এই ঘরে?
পরদিন যা বেরোলো তা এককথায় বীভৎস। খাটের নীচে মাছির আনাগোনা দেখে সন্দেহ হওয়াতে নীচু হয়ে টর্চ ফেলে যা দেখা গেল তাতে হতভম্ব অঞ্জন। এক বড় ধেড়ে ইঁদুরের আধগলা দেহ, যার মধ্যে ম্যাগট গিজগিজ করছে।

মালবিকা তো বমিই করে ফেলল ঘেন্নায়। লক্ষ্মীদিকে ডেকে নানান কসরত করে সেই দেহ ফেলে দেওয়া হল পাশের জমির এক গর্তে। গন্ধটা কিন্তু লেগে গেল নাকে। যেতেই চায় না। পাগলের মত  অবস্থা। মরীয়া হয়ে অঞ্জন ঠিক করে আজ অফিসে না গিয়ে ও এটার একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে। মালবিকা তো প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে।

কাজে নেমে পড়ল অঞ্জন। খাট সরিয়ে, মিডসেফ সরিয়ে, আলমারি ফ্রিজ সব ওলটপালট করে দেখতে লাগল কোথায় এই বদমাস ইঁদুরের ঠিকানা? কিন্তু আশ্চর্য কোথাও আর কিছুই নেই। অবশেষে ফিনাইল ঢেলে সারা ঘর ধোয়া হল। ঘরের মধ্যে সুগন্ধি ধূপকাঠি ধরিয়ে দেওয়া হল। এসব করতে করতে সন্ধে। ক্লান্ত শরীর আর মন নিয়ে ওরা যখন শুতে গেল রাতে তখন মনে এক অদ্ভুত আনন্দ। যাক আর কিছুই নেই ওই অলুক্ষুণে ঘরে।  ওই নারকীয় গন্ধ থেকে এবার নিশ্চয়ই মুক্তি।

ভোর হতে না হতে মালবিকা বলে, চল তো দেখি ব্যাপারটা কতদূর। অঞ্জন বলে, আরে দাঁড়াও, দাঁড়াও। ও ঘরে আর আছেটাই বা কী আর হবেই বা কী? মালবিকা বলে, চল আজ একটু জমিয়ে চা খাই। তুমি আজও অফিসে ডুব মার।

চা বানাতে দুজনেই  ছিটকিনি খুলে ঘরের মধ্যে ঢোকে। ঢুকতেই আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই দুর্গন্ধ। মালবিকা দু হাতে মুখ ঢাকা দিয়ে কেঁদে ওঠে। অঞ্জন তো হতভম্ব। আবার সেই গন্ধটা যেন নাক দিয়ে গলার ভিতর ঢুকে পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে। গতকালের খাওয়া ভাত যেন এক্ষুণি উঠে আসবে পেট থেকে।

তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সেই গন্ধ ওদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কাপ, প্লেট, বাসন কোশন,ফ্রিজ মায় খাবার জলের বোতল সব জায়গায় সেই একই গন্ধ। ইদানীং  ওঘর থেকে যেন শোবার ঘরেও ছড়িয়েছে গন্ধটা। বিছানা, বালিশে,জামাকাপড়ে এমন কি গায়েও যেন সেই গন্ধ।

মালবিকাও যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে। ভালো করে খেতে পারে না, কথাও কম বলছে, চুল আঁচড়ায় না। ওর সবসময় মনে হচ্ছে গন্ধটা যেন ধীরে ধীরে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে। ছড়িয়ে যাচ্ছে ওর সারা শরীরে। সর্বদা সর্বত্র শুঁকে শুঁকে ওই গন্ধের ভূত যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে সে।  গতকাল রাতে অনেকদিন পরে তারা যখন ঘনিষ্ঠ হয়েছিল মালবিকা অঞ্জনের সারা গা শুঁকে শুঁকে হঠাৎ বলে ওঠে , এই তো, এই তো সেই গন্ধ। উঁহ! পচে গেছে, সব পচে গেছে। সব মরা ইঁদুর হয়ে গেছে। বলতে বলতে ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

ভোরে উঠেই পাগলের মতো অঞ্জন সমীরকে ফোন করে। ও ব্যাপারটা আগে থেকেই খানিকটা জানত। সমীর শান্ত গলায় বলে, তোকে তো একটা শান্তি-স্বস্ত্যয়ন করিয়ে নিতে বলেছিলাম। শুনলি না। আজই মালবিকাকে কলোনি মোড়ের ডাঃ গৌতম বোসকে দেখিয়ে নে একবার। উনি খুব ভালো সাইকিয়াট্রিস্ট।




Doctor Bou

Doctor Bou – Part( 5 ) | ডাক্তার বউ – পার্ট( ৫ )

তুলিকে বুঝাতে হবে প্রিয় মানুষের একটু অবহেলা কেমন লাগে! অবশ্য তুলি অনেক বার ফোনে ট্রাই করেছে আমার সাথে কথা বলার জন্য কিন্তু আমি ফোন রিসিভ করিনি! এক সপ্তাহ পরে ,,,,,
একদিন অফিস থেকে বাসায় তুলির কথা খুব মনে হচ্ছে !
হাসপাতাল থেকে আসার পর একদিনও তুলির সাথে দেখা হয় নাই!
তুলিকে দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে! মন থেকে তুলির জন্য ছট ফট করছে! আসলে আমাদের মনটা খুবয় বিয়াদপ যেই মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে সেই মানুষগুলোর কাছে বার বার ফিরে যেতে মন চাই! অনেক ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম তুলিকে ক্ষমা করে দিবো আসলে তুলিকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিছি! আমার যায়গায় কেউ হয়লে হয়তো ক্ষমা করতে পারতো কিনা জানি না! আমি তুলির ভালোবাসায় বড্ড বেশি দুর্বল হয়ে পরছি!

তুলির নাম্বারে ছোট্ট করে একটা মেসেজ দিলাম ,,, জান তোমাকে খুব মিস করতাছি আসবা কি এখন! আমি জানি তুলি এই মেসেজ দেখার পর তুলি ওদের বাসায় এক মুহূর্ত থাকবে না ! আমার কাছে ছোটে আসবে! বারবার ক্ষমা চাইবে আমার কাছে! ঘুম ধরেছে অনেক তাই একটু ঘুমানোর ধরকার! চোখের পাতাগুলো বন্ধ হয়ে আসছে! কখন ঘুমিয়ে পরছি জানি না! আমার পায়ের কাছে কারো কান্নার আওয়াজে ঘুম বাঙ্গলো !
তাকিয়ে দেখি তুলি কান্না করছে ,, তুলির চেহারা আগের থেকে অনেক পাল্টে গেছে , চোখের নিচে কালো দাগ পরে গেছে মনে হয় অনেক কান্না করছে আর ঠিক মতো ঘুমাই নি! আগের তুলির সাথে এখন কার তুলির কোন মিল নেই! আমি ওঠে দারালাম তুলির হাত ধরে আমার কাছে তুলে নিলাম ,, নিয়ে বল্লাম আবার এমন করবে!

:- কোন দিনই না তুমি যা বলবা তাই করবো! শুধু তপমার বুকে একটু ঠায় দিয়ো(তুলি)
:- চাকরি থেকে রিজাইন দিছো কেন?
:- আমি আর চাকরি করবো না! এখন থেকে পরিবারের লোকদের সময় দিবো!
(তুলি) :- চাইলেই চাকরি করা অবস্থায় পরিবারের লোকদের সময় দেওয়া যাবে !
:- আচ্ছা আমি আর এই ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না! আমো চাকরি করবো না ব্যাস করবো না!
:- আচ্ছা আর কখনো বলবো না চাকরি করতে ! কিন্তু আমায় প্রতিদিন অনেক অাদর করতে হবে !
:- হ্যা আমার বাবুটাক আদর করার জন্যয় তো এসেছি!
:- একটু কাছে আসো না!
:- কাছেই তো এসেছি : আর একটু কাছে আসো না তুলি আমার আরো আমার অনেক কাছে আসলো!

তুলির কোমরে হাত দিয়ে তুলিকে আমার বুকের সাথে মিশেয়ে নিলাম! তুলি এখন আমার খিব কাছে তুলি নিঃশ্বাস আমি শিনতে পাচ্ছি ! আমি কোন কিছু বোঝার আগেই তুলির কোমল দুটি ঠোঁট আমার ঠোঁটের সাথ মিলে গেলো! আমার ধম বন্ধ হওয়া অবস্থা হয়ে গেছে তুলিকে ছারিয়ে দিলাম!
:- তুলি বল্লো ছারলা কেন!
:- আমার তো দম বন্ধ হয়ে মারতে বসেছিলাম বলার আগেই তুলির ঠোঁ আবার একত্রে হয়লো! আমিও কম কিসের তুলিকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম! অনেক দিনের জমানো ভালোবাসা তুলিকে আজ ফিরত দিবো! আমি জানি তুলিও আজ তার জমানো ভালোবাসা এক সাথে সব ফিরত দিবে! দুজনে দুজন ভালোবাসার সাগরে হারিয়ে গেলাম……………………….!!!!!

_____________________সমাপ্ত___________________

[কেমন হলো বন্ধুরা গল্পটি ভালো লাগলে জানাবেন]

Doctor Bou | ডাক্তার বউ




Chosmawala Cheleti

চশমাওয়ালা ছেলেটি – পার্ট( ২ ) | Chosmawala Cheleti – Part( 2 )

নাহিদ আনহার দিকে তাকিয়ে আছে । কেন যে সে নিজেও জানে না । কেন জানি মায়ার জালে সে তাকিয়ে আছে ।হঠাৎ কে জানি ধাক্কা দিলো নাহিদ কে ।
নাহিদ : ও জাহিদ তুই
জাহিদ : কি দেখিস ভাবি পছন্দ হলো নাকি
নাহিদ : হুম
জাহিদ : কিইইইইই ?
নাহিদ : না কি বলিস আমি কেনো পছন্দ করবো চল চল ওদিক যাই
জাহিদ : (ভাবছে ডাল মে কুচ কালা হ্যা )
আচ্ছা চল ।

 

ঘুরা শেষে রাতে
নাহিদ চোখ বন্ধ করে মেয়ে টার কথা ভাবছে ” কি মায়া আছে তার মাঝে বারবার কেন ভাবছি তার কথা । তবে কি আমি ওর মায়ায় জড়াচ্ছি । নাহ এটা কেন হবে ? না এটা হতে পারে না (কেন হতে পারে না পরে জানবেন )

তারপরের দিন
খাবার টেবিলে
জাহিদ : তুই আজ আমার কলেজে চল বন্ধুদের সাথে পরিচয় করাবো তোর ।
নাহিদ : আচ্ছা

কলেজে
আমি আর শাম্মি আজও গল্প করতে করতে আসতেছিলো
এখন সাবধানেই চলি আমি । হিহি বারবার ভাঙ্গুম নাকি মানুষের জিনিস ।

শাম্মি : তুই দ্বারা আমি একটু রিয়ার সাথে কথা বলে আসতেছি ।

আমি : যা

শাম্মি গেলো আর আমি ওর অপেক্ষা করছিলাম । সামনে দেখলাম ফুলের গাছে ফুল ফুটছে একটু উপরে কিন্তু ভালো লাগছে । খুব নিতে ইচ্ছে করছিল ।
ভাবলাম পারবো ছিঁড়তে ।‌ যেই ভাবা সেই কাজ । ভাগ্যিস সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত আর এদিকে ওতো আসে না ।

নাহিদ দেখলো একটা মেয়ে ফুল ছিঁড়ার চেষ্টা করছে ।
নাহিদ ওদিকে গিয়ে
নাহিদ : এই যে মিস কি করেন

(আমি হঠাৎ ডাক সামলাতে না পেয়ে পড়ে গেলাম । পড়লাম তো পড়লাম কার উপর জানি পড়লাম । কারো উপর পড়ছি তো পড়ছি দেখলাম কি জানি ভাঙ্গে ফেলছি )
আমি দেখলাম ওই যে ভুত ছেলেটা ।
আমি : আপনি
নাহিদ : ( হায় আল্লাহ আবার চশমা ভাঙ্গে ফেলছে এই মেয়ে )
জ্বী
আমি : আবার সরি এইবার আমার দোষ নাই আপনার দোষ । আপনি ডাক দিলেন কেনো দেখলেন তো পড়ে গেলাম । আপনারো ক্ষতি হলো আমারো । ফুলটাও পেলাম না দুরর থাকেন আপনি আমি হাত ধুয়ে নিবো বাই

আমি চলে যাওয়ার পর

নাহিদ : বাহ রে আমি কি করলাম খালি তো জিজ্ঞেস করতে গেছিলাম । থাক যাই হোক চশমা আবার ভাঙ্গে গেছে ভাগ্যিস চোখে বেশি প্রব্লেম নাই । নইলে চশমা ছাড়া দেখতেই পাইতাম না হাহা ।

আমি হাত ধুতে যাচ্ছি দেখি শাম্মি , রিয়া আর একটা ছেলে ।
আমি ওদিক গিয়ে দেখি ওই ছেলে ।
আমি শকড : আপনি না ওখানে ছিলেন এখানে কেমনে ?
জাহিদ : কি বলেন আমি তো এখানেই আছি
আমি : কেমনে সম্ভব ?
শাম্মি : হুম রে ও তো এখানেই আছে গল্প করছে আমাদের সাথে
আমি : কিন্তু
শাম্মি : কিন্তু তিন্তু না নে পরিচিতো হ ইনি আমাদের ১ বছর সিনিয়র কিন্তু রিয়ার ফ্রেন্ড সেই অনুপাতে আমাদেরও ফ্রেন্ড
আমি : ওকে

আমাদের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ হলো। অনেক গল্পও করলাম । কিন্তু আমি একটা জিনিস নিয়ে ভাবছি । জাহিদ যদি‌ ওখানেই ছিলো তাইলে কি ওইটা ওর ভুত ছিল ।
আল্লাহ গো কি হইতাছে আমার সাথে ।

অপরদিকে নাহিদ ভাবছে এলোকেশির কথা , ” নাহিদ কিছুদিন আগে মাঠে এক মেয়েকে দেখে ভিড়ের মাঝে সে শুধুই মেয়েটার চুল দেখতে পেয়েছিলো । সেই সাথে মেয়েটার কাজল কালো চোখ শাড়ি পড়া ছিল মেয়েটা । মুখ না দেখার কারণ মেয়েটা আড়ালে ছিলো আর গান গাচ্ছিলো । ভয়েসও শুনেছিলো নাহিদ কিন্তু খুঁজে পায় নি পড়ে । তারপর থেকে নাহিদের ভাবনায় সেই এলোকেশির স্বপ্ন ।

পরেরদিন
ছুটির দিন হওয়ায় গিটার হাতে নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলাম সকাল ৫:৩০ এ । এই সময় মানুষ কম থাকে তাই মাঠে গিয়ে গান করি আমি । আজ সবাই আসবে শাম্মি আর অন্যান্য বন্ধুরা ।

সবাই আসার পর
সবাই গান করছিলো সাথে আমিও এমন সময় জাহিদ বললো তোমরা থাকো আমার একটা কাজ আছে ।

আমরা বললাম ওকে
কিছুক্ষণ পর নাহিদ গেলো । ও রোজ ই যায় সেখানে সকালে হাঁটার অভ্যাস ।
আমি দেখলাম নাহিদ কে । কিন্তু আমি তাকে জাহিদ ই ভাবলাম । কারণ আমি তো জানি না যে জাহিদের যমজ ভাই আছে ।

আমি : কি রে কাজ হলো
নাহিদ : আমাকে বলছেন ?
আমি : এখানে কি ভুত আছে ?
অবশ্য হতেও পারে মাঝে মাঝে তো আমি তোর ভুত কে দেখি হিহি
নাহিদ : কি বলছেন?
আমি : চল এবার তোর গান করার পালা
নাহিদ : মানে
আমি : ওই তোরা দেখ জাহিদ গান করতে চায় না
নাহিদ : ( এরা আমাকে জাহিদ ভাবছে কিন্তু আমি তো নাহিদ । এদের বলতে হবে)
শুনুন
আমরা কেউ শুনলাম না ।

বাধ্য হয়েই নাহিদ গান করলো কিন্তু ও সেই গানটাই গাইলো যা এলোকেশির মুখে শুনেছিলো ।

“তুমি আমার ঘুম তবু তোমায় নিয়ে ভাবতে পারি না ।
তুমি আমার সুখ তবু তোমাত নিয়ে ঘর বাঁধি না”

আমি : বাহ তুই আমার প্রিয় গানটা গাইছিস থেংক ইউ
নাহিদ : ওয়েলকাম কিন্তু
আমি : কোনো কিন্তু না আচ্ছা চল সবাই বাড়ি যাই আমি যাবো এখন ।

সবাই চলে গেলো । কেউ শুনলো না নাহিদ যে বলতে চাইলো যে সে জাহিদ না ।

চলবে…..




