image_pdf

স্বার্থপর সেই মেয়েটা

প্রায় একটি বছর কেটে গেলো হঠাৎ সেদিন মেয়েটি আমাকে ফোন করে বলছে কেমন আছেন? ভেবেছিলাম সুদ্রাবে ভুলগুলো কিন্তু এ যে সে জাতি নয়, ভাংবে তবু মচকাবে না। আমি বুঝতে পারছিলাম না সত্যিই কি মারিয়া আমাকে ফোন করেছে। আমি বললাম ভালো আছি সোনা তুমি কেমন আছো। […]

dui bondhu – দুই বন্ধ

প্রায় বারো বছর হয়ে গেল, ভুতো আর রনির মধ্যে কোন যোগাযোগ নেই। ভুতো কেমন আছে , কোথায় আছে , বিয়ে-থা করেছে কিনা … কোন তথ্যই জানা নেই রনির।  আশ্চর্যের ব্যাপার হল, ভুতোর কথা আর মনেই পরে না ওর। আজ অনেক বছর বাদে পুরণ স্কুলের সামনে […]

ছোট গল্প: আত্মগোপন

তৃষ্ণা বসাক গল্প ছাড়াও লিখে থাকেন কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং ছোটদের জন্য কল্পবিজ্ঞানের গল্প। তাঁর টুপিতে রয়েছে মৈথিলি থেকে বাংলায় অনুবাদের ক্রিয়াশীলতাও। একাধিক পুরস্কারে ভূষিত তৃষ্ণার গল্প আজ। এই শহরে আগে আসেনি সুনীল। সুনীল চন্দ্রোথ। বরাবর কোচিতে থাকে। আজন্ম। কিন্তু এ শহরের সঙ্গে ওর একটা […]

ছোট গল্প: ছায়ামানবী

ছোট গল্প: ছায়ামানবী দীর্ঘদিন ধরে অনুবাদের কাজে ব্যাপৃত রয়েছেন ঈশানী রায়চৌধুরী। ইংরেজি থেকে বাংলায় তিনি কর্তৃক ভাষান্তরিত কাহিনির সংখ্যা বড় কম নয়। তার সঙ্গে রয়েছে নিজের লেখালিখিও। এই বাড়িটায় আমরা থাকি। আমরা মানে আমি, সমীরণ আর অঞ্জন। আমার নাম স্বাতী। সমীরণ আমার বর। আমাদের বিয়ের […]

মগ্নজীবন – মহাদেব সাহা

এই এটুকু জীবন আমি দিওয়ানার মতো ঘুরেই কাটিয়ে দিতে পারি দিগ্‌ভ্রান্ত নাবিকের মতো অকূল সমুদ্রে পারি ভাসাতে জাহাজ; আমার সমগ্র সত্তা পারি আমি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দিতে কোনো সুফী আউলিয়ার মতো ধ্যানের আলোয়, ঝরা বকুলের মতো পথে পথে নিজেকে ছড়াতে পারি আমি ছেঁড়া কাগজের মতো […]

আমার কবিতার জন্যে – মহাদেব সাহা

আমি কবিতা লিখবো বলে এই আকাশ পরেছে নক্ষত্রমালা, পরেছে রঙধনু-পাড় শাড়ি, অপরূপ চন্দ্রহার নদীর গহনা পরে আছে গ্রামগুলি, শুধু আমি কবিতা লিখবো তাই এই প্রকৃতি পরেছে পুষ্পশোভা, কানে পরেছে ফুলের দুল, হাতে ঝিনুকের চুড়ি। মন হুহু-করা এমন উদাস বাতাস, এমন স্নিগ্ধ বৃষ্টিধারা এই ঝর্নার মুখর […]

নির্জন স্বাক্ষর – জীবনানন্দ দাশ

তুমি তা জানো না কিছু, না জানিলে- আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য ক’রে! যখন ঝরিয়া যাব হেমন্তের ঝড়ে, পথের পাতার মতো তুমিও তখন আমার বুকের ‘পরে শুয়ে রবে? অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন সেদিন তোমার! তোমার এ জীবনের ধার ক্ষয়ে যাবে সেদিন সকল? […]