Chosmawala Cheleti

চশমাওয়ালা ছেলেটি – পার্ট( ১ ) | Chosmawala Cheleti – Part( 1 )

আমি আনহা আর আমার বেস্টুর নাম শাম্মি । আজ আমাদের দুজনের ই কলেজ লাইফের প্রথম দিন । আমার ব্যাখ্যা দিতে গেলে শেষ হইবো না আমি হলাম ফাজিলের নাতনি । এতো ফাজলামি করি যে শেষ ই হয় না আর শাম্মি শান্ত আবার ফাজিলও । শাম্মি আর আমার পছন্দ প্রায় একই। মাঝে মাঝে বলি দুজনই একই রকম পোলা কে বিয়া করুম । কিন্তু তা তো হয় না । যাই হোক এখনো আসছে না কেন । ওই মাইয়া নির্ঘাত ঘুম থেকে লেট উঠছে । আজ অব্দি যতোবার বলছি আসতে আমার বাড়ি ওয় লেট ই হইছে।

আসলো মহারানি

আমি : কি আজও দেরি জানু তোমার ( আমরা একে অপরকে জানুই বলি )
শাম্মি : ইয়ে মানে আর কি
আমি : নিশ্চই ঘুমাচ্ছিলি
শাম্মি : কেমনে বুঝলি ?
আমি : তোরে আমি চিনি
শাম্মি : হিহি চল
আমি : হারামি চল

রিকশায়

আমি : জানু
শাম্মি : কও
আমি : আমার না পছন্দের তালিকায় আরেকটা জিনিস আসছে
শাম্মি : কি আইছে
আমি : চশমাওয়ালা ছেলে
শাম্মি : ওটা আমারো পছন্দ
আমি : হিহি আমি তো জানতাম তোমার আর আমার পছন্দ এক
শাম্মি : হ

এতক্ষণে তো শুনলেন আমাদের কথা । শাম্মি শান্ত আর আমি চঞ্চল । হিহি আমরা পুরোই বিপরীত ।

কলেজে

আমি তো ফাজলামি করতে করতে আর গল্প করতে করতে শাম্মির সাথে যাচ্ছিলাম ।
এমন সময় আমার হাত লেগে কার জানি কি পড়ে গেল এবং তা আবার আমার পায়ের নিচে পড়ে ভেঙ্গেও গেল ।

আমি ভয়ে পাশে তাকালাম এক ছেলের চশমা ভেঙ্গে ফেলছি ।
আমি : ইইইই সরিইইইইইইই সরিইইইইই আমি ইচ্ছে করে ভাঙ্গি নি সরিইইই সরিইইইই (কান ধরে সরি বলছিলাম )
ছেলেটি : ইটস ওকে ( ছেলেটার নাম হলো নাহিদ । শান্ত স্বভাবের একজন ছেলে । কিন্তু সিরিয়াসও বটে । আবার একটু রাগি বাট সবসময় না । )
আমি : প্লিজ প্লিজ সরি
ছেলে : বাদ দেন ব্যাপার না ভুল হতেই পারে
সামান্য হাসি দিয়ে ( হাসির‌ কারণ মেয়েটা কান ধরছে ঠিক বাচ্চাদের মতো ব্যবহার এটা দেখে নাহিদ না হেসে পারলো না )
আমি : সিওর‌ তো‌
নাহিদ : হুম

সামনে থেকে শাম্মি এসে বললো : কি রে কি হইছে
আমি : ওই যে হাত লেগে এক ছেলের চশমা ভাঙ্গে গেছে ।
শাম্মি : দেখে চলিস না কেন
আমি : ভুল হয়ে গেছে তো সরি বললাম তো
শাম্মি : কে ওই‌ ছেলে

আমি দেখিয়ে দিতে যাবো তখন দেখি ছেলেটা চলে গেছে ।‌

কলেজ এর ক্লাশ শেষে বাড়ি যাচ্ছিলাম ।
এমন সময় শাম্মি এক ছেলের সাথে ধাক্কা খেলো আর দুজনেই পড়ে গেল।

আমি দুজন কে উঠতে সাহায্য করলাম । ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখি ওই ছেলেটা কিন্তু এর চোখে চশমা আছে । কিন্তু কেমনে আমার হাত লেগে তো ভাঙ্গে গেছিল মে বি চশমা । আমি ভাবলাম মে বি এক্সট্রা ছিলো । কিন্তু আরেকটা ব্যাপার এই ছেলেটার চোখ গুলো একটু আলাদা লাগছে । সকালে বড্ড মায়াবি লাগছিল । এসব ভাবছিলাম কিন্তু পরেই ভাবলাম আমার কি ।

আমি : আপনি ????
ছেলেটি : মানে
আমি : সকালে যে দেখা হলো আমাদের ।
ছেলেটি : কি বলছেন আমি তো প্রথম আপনাকে দেখলাম
আমি : না আমার হাত লেগে যে আপনার
চশমা ভাঙ্গে গেল যে
ছেলেটি : কখন
আমি : এইতো সকালে
ছেলেটি : আপনার মনে হয় ভুল হচ্ছে আমার চশমা তো ঠিক আছে
আমি : আম্মু কি হচ্ছে সকালে কি ভুত ছিলো নাকি

কি একটা ভেবে ছেলেটা চলে গেল ।

আনহা ভাবলো ওর ই হয়তো ভুল । বাড়ি চলে গেলো সে‌।

বাড়িতে বাহিদ বসে আছে । এমন সময় কে যেন তার কাধে হাত দিলো হঠাৎ ।

নাহিদ চমকে উঠলো ।
ছেলেটি বললো : কখন আসছিস‌?
নাহিদ : সকালে‌
ছেলেটি : জানাস নি কেনো ?
নাহিদ : ভাবলাম সারপ্রাইজ দিবো তাই তোর কলেজও গেছিলাম কিন্তু তোকে পাই নি । বরং আমার চশমা ভাঙ্গে গেছে ।

চশমা ভাঙ্গার কথা শুনে ছেলেটি বললো : একটা মেয়ের হাত লেগে ভাঙ্গে গেছে নাকি‌?
নাহিদ : হুম
ছেলেটি : তার মানে তোর কথাই বলছিলো
নাহিদ : কে ?
ছেলেটি : যার হাত লেগে তোর চশমার মৃত্যু হইছে
নাহিদ : কি বললো ওই মেয়ে
ছেলেটি : বাহ খোঁজ নিচ্ছিস ব্যাপার কি
নাহিদ : হুর না কোনো ব্যাপার না
ছেলেটি : হাহা বাদ দে চল খেতে বসি
নাহিদ : হুম চল

ছেলেটি হলো জাহিদ আর নাহিদের পরিচয় তো দিলাম ই । এরা যমজ ভাই । ছোট থেকেই একসাথে থাকতো । কিন্তু এখন তারা আলাদা থাকে । এর মানে এই না যে তারা কোনো বিপদে দূরে থাকে । নাহিদের ব্রেইন অনেক ভালো । তাই সে ঢাকায় থাকে । বুয়েটে চান্স পেয়ে সে চলে যায় ।
জাহিদ এবার এইচএসসি দিবে ।

কি ভাবছেন ? এরা একই ক্লাশে কেনো না ? এসএসসি দেওয়ার আগে জাহিদ এর পা ভেঙ্গে যায় তাতে সে এক বছর পিছিয়ে পড়ে । তার ব্রেইনও ভালো ।

বিকালে
জাহিদ : চল ঘুরতে যাই
নাহিদ : আচ্ছা

পার্কে
জাহিদ : তুই দাড়া আমি কোক কিনে আনতেছি
নাহিদ : ওকে

নাহিদ হাটছিল
হঠাৎ লক্ষ করলো এক মেয়ে পিচ্চিদের সাথে খেলছে
নাহিদ ভাবলো এ তো সেই মেয়ে যার সাথে ধাক্কা খাইছিলাম । হাহা এর চেহারায় অদ্ভুদ মায়া আছে তাই তো ভোলা যায় না ।

খেলতে খেলতে নাহিদ আর আমার ধাক্কা লাগলো।
আমি : আম্মু আবার কার কি ভেঙ্গে ফেললাম
ও না ভাগ্যিস কিছু ভাঙ্গে নি।
আপনিইইইই ?
নাহিদ : জ্বী
আমি : আমি আপনারই চশমা ভাঙ্গে ফেলছিলাম মনে করে দেখেন ?
তখন তো চলে গিয়েছিলেন
নাহিদ : হুম আমারই ভেঙ্গে ফেলছিলে
আমি : তো কলেজ ছুটির পর অস্বীকার করলেন কেন ?
নাহিদ : কখন
আমি : কলেজ শেষে
নাহিদ : না‌
আমি : হয় আমার মাথা নষ্ট নাহয় আপনার আল্লাহ গো ।

এমন সময় পিচ্চি গুলো আমাকে টেনে নিয়ে গেল । কিন্তু আমি কনফিউজ হয়ে গেলাম ।

চলবে…..

চশমাওয়ালা ছেলেটি | Chosmawala Cheleti – Next Part

চশমাওয়ালা ছেলেটি – পার্ট( ২ ) | Chosmawala Cheleti – Part( 2 )




Boss-Jokhon-Girlfriend-Part-3

বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ৩ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 3 )

ভাবতাছি কালকেই রিজাইন লেটার টা দিয়ে দিবো।
তাই লেটারটা লিখে রাখলাম।
পরের দিন অফিসে গিয়ে ম্যামের হাতে রিজাইন লেটারটা দিয়ে চলে আসলাম।
শেষবারের মতো দেখে নিলাম নিলিমাকে।
ওকেমন করে যেনো তাকিয়ে ছিলো আমি বুঝতে পারলাম
ও আমাকে ভালোবাসে কিন্তু আমার সাথে ওর যায়না।
তাই চলে আসলাম ওখান থেকে।
সেদিন যেমনটা ও চলে আসছিলো।তবে ওর আর আমার
মধ্যে অনেক পার্থক্য।
জানিনা আর দেখা হবে কিনা তবে আমি ওকে এখনো অনেক ভালোবাসি।তাইতো চলে আসলাম।
রাতে খেয়ে দেয়ে বাবা মার সাথে কথা বলতাছি তখন
স্যার এর ফোন এলো
আমি জানতাম উনি ফোন দিবেন তাই কি কি বলা লাগবো সব আগে থেকেই গুছিয়ে নিয়েছি।
কিন্তু উনি ফোন করে যা বললেন তার উত্তর দেওয়ার ভাষা আমার ছিলোনা।
আমি ফোনটা ধরলাম
– আসসালামু আলাইকুম স্যার।(আমি)
– স্যার বলতাছো কেনো তুমি তো চাকরি ছেড়ে দিছো।(স্যার)
– তবুও স্যার অনেক দিন কাজ করছি তাই স্যার বলাটাই ভালো।(আমি)
– আচ্ছা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে সত্তি বলবা?(স্যার)
– বলেন?(আমি)
– তুমি একদিন একটা মেয়ের কথা বলছিলা আমাকে আমি বলছিলাম না যদি আমি সেই মেয়েটিকে খুজে পাই তাহলে তোমার হাতে তুলে দিবো।তুমি সেদিন মেয়েটির নাম বলোনাই। কিন্তু আমি মেয়েটাকে খুজে পেয়েছি।
তাই তোমার হাতে তুলে দিতে চাই তুমি কালকে সকালে আসবা আমার বাড়িতে।(স্যার)
– না মানে আচ্ছা।(আমি)
ফোনটা কেটে গেলো। আমি গভির চিন্তায় পড়ে গেলাম।
স্যার আবার কোন মেয়েকে খুজে পেলো।
কি যে হবে এখন। এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতে
ঘুমিয়ে গেলাম।

পরের দিন সকালে নাস্তা করে একটু বিশ্রাম নিয়ে চলে আসলাম।
স্যার এর বাসার দিকে যত এগুচ্ছি ততই উত্তেজনা বাড়ছে।
নিজেকে যেনো ধরে রাখতে পারতাছি না।
শেষমেশ ডুকলাম বাসায়।
দেখলাম স্যার বসে আছে
– স্যার আসবো?(আমি)
– হুমম আসো।(স্যার)
– স্যার কাকে খুজে পেয়েছেন আপনি? (আমি)
– উপরের ঘর এ আছে।
বলে রুমটা দেখিয়ে দিলো।
আমি উপরে উঠলাম রুমের দিকে পা বাড়ালাম।
যানিনা কে সে তবে উত্তেজনায় আমার হাত পা
অবশ হয়ে আসতাছে। আমি বুঝতে পারতাছি আমার
ঘাম ছুটে গেছে।
তবুও দুরুদুরু বুকে রুমে ডুকলাম।
ডুকে দেখি মেয়েটা ওদিক ফিরে বসে আছে।
আমি ডাক দিলাম
– কে আপনি??(আমি)
মেয়েটা এদিক ঘুরতেই নিজেকে মনে হলো আমি স্বপ্ন দেখতাছি।
আমি তাকিয়ে দেখি নিলিমা।
আমি নিচে নেমে আসলাম।
স্যার এর দিকে তাকিয়ে দেখি মুচকি মুচকি হাসতাছে।
– স্যার এইটা কি স্যার নিলিমা ম্যাম ওখানে কেনো?(আমি)
– আমি সব শুনছি কালকে রাতে।আর ভনিতা করার দরকার নাই। আমি প্রথমে মানতে চাই নাই কিন্তু মেয়েটার কথা চিন্তা করে আর না করে থাকতে পারলাম না।
জানো মেয়েটা কালকে রাত থেকে কিছু খায়নি শুধু কান্না করছে। তারপর অনেক কষ্টে ওর মুখ থেকে আমি সব কথা বের করছি।(স্যার)
– স্যার এক প্লেট ভাত হবে।(আমি)
– হুমম নিয়ে যাও।(স্যার)
আমি টেবিল থেকে এক প্লেট ভাত নিয়ে নিলিমার রুমে গেলাম।
– নিলিমা?(আমি)
– হুমম।(নিলিমা)
– এদিকে আসো?(আমি)
– না যাবো না?(নিলিমা)
– আমি খাবার নিয়া আসছি।(আমি)
– খাবো না আমি?(নিলিমা)
– এতো রাগ আচ্ছা তাহলে আমি চলে যাই।(আমি)
উঠে দাড়াতেই।
– আর এক পা এগুলে না পা ভেঙে দিবো।(নিলিমা)
– আচ্ছা যাবোনা এখন তো খেয়ে নাও।(আমি)
– তুমি খাইয়ে দিবা নয়তো খাবো না।(নিলিমা)
– আমার ঠেকা পড়ছে খাইয়ে দিতে।(আমি)
– ওই কি বললা?(নিলিমা)
– কিছুনা বললাম খাইয়ে দিবো।(আমি)
– হুমম গুড বয়?(নিলিমা)
আমি নিলিমাকে খাইয়ে দিলাম। আর কিছুক্ষণ পর ও আমাকে খাইয়ে দিলো এভাবে খাবার টা শেষ করে আমি বললাম
– এতোই যখন ভালোবাসো তাহলে সেদিন ফিরিয়ে কেনো দিছিলা।(আমি)
– সেদিন বলছি আজকে আর বলতে পারবো না।(নিলিমা)
– কেনো?(আমি)
– এসব কথা বাদ এখন বলো কালকে রিজাইন দিছো কেনো?(নিলিমা)
– তো কি করবো তোমাকে কতোটা ভালোবাসি তাতো জানোই তুমি যদি আমার সামনে থাকতা তাহলে আর আমি নিজেকে সামলাতে পারতাম না তাই।(আমি)
খেয়াল করলাম মেয়েটা কাদতাছে।
হঠাৎ করে আমাকে জড়িয়ে ধরলো নিলিমা। আর বললো
– কথা দাও আর কোনোদিন ছেড়ে যাবানা।(নিলিমা)
– কথা দিলাম কোনোদিন ও ছেড়ে যাবোনা।(আমি)
আমিও নিলিমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।
হারাতে চাইনা আর।
#সমাপ্তি

আফসোস আমার লাইফে এরকম কিছু হলোনা।
যাইহোক যারা গল্পটা পড়ছেন অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

বস যখন গার্লফ্রেন্ড | Boss Jokhon Girlfriend

বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ১ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 1 )
বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ২ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 2 )




Boss-Jokhon-Girlfriend-Part-2

বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ২ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 2 )

কিছুটা এগুতেই দেখতে পেলাম ম্যামকে।
অন্যদিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে।
নিলিমা নাম ম্যাম এর তাই দেখতে ইচ্ছা হলো
আমি এই প্রথম বার তার মুখের দিকে তাকালাম
– ম্যাম কি জন্য ডেকেছিলেন?(আমি)
ম্যাম আমার দিকে ঘুরতেই বড়ো ধরনের একটা শক খেলাম।
এটা তো সেই নিলিমা যাকে কলেজ লাইফে ভালোবাসছিলাম কিন্ত আফসোস সে না বুঝেই চলে গেছিলো।
আমি নিলিমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
একটুও বদলায় নি সে একদম আগের মতোই আছে।
আমি কিছু বলতে পারতাছি না শুধু চুপচাপ দেখছি তাকে।
অনেকদিন পর দেখা চোখ সরতে চায়না তবুও চোখটা নামিয়ে নিলাম হাজার হলেও তিনি আমার বস।
তার দিকে তাকানোটা ঠিক না।
– ভালো আছিস?(নিলিমা)
– হুমম অনেক ভালো আপনি?(আমি)
– হুমম ভালো। কিন্তু আপনি বলছিস কেনো?(নিলিমা)
– হাজার হলেও আপনি আমার অফিসের বস আপনাকে তুই বলাটা অভদ্রতা।(আমি)
– খোচা দিয়ে কথা বলার অভ্যাস টা গেলোনা তোর।(নিলিমা)
– আমার কোনো অভ্যাস ই পালটায়নি শুধু আশেপাশের মানুষগুলা পালটে গেছে।(আমি)
– দেখ সানভি সেদিন আমি তোকে বুঝতে পারি নাই কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারলাম তোকে ছাড়া আমার চলবে না তখন তোকে অনেক খুজছি কিন্তু পাই নাই।(নিলিমা)
– যখন ছিলাম তখন বুঝেন নাই আর যখন বুঝছেন তখন আমি অনেক কিছু বুঝে গেছি।(আমি)
– আমি এখনো তোকে ভালোবাসি আর তুই।(নিলিমা)
– অফিসের বসের সাথে প্রেম ভালোবাসার কথা বলাটা ভদ্রতা না।(আমি)
– তুই কি ভুলে গেছিস আমাকে।(নিলিমা)
– আমাকে বাসায় যেতে হবে রান্না করা হয়নাই?(আমি)
– আর একটু থেকে যা?(নিলিমা)
– না কালকে অফিসে দেখা হবে।(আমি)
– এটা কি আসলেই তুই।যে সানভি আমাকে বলতো আর দু মিনিট থেকে যা আজ সেই সানভি বলতাছে সময় নাই যেতে হবে?(নিলিমা)
– সময় অনেক কিছু পালটে দেয়।আর ৪ টা বছর কেটে গেছে অনেক লম্বা সময়। যাই হোক আমি আসি?(আমি)

চলে আসলাম ওখান থেকে। ভাবতেও পারি নাই এমনভাবে দেখা হবে তার সাথে।
আচ্ছা এবার ক্লিয়ার করে বলি ব্যাপারটা তখন আমি কলেজে পড়তাম। নিলিমা হুমম এই নিলিমা ছিলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। অনেক ভালোবাসতাম ওকে কিন্ত বলতে পারি নাই।
বলছিলাম একদিন সেদিন ও কি বলেছিলো যানেন আমার মতো লো ক্লাস ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করাটাই ওর ভুল হইছে।
আরো অনেক অপমান করছিলো সেদিন।
তারপর চলে আসছিলাম ওই শহর ছেড়ে।
তারপর কেটে গেছে চারটা বছর।
এতোদিন পর এসে যদি কেউ বলে ভালোবাসি তাহলে কি তাকে এতো সহজে মেনে নেওয়া যায়।

যাই হোক বাসায় চলে আসছি এবার রান্না করা লাগবো।
কিন্তু ভালো লাগতাছে না তাই অর্ডার দিলাম খাবার।
খাবার চলে আসলো আমি খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
পরের দিন অফিসে গিয়ে আবারো আগের মতো কাজ করতে লাগলাম।
খেয়াল করতে পারি নিলিমা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
কিন্তু কিছু বলে না ।
– আচ্ছা সানভি একটা কথা বলবো?(নিলিমা)
– ম্যাম এইটা অফিস তাই এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে অফিসের বাইরে চলে যায়।(আমি)
– ঠিক আছে কাজ করো।(নিলিমা)
কাজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। আপনারা কি ভাবতাছেন আমি কতো নিষ্ঠুর তাইনা।
আমি এখনো ওকে ভালোবাসি কিন্ত বারবার সেই ভুলটা করতে চাইনা লো ক্লাস একটা ছেলে হয়ে কিভাবে ফার্স্ট ক্লাস একটা মেয়ের সাথে প্রেম করি।

সারাদিন কাজ করার পর ক্লান্ত হয়ে বিছানায় গা টা এলিয়ে দিতেই ঘুম যেনো নেমে আসলো নিমিষেই।
আমি যখস গভির ঘুমে তখন অনেকগুলা কল আসলো আমি ধরলাম।পরের দিন সকালে উঠে দেখি নিলিসা কল দিছিলো অনেকগুলা।
আমি নাস্তা করে অফিসে চলে আসলাম।
নিলিমার কাছে যেতেই।
ও কলারটা চেপে ধরলো আর বললো
– ওই কতোবার কল দিছি ধরো নাই কেনো?(নিলিমা)
– ম্যাম কলারটা ছাড়ুন।(আমি)
– না ছাড়বো না আগে উত্তর দাও?(নিলিমা)
– ম্যাম এরকম করলে আমি চাকরিটা ছেড়ে দিবো।(আমি)
নিলিমা আমার কথা শুনে আমাকে ছেড়ে দিলো।
আমি কাজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম।

মনে হয় চাকরিটা ছেড়ে দিতে হবে।এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারবো না।

এমনিতেও অনেকগুলা কোম্পানি থেকে চাকরির অফার এসেছে বেতন একটু কম হলেও চলে যাবে।
কিন্তু তার আগে বাবা মাকে এখানে নিয়ে আসতে হবে।
তাই পরের দিন অফিসে গেলাম
– ম্যাম আমার দুদিনের ছুটি লাগবে।(আমি)
– কি জন্য?(নিলিমা)
– বাবা মাকে নিয়ে আসবো এখানে তাই।(আমি)
– আচ্ছা।(নিলিমা)
তারপর বাসায় চলে আসলাম।
তারপর কিছু জিনিস কিনে গ্রামে চলে আসলাম।
তারপর গ্রামে গিয়ে বাবার জন্য আনা পান্জাবিটা দিলাম।
পান্জাবিটা হাতে নিয়ে বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো।
মাকে শাড়িটা দিলাম আর ছোট ভাইটাকে একটা টি শার্ট।
তারপর তাদেন বলে শহড়ে নিয়ে আসলাম।

ভাবতাছি কালকেই রিজাইন লেটার টা দিয়ে দিবো।
তাই লেটারটা লিখে রাখলাম।
পরের দিন অফিসে গিয়ে ম্যামের হাতে রিজাইন লেটারটা দিয়ে চলে আসলাম।
শেষবারের মতো দেখে নিলাম নিলিমাকে।
ওকেমন করে যেনো তাকিয়ে ছিলো আমি বুঝতে পারলাম
ও আমাকে ভালোবাসে কিন্তু আমার সাথে ওর যায়না।
তাই চলে আসলাম ওখান থেকে….
চলবে…..

বস যখন গার্লফ্রেন্ড | Boss Jokhon Girlfriend

বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ১ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 1 )
বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ৩ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 3 )




Boss-Jokhon-Girlfriend-Part-1

বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ১ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 1 )

– ম্যাম আমিতো আপনার বডিগার্ড না।(আমি)
– আমি যা বলছি তাই হবে ওকে। সো কথা বাড়াবেন না।(ম্যাম)
– আচ্ছা ঠিক আছে ম্যাম। আমি আসি তাহলে।(আমি)
– আচ্ছা যান।(ম্যাম)

ধুরর কি মুশকিলে পড়লাম আগে তো অফিসের কাজ করতে করতে দিন চলে যেতো আর এখন একটা মেয়ের পিছনে পিছনে ঘুরতে হবে।
যাই হোক কাজ থেকে বেচে তো গেলাম।কিন্তু একটা মেয়ের সাথে সারাক্ষণ থাকাটা যে কতটা অস্বস্তিকর তা কেউ না থাকলে বুঝতে পারবে না।

যাই হোক সেদিনের মতো কাজ শেষ করে বাসায় আসলাম।
বাসা মানে নিজে একা থাকি। বাবা মা গ্রামে থাকে।
কিছুদিন হলো চাকরি পেয়েছি তাই আনা হয়নাই বাবা মা কে।
ভাবতাছি আর কিছুদিন পর নিয়ে আসবো তাদের।

শুনেছি ম্যাম দেখতে খুবই সুন্দর। আমি তাকাই নাই তার দিকে কারন সুন্দরি মেয়েদের চোখে অনেক মায়া একবার মায়ায় পড়ে গেলে বেরুনো অনেক কঠিন।
যেমনটা পড়েছিলাম কলেজ লাইফ এ। আজো সেই মায়া কাটাতে পারি নাই।

ওহ পরিচয় ই তো দেই নাই
আমি সানভি আহমেদ সাকিব। পড়ালেখা শেষ করে একটা কোম্পানিতে চাকরি করতাছি। বেতন ভালো তাই। সরকারি চাকরির কথা আর নাই বললাম।

যাই হোক আমি একা মানুষ রান্না নিজেকেই করতে হয়।
কিন্তু আজকে ইচ্ছা করতাছে না রাধতে। যদি কেউ এসে রান্না করে দিয়ে যেতো তাহলে অনেক ভালো হতো।
ঠিক তখনি বিয়ের কথা মনে পড়লো। এখন একটা বউ থাকলে কতো সুবিধাই না হতো।
কিন্তু কি করবো একজনকে কথা দিয়েছিলাম তাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না। কি বুঝতে পারছেন নাতো।পুরোটা পড়েন বুঝতে পারবেন।

অনেকদিন পর আবার তাকে দেখতে ইচ্ছে হলো।কিন্তু উপায় নাই হয়তো এতোদিনে তার বিয়ে হয়ে গেছে।

পরের দিন অফিসে গেলাম।
গিয়েই ম্যাম এর রুমে গেলাম কারন আজ থেকে আমার কাজ ওখানেই।
আমি গিয়ে তাকে সমস্ত কাজ বুঝিয়ে দিলাম।
কাজ শেষ করতে করতে অফিস টাইম শেষ।
আমি এখনো দেখি নাই তাকে। তাকাই নাই এখনো
তবে খেয়াল করি তিনি আমাকে দেখেন।

– আচ্ছা শুনো?(ম্যাম)
– জি ম্যাম বলেন?(আমি)
– আমি তুমি করে বললে রাগ করবা নাতো?(ম্যাম)
– না আপনি আমার ম্যাম আপনি তুই করে বললেও আমি রাগ করতে পারি না।(আমি)
– আচ্ছা তোমার নাম্বারটা দাও তো।(ম্যাম)
– নাম্বার দিয়ে কি করবেন??(আমি)
– কোনো কিছুর দরকার হলে ফোন দিবো।(ম্যাম)
– ম্যাম কিছু মনে করবেন না আপনার বাবা অনেক ভালো কাজ জানেন কিছুর দরকার হলে তার কাছে থেকে জেনে নিবেন?(আমি)
– আমি নাম্বার দিতে বলছি নাম্বার দিবা এতো কথা বলো কেনো তুমি?(ম্যাম)
– আচ্ছা ম্যাম লিখেন…017985182**…(আমি)
– আচ্ছা ঠিক আছে এবার যেতে পারেন।(ম্যাম)
– ঠিক আছে ম্যাম(আমি)
তারপর বাসায় চলে আসলাম।
অনেকদিন পর আজকে একটা মেয়ের এরকম রাগি কন্ঠ শুনলাম।লাস্ট শুনেছিলাম ৪ বছর আগে।
হয়তো তুমি ভুলে গেছো কিন্তু আমি ভুলি নাই এখনো।

যাই হোক এসব কথা বাদ দেই
রাতে রান্না করে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
ঘুম ভাংতে ভাংতে বেলা ১০ টা বেজে গেছে আজকে এলার্ম
দেই নাই কারন আজকে শুক্রবার অফিস বন্ধ তাই আরকি ।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে একটু আড্ডা দিতে গেলাম।
নতুন কিছু বন্ধু আছে এখানে।অনেকদিন যাওয়া হয়না অনেকদিন মানে সাতদিন। প্রতি শুক্রবার সবাই একসাথে হই।
সারা সপ্তাহ তোা কাজেই চলে যায়।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাছি ঠিক তখনি একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলো
– আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন??(আমি)
– নিলিমা?(ওপাশ থেকে)
নিলিমা নামটা শুনতেই ভিতরটা কেমন যেনো করে উঠলো।
– কোন নিলিমা?(আমি)
– তোমার অফিসের বস আমি?(নিলিমা)
– ওহ ম্যাম আপনি?(আমি)
– হুমম। নাম্বারটা সেভ করে রাখেন?(নিলিমা)
– আচ্ছা ম্যাম?(আমি)
– আজকে বিকেলে একটু দেখা করতে পারবেন।(নিলিমা)
– ম্যাম আজকে তো ছুটির দিন?(আমি)
– আসতে বলছি আসবা বেশি কথা বলবা না তোমার চাকরি তাহলে চলে যাবে।(ম্যাম)
– না ম্যাম আসবো আমি ঠিকানা দেন কোথায় আসতে হবে।(আমি)
তারপর ঠিকানা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
বিকেলে দেখা করতে গেলাম।
কিন্তু জায়গাটা খুবই নিরব আশে পাশে কোনো শব্দ নাই।
শহরের কোলাহল এর মাঝেও এরকম একটা যায়গা আছে জানতাম না।
কিছুটা এগুতেই দেখতে পেলাম ম্যামকে।
অন্যদিকে মুখ করে তাকিয়ে আছে।
নিলিমা নাম ম্যাম এর তাই দেখতে ইচ্ছা হলো
আমি এই প্রথম বার তার মুখের দিকে তাকালাম
– ম্যাম কি জন্য ডেকেছিলেন?(আমি)
ম্যাম আমার দিকে ঘুরতেই বড়ো ধরনের একটা শক খেলাম।
এটা তো সেই নিলিমা যাকে কলেজ লাইফে ভালোবাসছিলাম কিন্ত আফসোস সে না বুঝেই চলে গেছিলো।
আমি নিলিমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
একটুও বদলায় নি সে একদম আগের মতোই আছে।
চলবে … …… ..