একমুঠো জোনাকী – পুর্ণেন্দু পত্রী

একমুঠো জোনাকীর আলো নিয়ে ফাঁকা মাঠে ম্যাজিক দেখাচ্ছে অন্ধকার। একমুঠো জোনাকীর আলো পেয়ে এক একটা যুবক হয়ে যাচ্ছে জলটুঙি পাহাড় যুবতীরা সুবর্ণরেখা। সাপুড়ের ঝাঁপি খুলতেই বেরিয়ে পড়ল একমুঠো জোনাকী পুজো সংখ্যা খুলতেই বেরিয়ে পড়ল একমুঠো জোনাকী। একমুঠো জোনাকীর আলো নিয়ে ফাঁকা মাঠে ম্যাজিক দেখাচ্ছে অন্ধকার। […]

তুলনামূলক হাত – নির্মলেন্দু গুণ

তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷ তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে; আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে, তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান […]

টেলিফোনে প্রস্তাব – নির্মলেন্দু গুণ

আমি জানি, আমাদের কথার ভিতরে এমন কিছুই নেই, অনর্থ করলেও যার সাহায্যে পরস্পরের প্রতি আমাদের দুর্বলতা প্রমাণ করা সম্ভব। আমিও তো তোমার মতোই অসম্পর্কিত-জ্ঞানে এতদিন উপস্থাপন করেছি আমাকে। তুমি যখন টেলিফোন হয়ে প্রবেশ করেছো আমার কর্ণে- আমার অপেক্ষাকাতর হৃৎপিণ্ডের সামান্য কম্পনও আমি তোমাকে বুঝতে দিই […]

আকাশ – নির্মলেন্দু গুন

আমার সমস্ত ভাবনা যখন তোমাকে ছোঁয়, আমার সমস্ত উপলব্ধি যখন তোমার আত্মাকে স্পর্শ করে, আমার সমস্ত বোধ যখন তোমার বোধিতে নিমজ্জিত হয়, তখন আমার প্রাণের গভীর থেকে স্বতঃস্ফূর্ত মোহন মন্ত্রের মতো উচ্চারিত হয় একটি অত্যন্ত সহজ শব্দ…”আকাশ” । আমি শব্দটিকে ক্রমাগত উচ্চারণ করি । জানি […]

শুধু তোমার জন্য – নির্মলেন্দু গুণ

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন। তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও কতবার যে আমি সে কথা বলিনি সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন। তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম […]

স্বয়ম্ভূ সুন্দর – নির্মলেন্দু গুণ

যতক্ষণ জেগে থাকি, দরোজাটা বন্ধ করি না। কেবলই মনে হয় কেউ একজন আসবে। আমার প্রত্যাশায় এমন একজন নারী আছে, কোনো শিল্পী যাকে আঁকতে পারেনি। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, আঁরি মাতিস, পাবলো পিকাসো অথবা যামিনী রায়, কেউ-ই আঁকতে পারে নি তাকে। মারকন্যার উদাস দৃষ্টির মধ্যে মুহূর্তর জন্য […]

এই জল ভালো লাগে – জীবনানন্দ দাশ

এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে ধুয়েছে আমার দেহ — বুলায়ে দিয়েছে চুল — চোখের উপরে তার শান — স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, — আবেগের ভরে ঠোঁটে এসে চুমা দিয়ে চলে গেছে কুমারীর মতো ভালোবেসে; এই জল ভালো লাগে; — […]

যুগল জীবনী – হেলাল হাফিজ

আমি ছেড়ে যেতে চাই, কবিতা ছাড়ে না। বলে,–’কি নাগর এতো সহজেই যদি চলে যাবে তবে কেন ঘর বেঁধেছিলে উদ্ধাস্তু ঘর, কেন করেছিলে চারু বেদনার এতো আয়োজন। শৈশব কৈশোর থেকে যৌবনের কতো প্রয়োজন উপেক্ষার ‘ডাস্টবিনে’ ফেলে মনে আছে সে-ই কবে চাদরের মতো করে নির্দ্বিধায় আমাকে জড়ালে, […]