বস যখন গার্লফ্রেন্ড | Boss Jokhon Girlfriend

বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ২ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 2 )
বস যখন গার্লফ্রেন্ড – পার্ট( ৩ ) | Boss Jokhon Girlfriend – Part( 3 )




Apon Manush Part 7

আপন মানুষ – পার্ট( ৭ ) | Apon Manush – Part( 7 )

-কি বলবেন আব্বা বলেন? (আমি)
-তুমি কি বুঝতে পেরেছো কিছু? (বাবা)
-হা, আমার কিডনি নষ্ট হয়নি।
এটা আপনার নাটক ছিলো জুঁইয়ের আসল রুপটা প্রকাশ পাওয়ার জন্য তাইনা আব্বা?
-হা, তবে আরেকটা সত্য লুকিয়ে আছে। তা বাবা হয়ে ছেলেকে কিভাবে বলবো বুঝতে পারছি না।
-কি সেটা? বলেন।
-তার আগে বলো, আমি যা জানতে চাইবো তার সত্য জবাব দেবে কিনা?
-হা দেবো, বলেন।
-তুমি সব ধরনের নেশা করো কতোদিন ধরে?
-আব্বা ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

যেদিন প্রথম আপনাদের কাছে জুঁইয়ের কথা বলেছিলাম আর সেদিন আপনারা সরাসরি ওকে ভুলে যেতে বলেন।
তারপরেও কয়েকদিন বলার পরেও যখন মেনে নিলেন না ঠিক তখন থেকেই আমি আপনাদের না জানিয়ে নেশার জগতে চলে যাই।
আমি মদ সহ সব ধরনের নেশার জিনিষ পান করতাম নিয়মিতই।
আমি একটা মেয়ের জন্য আপনাদের না জানিয়ে এই অন্যায়টা করেছি।
আমায় দয়া করে ক্ষমা করে দেন আব্বা।
এসব বলে বাবার দিকে তাকালাম…
ওনার চোখে পানি!
-কি হয়েছে আব্বা, কাঁদছেন কেনো?
-আমরা তো তোমায় কোনকিছুর অভাব দেইনি কখনো।
শুধু ঐ একটা মেয়েকে ভুলে যেতে বলেছিলাম।
কারন মেয়েটির পরিবার সম্পর্কে জানতাম। ওরা ভালো মনের মানুষ না, স্বার্থপর।
আর তুমি আমাদের না বলেই এমন জঘন্য পথ বেছে নিলে?
জানো এতে কতো বড় ক্ষতি হয়েছে তোমার?
-কি হয়েছে আমার? বলেন আব্বা।
-এই নাও, রিপোর্ট টা পড়ে দেখো।
আমি কিডনি নষ্টের ব্যপারটা রিপোর্ট না দেখেই ডাক্তার কে বলতে বলেছিলাম যে তোমার ২টা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে এইটা জানাই দেওয়ার জন্য ।
কারন এতে তুমি বুঝতে পারবে কে
আপন_মানুষ ও কে নকল ভালোবাসার মানুষ।
কে তোমার আপন, কে তোমার পর।
হা বুঝতেও পেরেছো এখন।
কিন্তু আসল রিপোর্টটা পেয়ে…
আর বলতে পারছে না বাবা। বাচ্চাদের মতো কাঁদছে।
আমি রিপোর্ট টা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলাম…
আমার এক ধরনের ক্যান্সার হয়েছে।
তবে সময়মতো এর সঠিক চিকিৎসা করালে এই ক্যান্সার নাকি ভালো হতে পারে।
তার আগে একটা অপারেশন করাতে হবে।
প্রচুর টাকা লাগবে এই চিকিৎসায়।
তারচেয়ে বড় কথা এই অপারেশনে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।কারন অপারেশন সাকসেস হলে অনেকটা বেচে থাকার আশ্বাস পাওয়া জাবে।
-রিপোর্ট পড়ে খুব বেশি অবাক লাগছে না আমার।
কারন বেশ কিছুদিন হলো আমার কেমন জানি লাগে।
মাঝে মধ্যে ভিতরে কষ্ট হয়।
কখনো কখনো গলা থেকে মুখ দিয়ে রক্ত আসে।
কখনো আবার মাথা ঘুরে পড়ে যাই।
আবার কখনো ভিতরের যন্ত্রনায় একা একা লুকিয়ে কাঁদি।
কাউকে বলতে পারিনি। বুঝতে পারতাম আমার ভিতরে বড় কোন সমস্যা হয়েছে।
কিছুদিন হলো তাই সব নেশা বাদ দিয়ে শুধু সিগারেট টানি। তাও খুব বেশি না।
আমি ভেবেছিলাম সব ছেড়ে দিয়ে সবার অজান্তে নিজের চিকিৎসা করাবো।কারন আজ আপন_মানুষ গুলোর জন্য হাজার বছর বাচতে ইচ্ছে করছে।
.
বাবা আমার কাধে হাত রেখেছে।
-আমি ব্যপারটা এখন না বললেও পারতাম খোকা।
কিন্তু ঘরে একটা মেয়েকে এনে দিয়েছি।
মেয়েটা খুবই ভালো। আমি জানি তুমি ওকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নাওনি।
আমি চাই আল্লাহ্ যতদিন তোমায় ভালো রাখে অন্তর ততোদিন মেয়েটাকে আপন করে নাও।
আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে দোয়া করো তোমার রোগটা যেনো ভালো করে দেয় ওই মালিক।
আর তোমার চিকিৎসা আমি করাবো।
যতো টাকা লাগে লাগোক। প্রয়োজনে সব জমি বিক্রি করে দেবো।
-হা আব্বা। মৌ এর জন্যই আজ খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে।
মাত্র কয়টা দিন হলো ও আমাদের বাড়িতে এসেছে। অথচ কতোটা ভালোবাসে ও আমায়।
-হা খোকা।
আর এই ব্যাপারটা তোমার মা বা পরিবারের অন্য কাউকে জানাবে না কিন্তু।
আর আজকেই তোমাকে বাড়িতে নিয়ে যাবো।
তবে তোমার যে ক্যান্সার হয়েছে এটা পরিবারের কাউকে জানানো দরকার নাই।
সবাই এই নিয়ে টেনশনে থাকবে।
শুধু কিডনি নষ্টের ব্যাপারটা মিথ্যা এটাই বাড়ির লোক জানবে।
তবেঐ জুঁই নামের মেয়েটাকে ডিভোর্স না দেয়া পর্যন্ত এটা সবাইকে জানানোর দরকার নাই।
.
বাড়িতে এসে দুইদিন পরই কোর্টে গিয়ে আগে জুঁই নামের মেয়েটাকে মুক্তি দিলাম।
ডিভোর্স দিলাম ওকে।
আজ আমি চিন্তা মুক্ত। আজকেই আমি আমার বউ “মৌ” কে বউয়ের অধিকার দেবো।
এখনো আমাদের স্বামী স্ত্রীর মিলন হয়নি। আজকেই হবে আমাদের নতুন করে বাসর রাত।
.
রাত আট”টা বাজে। খাওয়া দাওয়া সেরে ঘরে ঢুকলাম।
একটুপর মৌ এলো ঘরে,,,ওকে কাছে ডাকলাম…
-আজকে বউ সাজবে তুমি। নিজ হাতে তোমায় সাজিয়ে দেবো আমি।
আজকে হবে আমাদের বাসর রাত।
মৌ লজ্জায় মাথা নিচু করে আমার কাছে আসে।
আমি ওকে নিজ হাতে শাড়ি, গয়না পড়িয়ে বউ সাজিয়েছি।
ও হাসছে মিটিমিটি। সাজানো শেষে ওকে বললাম তুমি খাটে গিয়ে বসো।
খাটে বসে আছে আমার লক্ষি বউ :::::”মৌ।
আমি উঠে ওর ঘোমটা সরিয়ে দিলাম।
ঠিক একটা পরী”কে দেখতেছি আমি। কি সুন্দর লজ্জাময় হাসি ওর।
-এই মৌ…
-হুমম বলো…
-আমি তোমায় খুব কষ্ট দিয়েছি এই কয়টা দিন তাইনা?
-নাহ আমি কষ্ট পাইনি।
গভীর রাতে যখন তুমি উঠে আমার কপালে একটা চুমু দিতে আমি তখন ঘুমের ভান করে থাকতাম।
তখন আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যেতো।
যখন ঘুমের মধ্যেই তোমার ঐ বুকে জড়িয়ে নিতে তখনই বুঝতাম এই লোকটা অনেক ভালো।
শুধু আমায় বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছে না পরিস্থিতির কারনে।
তোমার ভালোবাসার মানুষ যদি তোমার হতো তবে সত্যিই আমি সব মেনে নিতাম।
এমন একটা মানুষের ঘরে চাকরানী হয়ে থাকলেও সুখ।
এই কথাগুলো বলে মৌ আমার বুকে মাথা রাখে।
আমি ওকে বুকের উপর নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ি।
ওর মুখটা আমার মুখের সামনে।
কিছুটা লজ্জাময় হাসি দিয়ে আমায় বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে।
আমি ওর মিষ্টি ঠোটের দিকে তাকাই।
ও যেনো আমার চাহনি আর চাওয়াটা বুঝে ফেলে।
আমাকে পাগল করে দিতে থাকে। আমিও আমার স্ত্রীকে সুখের সাগরে ভাসিয়ে দিতে থাকি।
অবশেষে শুরু হয় আমাদের নতুন জীবন।
.
ভোরে উঠে চেয়ে আছি মৌ এর ঘুমময় মুখের দিকে।
আগামিকাল আমার অপারেশন। হয়তো হতে পারে এটাই আমার শেষ দিন।
তাই এই সত্যটা ওকে জানানো দরকার।
ওকে ধীরে ডাক দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলাম।
ধীরে ধীরে ওকে সব খুলে বললাম।
ও আমায় আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে…
তোমার কিচ্ছুই হবেনা।
আমি নামাজ পড়ে তোমার জন্য দোয়া করবো।
আল্লাহর কাছে আমার স্বামীর প্রান ভিক্ষা চাইবো।
দেখবে তুমি ঠিকই সুস্থ হয়ে যাবে।
-হা পাগলি তাই যেন হয়। আল্লাহ্ আমাকে ভালো করলে আমরা তার দেখানো পথেই সংসার শুরু করবো।
আমার “আপন_মানুষ” কে বুকে নিয়ে নতুন করে জীবন সাজাবো।
এইভাবে কাটিয়ে দিব বাকি জীবন যেখানে আমার ভালোবাসা টুকু শুধুই তোমার………..
পরের দিনই অপারেশন হয়েছিল ৷ আমি জানি মৌ একটু ঘুমায়নি ৷ সারা অপারেশন থিয়্যাটার এর সামনেই বসে ছিল মা-বাবার সাথে ৷
আল্লাহর রহমতে অপারেশন সাকসেসফুল হয় ৷
৪৮ ঘন্টা ছুই ছুই, ,,আমার জ্ঞান ফিরেছে ৷
সবাই অনেক দুঃচিন্তায় ছিল ৷
মায়ের কাছে শুনেছি মৌ নামাজ আমার জন্য অনেক দোয়া করেছে ৷ কান্না-কাটি করে মোনাজাত করেছে আল্লাহর দরবারে ৷ এমন ওর জীবনের বিনীময় আমার জীবনটা ভিক্ষা চেয়েছে আল্লাহর কাছে ৷
আর একটু পরপরই ডাক্তাকদের কাছে জানতে চেয়েছে আমার কী অবস্থা, আমি কি আমার স্বামীর কাছে যেতে পারবো?
ডাক্তারের জবাবের অপেক্ষায় ছিল, কতোক্ষনে আমার কাছে আসবে ৷
অতপর,আমার জ্ঞান ফিরতেই অনুভুব করলাম কেউ একজন আমার হাত শক্ত করে ধরে কান্না করতেছে ৷
চোখ খুলতেই দেখি আমার পাগলী বউটা “মৌ ”
চোখে পানি আর কান্না ভেজা কন্ঠেই আমাকে বলতে লাগলো, ,,বলেছিলাম তোমার কিচ্ছু হবে না ৷
আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছে ৷
তারপর আমি ঈশারায় একটু কাছে আসতে বললাম ৷
শরীর অনেকটা দূর্বল হলেও ওকে জড়িয়ে ধরতে আমার একটুও কষ্ট হয়নি ৷ ওর অনিদ্রা আর কান্না ভেজা চেহারা দেখে কখন যে আমার চোখে পানি চলে আসলো টেরই পাইনি ৷ তবে এই অশ্রু কষ্টের নয় এই অশ্রু জীবন ফিরে পাওয়ার সুখ আর বাকীটা জীবন মৌ এর সাথে কাটাতে সেই সুখেরই বহিঃপ্রকাশ ৷
এতোক্ষনে মৌ এর মাথা আমার বুকের সাথে মিশে গেছে ৷ আস্তে করেই বল্লাম মৌ তুমি আমার সবচেয়ে বড় আপন_মানুষ
অতপর,মৌ বললো তুমি আমার আপনা’র চেয়েও বেশী আপন_মানুষ
শুরু হলো তাঁদের নতুন জীবন, ,,জনম জনমের জন্য তাঁরা দুজন দুজনার আপন_মানুষ
***
_____________________সমাপ্ত__________________
___
গল্পটা সম্পূর্ণই কাল্পনিক ছিলো!
তবে এ গল্প থেকে কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে আমাদের।
আমরা যুবক, যুবতীরা অনেক সময় কারো চেহারায় পাগল হয়ে তাকে অন্ধের মতো ভালোবাসি। অথচ তার সম্পর্কে কোনকিছুর জানার প্রয়োজন মনে করিনা।
আবার মা, বাবার কথাও শুনিনা পরে।কিন্তু মা, বাবা বিষয়ে খোঁজ নিয়েই যদি কোন এক সিদ্দান্ত দেয়।
কিন্তু আমরা মনেকরি তারা কেন মেনে নেয় না?
অবশেষে আমরা গল্পের নায়কের মতো নেশায় ডুবে যাই প্রকাশ্যে বা নিরবে।
তারপর মৃত্যুর পথযাত্রী হয়ে যাই প্রিয় মানুষদের ছেড়ে।
আসুন সবাই এই দিকে একটু খেয়াল করে চলি। আর মা, বাবার অজান্তে বা তাদের অবাধ্য হয়ে কোন কাজ না করি।
কারন তারা কখনোই আমাদের খারাপ চায়না।
মনে রাখবেন অহংকারী শামুক গুলোই শুকনাই পড়ে মরে।
মানুষ কে ভালোবাসার পূর্বে ঠিক করে নিবেন যে সেই মায়া ত্যগ করতে পারেন কিনা।
যদি এমন হারাম ভূলে যাওয়া দায়।
তবে এইসব বিয়ের পূর্বে হারাম প্রেম থেকে দূরে থাকায় উত্তম ।
আর মৌ এর মত মেয়ে জেনো বউ হয় সবার ঘরে (আমিন)
সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়।
পরবর্তীতে আরো ভালো ভালো পোষ্ট নিয়ে আপনাদের সাথে থাকবো ৷ “ইনশা-আল্লাহ”

আপন মানুষ | Apon Manush

১নং পর্ব : আপন মানুষ – পার্ট( ১ ) | Apon Manush – Part( 1 )
২নং পর্ব : আপন মানুষ – পার্ট( ২ ) | Apon Manush – Part( 2 )
৩নং পর্ব: আপন মানুষ – পার্ট( ৩ ) | Apon Manush – Part( 3 )
৪নং পর্ব: আপন মানুষ – পার্ট( ৪ ) | Apon Manush – Part( 4 )
৫নং পর্ব: আপন – মানুষ পার্ট( ৫ ) | Apon Manush – Part( 5 )
৬নং পর্ব: আপন – মানুষ পার্ট( ৬ ) | Apon Manush – Part( 6 )




Apon Manush

আপন মানুষ – পার্ট( ৬ ) | Apon Manush – Part( 6 )

দুপুরে খাওয়ার পর একটু বিছানায় শুয়ে পড়ি। ঘুম আসেনা চোখে।
শুধু টেনশন হচ্ছে আমার।
আমি বুঝতে পারছি জীবনের বড় একটা ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছি আমি।
একটুপর মৌ আমার কাছে এসে বসলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে বউ আমার।
হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো!
রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বললো
-তাড়াতাড়ি মাঠে আসো।
এই বলেই ফোন কেটে দিলো জুুঁই।
আমি ফোন রেখে চেয়ে আছি মৌ এর মুখের দিকে।
শত ব্যথা বুকে চেপে আমার মুখের পানে চেয়ে আছে মেয়েটা।
আমি উঠে আলমাররির ড্রয়ার থেকে টাকা বের করলাম।
প্যান্ট, শার্ট পড়ে বের হওয়ার জন্য মৌ এর সামনে আসলাম।

অসহায়ের দৃষ্টিতে মৌ চেয়ে আছে আমার দিকে।
-আমি যাচ্ছি। তুমি এদিকটা সামলে নিও মৌ।
-হুম যাও। তবে নিজেকে দেখে রেখো। যেখানেই যাও চিন্তা, ভাবনা করে যেও।
আর যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে এসো। ওনাকে নিয়েই এসো।
আমি না হয় তোমার মা, বাবাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করবো।
আর সব সময় ফোনে যোগাযোগ রেখো প্লীজ।
কোন কিছু হলেই ফোন করবে আমায় আমি ঠিকাছে?
কথাগুলো একটানে বলে মেয়েটা চেয়ে আছে আমার দিকে।
জানি কথাগুলো অনেক কষ্টে বলেছে।
আমি ওর কাছে গিয়ে ওর থুতনিটা ধরে বললাম আচ্ছা।
-আমি জানি সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি আজ(আর সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা তোমারি করলাম)।
আমি দিশেহারা হয়ে গেছি মৌ
আমি তোমায় খুব বেশি ঠকিয়ে দিলাম। ক্ষমা চাওয়ার মতো যোগ্যতাও যে নেই আমার।
এই বলে ঘর থেকে বের হলাম আমি।
মাঠে গিয়ে জুঁই কে দেখতে পেলাম।
জুঁই আমায় দেখেই বলল কোথাও যেতে পারবো না আমি।
আমাকে তোমার বাড়িতে নিয়ে যাও।
-কি বলছো এসব পাগলের মতো?!
এই মুহুর্তে তোমায় বাড়িতে নিয়ে গেলে কেউ মেনে নেবে না। এটা অসম্ভব।
-আমি কিছুই শুনতে চাই না।
আমায় বিয়ে করেছো, এখন বউ হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যাবে এটাই শেষ কথা।
-দয়া করে কয়েকটা দিন সময় দাও আমায়। এর মধ্যে একটা ব্যবস্থা করে তারপর নিয়ে যাবো।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
তবে তিনদিন সময় দিলাম। এরমধ্যে আমায় বউ হিসেবে তোমার বাড়িতে নিয়ে যাবে।
জুঁই কথা শুনে কিছুক্ষন ভেবে বললাম
-আচ্ছা বাড়িতে যাও। আমি এদিকটা দেখছি।
এই বলে আবার বাড়িতে চলে এলাম।
এসে দেখি মৌ মায়ের পাশে বসে মা”র মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে।
আমি সোজা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। আমার মাথায় কিছু কাজ করছে না।
তবে কিছু একটা আমি খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি।
একটুপর মৌ ঘরে এলো। আমার পাশে বসে মাথায় হাত দিলো।
-কিছু হয়েছে তোমার, উনি দেখা করেনি?
আমি উঠে বসলাম বিছানায়।
মৌ এর মুখোমুখি বসে ওর চোখের দিকে তাকালাম।
আমার চাওয়া দেখে ও মাথা নিচু করে আছে।

-আচ্ছা মৌ’ আমায় খুব ভালোবাসো তাইনা?
-এসব বলছো কেনো, কি হয়েছে?
-বলো আগে ভালোবাসো কিনা?
-তুমি আমার স্বামী।
স্বামী হলো বিয়ের পর যে কোন মেয়ের কাছে সবচেয়ে
# আপন_মানুষ
# আপন_মানুষকে কে না ভালোবাসে বলো?
-আমার বুকে আসবে একটু?
-হুম, তুমি যে আমার স্বামী। তুমি চাইলে সবই করবো। (লজ্জালজ্জা কন্ঠে)
-তবে এই যে আমি শুয়ে পড়লাম।
তুমি এসে আমার এই বুকে মাথা রেখে একটু শোও।
এর বেশি কিছুই চাইবো না। শুধু তোমায় বুকে নিয়ে একটু শান্তিতে ঘুমাবো।
-ঠিক আছে।
মৌ আমার বুকে মাথা রেখে একটা হাত দিয়ে আমার মাথার চুলে বিলি কাটছে।
আমি চোখ বুঝে ঘুমানোর চেষ্টা করছি।
একটুপর কখন ঘুমিয়ে গেছি জানিনা।
সন্ধ্যার আগে ডাকছে আমায় মৌ
-মা ভাত নিয়ে বসে আছে। চলো ভাত খাই।
উঠে হাতমুখ ধুয়ে পরিবারের সবাই একসাথে বসে খাচ্ছি।
কি সুন্দর সুখ, শান্তির দৃশ্য! ভালোবাসায় ভরা সংসার।

খাওয়া, দাওয়ার পর আমি ঘরে ঢুকতে গিয়ে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম!
মৌ দৌড়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে মাকে ডাক দিলো।
মা, বোন আর বাবা দৌড়ে আসলো।
আমি তখন অচেতন।
আমাকে তাড়াতাড়ি গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়া হলো।
ডাক্তারের সাথে বাবা কথা বলল।
ডাক্তার আমায় পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে গেলো।
আমায় পরীক্ষা, নিরীক্ষা করে ডাক্তার বাইরে গেল।
এবং তিনি বললেন আমার ভিতরে বড় ধরনের কিছু হয়েছে।
ভালো হাসপাতালে পাঠাতে হবে।
আমার বাবা তখন ডাক্তারকে বললেন কোন হাসপাতালে নিতে হবে? কি করতে হবে করুন।
যতো টাকা লাগে লাগোক আমার ছেলের জন্য।
তখন ঐ ডাক্তার আমাকে নিয়ে বগুড়া চলে আসলেন।

সেখানে পরীক্ষা করার পর জানিয়ে দেয়া হলো আমার দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে!!
আমার বাঁচার সম্ভাবনা কম!!
এই খবর শুনে আমার পরিবারের সবাই পাগল হয়ে যায়।
হঠাৎ এমন কেনো হলো আমার?!
আমার মা, বোন সবাই আসে আমার কাছে।
ওরা আমায় জড়িয়ে ধরে কাঁদে।
আর ঐ মৌ নামের মেয়েটা কাঁদেনা সহজে।
ও আমার কাছে থাকে। আমার হাত পা টিপে দেয় সবসময়।
কখনো কখনো আমার মুখের কাছে মুখ নিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে বলে তোমার কিচ্ছু হবেনা দেখো।
আমি আছি তো পাগল
এই বলে মেয়েটা আমায় জড়িয়ে ধরে। পাগলের মতো বলে আমার দুটো কিডনি আমি তোমায় দিয়ে দেবো দেখো
তুমি বাঁচবে
আমি তোমার কিচ্ছু হতে দেবো না।
এসব বলে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা মৌ।
হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে।
ওর কান্না আর আহাজারি দেখে মনে হয় আমিই সেই অভাগা
যে কিনা এমন একটা বউ পেয়েও তাকে ভালোবাসতে পারিনি।
তার ভালোবাসার মূল্য দিতে পারিনি।
মনের অজান্তে দু চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে আমার।

আজ তিনদিন হয়ে গেল হাসপাতালে আছি। আশেপাশের গ্রামের সবাই জানে “” আমি আর বেশিদিন বাঁচবো না।
তাই সবসময় গ্রামের এবং আশে পাশের চেনা’জানা সবাই আমায় শেষবারের মতো দেখতে আসে।
অথচ বারবার খবর পাঠানোর পরও আমার ভালোবাসার মানুষ জুঁইের মুখটা দেখলাম না।
খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে আমার। ওকে একটা নজর দেখবো।
শেষমেশ আমি নিজেই জুঁই কল দিলাম
-হ্যালো জুঁই, আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। তুমি একবার দেখে যাও আমায়।
তুমি দয়া করে আমাদের বিয়ের কথাটা কাউকে বলো না।
আমার জীবনটা মূল্যহীন হয়ে যাবে।
-তুমি তো আমার বউ। এ কথা বলছো কেনো?
-কিসের বউ? দেখো এসব কাউকে বলবে না কিন্তু।
-আচ্ছা বলবো না। তবে আমায় একটা কিডনি দান করবে?
হয়তো কিডনি পাল্টালে আমি বাঁচবো।
-দেখো তুমি এখন মৃত্যুর দুয়ারে।
সেখান থেকে কেনো আরেকজনের বিপদ আনতে চাও?
-মানে? তুমি আমায় বাঁচাতে চাও না।
-ডাক্তার বলেছে যে তুমি বাঁচবে না। আমি বাঁচাবো কি করে?
তোমার হায়াত না থাকলে তুমি মারা যাবে এটাই নিয়ম।
এই বলে ফোন রেখে দেয়! জুঁই।
এইবার আমার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
মানুষ এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারে!! ভালোবাসার মানুষের মৃত্যুর কথা জেনেও মানুষ এমন আচরন করতে পারে?!
কাকে ভালোবেসেছিলাম আমি!
এই কি ওকে পাগলের মতো ভালোবাসার প্রতিদান?
আজ বুঝতে পারছি বারবার বলার পরেও কেন বাবা মা জুঁইয়ের কথা শুনতে পারেনি। তাকে বউ করে আনতে চায়নি আমার সাথে।
কারন তারা ওর পরিবার ও ওর সম্পর্কে জানতো হয়তো।
আর আমি কিনা সেই মেয়েকেই বিয়ে করলাম সবার অজান্তে।
ঘরে একটা লক্ষি বউ রেখেও আমি অন্ধ ভালোবাসার মোহে পড়ে আরেকটা বিয়ে করলাম।
নকল মানুষকে আপন ভেবে আসল মানুষটাকে দুরে ঠেলে দিতে চেয়েছিলাম।

আগামিকাল আমার অপারেশন হবে।
আমার বউ মৌ আর মা একটা করে কিডনি আমায় দান করতে চেয়েছে।
অপারেশনে লাভ যদিও খুব একটা নাই। কারন ৮০% মৃত্যুর সম্ভবনা আমার।
আমি বেডে শুয়ে আছি। আমার মাথার পাশে বসে আছে আমার বউ মৌ।
হঠাৎ মা, বাবা আর ছোটবোন রুমে ঢুকলো।
ঢুকে বাবা সবার উদ্দেশ্যে বলল তোমরা একটু বাইরে যাও।
আমি আমার ছেলের সাথে আমার ব্যক্তিগত গোপন কিছু কথা আছে।
মা, বোন আর মৌ বাইরে চলে গেলো।
আমি বাবার দিকে চেয়ে আছি অবাক দৃষ্টিতে!
কি এমন কথা! যা আমায় একান্তে বলবে বাবা?
***
কথাটা হচ্ছে ☞ চলবে …..

আপন মানুষ | Apon Manush

১নং পর্ব : আপন মানুষ – পার্ট( ১ ) | Apon Manush – Part( 1 )
২নং পর্ব : আপন মানুষ – পার্ট( ২ ) | Apon Manush – Part( 2 )
৩নং পর্ব: আপন মানুষ – পার্ট( ৩ ) | Apon Manush – Part( 3 )
৪নং পর্ব: আপন মানুষ – পার্ট( ৪ ) | Apon Manush – Part( 4 )
৫নং পর্ব: আপন – মানুষ পার্ট( ৫ ) | Apon Manush – Part( 5 )
৭নং ( শেষ ) পর্ব: আপন – মানুষ পার্ট( ৭ ) | Apon Manush – Part( 7 )




Apon Manush

আপন মানুষ – পার্ট( ৫ ) | Apon Manush – Part( 5 )

গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। মৌ এখনও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
ওর মাথাটা আমার ঘাড়ে রাখা।
নানান চিন্তা আমার মাথায় ভর করছে!
কি করবো আমি?
একদিকে ভালোবাসার মানুষ, অপরদিকে এক সহজ সরল মেয়ে।
আমি কি পারবো ভালোবাসার মানুষটাকে না করে দিতে?
অথবা আমি কি পারবো এই নিরীহ মেয়েটাকে স্বামীহারা করতে?
আমি পথহারা পথিকের মতো পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি।
এখান থেকে কোন এক রাস্তা বেছে নিতে হবে আমায় নিজেকেই।
এক ঘন্টার ভিতর বাড়িতে পৌছে গেলাম।
গাড়ি থেকে সবাই নামছে।

মৌ এখনও আমার ঘাড়ে মাথা রেখে শুয়ে আছে।
মনে হচ্ছে ওর কথা বলার বা নেমে হেটে যাওয়ার শক্তি নাই দেহে।
আস্তে করে ওকে ধরে নামিয়ে ঘরে নিয়ে এলাম।
মেয়েটা ভেঙ্গে পড়েছে।
হয়তো তার পরিবারকে ছেড়ে আসায় খারাপ লাগছে।
আবার স্বামীকে আপন করে পাবেনা এটা ভেবে আরো মানষিক চিন্তায় আছে হয়তো।
ওকে কোনভাবে বিছানায় শুইয়ে দিলাম।
দরজাটা আটকে খাটে বসে পড়লাম।
একটা সিগারেট বের করে ধরালাম।
মৌ যেভাবে শুইয়ে দিয়েছি ওভাবেই শুয়ে আছে।
সিগারেট টানছি আর চেয়ে আছি ওর মায়াবী মুখটার দিকে।
কি করে পারবো এই মেয়েটাকে স্বামীহারা করে জনম দুঃখী করে দিতে?
সিগারেটটা শেষ করে ফেলে দিলাম।
প্যান্ট খুলে লুঙ্গি পড়লাম। দারুন গরম পড়েছে আজ।
ফ্যানটা ছেড়ে দিয়ে মৌ ভালোভাবে শুইয়ে দিচ্ছি।
হঠাৎ মনে পড়লো শাড়ী পড়ে ও তো ঘুমাতে পারে না।
আস্তে করে ওকে টেনে তুলে বসালাম।
আমার বুকে মাথা ঝুকে আছে মৌ।
আমি নিজ হাতে ওর পরনের শাড়ি খুলে দিচ্ছি।
এরপর গলা, কানের গয়না ও কোমরের বিছাটাও খুলে দিলাম।
বুক থেকে আস্তে করে শুইয়ে দিলাম ওকে। মৌ আমার দিকে চেয়ে আছে।
চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে ওর।
আমি হাত দিয়ে ওর চোখের পানি মুছে দিলাম।
এরপর অনেক্ষন চুপচাপ শুয়ে আছি।
হঠাৎ আমার শরীরের উপর ওর হাত পড়লো!
জড়িয়ে ধরেছে আমায়।
আমি ওর দিকে তাকালাম। ঘুমিয়ে গেছে ও।
মুখটা কাছে নিয়ে আস্তে করে কপালে একটা চুমো দিলাম।
বুকের মাঝে জড়িয়ে নিলাম ওকে। এভাবে ঘুমিয়ে গেলাম।
পরদিন ভোরে উঠেই বেরিয়ে পরলাম মাঠের দিকে।

জুঁই কে কল দিলাম…
-কোথায় তুমি? (আমি)
-বাড়িতে। (জুঁই)
-একটু মাঠের দিকে আসো।
-কেনো?
-কথা আছে।
-ওকে আসতেছি দাড়াও মাঠে।
এই বলে ফোন কেটে দিলো জুঁই।
জুঁইদের বাড়ি আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামেই।
আর যে মাঠে দেখা করবো এটা দুই গ্রামের মাঝখানে।
মাঠে গিয়ে বসে ভাবছি আগের দিনের কথা।
কেন জানি আমার মা, বাবা জুঁইয়ের কথা শুনতে পারেনি।
ওর কথা বারবার বলেছিলাম বাড়িতে কিন্তু বাবা বলেছে ঐ মেয়েরা ভালো না।
কিন্তু আজ পর্যন্ত খারাপের কিছু দেখিনি জুঁইয়ের মাঝে আমি।
আর এটাও জানি আমার মতো জুঁইও আমাকে খুব বেশি ভালোবাসে।
কিন্তু বাবা, মার চোখে কেন খারাপ ও তা আজো বুঝিনি।
জুংই দেখা যাচ্ছে কাদে একটা ব্যাগ নিয়ে আসছে।
মনে হচ্ছে কতোদিন পর ওকে দেখছি।
ও এসেই আমার হাত ধরে টেনে বলছে চলো।
-কোথায় যাবে? এখানেই বসো কথা বলি। (আমি)
-মানে? কথা বলার সময় নাই। চলো বিয়ে করবো কোর্টে গিয়ে।
-কি বলছো এসব! আমি তো তোমায় ডেকেছি একটু কথা বলার জন্য।
এখন তো বিয়ে করার সময় না।
-চুপ, আমায় যদি সত্যি ভালোবেসে থাকো তবে এখনি বিয়ে করতে হবে।
নইলে চিরতরে হারাবে আমায়।
আমি জুঁইয়ের কথায় কোনকিছু না ভেবেই ওর সাথে চলে গেলাম।
কোর্টের কাছে যেতেই ২/৩ টা ছেলে আর মেয়ে আসলো ওর কাছে।
বুঝলাম সাক্ষির জন্য ওদের আগেই ফোন করে আসতে বলেছে এখানে।
কোর্টে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল।
বাইরে এসে জুঁই আমায় বলল… বিকেলে তুমি বাড়ি থেকে বের হবে।
আমিও বের হয়ে মাঠে এসে থাকবো।
ওখান থেকে আমায় নিয়ে দুরে কোথাও চলে যাবে।
মনে থাকে যেনো… নইলে কিন্তু আমি তোমার বাড়িতে গিয়ে উঠবো।
এই বলে বিদায় নিয়ে চলে গেল জুঁই।
আমি অবাক চোখে চেয়ে আছি ওর দিকে!
এসব কি হয়ে গেল এক মুহুর্তে! আমি খুব টেনশনে পড়ে গেলাম।

হাটতে হাটতে বাড়িতে আসলাম।
বিছানায় হাত পা মেলে শুয়ে পড়লাম।
কি করবো এখন আমি? একদিকে নতুন বউ মৌ বাড়িতে।
অন্য দিকে জুঁই কে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করলাম। কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল সব।
একটুপর মৌ বিছানায় এসে বসলো।
আমার কপালে চিন্তার ভাজ দেখে মাথায় হাত রাখলো মৌ।
-কি হয়েছে তোমার? মাথা ব্যথা করছে?
এই বলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে মৌ।
আমি ওর দিকে চেয়ে আছি। ওকে যতো দেখি ততো বেশি মায়া”য় পড়ে যাই।
-আচ্ছা মৌ’ আমি যদি তোমায় তাড়িয়ে দিতে চাই বা খুব কষ্ট দেই তুমি চলে যাবে আমার কাছ থেকে।
আমার এই কথা শুনে মৌ একটু চমকে যাওয়ার মতো দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে!
-কোন মেয়ে স্বামীর বাড়ি আসলে সে যাওয়ার জন্য আসেনা।
হাজার কষ্ট সয়েও সে স্বামীর ঘরে থাকতে চায়।
তবে তুমি যদি আমাকে না রাখো তোমার সংসারে বাধ্য হয়ে আমায় চলে যেতে হবে।
আর এতে আমার চেয়ে আমার পরিবারের লোক হয়তো বেশি কষ্ট পাবে।
তবুও তোমার যদি এটাতে ভালো হয় আমি চলে যাবো।
আর যদি কোনভাবে আমায় তোমার এই সংসারে ঠায় দেয়া যায় তবে আমি খুবই খুশি হবো।
কিচ্ছু লাগবে না আমার। শুধু দু বেলা দু মুঠো ভাত আর একটু কাপড় দিলেই চলবে।
আমি চাকরানীর মতো সব কাজ করবো। কোন অধিকার চাইবো না।
এতে হয়তো আমার পরিবারের লোক কষ্ট পাবেনা।
তারা জানবে তাদের মেয়ে সুখে আছে। আর এতেই আমার সুখ হবে।
বাকিটা তোমার ইচ্ছা। যদি সম্ভব হয় আমায় কাজের মেয়ে হিসেবে একটু ঠাই দিও।
তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করে নিয়ে আসো কিচ্ছু বলবো না।
এই বলে মৌ আমার পা ধরে কাঁদছে।
আমি ওকে টেনে বুকে জড়িয়ে নিলাম।
-আমি তোমায় না জানিয়ে একটা ভুল করে ফেলেছি মৌ।
আমি খুব টেনশেনে আছি। কি করবো বুঝতে পারছি না।
-কি করেছো তুমি আমায় বলো।
আমি তো আগেই বলেছি আমি বন্ধুর মতো তোমার উপকার করবো।

তোমার কোন কাজে আমি বাঁধা দেবো না।
শুধু আমায় একটু ঠাই দিও এটাই আমার চাওয়া।
-আমি আজ জুঁইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে আমায় ওকে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করতে হয়।
এবং বিকেলে ওকে নিয়ে কোথাও চলে যেতে হবে এটাও বলে দিয়েছে।
নইলে ওকে চিরতরে হারাতে হবে।
আমি এখন কি করবো মৌ?
এসব বলে মৌ এর দিকে তাকালাম। ওর মুখটা ছোট হয়ে গেছে।
আমার দিকে তাকিয়ে কষ্ট চেপে বলতেছে…
-ঠিক আছে তুমি যাবে। আমি এইদিকটা সামলে নেবো।
মৌ মুখে এই কথা শুনে আমি অবাক হয়ে তাকালাম মেয়েটার দিকে!
আল্লাহ্ কি দিয়ে বানাইছে ওরে?!
এই মেয়েটাকে কোন কিছু না দিয়ে একবুক যন্ত্রনা উপহার দিচ্ছি আর ও তা হাসিমুখে মেনে নিচ্ছে।
আমি পাগলের মতো ওকে বুকে জড়িয়ে নিলাম।
আমার মনে হচ্ছে আমি খুব বড় ভুল করছি।
খুব বেশি অন্যায় করতেছি এই অসহায় মেয়েটির উপর।
ও আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে…
গোসল করে আসো। আমি খাবার বাড়ছি।
বিকেলে তুমি যাবে ওনার কাছে। এখন খেয়ে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাও..

এখানেই সমাপ্তি করতে হলো কিছু সমস্যার কারনে

বাকিটা শীঘ্রই পোস্ট করব।
গল্প পড়ে কেমন লাগলো কমেন্টে জানাবেন…..?

আপন মানুষ | Apon Manush

১নং পর্ব : আপন মানুষ – পার্ট( ১ ) | Apon Manush – Part( 1 )
২নং পর্ব : আপন মানুষ – পার্ট( ২ ) | Apon Manush – Part( 2 )
৩নং পর্ব: আপন মানুষ – পার্ট( ৩ ) | Apon Manush – Part( 3 )
৪নং পর্ব: আপন মানুষ – পার্ট( ৪ ) | Apon Manush – Part( 4 )
৬নং পর্ব: আপন – মানুষ পার্ট( ৬ ) | Apon Manush – Part( 6 )
৭নং ( শেষ ) পর্ব: আপন – মানুষ পার্ট( ৭ ) | Apon Manush – Part( 7 )




Odvut Shami Part 5

অদ্ভুত স্বামী – পার্ট( ৫ ) | Odvut Shami – Part( 5 )

রাতে শুতে যাবো
আমি : আপনার প্রব্লেম টা কি
জিহাদ : কই নাই তো
আমি : তো এখানে কেন আপনি ভাই
জিহাদ : ওই ভাই বলবে না একদম
আমি : হুরররর
জিহাদ : হুহ
আমি : আমি নিচে ঘুমালাম । আপনি উপরে ঘুমান ।
জিহাদ : বললেই হলো
আমি : আমি তো ঘুমাবোই
জিহাদ : আচ্ছা দেখি

আমি ঘুমোতে যাবো এমন সময় আমাকে কোলে তুলে নিল ।
আমি : নামান আমাকে
জিহাদ : নামাবো না
আমি : উহু নামান
জিহাদ : না গো

বিছানায় শুইয়ে দিতে আমি উঠতে লাগলাম ।
ওমনি জিহাদ : ওই থামো
আমি : উহু

ও আমাকে তার বুকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো ।

আমার রাগ উঠতাছে যখন আমি বারবার ওর কাছে গেছি বারবার আমাকে আঘাত করছে আর এখন আসছে ।

পরেরদিন
সকালে
আমি : ফুপি আমি বাড়ি যাবো
ফুপি : আমার কাছে লুকাস কেনো
আমি : কি ?
ফুপি : জামাই এর সাথে ঝগড়া হইছে তাই না । এসব হয় ই এতো রাগ করিস না ।
আমি : হুম ( ভাবছি জানলে আর বলতেন না )

বিকেলে
একটা পিচ্চিকে কোলে নিয়েছিলাম এক ভাবির সাথে গল্প করছিলাম ভাবির বেবি ছিল পিচ্চিটা ।

এমন সময় জিহাদ এলো
জিহাদ : তোমাকে খুঁজছিলাম
আমি : কি করতে
ভাবি : বাপ রে জামাই এর দেখছি আনহা কে ছাড়া চলে না
আমি : হুররর ভাবি কি বলো যে
ভাবি : ঠিক ই তো
আমি : বাদ দাও তো
ভাবি চলো তোমাদের বাড়ি যাবো । আমি নীলের ( পিচ্চির নাম নীল । আমিই শখ করে ডাকি ) সাথে খেলবো ( আমার পিচ্চি খুব পছন্দ )

ভাবি : আচ্ছা তুই আর বড় হলি না । বিয়ে হয়ে গেলো তবুও বাচ্চা
আমি : এ্যা কি কও
ভাবি : হাহা
আমি : আমাকে তুমি নিয়ে যেতে চাও না
ভাবি : কে বললো
আমি : আজ আমি পর হয়ে গেলাম তোমার
ভাবি : আরেহ না
আমি : হিহি জানি তো মজা করলাম একটু
ভাবি : দুররর

এতক্ষণ জিহাদ চুপ ছিল । এখন বলে উঠলো
জিহাদ : আমিও যাবো
আমি : কি
জিহাদ : হুম
ভাবি : আরে চলেন চলেন
আমি : দুররর না
ভাবি : এই কি বলিস
আমি : উহু

জিহাদও আসলো
আমি পিচ্চির সাথেই খেলছিলাম । জিহাদ কে ভাবির সাথে গল্প করতে লাগায় দিছি ।

কিছু সময় পর

জিহাদ : আনহা চলো বাড়ি যাই
আমি : ইইইইইই না যাবো না
জিহাদ : চলো
আমি : না

এমন সময় মেসেজ এলো
ওই রাক্ষস টাই দিছে
জিহাদ : চলো নইলে এখান থেকে কোলে করে নিয়ে যাবো

আমি রাগি চোখে তাকালাম

ও হাসছিলো মুচকি মুচকি

আমি ভাবলাম নাহ ওর ভরসা নাই

বাড়ি এলাম
আমি : কি সমস্যা আপনার‌ এভাবে আনলেন কেন আমাকে ।
জিহাদ : ওখানে তোমার সাথে কথা হচ্ছিল না তাই
আমি : হুহ যখন ভালোভাবে বলতাম তখন অনেক কষ্ট দিয়েছেন ।
জিহাদ : তাই তো ঠিক করতে চাই
আমি : লাগবে না

রাতে
বৃষ্টি হচ্ছিল
আমি রুমে গিয়ে দেখি রুম টা সাজালো
আমি গিয়ে অবাক ভালোই হইছে

আমি : কে করলো এসব
জিহাদ : তোমার (অদ্ভুত স্বামী
ছাড়া আর কে হবে
আমি : হুহ ভালো
জিহাদ প্রপোজ করলো
” জানি অনেক কষ্ট দিছি । কি করবো বলো আমি যে অমনি । তোমার ভালোবাসার মুল্য কখনো দেই নাই । আমি যে তখন ভাবতাম সবাই খারাপ । কিন্তু তোমার ভালোবাসা তোমার বাচ্চা টাইপ ব্যবহার সব আমাকে তোমার ভালোবাসায় পড়তে বাধ্য করেছে । আমি বাঁচবো না তোমাকে ছাড়া । প্লিজ ক্ষমা করে দাও ।
ভালোবাসি তোমাকে রে । হবে কি তুমি আমার বাবুর আম্মু । ”
আমি : হুররর বাই আমি বাইরে যাবো সরুন
জিহাদ : অনেক হইছে ওই তুই বুঝিস না ভালোবাসি তোকে । তুই আমার বুঝলি ।
আমি : এমা ধমকান কেন
জিহাদ : ওই আপনি বলিস কেন তুমি বল
আমি : আপনি তুই বলেন কেন
জিহাদ : আচ্ছা আর বলবো না
আমি : ওকে
জিহাদ : মাফ করলা ?
আমি : না
জিহাদ : কি করলে মাফ করবে
আমি : আমার সাথে বৃষ্টি ভিজলে
জিহাদ : হায় রে আবার ঠান্ডা লাগবে
আমি : লাগলে লাগুক না ভিজলে মাফ করুম না
জিহাদ : আচ্ছা

অতঃপর দুজনে ভিজলাম ।
পরেরদিন ভিজার ফল
আমি : হাচ্চি
জিহাদ : হাচ্চি
আমি : হাচ্চি

দু জনের ই‌ঠান্ডা লেগে গেল

তারপর থেকে শুরু হলো নতুন এক হাচ্চি ওয়ালা ভালোবাসার গল্প । হিহিহি

কাল্পনিকগল্প
( হয়তো ছোট হয়েছে আর ওতো ভালো হয় নি । সময় স্বল্পতার জন্য ছোট করলাম । পরবর্তী গল্পের জন্য সাথেই থাকবেন )

অদ্ভুত স্বামী | Odvut Shami

১নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-1
২নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-2
৩নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-3
৪নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-4




Odvut Shami Part 4

অদ্ভুত স্বামী – পার্ট( ৪ ) | Odvut Shami – Part( 4 )

ফুচকা খাওয়া শেষে
আনহা : ওগো শুনছো
জিহাদ : কি ( এই মেয়ে বলে কি )
আনহা : চলো শপিং এ যাই
জিহাদ : ওকে
প্রেয়সি : দুলাভাই
জিহাদ : হুমম বলো
প্রেয়সি : তোমার সতিন আসবে আজকে শপিং এ
জিহাদ : মানে
প্রেয়সি : আপুর বন্ধু ছোটবেলার মাহফুজ ভাইয়া আসবে
জিহাদ : ওহ ভালোই ( জিহাদ ভাবছে আমার কি যে ইচ্ছে আসুক । ওকে তো আমি বউ ই মানি না )
আনহা : হাসছে আর ভাবছে আজ বুঝবা মজা কারে কয়

শপিং মলে
আনহা বলে কে জানি ডাক দিল
আনহা : আরে মাহফুজ আসছিস
কতো দিন পর দেখা রে । বলেই হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে এলাম ।

আর জিহাদ তাকিয়ে দেখছে আর বলছে কি মেয়ে রে আমাকে রাখে গেলো । যাক আমার কি ও গেলেই বাঁচি ।

কিছু সময় পর জিহাদ ভাবছে ” কি হলো আসে না কেন এখনো ”

প্রেয়সি : কাকে খুঁজো দুলাভাই
জিহাদ : না তো কাউকে না
প্রেয়সি : আপু আসতে অনেক দেরি
জিহাদ : মানে
প্রেয়সি : ওরা মনে হয় গল্প‌ করছে‌
জিহাদ : করুক চলে আসবে তো
প্রেয়সি : দেরি আছে

জিহাদ : ব্যাপার না ( এতো টাইম কি করে মানুষ । মনে মনে )

জিহাদ : চলো ওদের খুঁজি
প্রেয়সি : মিস করছো আপু কে
জিহাদ : আরে না

জিহাদ আর প্রেয়সি মিলে আনহা আর মাহফুজ কে খুঁজতে লাগলো‌।

কিছুটা এগিয়ে
দেখলো ওরা গল্পই‌ করতেছে । জিহাদের রাগ উঠে গেল ।

জিহাদ : আর কতক্ষণ রাগী কন্ঠে

মাহফুজ : যা দুলাভাই রাগ করতেছে
আনহা : আরে না উনার ব্যাপার না আমি না থাকলেই উনি হ্যাপি
জিহাদ : হুহ চলো দেরি হচ্ছে
আনহা : না আমি যাবো না
জিহাদ : চলো
আনহা : হুররর ওই‌ বাড়িতে আসিছ নায়ক
মাহফুজ : ওকে নায়িকা
জিহাদ : কেন এমন নাম
মাহফুজ : ও সরি সরি বলা হয় নি । আমরা একে অপর কে এই নামেই ডাকি
জিহাদ : ওহ ( আজাইরা পরের বউ কে আউল ফাউল ডাকা । আল্লাহ আমি কি ভাবছি )

বাড়িতে রুমে
আমি : আমাকে নিয়ে আসলেন কেন
জিহাদ : থাকে লাভ নাই
আমি : এ্যা কি কন
জিহাদ : এতো কথা বলতে হবে না
আমি : আপনার কি
জিহাদ : ওই চুপ
আমি : করবো না চুপ‌‌
জিহাদ : এই মেয়ে আর কোনোদিন কোনো ছেলের সাথে এতো বেশি হেসে হেসে কথা বলবি না
আমি : বলবো কি করবেন
জিহাদ : মেরে ফেলবো
আমি : আপনার হইছে কি । এমন এমন কথা বলছেন যে
জিহাদ : না কিছু না ( আসলেই তো কি বলছি এসব ভাবছে )
আমি : ( হেহে কাম হচ্ছে ) মনে মনে ভাবছি

ও ফ্রেশ হতে গেল
ফ্রেশ হয়ে এসে
আমি কথা বলছিলাম মাহফুজ এর সাথে ওকে দেখায় দেখায়

জিহাদ রেগে যাচ্ছে

কিছু সময় পর
জিহাদ : এখনো কথা শেষ হয় নাই
আমি : আপনি ঘুমান আমার দেরি আছে
জিহাদ : তুমিও ঘুমাবা আমার সাথে
আমি : কিইইইইই
জিহাদ : হুমমম
আমি : নাহ দেরি আছে
জিহাদ : আমি তোমার জবাব শুনতে চাই নি
আমি : আমি ঘুমাবো না এখন

জিহাদ আনহা কে কোলে তুলে নিল আর ওর ফোন টা কেড়ে নিলো

আনহা : কি করছেন আমাকে নামান

বিছানায় নামিয়ে
আমি উঠতে যাবো ওমনে ওয় আমাকে আটকে দিলো ।
ওর শ্বাস আমার মুখে এসে পড়ছিলো ।
জিহাদ আনহার মাঝে হারিয়ে যেতে লাগলো । ও কাছে আসতেই
আমি : কি করছেন
জিহাদের ঘোর কাটলো
জিহাদ : না‌ কিছু না
আমি : তাইলে সরেন
জিহাদ : নাহ ঘুমাও ভরসা নাই কখন উঠে যাবে

দুজনে শুয়ে দু প্রান্তে । ঘুমাইছে নাকি দেখতে একটু নরতেই
জিহাদ : জানতাম পালাবে এভাবে ছাড়া যাবে না তোমাকে ।
আনহা : কি করবেন
জিহাদ আনহা কে জড়িয়ে ধরে বললো ঘুমাও ।

আনহা মনে মনে খুশি হলেও দেখালো না জিহাদ কে ।

সকালে জিহাদ লক্ষ করলো আনহা ওর বুকে মাথা রেখে আছে ।
আনহার চুল গুলো সামনে আসছে ।‌ জিহাদ সরিয়ে দিলো । নিজের অজান্তেই আনহার কপালে কিস করলো ।
আমি টের পেয়ে গেলাম
আমি : কি করলেন এটা
জিহাদ : না কিছু না সরি
আমি : এমা এটা কি করলেন
জিহাদ রেগে : যা ইচ্ছে করি আমার বউ কে করেছি
আনহা : এমা

জিহাদ লজ্জা পেয়ে চলে গেল ফ্রেশ হতে

বিকালে
মাহফুজ আসলো
আমি : দোস্ত কাজ হচ্ছে
মাহফুজ : জানি তো হবেই আমার আইডিয়া বলে কথা ।
আমি : হ
মাহফুজ : তোর মিমি তো রাগ করছে
আমি : হাহা দে আমি বুঝাচ্ছি

ফোন দিয়ে আমি : জানু রাগ করছো
মিমি : নাহ জানটুস ( মিমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড । ও আর মাহফুজ বফ আর গফ )
মিমি : হুহ
আমি : রাগ ছাড়
মিমি : হিহি ছাড়ছি আগেই মজা নিচ্ছি
আমি : ওমা তাই বেবি লাভ ইউ
মিমি : সেম গো
আমি : বেবি তোর উপর আজ একটু বেশিই ভালোবাসা আসতেছে
মিমি : কেন‌ রে
আমি : কেন আবার পমি তো তোকে‌ কতো ভালোবাসি )
মিমি : হ দোস্ত ( আমরা একে অপরের সাথে এমনেই মজা করি )

জিহাদ ছাদের কোণায় দাড়িয়ে লুকিয়ে শুনছিল । ও দেখতে পায় নি আনহা ফোনে কথা বলছে ।

রেগে গিয়ে
জিহাদ আনহা কে চড় মারে
জিহাদ : তুই এরকম জানতাম না এতক্ষণ সব কথা শুনলাম তোর আর তোর আশিকের প্রেম আলাপ
আনহা : আমি তো
জিহাদ : চুপ
বলে আরেকটা চড় দিলো
জিহাদ : তুই তো আরও খারাপ রে ছিহ্ ঘৃণা করি তোকে

বলে চলে গেলো বাড়ির উদ্দেশ্যে
আনহা কাঁদছে
মাহফুজ : বললি না কেন
আমি : অনেক হয়েছে রে আর সহ্য হয় না
মাহফুজ : কিন্তু
আমি : তুই বলিস না কাউকে কিছু

সেদিন রাতে আমি বাড়িতে বলি যে শশুর বাড়ি যাচ্ছি । কিন্তু আমি চলে যাই ফুপির বাড়ি ।
ফুপির সাথে ছোট বেলা থেকেই ক্লোজ ।‌ আম্মু আব্বু বকলেও এখানেই আসতাম । ফুপিও তাই ভেবেছে । তাই আর কাউকে কিছু বলে নি ।‌

আজকাল জিহাদ আরো বেশি রাগ করে
জিহাদ দের বাসায়
মামনি : জিহাদ
জিহাদ : কি
মামনি : আনহা কই রে
জিহাদ : ওই মেয়ের নাম নিবা না
মামনি : কেনো

জিহাদ সব বললো
মামনি : কি বলছিস
জিহাদ : দেখো কতো খারাপ
মামনি : ও খারাপ না
জিহাদ : মানে
মামনি : ও এরকম মেয়ে না যে এমন করবে
জিহাদ : দাড়াও ওর আশিক ই বলবে
মামনি : ডাক

মাহফুজ আসলো
মাহফুজ : কি দরকার আপনার
জিহাদ : বলুন আপনি আপনার প্রেমিকার কথা যে আমি যা শুনছি সত্যি
মাহফুজ : হাহা জানেন আপনি না অনেক আনলাকি কারণ আপনি আনহা কে হারিয়েছেন । যে আপনাকে এতোটা ভালোবাসে । আর যা কথা সেদিনের সেদিন ও মিমির সাথে কথা বলছিলো ওর‌ বেস্ট ফ্রেন্ড । ওরা একে অপর কে জানটুস বলে । হয়তো শুনছেন ওর কাছে আর মিমি আমার হবু বউ । চাইলে কথা বলুন ।

জিহাদ কথা বলে সব জানলো ।
মামনি : ছি তুই মেয়েটাকে এতোটা কষ্ট দিলি
জিহাদ : কিন্তু
মামনি : ও তোকে খুব ভালোবাসে
জিহাদ : আমিই বাসি
মামনি : ওকে ফিরিয়ে আন
জিহাদ : আমিও ওকে চাই । মাহফুজ ভাই ও কই প্লিজ বলেন
মাহফুজ : নাহ
জিহাদ : আর হবে না প্লিজ

মাহফুজ কে অনেক রিকোয়েস্ট করার পর রাজি হলো আর আনহার ঠিকানা বললো

বিকালে ছাদে দাড়িয়ে কাঁদছিলাম কারণ আমার #Angry_husband কে মিস করছিলাম

কে জানি জড়িয়ে ধরলো পিছন দিয়ে
আমি : কে
জিহাদ : একবার বললে কি হতো
আমি : আপনি সরুন প্লিজ
জিহাদ : নাহ যেতে দিবো না
আমি : সরুন
জিহাদ : নাহ
আমি : দুর হন
ওকে সরিয়ে
আমি : যখন ইচ্ছে যা খুশি বলবেন আপনি । যান এখান থেকে
জিহাদ : ভালোবাসো না আমাকে
আমি : নাহ বাসতাম এখন আর বাসি না
জিহাদ : তাই কি
আমি : হ্যা
জিহাদ : আমি তোমাকে কষ্ট দিছি আমি ই তোমার রাগ ভাঙ্গাবো
আমি : হুহ কোনোদিনও না
জিহাদ : আমিও তোমার বর গো রাগ ভাঙ্গাবোই

রাতে
জিহাদ : ফুপি
ফুপি : হুম বাবা
জিহাদ : আমি আর আনহা আপনাদের সাথে থাকবো কিছুদিন সমস্যা নাই তো
আমি : নাহ আপনি থাকবেন না
ফুপি : কি বলিস কেন থাকবে না
আমি : আমি বলছি তাই
ফুপি : চুপ ও থাকবে
আমি : দুররর

জিহাদ হাসছে । আমি তাকাতেই চোখ মারলো।

(আমি ভাবছি এর হইছে কি হুররর আমার কি )

চলবে……

অদ্ভুত স্বামী | Odvut Shami

১নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-1
২নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-2
৩নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-3
৫নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-5




Odvut Sham Part 3

অদ্ভুত স্বামী – পার্ট( ৩ ) | Odvut Shami – Part( 3 )

রুমে এসে জিহাদ আনহা কে নামিয়ে দিল

আনহা বাইরে যেতে ধরলো জিহাদ সামনে পথ আটকিয়ে

আমি : ইইই আমি ভিজবো সরুন

জিহাদ : নাহ জ্বর আসবে
আমি : না আমি যাবো
জিহাদ : ওই মেয়ে চুপ
আমি : আমি যাবো মানে যাবোই

জোড় করে যেতে ধরলাম রুমের ফ্লোর ও কিছুটা ভিজে পিছলা হয়ে গিয়েছিল পা পিছলে গেল কিন্তু কে যে ন ধরলো এমা জিহাদ আমাকে ধরে ও সহ পড়ে গেছে।

ও নিচে পড়ে আছে ওর ওপর আমি কি রোমান্টিক সিন কিন্তু অল্পতেই ভেঙ্গে দিলো।
জিহাদ: ঔ উঠো
আমি: হিহি
জিহাদ: হাসো কেন
আমি: এমনি
জিহাদ: ফাজিল মাইয়া
আমি: জানি
জিহাদ: জ্বর আসছিলো এখন আর ভিজতে হবে না এখনি তো পড়ে গেলে
আমি: নাহহ বৃষ্টি যতক্ষন হবে ততক্ষন ভিজবো
জিহাদ: যেতে দিব না
আমি: হু। আপনি খুব খারাপ
জিহাদ: তো
আমি: সমস্যা নেই ঠিক করে নিব।

তারপর রাতে বৃষ্টিতে ভিজার ইফেক্ট শুরু হয়ে গেল রাতের বেলা দুজনেরই হাচি শুরু হয়ে গেল পাল্লা দিচ্ছি কে কতো জোরে পারে। খাবার টেবিলে বসে
আমি: হাচ্চি
জিহাদ: হাচ্চি
মা বাবা সবাই দেখে হাসছে।
জিহাদ: হাসছো কেন
মামনি: তোদের কান্ড দেখে
জিহাদ: হাসার কি আছে ঠান্ডা তো লাগতেই পারে
মামনি: বউ এর সাথে ভিজলে ঠান্ডা তো লাগবেই
জিহাদ: আমি ইচ্ছা করে ভিজি নি
মামনি: ভিজেছিস তো
জিহাদ: দুররর তোমরা খাও আমি গেলাম
মামনি: না খেয়ে যা

চলে গেল না খেয়ে আমিও খেলাম না উঠে গেলাম। হাচ্চি
রুমে গিয়ে
আমি: না খেয়ে চলে আসলেন কেন
জিহাদ: তোমার কি তুমি খাও
আমি: আমি আপনার বউ
জিহাদ: মানি না আমি
আমি: যান খেয়ে নিন
জিহাদ: চুপ বেশি অধিকার দেখাবে না
আমি: দেখাব। কি করবেন
জিহাদ: যাও তো এখান থেকে ঘুমাবো
আমি: আমি ও না খেয়ে শুয়ে পড়লাম
জিহাদ: হাচ্চি
আমি: হাচ্চি

রাতে আমি শুয়ে শুয়ে কাদছি। আমার জন্য ওর ঠান্ডা লাগল। আর আমার জন্যই না খেয়ে ঘুমিয়ে গেল।

১ টার সময় ঘুমিয়ে গেছে সবাই কারো কান্নার আওয়াজে জিহাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখে আনহা ফুপিয়ে কান্না করছে। খারাপ লাগল জিহাদের ভাবছে কেমন জানি মায়াবি এই মেয়ে টা।
জিহাদ: আনহা
আনহা: হু বলেন
জিহাদ: না খেয়ে ঘুমিয়েছো কেন
আনহা: আপনি না খেলে আমিও খাবো না।
জিহাদ: আমার সাথে তোমার তাল মিলিয়ে চলতে হবে
আনহা: হুমম আমি আপনার বউ তাই
জিহাদ: ঔষুধ খেয়েছো
আমি: না। আপনিও তো খান নি
জিহাদ: ঐ চুপ আমারর টা আমি বুঝব।
আমি: হু
জিহাদ: যাও খেয়ে নাও।
আমি: হুমম। আপনিও চলেন
জিহাদ: তুমি যাও
আমি: তাহলে আমিও খাবো না
জিহাদ: নিরুপায় হয়ে জিহাদ কে যেতেই হলো। দুজনে একসাথে ডিনার করে ঔষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
আস্তে আস্তে জিহাদ ও মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে। জিহাদ মনে মনে ভাবে নাহহ মায়ায় জড়ানো যাবে না মেয়েরা সব এক ।

পরের দিন
মামনি : জিহাদ
জিহাদ : হুম
মামনি : আনহা কে নিয়ে ওর বাবার বাড়ি থেকে ঘুরে আয়
জিহাদ : কিন্তু
মামনি : চুপচাপ যা
জিহাদ : আচ্ছা

এদিকে আমি মামনি কে ইশারায় ধন্যবাদ জানালাম

রওয়ানা হলাম ।

বাড়িতে ঢুকতেই জামাই আদর পাইলো জিহাদ ।
দুররর বুঝি না বিয়ের পর বাড়ির মেয়ের কি দাম থাকে না নাকি । কি আর করার জ্বলতেছি আমি । এদিকে কাজিন গুলো মজা নিচ্ছে ।

ও কিছু বলতেও পারছে না । ওর এই অবস্থা দেখে আমি না হেসে পারলাম না ।

রাতে
জিহাদ : তোমার বোন রা এমন কেন দুররর ভাল্লাগে না
আমি : হিহি ভালো হইছে
জিহাদ : আমি বাড়ি যাবো
আমি : ও তাই ওয়েট আম্মু কে বলি যে উনার জামাই বাড়ি যাবে
জিহাদ : আম্মু কে ডাকো কেন উনি মন খারাপ করবে না
আমি : তুমি তো বাড়ি যাবা দাড়াও বলি আম্মুউ
যেই চিৎকার দিতে যাবো মুখে হাত দিলো আমার জিহাদ
জিহাদ : ওই মেয়ে চুপ
আমি : উউউউউ
জিহাদ হাত সরিয়ে : চুপ
আমি : ওকে বাবু
জিহাদ : কিইইইইইই
আমি : কি গো জানটুস
জিহাদ : এই‌ মেয়ে এসব কি বলো
আমি : নিজের বরকেই বলি
জিহাদ : হুররর

বলে চলে আসলো বাইরে

বাইরে
প্রেয়সি ধরলো ওকে : দুলাভাই
জিহাদ : কি
প্রেয়সি : চলো ফুচকা খেতে যাই
জিহাদ : এখন ?
প্রেয়সি : হুমমম
জিহাদ : আচ্ছা
( প্রেয়সি আমার ছোট বোন ক্লাশ ৪ এ পড়ে আর জিহাদ বাচ্চা দের ভালোবাসে তাই রাজি হলো )
প্রেয়সি : আপু কে রেডি হতে বলি
জিহাদ : ওকে

ফুচকার দোকানে
সবাই নিজের নিজের ফুচকা খাচ্ছি
আমি : প্রেয়সি চল দেখি কে আগে খায়
প্রেয়সি : ওকে আমিই জিতবো
আমি : দেখা যাবে
প্রেয়সি আর আমি ফুচকা শেষ করলাম ।
আমার শেষ আমি জিতছি
প্রেয়সি : দুর
আমি : হিহি

জিহাদ ভাবছে মনে হচ্ছে দুটোই পিচ্চি

চলবে….

অদ্ভুত স্বামী | Odvut Shami

১নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-1
২নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-2
৪নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-4
৫নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-5




Odvut Sham Part 2

অদ্ভুত স্বামী – পার্ট( ২ ) | Odvut Shami – Part( 2 )

জিহাদ : চুপপপপ
আমি : এটা আমি করতে পারি না হিহি । কথা বলে থাকি নাই বকবক করুম ই তাই
জিহাদ : তুই এমন কেন
আমি : এমনি বদলাবো না
জিহাদ : দুররররর

বলে হাত টা ছেড়ে দিল

আমি হাসতেছি আর ভাবছি এমনেই ওরে মানুষ করবো ।

বিকেলে
জিহাদ আসলো ।
আমি : কি খবর জামাই লেট কেন
জিহাদ : তোকে বলবো কেন
আমি : কজ আমি আপনার বউউউউ
জিহাদ : বউ আমি মানি না
আমি : ওয়াওওও তো আমি কি করবো । আমি তো মানি
জিহাদ : দুরররর
আমি : কিটক্যাট খাবেন
জিহাদ : মানে
আমি : এমা চকলেট খাবেন জিগাইলাম
জিহাদ : আমি কি বাচ্চা
আমি : ওহ ভালো আমি তো ভুলেই গেছি আপনি বুড়া আমিই খাই হিহি

জিহাদ : ( ভাবছে মায়া জড়ানো হাসি )
আমি : যাই গা আমি কিটক্যাট খাই একটু কার্টুন দেখতে দেখতে
জিহাদ : এ্যা
আমি : হ্যাঁ

যাই‌গা সরেন তো
জিহাদ : এই‌ মেয়ে কেমন রে আমি এতো আঘাত করি তাও‌ এতো দুষ্টু ।

হুহ আমার কি ?
জিহাদ দেখলো আনহা সত্যি ই কার্টুন দেখতেছে ৤আর হাসতেছে ।

এটা দেখে ও নিজেও হেসে ফেললো যদিও লুকিয়ে যা আনহা দেখে নি ।

কিছুদিন পর
জিহাদের ব্যবহারে পরিবর্তন লক্ষ্য না হলেও ও আজকাল হাসতে শিখেছে ।

বিকেলে দেয়ালের উপরের সেল্ফ টা গোছাতে টেবিলের উপর উঠলাম । এমন সময় জিহাদ আসলো।

জিহাদ : পিচ্চি মেয়ে আবার কাজ করতে উপরে উঠছে হুহ
আমি : পিচ্চি তো কি হইছে আমি পারবো ।
জিহাদ : ওরে বাবারে নিচে নেমে আয় । আমি করতেছি
আমি : আমিই করবো
জিহাদ : ওই মেয়ে আমার মুখের উপর কথা
আমি : এমা তাই তো আমি উপরে আপনার মুখের উপর
জিহাদ : হুরররর
আমি : এহে বকিয়েন না
জিহাদ : ওই নাম
আমি : আরেহ

আরেহ করতেই পা পিছলে গেলো আর পড়ে গেলাম

আম্মুউউউউউ
এমা আমার হাড্ডি ভাঙ্গে নি কেমনে ।
আমি : এমা আমাকে ধরছেন

জিহাদ তাকায় আছে আনহার দিকে হয়তো ওর মাঝে ডুবে গেছে
আমি : বাহ থেংকু অদ্ভুত স্বামী

জিহাদ আনহার কথা টা শুনে ওকে ছেড়ে দিল

আমি : মা গো ছাড়ার ই ছিলো তো ধরলেন কেন
জিহাদ : আমার কথা না শুনার মজা বুঝ
আমি : আপনাকে ছাড়বো না ওয়েট এন ওয়াচ আনহার স্টাইল
জিহাদ : হুররর

রাতে খাবার টেবিলে
জিহাদ : বাহ খাবার তো ভালোই রেঁধেছো মা
মামনি : আনহা রেঁধেছে
জিহাদ : ওহ

খাচ্ছে সবাই
জিহাদ : ( ঝাল লাগে কেন । নিশ্চই এই মেয়ে কিছু করছে )
আমি : ( হাসতেছি আর দিলাম চোখ মেরে )

আমিই মরিচের গুড়ো দিছি

জিহাদ : রাগী লুকে আনহার দিকে তাকিয়ে সব খেয়ে চলে গেল
আমি : (হায় কপাল কি যে হবে আমার সাথে আজ ভাবছি )

রুমে
আমি ঢুকতেই
আমার হাত ধরে পিছন দিকে নিয়ে গেলো
আমি : আম্মু গো হাত আবার গেছে আমার
জিহাদ : আমার সাথে মজা দেখাচ্ছি ঝাল কাকে বলে
আমি : হিহি সরি
জিহাদ : দাড়া তুইইইই

আমাকে রাখে গেল

আমি ভাবছি , আম্মু গো কি হবে এখন পালাবো নাকি ?

এই ভেবে যেই পালাতে যাবো ওয় চলে আসছে হাতে গ্লাসে কি শরবত । এ্যা ওয় তো শরবত খাওয়ানোর মানুষ না ।
জিহাদ : খা এবার মরিচের শরবত
আমি : ইইইই না সরি আর করবো না আমি মরিচ খেতে পারি না বেশি প্লিজ
জিহাদ : তুই খাবি এখনি
আমি : প্লিজ না

জিহাদ জোড় করে আমাকে ওই শরবত খাওয়ায় দিল ।

খাওয়া শেষে
আমি শেষ ঝালে
আমি কাশতে শুরু করলাম

জিহাদ : বুঝ মজা

আমি আর কিছু বলতে পারলাম না এতো পরিমাণ ঝাল লেগেছে যে
আমি লাল হয়ে গেলাম আর কাঁশতে কাঁশতে চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে আসলো । আমি জ্ঞান হারালাম ।

এদিকে জিহাদ : আনহা কথা বলছে না কেনো আমি কি বেশিই করে ফেললাম

আমার মাথা টা তার কোলে নিয়ে

জিহাদ : আনহা কথা বলো
ওই

আনহা
সরি বেশি করে ফেলছি

চোখ খুলো

জিহাদ আর কিছু না বলে আনহা কে কোলে করে হসপিতালে নিয়ে গেলো ।

ডাক্তার চেক আপ এর পর
ডাক্তার : কি এমন খেয়েছে
জিহাদ : মরিচ
ডাক্তার : মানে কি এতো পরিমাণ
জিহাদ : sorry doctor it’s my mistake
ডাক্তার : মিস্টেক যার ই হোক । উনার তো মনে হয় বেশি মরিচ খাওয়া তে রিয়েকশন করছে
জিহাদ : ডক্তর যে করে হোক ওকে সুস্থ করুন
ডাক্তার : আমি ওষুধ লিখে দিচ্ছি খাওয়াইয়েন আর উনার খেয়াল রাখবেন
জিহাদ : ওকে ডক্তর

বাড়িতে নিয়ে আসলো আমাকে আমি তখনো দূর্বল

মামনি : কি রে আনহার কি হয়েছে এমন অবস্থা হঠাৎ কিভাবে ?
জিহাদ : আসলে আমি রেগে গিয়ে ওকে অনেক পরিমাণ মরিচ খাইয়ে দিছি
মামনি : এই মেয়ে টা কি করছে তোকে এতো কেন রাগ
জিহাদ : না কিন্তু
মামনি : ও অনেক ভালো রে জিহাদ
জিহাদ : আচ্ছা সরি বললাম তো ভালো লাগছে না আমি গেলাম ওকে নিয়ে রুমে ।

রুমে

আমার কপালে হাত রেখে
জিহাদ : জ্বর আসলো নাকি মেয়েটার

হায়রে এই মেয়ে এতো দূর্বল । দুর দোষ তো আমারি । কেন যে এতো রাগ । কি আর করবো দেখি মেয়েটার খেয়াল রাখি ।

এসব ভাবছিল জিহাদ

সারারাত খেয়াল রাখলো

সকালে উঠছিলাম
জিহাদ : সরি
আমি : মাফ করবো না
জিহাদ : কর বলছি
আমি : এক শর্তে
জিহাদ : কি
আমি : আমাকে তুমি বলতে হবে
জিহাদ : ওকে
জিহাদ : শুয়ে থাকো
আমি : আপনি আমাকে তুমি বলছেন সূর্য কোন দিক উঠছে
জিহাদ : (এই‌ অবস্থায় ও‌ মজা করে এই মেয়ে ভাবছে ) ওই চুপ করে থাক ।
আমি : হুরর এখনো অসুস্থ তো আপনার জন্যই হইছি
জিহাদ : তো তোকে ঝাল দিতে কে বলছিলো জানিস না আমার রাগ বেশি
আমি : ফেলে দিছিলেন কেন
জিহাদ : আরও ফেলবো
আমি : কেন ফেলবেন
জিহাদ : তুই আমার বউ তাই
আমি : এমা মানলেন আমি আপনার বউ

জিহাদ আর কিছু না বলে বের হয়ে গেল রুম থেকে

কিছু সময় পর
জিহাদ আসলো
জিহাদ : খেয়ে নে
আমি : খাবো না‌
জিহাদ : খা
আমি : উহু এটা খেতে ভালো না
জিহাদ : খা

বলে খাইয়ে দিল

জিহাদ : সরি
আমি : মাফ করবো না
জিহাদ : কর বলছি
আমি : এক শর্তে
জিহাদ : কি
আমি : আমাকে তুমি বলতে হবে
জিহাদ : ওকে

দুইদিন পর রাত্রে
আমি আর ও বসে ছিলাম যদিও ও নিজের অফিসের কাজ করছিল ।

আমি অনেকটা সুস্থ এই দুইদিনে ।

এমন সময় বৃষ্টি আসলো

আমি : ওয়াও বৃষ্টি আমি গেলাম

জিহাদ কিছু সময় পর লক্ষ করলো
আর বলল : মেয়েটা গেলো কই

এদিক ওদিক দেখে

পুরো বাড়ি খুজে নাই আনহা

যাই তো ছাদে দেখি আছে কি না ?

ছাদে গিয়ে দেখলো আনহা বৃষ্টি ভিজছে
জিহাদ তাকিয়ে দেখছে আর ভাবছে দারুণ লাগছে মেয়ে টাকে । কিছু সময়ের জন্য জিহাদ আনহার মাঝে হারিয়ে গেলো ।
আনহা : ভিজবেন নাকি আসুন

জিহাদের ঘোর ভাঙলো

জিহাদ : চলে আসো
আমি : না আমি ভিজবো
জিহাদ : কেবল জ্বর সারলো
আমি : হুর কিছু হবে না
জিহাদ : আসবা না
আমি : না

জিহাদ আর কিছু না বলে আনহা কে কোলে নিয়ে আসছিল ।
পথে একটু কিল ঘুসি মারলাম ছাড়ানোর চেষ্টায়

চলবে…..

১নং পর্ব : https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-1
৩নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-3
৪নং পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-4
5নং ( শেষ ) পর্ব: https://lovezonebd.com/odvut-shami-part-5